মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী

  • প্রকাশ : সোমবার ০৪ মে, ২০২৬, সময় : ৩:৪৬ এএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় ২৯৩ আসনের মধ্যে বিজেপি ১৯০ আসনে এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯৯ আসনে। 


আজ সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত গণণা করা ভোটের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। তবে কোন আসনে কত শতাংশ ভোট গণণা করা হয়েছে তা জানা যায়নি। 


এনডিটিভি থেকে পাওয়া সর্বশেষ খবরে বিজেপি এখন পর্যন্ত ১৯০ আসনে এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ৯৯টি আসনে। বামজোট দুটি আসনে এগিয়ে আছে। 


অন্যদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার অনলাইন বলছে, ১৮৩ আসনে এগিয়ে বিজেপি। আর তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে রয়েছে ১০২টি আসনে। 


২৯৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ১৪৮টি আসনে জয়। তবে অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করায় ২৯৩টি আসনের ফল গণনা চলছে।


গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যজুড়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা কলকাতাসহ ২৩টি জেলায় ৭৭টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গণনা শুরু হয়।


নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোট গণণায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজ্য বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। 


মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এক সময়ের ঘনিষ্ট সহযোগী থেকে বর্তমানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনে এখন পর্যন্ত গণণায় ৮ হাজার ৪ শত ৬১টি ভোট পেয়েছেন। তার চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তিনি ৯ হাজার ৩ শত ৫৯ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। ৮৯৮টির বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন মমতা। দুপুরের পর ভোটের পুরো ফল আসতে পারে। 


ভোটের ফলাফল নিয়ে পুরো রাজ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের জন্য এমন ক্ষুরধার প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি। রাজ্যটির ক্ষমতায় আসীন হবে নরেন্দ্র মোদির দল, নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাবনিকাশ।


রাজ্যের দুই দফায় ভোট গ্রহণে রেকর্ড ৯৩ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। বুথফেরত সমীক্ষার বড় অংশই ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে এবং বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা অবাধ ও স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কড়া বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ত্রিস্তরীয় ব্যবস্থা রয়েছে। এবার ভোট গণনা করা হচ্ছে কলকাতাসহ রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে। 


সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন কমিশন মোট ৪৩২ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া ১৬৫ জন অতিরিক্ত গণনা পর্যবেক্ষক এবং ৭৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে। উত্তর ২৪ পরগনায় ৩৩টি আসনে ৪৯ জন গণনা পর্যবেক্ষক রয়েছেন। রাজ্যে সেটাই সর্বাধিক। সবচেয়ে কম আলিপুরদুয়ারে। সেখানে পাঁচটি আসনে ছজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি একই দিনে আসাম, তামিলনাড়ু, কেরালা এবং পুদুচেরিতেও ফলাফল প্রকাশিত হবে। 


নজরে হটস্পট ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র 


রোববার শেষ মুহূর্তের বৈঠকে বসেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ কালীঘাটের বাড়িতে বৈঠক শুরু করেন দলনেত্রী। সূত্রের খবর, ভবানীপুরের ভোট গণনা-সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দিতেই এ বৈঠক। এ আসনে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়ের কাছেই প্রেস্টিজ ফাইট। 




পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।


উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।


জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।


অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪৭ পিএম

ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।


মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।


কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’


সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।


সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।


ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।


হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।


কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।


সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।


সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।


চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।


পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।


 





ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। 


অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।


এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।


শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।


ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।


ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।


বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।


ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।


এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।


বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।


রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।


এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।


ইমরান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৪৪ পিএম

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।


কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।


পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।


“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”


মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন। 


এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।


ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।


২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।


পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।


১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা। 


এছাড়া, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।


বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’ 


তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।


ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা।


যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম। 


মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। 


নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। 


তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁড়গুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।


পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।