কিম জং–উন , মা কো ইয়ং–হুই ও বাবা কিম জং–ইল

  • প্রকাশ : সোমবার ২৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১:১৪ এএম

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং–উনের জীবনের অনেকটাই রহস্যে ঘেরা। তার মধ্যেই রহস্যময় হলো মাকে নিয়ে তাঁর নীরবতা। ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় উন, কিন্তু কখনো প্রকাশ্যে নিজের মায়ের নাম উচ্চারণও করেননি তিনি। কিম জং–উনের শাসনক্ষমতার ভিত্তি অনেকটাই দাঁড়িয়ে আছে তথাকথিত ‘মাউন্ট পেকতু’ বংশধারার ওপর ভিত্তি করে। পৌরানিক কাহিনিতে আছে, এই বংশধারার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কোরীয় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা দানগুনের।


উত্তর কোরিয়ায় বংশপরিচয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। তাই কিম জং–উনের মায়ের পরিচয় শুধু যে গোপনীয়ই নয়; এটি এমন একটি বিষয়, যা শাসকগোষ্ঠীর জন্য হুমকির কারণ হতে পারে।


পুরাণের জন্মস্থান


প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, কোরিয়ার ইতিহাস শুরু হয়েছে মাউন্ট পেকতু নামে একটি পর্বত থেকে। চীন ও উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের এ পর্বতকে দানগুনের জন্মস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দানগুন হলেন কোরিয়ার প্রথম রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা।


কয়েক হাজার বছর পর উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল–সাং জাপানিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় মাউন্ট পেকতুকে আস্তানা বানিয়েছিলেন বলে জানা যায়। মনে করা হয়, তাঁর ছেলে কিম জং–ইলের (কিম জং–উনের বাবা) জন্মও হয়েছিল এই পর্বতেরই ঢালে।


কিম জং–ইল হয়তো রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছেন, এমন দাবিও রয়েছে। তারপরও কয়েক দশক ধরে মাউন্ট পেকতুকে কিম পরিবারের শাসনের বৈধতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।


উত্তর কোরিয়ার নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিয়ুন উন তাঁর বই ‘কিম জং উন’স সিক্রেট ভল্ট’–এ লিখেছেন, ‘কিম জং–উনের বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখনই তিনি উত্তরসূরি নির্বাচিত হন। তখনো তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো অর্জন ছিল না। তিনি শুধু পেকতু বংশধারার সদস্য হওয়ার কারণেই সে মর্যাদা পেয়েছিলেন।’


তবে কিম জং–উনের মায়ের দিকের পারিবারিক বংশপরিচয়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে।


কিম জং–উনের মা কো ইয়ং–হুই মাউন্ট পেকতু থেকে শত শত মাইল দূরে জাপানের ওসাকা শহরে জন্মেছিলেন বলে মনে করা হয়।


জীবনীকারদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, কো ইয়ং–হুই ১৯৫২ সালে ওসাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা–বাবা এসেছিলেন জেজু দ্বীপ থেকে। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার দক্ষিণ উপকূলের কাছের একটি দ্বীপ।


জাপানে বসবাসকারী তাঁদের পরিবারটি ছিল ‘জাইনিচি কোরিয়ান’। ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সালের ঔপনিবেশিক শাসনামলে কোরিয়া থেকে জাপানে চলে যাওয়া বা সেখানে বসতি গড়া কোরীয় বংশোদ্ভূত মানুষদের একটি অংশকে জাইনিচি কোরিয়ান বলা হয়ে থাকে।


কো ইয়ং–হুইয়ের বয়স যখন প্রায় ১০ বছর, তখন তাঁর পরিবার জাপান ছেড়ে উত্তর কোরিয়ায় যায়। ১৯৫৯ থেকে ১৯৮৪ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যাওয়া আনুমানিক ৯৩ হাজার কোরীয় অভিবাসীর মধ্যে তাঁর পরিবারও ছিল। একটি পুনর্বাসন কর্মসূচির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এ পরিবারগুলো উত্তর কোরিয়ায় গিয়েছিল। ওই কর্মসূচির আওতায় তাদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষা, চাকরিসহ একটি সুখী ও সচ্ছল জীবনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।


প্রথম দিকে উত্তর কোরিয়ায় আসা এসব অভিবাসীকে অনেকেই ঈর্ষার চোখে দেখত। কারণ, তারা জাপান থেকে নগদ অর্থ, উন্নত মানের পোশাক ও বিভিন্ন গৃহস্থালিসামগ্রী নিয়ে এসেছিল। তবে উত্তর কোরিয়ায় এসব অভিবাসীকে ‘জ্যেপো’ নামে ডাকা হতো, যা একটি অবমাননাকর শব্দ। এই শব্দ এমন মানুষদের বোঝাতে ব্যবহার করা হতো, যাদের বিদেশি ও বিপজ্জনক মতাদর্শের প্রভাবে প্রভাবিত বলে মনে করা হতো।


উত্তর কোরিয়ার সমাজব্যবস্থা বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। অনেক বিশ্লেষক এই ব্যবস্থাকে বর্ণপ্রথার সঙ্গে তুলনা করেন। দেশটিতে বিদ্যমান কঠোর সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিটি ‘সংবুন’ নামে পরিচিত। সেখানে জ্যেপোদের স্থান ছিল ‘দোদুল্যমান শ্রেণি’-তে, অর্থাৎ শাসকগোষ্ঠীর অনুগত মূল শ্রেণি ও শত্রু শ্রেণির মাঝামাঝি অবস্থানে। এ কারণে জ্যেপোদের কড়া রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে রাখা হতো। পাশাপাশি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া বা মর্যাদাপূর্ণ চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রেও তারা প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হতো।


কো ইয়ং–হুইয়ের এই ইতিহাস কিম পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রচারিত ‘পেকতু বংশধারা’র গল্পের সঙ্গে একেবারেই সাংঘর্ষিক।


নর্দার্ন রিসার্চ ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক কিম হিয়ুং সু বলেন, ‘শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে পেকতু বংশধারার যোগসূত্রকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই দেশের নেতা একজন “জ্যেপো”র সন্তান হতে পারেন—এমন ধারণাই অনেকের কাছে অকল্পনীয়।’


‘সিন্ডারেলার মতো’ জীবন


কো ইয়ং–হুইকে অন্য অনেক জাইনিচি কোরিয়ানের মতো একই পরিণতির শিকার হতে হয়নি। কারণ, তাঁর প্রেম এবং তা কিম জং–ইলের মতো ব্যক্তির সঙ্গে। কিম জং–ইল তখন ছিলেন শাসনক্ষমতার উত্তরসূরি।


গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, কো হুইয়ের সঙ্গে পরিচয়ের আগেই কিম জং–ইল বিয়ে করেছিলেন। তাঁর সেই স্ত্রী কিম ইয়ং–সুক ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মেয়ে। সেই বিয়ে হয়েছিল কিম জং–ইলের বাবা তৎকালীন শাসক কিম ইল–সাংয়ের পছন্দে।


কিম জং–ইলের আরও দুজন প্রেমিকা ছিলেন বলেও জানা যায়।


কো ইয়ং–হুই উত্তর কোরিয়ার অভিজাত সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য ছিলেন। তাঁর সৌন্দর্য ও নাচের দক্ষতায় মোহিত হয়েছিলেন কিম জং–ইল। জাপানি সাংবাদিক ইয়োজি গোমি ২০২৫ সালে কো ইয়ং–হুইকে নিয়ে লেখা একটি বইয়ে এ কথাগুলো লিখেছেন।


বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, কিম জং–ইল গভীরভাবে কো ইয়ং–হুইয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। তাঁদের তিনটি সন্তানও হয়।


উত্তর কোরিয়ায় বিয়ে ছাড়া জন্ম নেওয়া সন্তানদের সামাজিকভাবে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয়। তাই কিম জং–ইলের আনুষ্ঠানিক স্ত্রী ইয়ং–সুক পিয়ংইয়ংয়ে বসবাস করলেও কো ইয়ং–হুই ও তাঁর সন্তানদের রাজধানী থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার দূরের উপকূলীয় শহর ওনসানে রাখা হয়েছিল।


কিম জং–ইলের সঙ্গে সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি না পেলেও কো হুই এমন এক জীবন যাপন করেছিলেন, যাকে সাংবাদিক ইয়োজি গোমি তুলনা করেছেন ‘সিন্ডারেলার মতো জীবন’–এর সঙ্গে।


বিভিন্ন সূত্রের মতে, কো ইয়ং–হুই ছিলেন কিম জং–ইলের সবচেয়ে প্রিয় প্রেমিকা।


তবে একটি বাস্তবতা কখনো বদলায়নি। নির্বাসিত উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রিয়ু হিউন-উ লিখেছেন, কো ইয়ং–হুইকে কখনোই পুত্রবধূ হিসেবে স্বীকৃতি দেননি কিম ইল–সাং। তাঁকে কখনো প্রকাশ্যে কো ইয়ং–হুইয়ের সন্তানদের সঙ্গেও দেখা যায়নি।


সেজং ইনস্টিটিউটের গবেষক চং সঙ-চাংয়ের মতে, কিম ইল–সাং যদি হুইকে স্বীকৃতি দিতেন, তাহলে তাঁর নাতি-নাতনিদের সঙ্গে কিম ইল–সাংয়ের ছবি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হতো।


কিম ইল–সাংয়ের মৃত্যুর পর কিম জং–ইল উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা হন। তখন কো ইয়ং–হুই অঘোষিত ফার্স্ট লেডির ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। তিনি কিম জং–ইলের সঙ্গে সামরিক পরিদর্শনে যেতেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন।


কিম জং–ইলের সাবেক ব্যক্তিগত রাঁধুনি কেনজি ফুজিমোতোর বর্ণনা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও ইল প্রায়ই হুইয়ের মতামত চাইতেন।


২০১১ সালে নির্মিত একটি সরকারি প্রামাণ্যচিত্রে কিম জং–ইলের সঙ্গে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনে যেতে দেখা যায় কো ইয়ং–হুইকে। তবে সেখানে তাঁর নাম বা সামাজিক শ্রেণিগত পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


প্রামাণ্যচিত্রটি সাধারণ মানুষের জন্য প্রকাশ করা হয়নি। গবেষক চং সঙ-চাংয়ের মতে, ২০১২ সালের জুন মাসে এটি শুধু জ্যেষ্ঠ দলীয় কর্মকর্তাদের দেখানো হয়েছিল। পরে সেটি ফাঁস হয়ে যায় এবং চোরাই পথে আনা ইউএসবি ড্রাইভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তা ছড়িয়ে পড়ে।


চং সঙ-চাং বলেন, ‘এটি ছড়িয়ে পড়ার পর কো ইয়ং–হুইকে নিয়ে মানুষের কৌতূহল হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ফলে সরকার দ্রুত প্রামাণ্যচিত্রটি প্রত্যাহার করে নেয়।’


চং সঙ-চাংয়ের মতে, কো ইয়ং–হুইয়ের পারিবারিক ও সামাজিক পটভূমি প্রকাশ্যে এলে শাসকগোষ্ঠীর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় প্রামাণ্যচিত্রটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল।


বিতর্কিত বংশপরিচয় ও ক্ষমতার উত্তরাধিকার


২০০৪ সালে কো ইয়ং–হুই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে প্যারিসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর খবর কোনো গুরুত্বই পায়নি।


তবে প্রেমিকার দ্বিতীয় ছেলে এবং কিম জং–ইলের সবচেয়ে ছোট ছেলে কিম জং–উন কীভাবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার উত্তরাধিকারী হয়ে গেলেন?


কিম জং–ইলের ঘোষিত স্ত্রী কিম ইয়ং–সুকের দুটি সন্তান ছিল। কিন্তু দুজনই মেয়ে হওয়ায় উত্তরসূরি হিসেবে তাঁদের কথা বিবেচনা করা হয়নি।


কো ইয়ং–হুই ছাড়াও কিম জং–ইলের আরও দুজন প্রেমিকা ছিলেন। তাঁরা হলেন সং হে-রিম ও কিম ওক। ইলের সঙ্গে কিম ওকের কোনো সন্তান ছিল না।


একসময় মনে করা হতো, সং হে-রিমের গর্ভে জন্ম নেওয়া কিম জং–ইলের বড় ছেলে কিম জং–নাম উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। তবে বহু বছর বিদেশে পড়াশোনা করা কিম জং–নাম শুরু থেকেই শাসকগোষ্ঠীর অপছন্দের ব্যক্তি হয়ে ওঠেন। তিনি এক দশকের বেশি সময় বিদেশে পড়াশোনা করেছেন এবং ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় সাবলীল ছিলেন।


সাংবাদিক ইয়োজি গোমি বছরের পর বছর ধরে কিম জং–নামের সঙ্গে ই-মেইলে যোগাযোগ রেখেছিলেন। তিনি বলেন, কিম জং–নাম উত্তর কোরিয়ার বংশানুক্রমিক ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যবস্থার সমালোচনা করতেন এবং সংস্কারের পক্ষে মত দিতেন। এ কারণেই তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রের সমর্থন হারান। এ ছাড়া ঘন ঘন ক্যাসিনোতে যাওয়া এবং বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপনের কারণে তাঁর সম্পর্কে একজন আনন্দপ্রিয় ও ভোগবিলাসী ব্যক্তির ভাবমূর্তিও তৈরি হয়েছিল।


ম্যাকাউতে কয়েক বছর ধরে নির্বাসিত জীবনযাপনের পর ২০১৭ সালে কিম জং–নামকে মালয়েশিয়ায় হত্যা করা হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছিল।


নির্বাসিত কূটনীতিক রিয়ু হিউন–উ বলেন, কিম জং–উনের বড় ভাই কিম জং–চুলও উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। তবে গুরুতর আফিম-আসক্তির কারণে তাঁকে উত্তরাধিকারীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।


ধারণা করা হয়, কো ইয়ং–হুই নিজেই তাঁর দ্বিতীয় ছেলে কিম জং–উনকে ক্ষমতার উত্তরসূরি করার জন্য সক্রিয় হয়েছিলেন।


সাংবাদিক অ্যানা ফিফিল্ড তাঁর ‘দ্য গ্রেট সাকসেসর: দ্য সিক্রেট রাইজ অ্যান্ড রুল অব কিম জং–উন’ বইয়ে লিখেছেন, কো ইয়ং–হুই তাঁর বোনের পরামর্শে এ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর বোন তাঁকে বলেছিলেন, ‘তোমার ছেলেকেই পরবর্তী নেতা হতে হবে, নইলে আমাদের পুরো পরিবার ঝুঁকির মুখে পড়বে।’


বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতার মানসিকতা কিম জং–উনকে খুব দ্রুতই তাঁর বাবা কিম জং–ইলের প্রিয়পাত্র করে তুলেছিল।


কিম জং–উন কিছু সময়ের জন্য সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন। তবে বলা হয়, বিদেশে থাকলেও তাঁকে তাঁর সৎভাই কিম জং–নামের তুলনায় অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখা হয়েছিল।


২০১১ সালে কিম জং–ইল যখন মারা যান, তখন মাত্র ২৭ বছর বয়সী কিম জং–উন উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার শীর্ষে নিজেকে অধিষ্ঠিত করেন।


এরপর কিম জং–উন বোন কিম ইয়ো–জংকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা দেন। তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী প্রচার বিভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হয়।


তবে কিম জং–উনের পারিবারিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন আজও তাঁর পিছু ছাড়েনি।


বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই উনের জন্মদিনকে এখনো জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। কারণ, তাঁর জন্ম ও শৈশব নিয়ে বেশি আলোচনা শুরু হলে তাঁর মায়ের পরিচয় এবং কেন তিনি পিয়ংইয়ংয়ের বাইরে বড় হয়েছেন—এসব স্পর্শকাতর প্রশ্ন সামনে চলে আসতে পারে। অথচ উনের দাদা কিম ইল–সাং ও বাবা কিম জং–ইলের জন্মদিন উত্তর কোরিয়ায় জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপন করা হয়।


কিম জং–উনের পারিবারিক পরিচয় ঘিরে যে গোপনীয়তা রয়েছে, সেটিই সম্ভবত তাঁকে দ্রুত তাঁর স্ত্রী রি সল–জুকে জনসমক্ষে পরিচয় করিয়ে দিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।


দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রি সল–জু পিয়ংইয়ংয়ের একটি উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন বলে মনে করা হয়। তিনি একটি স্বনামধন্য সাংস্কৃতিক দলের গায়িকা ছিলেন। এ ছাড়া তরুণ বয়সে রি সল–জুকে চীনে ধ্রুপদি সংগীত শেখার জন্য পাঠানো হয়েছিল, যা উত্তর কোরিয়ার সামাজিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা সংবুনে ভালো পারিবারিক অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হয়।


জাপানি সাংবাদিক ইয়োজি গোমি বলেন, ‘মায়ের পারিবারিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে কিম জং–উন যে বৈধতাজনিত সংকোচ ও ক্ষোভ অনুভব করতেন, সেটিই তাঁকে শুরুতেই স্ত্রী রি সল–জু এবং মেয়ে জু আয়েকে সামনে আনার জন্য শক্তিশালী প্রেরণা জুগিয়েছিল।’


এখন প্রশ্ন হলো, যদি কোনো দিন কিম জং–উনের মায়ের প্রকৃত বংশপরিচয় ব্যাপকভাবে প্রকাশ্যে চলে আসে, তাহলে কী হতে পারে?


নির্বাসিত উত্তর কোরীয় কূটনীতিক রিয়ু হিউন–উর মতে, ‘যদি জানা যায় যে তাঁর (কিম উন) মা জাপানে বসবাসকারী কোরীয় বংশোদ্ভূত পরিবারের সদস্য ছিলেন, তাহলে তা শুধু কিমের শাসনের বৈধতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে না; বরং উত্তর কোরিয়ায় বংশানুক্রমিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পুরো ব্যবস্থাকেই নাড়িয়ে দেবে।’


হিউন–উর মতে, উত্তর কোরীয় সমাজে এর প্রভাব হবে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের মতো।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৩ পিএম

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে আকস্মিক ভয়াবহ ঝড়-বৃষ্টির কবলে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ওমরাহযাত্রীরা। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই মক্কার বিখ্যাত ক্লক টাওয়ারের চূড়ায় একটি শক্তিশালী বজ্রপাতের ঘটনা ঘটেছে। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। পবিত্র কাবা শরিফের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই বিশাল ক্লক টাওয়ার। ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকার আকাশ চিরে একটি তীব্র আলোকচ্ছটা সরাসরি টাওয়ারের ওপর আছড়ে পড়ে।


বজ্রপাতের তীব্র আলোয় পুরো মক্কা নগরী মুহূর্তের জন্য আলোকিত হয়ে ওঠে। এই রোমহর্ষক দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর তা নেট দুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। 


সৌদি আরবের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত থেকে মক্কা এবং এর আশপাশের এলাকায় তীব্র বাতাস ও ভারী বজ্রঝড় শুরু হয়। ঝড়ের কারণে কাবা শরিফের মাতাফে (তাওয়াফের স্থান) অবস্থানরত ওমরাহযাত্রীরা তীব্র বাতাসের মুখোমুখি হন। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে সেখানে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 


প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মক্কা অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরাসরি ক্লাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়া অফিস আগামী কয়েকদিন এই এলাকায় আরও ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে এবং সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। 


মক্কার ক্লক টাওয়ার বা আবরাজ আল-বাইত বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন। এর চূড়ায় উন্নত বজ্রপাত নিরোধক ব্যবস্থা বা লাইটনিং রড বসানো রয়েছে। এই ব্যবস্থার কারণে বিশাল বজ্রপাতের পরও টাওয়ারের কোনো বড় ক্ষতি হয়নি এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে পবিত্র এলাকাটি রক্ষা পেয়েছে।


সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, স্বাক্ষরকারী তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর গত ৭ আগস্ট চুক্তিতে সই করেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। মুসলমানদের পবিত্র শহর মক্কায় এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি এর তাৎপর্য নিয়েও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, হঠাৎ-ই এই তিনটি দেশ এই ধরনের চুক্তিতে একমত হয়নি। ২০২৩ সালে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতেই এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীত সময়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তান পারস্পারিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সাক্ষর করেছিল। তারই ধারাবাহিকতাই এই মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি।


এই চুক্তি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি এই প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। 

তবে, এই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়া নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের বক্তব্যই পাওয়া গেছে।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, এই প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশে যুক্ত হলে সামরিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে, এই বাংলাদেশ যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে বলেও শঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কী?


গত কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নানা সংকট চলছে। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এই পরিস্থিতিতে আরো জটিল করে তোলে। এমন অবস্থায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ভাবছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। 


কেননা, এই চুক্তিতে বলা হয়েছে জোটভুক্ত কোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে তা সকল দেশের ওপর হামলা বলে বিবেচিত হবে।


গবেষক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই ভেঙে পড়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলো সবাই এখন পরস্পরকে আঁকড়ে ধরে টিকে থাকার পথ খুঁজছে। তারই ধারাবাহিকতা এই মক্কা চুক্তি।


এই জোট গঠনের অন্যতম লক্ষ্য হলো- চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্যদেশ তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাবে। অর্থাৎ এই চুক্তি বা জোটভুক্ত দেশগুলো একীভূত হয়ে তারা তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে একত্রে কাজে লাগবে।


এই চুক্তিতে স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


এই চুক্তিতে একই সঙ্গে তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ অঞ্চল ও তার বাইরের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। 


তবে, কোনো এক দেশ বিপদে পড়লে নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা, যুদ্ধবিমান বা অস্ত্র মোতায়েনের বাধ্যবাধকতা কিংবা আক্রান্ত হলে কী ধরনের সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে সেটি নির্ধারিত হয়নি চুক্তিতে।


এক দেশ আক্রমণের শিকার হলে চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশের এগিয়ে আসার বিষয়টিকে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যৌথ প্রতিরক্ষা ধারার সঙ্গে ‘কার্যত একই’ বলে বর্ণনা করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ।


কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, যতক্ষণ না এটি বাস্তবে পরীক্ষিত হচ্ছে, উদাহরণস্বরূপ- সৌদি আরবের ওপর যে কোনো আক্রমণের জবাবে পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে- ততক্ষণ পর্যন্ত এই চুক্তিটিকে একটি বাধ্যতামূলক ন্যাটো ধাঁচের অঙ্গীকারের পরিবর্তে একটি ‘অভিপ্রায়ের ঘোষণা’ হিসেবে দেখা উচিত।


চলতি বছরের ১৯ মার্চ ইসলামি সম্মেলনের সময় সৌদি আরবের রিয়াদে তুরস্ক-পাকিস্তান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করেন। সেখানে একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি কী রকম হতে পারে সেটি নিয়েও আলোচনা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ আগস্ট এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে মক্কায়।


এই চুক্তি নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু এই তিনটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়, বরং আরও বিস্তৃত হওয়া সম্ভব হলে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি করা, যাতে একদিন এই অঞ্চলের সব দেশ এই ছাতার নিচে একত্রিত হতে পারে।


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির কারণ কী?


মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, দক্ষিণ এশিয়ার পাকিস্তান এবং মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক। হঠাৎ কেন এই তিনটি দেশ এমন একটি চুক্তিকে যুক্ত হলো সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও হামলা নিয়ে নানা উদ্বেগ রয়েছে গত কয়েক মাস ধরে। 


বিশেষ করে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করার কথা বলে ইসরায়েল দেশটির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এলাকা দখলে নিয়েছে।


এদিকে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সৌদি আরবে ড্রোন হামলার অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে, এসব গোষ্ঠীও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মুখে পড়েছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, সামরিক শক্তির দিক থেকে তুরস্ক অনেকটা এগিয়ে রয়েছে, শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব ও পাকিস্তান বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। সেদিক থেকে তিন দেশ একে অপরের পরিপূরক।


অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, এই মুহূর্তে আমরা যদি দেখি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের শত্রুদের মধ্যে রয়েছে ইরান কিংবা হুথির মতো বিদ্রোহীরা। কারণ এই জটিলতা শেষ না হলে হুথি জটিলতা শেষ হবে না। সুতরাং সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্যাক্টটা খুব জরুরি ছিল।


অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে ধরা হয় ইসরায়েলকে। সেই দিক থেকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের দেশ দুটিকে একসঙ্গে পেলে সেটি তুরস্কের জন্যও লাভবান বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।


গবেষক আলতাফ পারভেজ বলছিলেন, সৌদি আরবের অর্থ, পাকিস্তানের সামরিক কৌশল ও অভিজ্ঞতা আর তুরস্কের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের দক্ষতা। এই দেশগুলো ভেবেছে তারা তিনটি দেশ যদি একত্রিত হয়, সেটি তাদের নিরাপত্তার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে, ধর্মীয় দিক থেকেও এই চুক্তির বিশেষ একটি তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই চুক্তিকে মুসলিম দেশগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে ধরতে বার হিসেবে শুক্রবার ও স্থান হিসেবে মক্কাকে বাছাই করা হয়েছে।


বাংলাদেশ কেন যুক্ত হতে চায়?


আগস্টের শুরুতে তিন দেশের মধ্যে এই চুক্তি সই হলেও গত এক সপ্তাহ ধরে এই চুক্তিকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সামনে আসছে।


বাংলাদেশের কোনো কোনো গণমাধ্যমে গত সপ্তাহে এ নিয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এটির জবাব দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সেখানে এই জোটে বা চুক্তি যেতে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।


সেখানে হুমায়ুন কবির বলেছেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি। মক্কার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সম্পর্ক আবেগের। মধ্যপ্রাচ্যে যদি এমনও হয় যে, মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে একটা সিকিউরিটি প্যাক্ট হয়, তাহলে ওখানে যাওয়াটা তো অস্বাভাবিক না। দেখা যাক কী হয়। আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছি।


আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খান মনে করেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুব একটা নেই। সেদিক থেকে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি আর তুরস্ক-পাকিস্তানের সামরিক শক্তি ও কৌশল আছে। সেদিক থেকে ওই তিন দেশ সাথে একসঙ্গে থাকলে তাতে বাংলাদেশই উপকৃত হবে।


অধ্যাপক খান বলছিলেন, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে রোহিঙ্গা সংকট। যেহেতু বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চাচ্ছে। সেদিক বিবেচনায় পাকিস্তান-তুরস্ক ও চীন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।


যদিও ইতিবাচক দিকও যেমন আছে, সেই সঙ্গে এর ঝুঁকির বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা।


আলতাফ পারভেজ মনে করেন, বাংলাদেশ এই জোটে যখনই যুক্ত হবে, তখন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত এটি নিয়ে উদ্বিগ্ন হবে। যেটি একদিক বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকির কারণ হিসেবেও দেখছেন তিনি।


তিনি বলেন, এটার তাৎক্ষণিক একটি প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। কারণ তখন ভারত ভাব পারে সে অনিরাপদ। তখনই সে ইসরায়েলে শরণাপন্ন হতে পারে। এই ইস্যুতে তখন ভারতকে সহযোগিতায় আগ্রহী হতে পারে ইসরায়েল। দক্ষিণ এশিয়ায় তৈরি হতে পারে সামরিক উত্তেজনা।


‘এ উত্তেজনায় দক্ষিণ এশিয়ায় প্রক্সি ওয়ার এবং প্রক্সি ফোর্সের সংখ্যা বাড়তে পারে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ বাড়তি ঝুঁকিতে থাকবে। সেক্ষেত্রে চুক্তিতে ঝুঁকলেও এক ধরনের ঝুঁকি, না ঝুঁকলেও থাকবে আরেক ধরনের ঝুঁকি।’


মিশরও অনানুষ্ঠানিক এই জোটে যোগ দিতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, মিশর সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, কারণ এতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এক্ষেত্রে সেই দেশগুলোর মধ্যে ইরান, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, গ্রিস, সাইপ্রাস ও ভারতও রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ পিএম

বিশ্বে প্রথমবারের মতো সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের এক রোগীর মস্তিষ্কের টিউমার অপসারণ করেছেন চিকিৎসকেরা। চিকিৎসকেরা বলেছেন, এই অস্ত্রোপচার না করা হলে ওই ব্যক্তি দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারতেন। ৪৮ বছর বয়সী রিস হিবার্ট দুই সন্তানের বাবা। তিনি যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডশায়ারের বাসিন্দা। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সরাসরি এআইয়ের সহায়তায় তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করেন।


অস্ত্রোপচারের সময় এআইয়ের একটি ব্যবস্থা সরাসরি ভিডিও চিত্র বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকদের সহায়তা করে। মস্তিষ্কের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বাইরে থেকে দেখা যায় না—এমন রক্তনালি ও স্নায়ুগুলোর সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করে চিকিৎসকদের সতর্ক করে দেয় এআই–ব্যবস্থা। ফলে কোনো ঝুঁকি ছাড়াই টিউমারটি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।


হিবার্ট বলেন, ‘রোগীর নিরাপত্তার দিক থেকে এআইয়ের সহায়তার বড় সুবিধা রয়েছে। কারণ, আমাদের মাথার ভেতরে তো আর পথ চেনার কোনো দিকনির্দেশনা থাকে না।’


কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ৪৮ বছর বয়সী হিবার্ট ১৮ মাস আগেও সুস্থ ও কর্মক্ষম ছিলেন। প্রতিদিন দুপুরে তিনি প্রায় দুই মাইল হাঁটতেন। এমনই এক দুপুরে হাঁটার সময় রাস্তায় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে যান তিনি এবং তাঁর খিঁচুনি শুরু হয়।


স্বাস্থ্য পরীক্ষায় হিবার্টের মস্তিষ্কে ১১ মিলিমিটার আকারের একটি টিউমার ধরা পড়ে। টিউমারটিতে ক্যানসারের ঝুঁকি ছিল না। এটি বেড়ে উঠেছিল পিটুইটারি গ্রন্থিতে। মস্তিষ্কের নিচের দিকে থাকা মার্বেলের মতো ছোট একটি গ্রন্থি পিটুইটারি। এটি শরীরের বৃদ্ধি, বিপাকক্রিয়া এবং রক্তচাপ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে।


পিটুইটারি গ্রন্থির খুব কাছেই রয়েছে ক্যারোটিড ধমনি। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী এই রক্তনালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কাছেই রয়েছে দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণকারী অপটিক স্নায়ু।


হিবার্টের টিউমারটি বড় হতে থাকায় তাঁর অপটিক স্নায়ুর ওপর চাপ পড়তে শুরু করে। ফলে ধীরে ধীরে তাঁর দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছিল।


শুরুতে হিবার্টের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু পরে ঝাপসা দেখার কারণে তিনি হাঁটার সময় বিভিন্ন জিনিসে হোঁচট খেতে শুরু করেন। একই সঙ্গে প্রচণ্ড ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যাও দেখা দেয়।


হিবার্ট বলেন, ১৮ বছর ধরে দাম্পত্য জীবনে তিনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীর জন্য এক কাপ কফি বানাতেন। তিনি ঠিক করেছিলেন, এই টিউমার তাঁকে সেই কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে না।


অস্ত্রোপচারের আগে হিবার্টের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল মানসিক ও আবেগজনিত। তাঁর ভাষায়, অনেকে সাহায্যের প্রস্তাব দিলেও তিনি কারও ওপর বোঝা হয়ে থাকতে চাননি।


চিকিৎসকেরা হিবার্টকে তাঁদের তৈরি এআই–ব্যবস্থা ব্যবহার করে প্রথম রোগী হিসেবে অস্ত্রোপচারে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হন।


হিবার্ট বলেন, রোগীরা গবেষণায় অংশ নিতে প্রস্তুত না হলে চিকিৎসকেরা কীভাবে শিখবেন এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি কীভাবে হবে?


অস্ত্রোপচারের সময় হিবার্টের নাক দিয়ে একটি সরু ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে খুলির নিচের অংশে নেওয়া হয়। সেখানে টিউমারটি হাড় ও শক্ত একটি আবরণের আড়ালে ছিল। টিউমারটি বের করার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা শনাক্ত করা সহজ ছিল না। কারণ, প্রত্যেক মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠন কিছুটা আলাদা।


চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এ ধরনের অস্ত্রোপচারে টিউমারের পুরোটা অপসারণ করতে না পারার আশঙ্কা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ। আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ২ শতাংশ।


এখানেই এআই–ব্যবস্থা চিকিৎসকদের সহায়তা করেছে। অস্ত্রোপচারের সময় অন্য একটি পর্দায় এআই–ব্যবস্থা সরাসরি ভিডিও চিত্র বিশ্লেষণ করেছে। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলোর গতিবিধি অনুসরণ করেছে এবং মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালি ও স্নায়ু যেখানে থাকার সম্ভাবনা বেশি, সেসব জায়গা চিহ্নিত করেছে। কোন অংশ দিয়ে টিউমার অপসারণ করা তুলনামূলক নিরাপদ, সেটিও দেখিয়েছে।


মুঠোফোনে মুখ শনাক্ত করার প্রযুক্তির মতোই কাজ করেছে এআই–ব্যবস্থা। তবে মুখের পরিবর্তে এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ ও অনেক সময় আড়ালে থাকা শারীরিক গঠন শনাক্ত করেছে।


যুক্তরাজ্যের একজন চিকিৎসক বছরে এ ধরনের ১০ থেকে ২০টি অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের আগে করা স্ক্যান দেখে রোগীর মস্তিষ্কের গঠন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তাঁরা অস্ত্রোপচার করেন।


গবেষকেরা পিটুইটারি গ্রন্থির টিউমার অপসারণের শত শত অস্ত্রোপচারের ভিডিও ব্যবহার করে এআই–ব্যবস্থাটিকে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা করেছেন। প্রতিটি ভিডিওতে রক্তনালি ও স্নায়ুর অবস্থান আলাদাভাবে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে এআই–ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক গঠনগুলো শনাক্ত করতে শিখেছে।


অস্ত্রোপচারে যুক্ত অধ্যাপক হানি মার্কাস বলেন, একজন চিকিৎসক সারা জীবনে যত অস্ত্রোপচার দেখেন বা করেন, তার চেয়েও বেশি অস্ত্রোপচারের তথ্য দিয়েছে প্রশিক্ষিত এই এআই–ব্যবস্থা। তাই এটি একজন বিশেষজ্ঞের মতো কাজ করতে পারে।


হানি মার্কাস বলেন, পরীক্ষামূলক অন্য অনেক এআই–ব্যবস্থার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো, এটি অস্ত্রোপচারের সময় সরাসরি কাজ করতে পারে।


তবে গবেষকেরা স্পষ্ট করেছেন, এআই চিকিৎসকদের শুধু সহায়তা করেছে। অস্ত্রোপচারের পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল চিকিৎসকদের হাতেই।


অধ্যাপক মার্কাস বলেন, তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো চিকিৎসকদের জন্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা অনেকটা চ্যাটজিপিটির মতো কাজ করবে। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা চাইলে এর কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারবেন। আবার পরামর্শের সঙ্গে একমত না হলে তা উপেক্ষাও করতে পারবেন।


যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রিসার্চ এবং গুগলের অর্থায়নে গবেষকেরা কয়েক বছর ধরে পরীক্ষাগারে এআই প্রযুক্তিটি নিয়ে কাজ করেছেন। প্রথমবার বাস্তব অস্ত্রোপচারে এর ব্যবহার নিয়েও তাঁরা সন্তুষ্ট। এখন বড় পরিসরে এর পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


অস্ত্রোপচারের পর হিবার্ট বলেন, চোখ খোলার পর তাঁর মনে হয়েছিল, তিনি যেন চারপাশের সবকিছু খুব ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছেন। প্রায় এক বছর ধরে তিনি এতটা পরিষ্কার দেখতে পাননি।


অস্ত্রোপচারের পর আট সপ্তাহে হিবার্টের দৃষ্টিশক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর কর্মশক্তিও ফিরে এসেছে। অস্ত্রোপচারের আগে থাকা অন্যান্য সমস্যাও চলে গেছে। তিনি বলেন, অস্ত্রোপচার তাঁকে তাঁর জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:১৮ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া পুনরায় শুরুর উদ্যোগ হিসেবে বৃহস্পতিবার তেহরান সফর করবেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি। ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন ঘোষণা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খবর রয়টার্সের


ইরানের উপসাগরীয় প্রতিবেশী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কাতার দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে আসছে। গত জুনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায়ও দেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে গড়ালেও বর্তমানে সংঘাত অনেকটাই স্তিমিত। তবে কূটনৈতিক অগ্রগতির স্পষ্ট কোনো লক্ষণ নেই। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে তেহরান দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।


ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। তবে সর্বশেষ জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সোমবার এ পথে দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। যুদ্ধের আগে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ব্যারেল।


বুধবার ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস জানায়, হরমুজ প্রণালী ও এর আয় কীভাবে ভাগাভাগি করা হবে, সে বিষয়ে ইরান ও ওমান একমত হয়েছে। তবে পরে ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুই দেশ এখনও চুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।


এদিকে সংঘাতের শুরুতে বিমান হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এখনও যথেষ্ট রয়েছে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটানোর সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।


এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপের বদলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে দেশটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


তবে দীর্ঘমেয়াদি এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীর নৌ চলাচলেও। জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে ৭০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ১৯ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম

নেপালে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার যে কম্পন বুধবার সকালে অনুভূত হয়েছিল, তা ভূমিকম্পের কারণে নয়- ভূমিধসের কারণে হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) বুধবার রাতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে যে, হিমবাহ ধসে পড়া এবং এর সঙ্গে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নামার কারণে ওই কম্পন তৈরি হয়েছিল।


এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ইউএসজিএস জানায়, কাঠমান্ডুর উত্তরে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছে। পরে সংস্থাটি তাদের তথ্য সংশোধন করে জানায়, সেখানে কোনো ভূমিকম্প হয়নি। যে কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল, সেটি আসলে হিমবাহ ধসে পড়া এবং ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের কারণে তৈরি হয়েছিল। ইউএসজিএস জানায়, এই ঘটনায় নদীর নিম্নাঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।


প্রাথমিকভাবে প্ল্যানেট ল্যাবসের উপগ্রহের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরফ ও পাথরের বড় একটি ভূমিধসের কারণে লহেন্দে নদীতে হঠাৎ কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নামে। ঘটনাটি নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ি সীমান্ত চৌকি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঘটে। লহেন্দে নদী ভোতে কোশি নদীর একটি শাখা। নদীটি চীনের তিব্বত অঞ্চল থেকে নেপালে প্রবাহিত হয়েছে।


হিমবাহ ও পাথর ধসে নদীতে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার পর ভোতে কোশি নদীতেও আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এই বন্যায় নেপালে ১৫৭ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভয়াবহ ওই ভূমিধসের শক্তি পরে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য হিসেবে হিসাব করা হয়েছে। আকস্মিক বন্যার পর নেপালের রাসুওয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজ শুরু হয়েছে। নেপাল পুলিশ এখন পর্যন্ত ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও চলছে। তবে দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টা পরও শত শত মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।


নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অন্তত ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পর্যটন বোর্ড। কাদা ও পানির নিচে আটকে থাকা মানুষ এবং মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। সারা দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখা গেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সরকারের সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হবে।


স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ পানির ঢল নামে। তিব্বতের দিক থেকে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে এসে নদীটি প্লাবিত করে। নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়া ও ধাদিং জেলা এবং নুওয়াকোট জেলার বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসায় বহু বাড়িঘর, গাছপালা ও যানবাহন পানিতে ডুবে যায়। অনেক স্থাপনা ও যানবাহন কাদার নিচে চাপা পড়ে। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের তিব্বত অংশের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা গেছে, পাথর, কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসার আগে অনেক মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রবল স্রোত ভবন ও যানবাহন ভাসিয়ে নিয়ে যায়।


এদিকে তিব্বতের গিরং এলাকায়ও এই দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নিহতের সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তিব্বত অংশেও উদ্ধারকাজ চলছে। সীমান্তের দুই পাশেই পানির প্রবল স্রোত, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের কারণে যোগাযোগ ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত নুওয়াকোট ও ধাদিং এলাকার অনেক বাসিন্দা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে নেপালি সেনাবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বাইরে জড়ো হয়েছেন। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার পরিচালনার জন্য কেন্দ্রটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করতে সেখানে তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। ফলে পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইটের আলো ব্যবহার করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম ও তথ্য লিখে রাখতে দেখা গেছে।


এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আটকে পড়া জীবিত মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাড়িঘর, গাছপালা ও যানবাহন পানিতে ডুবে গেছে বা কাদার নিচে চাপা পড়েছে। একই সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে। জীবিতদের উদ্ধার করে নিয়ে যেতে সারা দিন ওই এলাকার আকাশে হেলিকপ্টার চক্কর দিয়েছে। দুর্যোগের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিখোঁজ মানুষদের সন্ধান করা এবং দুর্গতদের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২২ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে প্রচারিত একটি ভিডিও সম্পর্কে অবগত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিডিওটিকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।


মঙ্গলবার সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র নেট হেরিং এক ই-মেইলে বলেন, সিক্রেট সার্ভিস ভিডিওটি সম্পর্কে অবগত এবং আমাদের সুরক্ষার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এমন যেকোনো বিষয় তদন্ত করে।


তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, অপারেশনাল নিরাপত্তার স্বার্থে সুরক্ষাসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আমরা আলোচনা করি না।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ২০ বছর বয়সী ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আলোচনা করা হয়।


প্রায় তিন মিনিটের ভিডিওটি শুরু হয় ইংরেজিতে লেখা একটি গ্রাফিকে দেখা যায়, ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা উচিত? এবং এতে শৈল্পিক গ্রাফিক্সের মাধ্যমে সেইসব স্থান দেখানো হয়েছে যেখানে কনিষ্ঠ ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে সময় কাটাতে দেখা যায়, যার মধ্যে নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারও রয়েছে।


ভিডিওতে দাবি করা হয়, ব্যারনের ওপর নজরদারি করা হচ্ছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।


এর আগে চলতি মাসেই রয়টার্স জানায়, গত এক বছরে ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা করছে এমন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করেছে ইসরায়েল। তুরস্কে ট্রাম্পকে ঘিরে একটি গোপন বিমানবাহিনী কৌশল নেওয়ার আগেও এ ধরনের সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানায় রয়টার্স।


ট্রাম্প নিজেও এর আগে ইরানের সম্ভাব্য হামলার প্রসঙ্গে নিজেকে ইরানের হত্যার তালিকায় এক নম্বরে রয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন।


এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহুকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল ইরানের একটি চক্র। হুমকি শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে তাকে দ্রুত ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স।


একজন মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারে, ফ্লোরিডার হল্যান্ডেল বিচ এলাকায় অবস্থানরত ৩৫ বছর বয়সী ইয়াইরকে হত্যার পরিকল্পনা করছে ইরানের গুপ্তচররা।


ওই সময় ইয়াইর মিয়ামির কাছাকাছি হল্যান্ডেলে ছিলেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের একটি সেল তখন মিয়ামি এলাকায় সক্রিয় ছিল এবং ইয়াইরের বাসস্থান ও দৈনন্দিন চলাফেরার ওপর নজরদারিও চালিয়েছিল।


চক্রান্তের তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত মার্কিন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলে ইসরায়েলি নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে ইয়াইরকে অবিলম্বে ওই এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতটাই জরুরি ছিল পরিস্থিতি যে ইয়াইর নিজের কিছু জিনিসপত্রও ফ্লোরিডায় রেখে ইসরায়েলে ফিরে আসতে বাধ্য হন। বর্তমানে তিনি ইসরায়েলেই অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ সব খবর