• প্রকাশ : সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:১২ এএম

আইনি দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আস্তানা’ বানিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে টোকিও হয়েছে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির প্রধান উৎস। এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।   


টাইমসে রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সংগ্রহ ও গোয়েন্দা তথ্য জোগাড়ের জন্য জাপানের ভূখণ্ড ব্যবহার করছে রাশিয়া। এক্ষেত্রে দেশটির ‘গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত দুর্বল আইন’-এর সুযোগ কাজে লাগানো হচ্ছে।  


প্রতিবেদনে ইউক্রেন সরকারের একটি হিসাবের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলোর ৯০ শতাংশেই জাপানি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়। দেশটিতে রাশিয়ার এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মাক্সিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ নামের এক রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। তিনি রুশ বিমান সংস্থা এরোফ্লট-এর টোকিও কার্যালয়ে ছদ্মবেশে কর্মরত আছেন।


নিউইয়র্ক টাইমস আরও লিখেছে, রাশিয়ায় সরাসরি রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে। এ কারণে জাপান থেকে সংগৃহীত যন্ত্রাংশগুলো মস্কোয় পাঠাতে ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো তৃতীয় দেশ এবং মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কাজ করছে যন্ত্রাংশ সংগ্রহকারী একটি নেটওয়ার্ক।


টাইমসের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন জাপান সরকারের প্রধান মুখপাত্র মিনোরু কিহারা। প্রতিবেদনের বিষয়ে সরাসরি কিছু উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা আরও কার্যকরভাবে প্রতিহত করা প্রয়োজন। 


কিহারা বলেন, ‘আমরা স্বীকার করছি যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। বিদেশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এগুলো প্রতিরোধ করার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।’


জাপান সরকারের এই মুখপাত্র বলেন, টোকিওকে আরও বেশি কঠোরতার সঙ্গে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিচ্ছিন্ন বা খণ্ড খণ্ড গোয়েন্দা কার্যক্রমগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে পার্লামেন্টে একটি আইন অনুমোদন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন জাতীয় সংস্থা গঠনের পথ সুগম হয়েছে।


গুপ্তচরদের গন্তব্য জাপান


নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি জাপানি গণমাধ্যম ‘দ্য জাপান টাইমস’ও প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সেনা অভিযানের পরপরই, পশ্চিমা নেতারা তাদের দেশ থেকে শত শত রুশ গুপ্তচরকে বহিষ্কার করেন। একই সঙ্গে ক্রেমলিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোম্পানিগুলো কালো তালিকাভুক্ত করা হয়।


মূলত ক্রেমলিনের জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং মাইক্রোচিপ, ট্রান্সমিটার ও অস্ত্র তৈরির যন্ত্রপাতির মতো সরঞ্জাম কেনা কঠিন করে তোলার লক্ষ্যেই ওই সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। 


কর্মকর্তারা বলছেন, এরপর থেকে বহিষ্কৃত সেই গুপ্তচরদের বেশ কয়েকজনকে এমন একটি দেশে দেখা গেছে, যা তাদের ধারণাতেও ছিল না। সেই দেশটি হলো- জাপান।


টোকিওতে এই গুপ্তচরদের কার্যক্রমের মূলে আছে রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন ইউনিট। এটি ‘২০তম ডিরেক্টরেট’ নামে পরিচিত। পাঁচটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, এই ইউনিটের কর্মকর্তারা কূটনীতিক বা ব্যবসায়ী সেজে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তি কেনা এবং সেগুলো রাশিয়ায় পাচার করার কাজ করছেন।


ধ্বংসস্তূপ থেকে অনুসন্ধান শুরু


গত মে মাসে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের একটি ভবনে আঘাত হানে রাশিয়ার ‘কেএইচ-১০১’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হন। 


এরপর কিয়েভের তদন্তকারীরা ভবনটির ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান শুরু করেন। পরে এ সংক্রান্ত একটি মূল্যায়নে উল্লেখ করেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি পরিচালনায় জাপানি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছিল। 


ওই ঘটনার পর ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশের সঙ্গে জাপানের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন নিউইয়র্ক টাইমস। এ কাজে গোপন সরকারি নথি, কর্পোরেট রেকর্ড এবং তিনটি মহাদেশের বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা ও সরকারি কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। জনসমক্ষে গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশের অনুমতি না থাকায় অধিকাংশ কর্মকর্তাই নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।


নথিপত্র ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জাপানের কাছে একটি প্রমাণপত্র পেশ করেছেন। এতেও রুশ অস্ত্রে জাপানি প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা আছে। জাপান সরকার ইউক্রেনের প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করলেও, এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ধীরগতি দেখিয়েছে।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ীদের তৈরি করা কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে জাপানের গোয়েন্দা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল। ফলে দেশটি বহু আগে থেকেই গুপ্তচরদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। এমনকি জাপানের নিজস্ব কোনো বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাও নেই। 


টোকিওতে এক গুপ্তচরের আগমন


ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর প্রায় ২ বছর পর ২০২৪ সালে উচ্চপ্রযুক্তির যন্ত্রাংশের ঘাটতিতে পড়ে রাশিয়া। ওই সময় ড্রোন ব্যবহার করে রণক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল ইউক্রেন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে টোকিওতে যাওয়ার দায়িত্ব পান মাক্সিম ভ্লাদিমিরোভিচ ফিলচেনকভ। ফিলচেনকভ রুশ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ-এর একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। 


ব্যবসায়িক রেকর্ড ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকার অনুযায়ী, ফিলচেনকভ জাপান থেকে রাশিয়ায় পণ্য পরিবহনকারী লজিস্টিকস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে শুরু করেন। 


সোভিয়েত আমল থেকেই জিআরইউর গুপ্তচরেরা পশ্চিমা প্রযুক্তির সন্ধানে রুশ বিমান সংস্থা ‘এরোফ্লট’-এর চাকরিকে ছদ্মবেশ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। জাপানে বিমান সংস্থাটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এর অংশীদার এখনও সক্রিয়। তাদেরই একটি প্রতিষ্ঠান ‘প্রোকো এয়ার’। শ্রীলঙ্কা ও উজবেকিস্তানের মতো দেশে যাতায়াত করা বিমান সংস্থাগুলোর কার্গো স্পেস ভাড়া নেওয়ার কাজ করে প্রোকো। 


এরপর এসব দেশ থেকে কার্গো স্থানান্তর করা হয় এরোফ্লটে। যা পরে রাশিয়ায় নেওয়া হয়।


এই প্রক্রিয়াটি এখনও বৈধ। কারণ অংশীদারত্বের কারণে কিছু পণ্য এখনও রাশিয়ায় পাঠানোর অনুমতি আছে। আর সে কাজ করায় প্রোকো এয়ার নিজেদেরকে ‘জাপান ও রাশিয়ার মধ্যকার সেতু’ হিসেবে বিজ্ঞাপন প্রচার করে। এই প্রক্রিয়ায় ফিলচেনকভের সঙ্গে পরিচিত হওয়া মিকি নামে এক জাপানি নাগরিকের সাক্ষাৎকার নিয়েছে টাইমস। 


তবে তিনি নিষিদ্ধ কোনো পণ্য রাশিয়ায় পাঠানোর কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এসব পণ্যের বেশিরভাগই চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অল্প কিছু প্রসাধন সামগ্রী।


প্রমাণ হিসেবে মিকি সাম্প্রতিক একটি এয়ার বিলের কপি দেখিয়েছেন। যেখানে কালো কালিতে ‘আর-ফার্ম’ শব্দটি অস্পষ্ট করা। মস্কোর ওষুধ কোম্পানি আর-ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সেই রেপিক প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ। তিনি বিভিন্ন সময় পুতিনের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তার কথা বলেছেন। 


কিয়েভের চিঠি


বিদেশি সরকারগুলো বারবার জাপানকে সতর্ক করেছে যে তাদের প্রযুক্তি রাশিয়ায় পাচার করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ইউক্রেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত আটটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠায়। বার্তাগুলোতে রুশ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামাদিতে জাপানি যন্ত্রাংশের উপস্থিতির তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়।


ইউক্রেনের এক কর্মকর্তার মতে, চিঠিগুলোতে উদ্ধার হওয়া ডজন খানেক জাপানি যন্ত্রাংশের তালিকা ও ছবি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সার্কিট বোর্ড, ট্রান্সমিটার ও সেমিকন্ডাক্টর ছিল। টাইমস-এর সাংবাদিকরা তেমন একটি চিঠি পর্যালোচনা করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রেও জাপানি যন্ত্রাংশ পাওয়া গেছে।


জাপানের সবচেয়ে বড় কিছু কোম্পানি- যেমন নিপ্পন ইলেকট্রিক করপোরেশন, প্যানাসনিক, তোশিবা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা যন্ত্রাংশ উদ্ধারের তালিকাও জাপানের কাছে হস্তান্তর করেছে ইউক্রেন। 


তবে এ সব নথিতে কোম্পানিগুলোর পক্ষে জেনেশুনে রাশিয়ায় পণ্য পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো তৃতীয় কোনো দেশ থেকে পুনর্বিক্রি করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সবকটিই কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছে। 


নিপ্পন জানিয়েছে, ইউক্রেন যেসব ইলেকট্রিক যন্ত্রাংশ শনাক্ত করেছে সেগুলো বেশ পুরোনো এবং কোম্পানিটি অনেক বছর আগে সেগুলো বিক্রি বন্ধ করেছে। রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ফিলচেনকভের মন্তব্য জানতেও তাঁর টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ইমেইলে বার্তা পাঠায় টাইমস। তবে কোনো উত্তর দেওয়া হয়নি।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ পিএম

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।


ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।


তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।


বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।


ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।


মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।


সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।


২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।


অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৭ পিএম

ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।


কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’


সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।


সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।


ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।


হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।


কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।


সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।


সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।


চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।


পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।


 




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। 


অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।


এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।


শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।


ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।


ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।


বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।


ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।


এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।


বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।


রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।


এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

ইমরান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।


কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।


পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।


“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”


মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন। 


এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।


ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।


২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।


পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।


১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।

সর্বশেষ সব খবর