ইমরান খান
এক মাস পর, নিজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আদিয়ালা কারাগারে তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার পর উজমা খান জানিয়েছেন, ইমরান খানের "স্বাস্থ্য ভালো আছে, আল্লাহকে ধন্যবাদ, কিন্তু তিনি খুব রেগে ছিলেন এবং বলছিলেন যে তাকে মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে।"
উজমা খানের মতে, ইমরান খানের সাথে তার সাক্ষাৎ ২০ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল। তার ভাই তাকে আরও বলেছিলেন যে তাকে 'সারা দিন ঘরে আটকে রাখা হয়, কেবল অল্প সময়ের জন্য ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হয়েছিল।' মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং আদিয়ালা কারাগারের বাইরে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই এর বিক্ষোভের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন উজমা খানকে তার ভাইয়ের সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। সকালে, ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খানম, নওরীন নিয়াজি এবং উজমা খান যখন আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাক্ষাতের জন্য পৌঁছান, তখন সেখানে মোতায়েন পুলিশ অফিসাররা তাদেরকে বাধা দেন।
তবে কিছুক্ষণ পরে, কারা কর্তৃপক্ষ একজন অফিসারকে ইমরান খানের বোনদের কাছে পাঠায় এবং বার্তা দেওয়া হয় যে সাক্ষাতের জন্য উজমা খানের নামে অনুমতি রয়েছে। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার আগে দাবি করেছিল যে প্রায় এক মাস ধরে তাদেরকে ইমরান খানের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, 'সরকারি কর্মকর্তারা চান না ইমরান খানের বার্তা কারাগারের বাইরে আসুক।' সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের বোন নওরীন খান অভিযোগ করেন যে, "তারা (সরকারি কর্মকর্তারা) একমাত্র যে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত তা হলো ইমরান খানের কথা বাইরে আসছে, যে কারণে তারা বৈঠক পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।"
ইমরান খানের বোনেরা জানিয়েছেন, আগে আদালতের আদেশ অনুসারে প্রতি মঙ্গলবার তাদের ভাইয়ের সাথে দেখা করার অনুমতি ছিল, কিন্তু ইমরান খানের সাথে তাদের শেষ দেখা হয়েছিল গত চৌঠা নভেম্বর। মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট এবং আদিয়ালা কারাগারের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ডাক দেন পিটিআই-এর সকল সংসদ সদস্য। যে কর্মসূচি ঘিরে ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
ইমরান খানের আরেক বোন আলিমা খান জানান, গত চৌঠা নভেম্বর কারা কর্তৃপক্ষ নওরীন খানকে ইমরান খানের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করে এবং "তারপর, তারা তাকে কারও সাথে দেখা করতে দেয়নি।" ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমিমা খানও সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দাবি করেন, ইমরান খান তার ছেলেদের সঙ্গে, "ফোনেও কথা বলতে পারছেন না।" এমনকি তার ছেলেরা "চিঠিও পাঠাতে পারে না," বলে দাবি করেন তিনি।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বোন নওরিন খান আরও অভিযোগ করেন, "পাকিস্তানি সরকার ইমরান খানকে নয়ই মে যে ঘটনা ঘটেছিল তার দায় স্বীকার করতে বাধ্য করতে চায়।" "তারা চায় ইমরান খান যেন ওই ঘটনার জন্য, ভাঙচুর চালানোর জন্য এবং নিজের লোকদের গুলি করার জন্য তাদের কাছে ক্ষমা চায়। হয়তো তারা এটাই চায়।"
নওরিন খানের মতে, "ইমরান খান কর্তৃপক্ষকে একটাই উত্তর দিয়েছিলেন যে, তোমাদের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা উচিত, সেনানিবাসের ভেতরে চেকপোস্ট আছে, সেনাবাহিনীর নজরে না পড়ে বা ক্যামেরায় বন্দি না হয়ে কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারবে না।" গত বছর নয়ই মে-র ঘটনার আগে, সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীকে এক সংবাদ সম্মেলনে পিটিআই-এর সাথে সম্ভাব্য আলোচনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, "কেউই এমন একটি বিশৃঙ্খল গোষ্ঠীর সাথে কথা বলবে না যারা তাদের নিজস্ব সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করেছে। এই ধরনের বিশৃঙ্খল গোষ্ঠীর জন্য একমাত্র উপায় হল দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ঘৃণার রাজনীতি ত্যাগ করে গঠনমূলক রাজনীতি শুরু করা।"
সরকার কী বলছে? ইমরান খানকে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি কেবল একটি অভিযোগই নয়, সরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ বা বার্তা এই অঘোষিত নিষেধাজ্ঞার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেই মনে হচ্ছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম সামা টিভির একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেন, "এমন কোনও আইন নেই যা একজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে কারাগারে থাকাকালীন সরকার বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার অনুমতি দেয়।"
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে তার পরিবারের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিরুদ্ধে কেবল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ বা পিটিআই প্রতিবাদ করছে তা নয় বরং মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমবার, পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, "ইমরান খানকে তার নিকটাত্মীয়, সহযোগী বা আইনি দলের সাথে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি সরকারের স্পষ্ট করা উচিত। কারণ, পরিবার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ একটি মৌলিক সুরক্ষা।"
অবশ্য গত বেশ কয়েকদিন ধরে, ইমরান খানের অসুস্থতা এবং কারাগারে মৃত্যু নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে গুজব ছড়িয়েছে, তা অস্বীকার করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
কেমন আছেন: ইমরান খানকে নিয়ে ছড়ানো গুজব সম্পর্কে তার বোন নওরীন খান বলেন, "আমি জানি না এই খবর কীভাবে ছড়িয়ে পড়ল।" তিনি অভিযোগ করেন যে, "ইমরান খানকে জেলে নির্যাতন করা হচ্ছে, তাকে আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে এবং এই সবই কারাগারের নিয়ম লঙ্ঘন।" ইমরান খানের আরেক বোন আলিমা খানও বলতে পারছেন না যে এই গুজব কোথা থেকে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আলিমা খান বলেন, "এই গুজবগুলো কোথা থেকে এলো, জেলের ভেতর থেকে কীভাবে এলো? গুজব ছড়ানো ব্যক্তিরা অবশ্যই জেলের কর্মী অথবা প্রতিষ্ঠান।" তিনি দাবি করেন যে "কেউ কেউ আমাদেরকে বলেছে যে তারা মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য পরীক্ষা করছে। আমাদের কোন ধারণা নেই।" তবে, চৌঠা নভেম্বর ইমরান খানের সাথে দেখা করা তার বোন নওরীন খান বলেছিলেন যে তার ভাই "সুস্থ আছেন, নিজের খাবার খাচ্ছেন, ব্যায়াম করছেন এবং নিজেকে সুস্থ হিসেবেই সবার সামনে উপস্থাপন করছেন।" "সেখানে (কারাগারে) খাবার ইমরান খানের নির্দেশ অনুসারেই রান্না করা হয় এবং এটি তার টাকা দিয়েই করা হয়।"
কেন পরিবারের সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না: পরিবারের সাথে ইমরান খানকে দেখা করতে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট কোনো বিবৃতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। তবে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ অভিযোগ করেছেন যে, ইমরান খান কারাগারে বসেই অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
সামা টিভির একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্বীকার করেছেন যে, "আইন একজন বন্দিকে তার পরিবার এবং আইনজীবীদের সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়। কিন্তু এমন কোনও আইন নেই যা একজন দণ্ডিত বন্দিকে কারাগারে বসেই সরকার বা জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অনুমতি দেয়।" "এমন কোনও আইন নেই যা একজন বন্দিকে সরকারের বিরুদ্ধে নৈরাজ্য, রাষ্ট্রদ্রোহ, বিশৃঙ্খলা, আন্দোলন বা অগ্নিসংযোগ করার এবং দর্শনার্থীদের মাধ্যমে এই সমস্ত কিছু চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়," বলেন তিনি।
তবে ইমরান খানের সঙ্গে বাইরের কারো সাক্ষাতের ওপর কে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এ বিষয়ে জানেন না বলেই দাবি করেছেন রানা সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, "এই নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই জেল কর্তৃপক্ষ আরোপ করেছে।" পাঞ্জাব সরকার এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এটা সম্পর্কে অবগত নই।" ইমরান খানের বোন নওরীন খান অবশ্য বলছেন, কারাগারে দেখা করতে গেলে, তিনি এবং ইমরান শুধুমাত্র "কী ঘটছে, কী হবে" এসব বিষয় নিয়ে 'সাধারণ আলোচনা' করেন। তিনি দাবি করেন, ইমরান খানের "টিভি বন্ধ, সংবাদপত্র বন্ধ। কারাগারের নিয়ম অনুসারে, আপনি কোনও বন্দিকে চার দিনের বেশি নির্জন কারাগারে রাখতে পারবেন না।" তিনি আরও বলেন, দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কোনও অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা চাইছেন না, বরং "তিনি কেবল বই এবং তার সন্তানদের সাথে কথা বলার জন্য অনুরোধ করছেন।"
দেশটির আইনে কী বলা আছে: বন্দি অধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন- কারা আইন অনুসারে, বন্দিদেরকে তাদের পরিবার এবং আইনজীবীদের সাথে দেখা করার অনুমতি দিতে হবে। সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড প্রিজনার্স এইড এর প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ মুদাসসার জাভেদ বিবিসি উর্দুকে বলেন, "কারাগারের ম্যানুয়াল অনুসারে, রাজনৈতিক বন্দি কিংবা সাধারণ বন্দি, তাদেরকে প্রতি সপ্তাহে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া উচিৎ।" পরিবারের সদস্যদের বন্দির সাথে দেখা করার অধিকার আছে এবং বন্দি তার আইনজীবী কিংবা আইনি পরামর্শকের সাথে দেখা করতে পারেন।"
মুহাম্মদ মুদাসসির জাভেদ বলেন, "কারও অধিকার নেই বন্দিদের সাথে দেখা বন্ধ করার।" তিনি বলেন, "নিরাপত্তার কারণে জেল কর্তৃপক্ষ এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে প্রতিদিন বন্দিদের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা করা এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করাও তার দায়িত্ব।" ইমরান খানের বোনেরা বলছেন যে, তাদের ভাইকে পরিবারের সাথে দেখা করতে না দিয়ে 'হয়রানি' করা হচ্ছে। নওরীন খান সতর্ক করে বলেন, "যদি তারা ইমরান খানের সাথে কিছু করে, তাহলে মনে রাখবেন যে তারা পাকিস্তানে বা বিশ্বের অন্য কোনও প্রান্তে থাকতে পারবেন না।"
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।
নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”
আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।
আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।
তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।