ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতা
জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইয়াওয়াতা শহরের মেয়র শোকো কাওয়াতা সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি ভেবেছিলেন, এ ঘোষণা শুনে বড়জোর কেউ কেউ ভ্রু কুঁচকাবেন। তবে এ ঘোষণার প্রতিক্রিয়া যে এতটা তীব্র হবে এবং তা নিয়ে দেশজুড়ে এত বিভক্ত মতামত তৈরি হবে, তা ৩৫ বছর বয়সী কাওয়াতা কল্পনাও করেননি। এই মেয়রের মাতৃত্বকালীন ছুটিকে ঘিরে এখন জাপানে জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মূল প্রশ্ন হলো, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্তান জন্মদানের জন্য ছুটি নেওয়া উচিত কি না। এমন এক সময়ে এই বিতর্ক দেখা দিল, যখন দেশটি জন্মহার বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।
বিবিসিকে কাওয়াতা বলেন, ‘আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। কারণ, বিষয়টি নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া এত বড় আকার ধারণ করবে, তা আমি ভাবতেই পারিনি।’
স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সন্তান জন্মদানের সময় ছুটি নেওয়ার জন্য বর্তমানে জাপানে কোনো আইনি কাঠামো নেই। তাই শোকো কাওয়াতা আনুষ্ঠানিকভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যেতে পারছেন না। এর পরিবর্তে, তিনি সাময়িকভাবে নিজের দায়িত্বগুলো সামলাতে উপ–মেয়র শিগেতো নোসেকে বলেছেন।
গত মে মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে কাওয়াতা তাঁর পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা আছে। ওই তারিখের আগে দুই মাস এবং পরে আরও দুই মাস তিনি দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন। এর মাধ্যমে জাপানের ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র হিসেবে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার নজির গড়তে যাচ্ছেন তিনি।
কাওয়াতা বলেছেন, তাঁর কর্মস্থলের সবাই তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
তবে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত হাজারো পোস্ট এবং ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিওতে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মতামত ও বিতর্ক দেখা গেছে।
অনেকেই কাওয়াতার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মতে, সন্তান জন্ম দেওয়া ও লালন-পালন সহজ নয়, আর কাওয়াতা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, জাপানের সমাজ এখনো এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি, যেখানে গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
আরেকজনের মতে, পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাওয়াতা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এতে ভবিষ্যতে আরও বেশি নারী রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত হবেন।
তবে সমালোচকদের মত ভিন্ন। তাঁদের দাবি, জনসেবার দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়ানোটা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আচরণ। কেউ কেউ বলেছেন, কাওয়াতা যদি সন্তান নিতে চাইতেন, তাহলে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তা করা উচিত ছিল। আবার কেউ বলেছেন, উচ্চপদস্থ কোনো জনপ্রতিনিধি যদি দীর্ঘ সময়ের ছুটি নিতে চান, তাহলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। অনেকে আবার মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় তাঁর বেতন কমিয়ে দেওয়ারও দাবি তুলেছেন।
তবে এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দেননি কাওয়াতা। এই মেয়র গর্বের সঙ্গে বলেছেন, তিনি তাঁর কাজ ভালোবাসেন। একই সঙ্গে তাঁর বিশ্বাস, এখনই সন্তান নেওয়া এবং পরিবার গড়ে তোলার জন্য তাঁর জীবনের উপযুক্ত সময়।
কাওয়াতা বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন ছুটি নেওয়ার কারণে রাজনীতিকদের সমালোচনা করার অর্থ হলো কার্যত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী, অর্থাৎ সন্তান ধারণে সক্ষমতা থাকা সব নারীকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ থেকে বাদ দেওয়া।’
হিরোশিমার আকিতাকাতা শহরের সাবেক মেয়র শিনজি ইশিমারুর মতে, মাতৃত্বকালীন ছুটির সময় কীভাবে জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হবে, তার কার্যকর ব্যবস্থা করাটাই আসল বিষয়।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ইশিমারু বলেন, অধিকাংশ মানুষই মাতৃত্বকালীন ছুটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। তবে তিনি চান, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন একটি গঠনমূলক আলোচনা শুরু হোক, যেন পৌরসভার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না করেই সমস্যাটির কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা যায়।
শোকো কাওয়াতা ৩৩ বছর বয়সে জাপানের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ নারী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর স্থানীয় সরকার ও রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
সরকারিভাবে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাওয়াতা অবসরে চা–চক্রে অংশ নিতে, কিমোনো পোশাক পরতে এবং বিভিন্ন শিন্তো মন্দির ও বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করতে পছন্দ করেন। জাপানে পুরুষ আধিপত্যপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বাধা পেরিয়ে তিনি ধাপে ধাপে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, জাপানে ১ হাজার ৭২০টি পৌরসভার প্রধানের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ ছিলেন নারী।
দেশটি ইতিমধ্যে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে। তবে রাজনীতিতে আরও বেশি নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগে জাপান সরকার নিয়মিত সমালোচনার মুখে পড়ে।
অনেকের মতে, পুরুষপ্রধান মন্ত্রিসভা এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এ সমস্যার অন্যতম কারণ। এই এলডিপি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের অধিকাংশ সময় জাপানের শাসনক্ষমতায় আছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাপানের মন্ত্রিপরিষদ কার্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের পথে কয়েকটি বড় প্রতিবন্ধকতা আছে। এর মধ্যে আছে গর্ভধারণ ও মাতৃত্বের বিষয়, রাজনীতি পুরুষদের কাজ—এমন প্রচলিত ধারণা এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানি।
জাপান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হলেও লিঙ্গসমতার সূচকে দেশটির অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই নিচের দিকে। ২০২৫ সালের জুনে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ১৪৬টি দেশের মধ্যে জাপানের অবস্থান ছিল ১১৮তম। লিঙ্গসমতার ক্ষেত্রে এটি জি–৭–ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দেশ।
জাপানে মাতৃত্বকালীন ও পিতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা আছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নারীরা সন্তান জন্মের নির্ধারিত সময়ের আগে ছয় সপ্তাহ এবং সন্তান জন্মের পর আট সপ্তাহ ছুটি নিতে পারেন। অন্যদিকে বাবারা সন্তানের জন্মের পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চার সপ্তাহের সবেতন ছুটি পাওয়ার অধিকার রাখেন।
সন্তানের বয়স এক বছর হওয়া পর্যন্ত মা–বাবা দুজনই শিশুর দেখাশোনার জন্য ছুটি নেওয়ার অধিকার রাখেন। এ সময় যোগ্য কর্মীরা প্রথম ১৮০ দিন তাঁদের বেতনের ৬৭ শতাংশ এবং এরপর ৫০ শতাংশ হারে ভাতা পান। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে চালু হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মা–বাবা দুজনই যদি ছুটি নেন, তাহলে প্রথম ২৮ দিনের জন্য কিছু পরিবার আরও বেশি আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।
উপ–মেয়র শিগেতো নোসে বলেন, ‘আমার মনে হয়, কোনো নারী মেয়র দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্তান জন্ম দিলে বাস্তবে সেই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা অনেকেই এখন দেখার অপেক্ষায় আছেন।’
কাওয়াতার অনুপস্থিতিতে ৬২ বছর বয়সী নোসে মেয়রের সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে তিনি সপ্তাহে একবার দূর থেকে কাওয়াতার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
দুই সন্তানের বাবা নোসে বলেন, তিনি নিজে কখনোই পিতৃত্বকালীন ছুটি নেননি। সন্তানদের দেখাশোনার প্রায় পুরো দায়িত্বই তাঁর স্ত্রী পালন করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে আমি খুব ক্লান্ত থাকতাম। রাতে বাচ্চা কাঁদলেও আমি সেটি আমার স্ত্রীর ওপরই ছেড়ে দিতাম। এখন পেছন ফিরে তাকালে সত্যিই মনে হয়, বিষয়টি নিয়ে আমার আত্মসমালোচনা করা উচিত।’
তবে সময় বদলেছে বলে মনে করেন নোসে। তাঁর জামাতা বর্তমানে ছয় মাসের ছুটি নিয়ে তাঁর মেয়েকে তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানের দেখাশোনায় সহযোগিতা করছেন। তিনি বলেন, ‘এটা দেখে আমি খুব আনন্দ পাই। সময় সত্যিই বদলেছে। তাদের এভাবে একসঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে দেখে খুব ভালো লাগে।’
কাওয়াতার মতে, তাঁকে ঘিরে সমালোচনার একটি বড় কারণ হলো সমাজে প্রচলিত একটি ধারণা। সেটা হলো, জনপ্রতিনিধির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত জীবন ছেড়ে পুরোপুরি জনগণের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে।
গর্ভধারণকে ঘিরে এত আলোচনা-সমালোচনা সম্পর্কে তাঁর অনাগত সন্তান ভবিষ্যতে কী ভাববে—এমন প্রশ্নের জবাবে কাওয়াতা বলেন, ‘আমার ধারণা, সে বিস্মিত হবে।’
এই নারী মেয়র আরও বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নারীরা একই সঙ্গে কাজ ও পরিবার—দুটিই স্বাভাবিকভাবে সামলাতে পারবেন। তাঁদের যেন আর চাকরি ও পরিবার—এ দুটির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।’
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।