শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
তিনি ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে। অথচ সেই নিজের ঘরেই হারতে হল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়েছিলেন মমতা। পরাস্ত হয়েছিলেন। এ বার মমতারই আসনে মমতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। তাতে পরাস্ত হলেন তৃণমূলনেত্রী। ঘরের মেয়েকে হারতে হল ঘরেই।
নিজের আসন ভবানীপুরকে ‘বড়বোন’ এবং নন্দীগ্রামকে ‘মেজবোন’ বলে সম্বোধন করেন মমতা। ‘মেজবোনের’ কাছে পাঁচ বছর আগেই হেরেছিলেন। সে বারও হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ বার ‘বড়বোন’ ভবানীপুরেও হারলেন তিনি। এ বারও হারালেন সেই শুভেন্দুই। গত বারের চেয়ে আরও বড় ব্যবধানে। নন্দীগ্রাম আসনে পাঁচ বছর আগে ১৯৫৬ ভোটে মমতাকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। এ বার জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ালেন শুভেন্দু— ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়।
ভবানীপুর আসনের ফল ঘোষণার আগেই নন্দীগ্রামের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামে আগেই বিজয়ী ঘোষিত হয়েছেন। এ বার ভবানীপুর আসনও জিতে নিলেন বিরোধী দলনেতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে তাঁরই আসনে যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন, তাতে এ বার সাফল্য পেলেন শুভেন্দু। মমতাকে হারালেন মমতারই আসনে। ভবানীপুর আসনে জয়ের সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, এই জয় তাঁদের প্রতি উৎসর্গ করলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো খুব দরকার ছিল। এ বার তাঁর রাজনৈতিক সন্ন্যাস হয়ে গিয়েছে।”
সোমবার গণনাপর্বের শুরু থেকে ছিল টানটান উত্তেজনা। লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, সেই আভাস মিলেছিল সকাল থেকেই। ২০ রাউন্ডের গণনা— প্রথম রাউন্ড থেকেই শুরু হয়েছিল স্নায়ুর লড়াই। প্রথম রাউন্ডে মমতা এগিয়ে, তো দ্বিতীয় রাউন্ডে শুভেন্দু, তার পরের রাউন্ডে আবার এগিয়ে মমতা। প্রথম দিকের কয়েকটি রাউন্ড চলে এ ভাবেই। তার পরে পঞ্চদশ রাউন্ড পর্যন্ত টানা এগিয়ে ছিলেন মমতা। যদিও সপ্তম রাউন্ড থেকে টানা নিজের ভোট বৃদ্ধি করতে থাকেন শুভেন্দু। কমাতে থাকেন ব্যবধান। প্রতি রাউন্ডে একটু একটু করে ব্যবধান কমিয়ে ষোড়শ রাউন্ডে গিয়ে মমতাকে ছাপিয়ে যান তিনি।
সকালে শুভেন্দু বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন নিজাম প্যালেসে নিজের দলীয় অফিসে। পরে সেখান থেকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে যান। ভবানীপুরের জনবিন্যাসের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু তখনই জানিয়েছিলেন, প্রথম দিকের কিছু রাউন্ডে পিছিয়ে থাকলেও পরে তিনি এগিয়ে যাবেন। অন্য দিকে মমতা সকাল থেকে ছিলেন বাড়িতেই। গণনার প্রাথমিক আভাসে দলকে পিছিয়ে পড়তে দেখে তৃণমূলের প্রার্থী এবং কাউন্টিং এজেন্টদের উদ্দেশে সমাজমাধ্যমে বার্তাও দেন। এরই মধ্যে দুপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান মমতা। দুপুরে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যান শুভেন্দুও। দু’জনেই সন্ধ্যা পর্যন্ত গণনাকেন্দ্রেই ছিলেন। পর সন্ধ্যায় গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে ফিরে যান তৃণমূলনেত্রী।
এরই মধ্যে ঈষৎ উত্তেজনার পরিস্থিতিও তৈরি হয় গণনাকেন্দ্রের কাছে। দুপুরে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের অদূরে একটি পেট্রল পাম্পে বসেছিলেন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা। পুলিশ গিয়ে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই উল্টো দিক থেকে বিজেপির একদল কর্মী-সমর্থক সে দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদেরও বাঁধা দেন পুলিশকর্মীরা। বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তৃণমূলের পেতে রাখা চেয়ার ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ। এই উত্তেজনার মাঝেই দুপুর সাড়ে ৩টের কিছু পরে মমতা পৌঁছোন গণনাকেন্দ্র। ওই সময়ে তাঁর উদ্দেশে ‘চোর চোর’ স্লোগান তোলেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।
দুপুর থেকে মমতা এবং শুভেন্দু উভয়েই ছিলেন সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনাকেন্দ্রে। সন্ধ্যায় কয়েক রাউন্ড গণনা বাকি থাকতেই আচমকা গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মমতা। ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, “আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুরোটা একতরফা। ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে। সিআরপিএফ-এর সামনে। আমি প্রার্থী, আমাকে ঢুকতে দেয়নি। এটা হচ্ছে দানবিক পার্টি। ১০০টারও বেশি সিট লুট করেছে। এই নির্বাচন কমিশন হল বিজেপি কমিশন।” এ বিষয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবালের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবি তৃণমূলনেত্রীর।
তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, “এটা কী ধরনের জয়! এটা ইমমোরাল ভিক্ট্রি। মোরাল ভিক্ট্রি নয়। পুরোটাই বেআইনি। জোর করে জিতেছে। লুট, লুট, লুট। আমরা ঘুরে দাঁড়াবই।”
মমতা-শুভেন্দুর দ্বৈরথের প্রথম পর্ব ছিল নন্দীগ্রাম। ভবানীপুর দ্বিতীয় পর্ব। অনেকটা জেদ করেই ভবানীপুরে লড়তে চেয়েছিলেন শুভেন্দু। নিজের জেতা আসন নন্দীগ্রামে তো তিনি লড়েছেনই। ভবানীপুর ছিল তাঁর কাছে ‘রাজনৈতিক সুযোগ’ নেওয়ার শামিল। নন্দীগ্রামের পরে যদি ভবানীপুরে মমতাকে হারাতে পারেন, তা হলে তাঁর পালকে আরেকটি পালক উঠবে। হেরে গেলে দ্বৈরথের ফলাফল ১-১ থাকবে। স্বভাবতই সারা রাজ্যের নজর ছিল ভবানীপুরের দিকে।
প্রার্থিতালিকা ঘোষণার পর থেকে গত দেড় মাস ধরে রাজ্য রাজনীতিতে ভবানীপুর আলাদা গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। ভবানীপুর আসনের জন্য শুভেন্দুর মনোনয়ন পর্বে সঙ্গী হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বয়ং। এমনকি, ভবানীপুরবাসীর জন্য পৃথক ইস্তাহারও প্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু। প্রচার পর্বের শুরুর দিকে ভবানীপুরে বিশেষ সময় দিতে পারেননি মমতা। কারণ, তাঁকে সারা রাজ্যে ঘুরে ঘুরে বাকি আসনের জন্য প্রচার করতে হয়েছিল। শেষবেলায় ভবানীপুরের প্রচারে নেমে মমতা পদযাত্রা করেছেন, জনসভা করেছেন, আবাসনে আবাসনে ঘুরে ছোট ছোট সভাও করেছেন। সবমিলিয়ে ভবানীপুরে মোট সাতটি জনসভা (যার মধ্যে মাইক-সংঘাতে চক্রবে়ড়িয়ার সভা কয়েক মিনিটেই শেষ হয়ে গিয়েছিল) এবং ছ’টি পদযাত্রা করেছেন মমতা। ভবানীপুরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনা করেছেন। অন্য দিকে, ভবানীপুরে শুভেন্দুও করেছেন ১০টি সভা, তিনটি মিছিল এবং একটি রোড শো। পাশাপাশি, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগও করেছিলেন বিরোধী দলনেতা।
বিজেপির লক্ষ্য ছিল, ভবানীপুরেও নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি। অন্যদিকে, তৃণমূলের লক্ষ্য ছিল, দলনেত্রীর আসনকে কলকাতার ‘ফার্স্ট বয়’ করা। সেই উত্তাপ যেমন প্রচার পর্বে টের পাওয়া গিয়েছে, তেমনই টের পাওয়া গিয়েছে ভোটের দিনও। চেনা ‘ছক’ ভেঙে সকাল থেকে বুথে বুথে ঘুরেছেন মমতা। ঘুরেছেন শুভেন্দুও। এই লড়াইয়ে উভয়পক্ষকেই কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পরবর্তী পরিস্থিতি। এসআইআর পর্বে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বাদ গিয়েছিল ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম। এ বারের নির্বাচনে সেটিও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ছিল। ধরে নেওয়া যেতে পারে সেই তালিকায় নির্দিষ্ট কোনও একটি দলের ভোটার ছিলেন না।
ভোটার সংখ্যায় সেই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত কোন দলকে সুবিধা করে দিল, তা গণনার আগে পর্যন্ত স্পষ্ট ছিল না। কারণ ভবানীপুরের জনবিন্যাস। এখানে যেমন রয়েছেন বিভিন্ন ধর্মের ভোটার, তেমনই রয়েছেন বিভিন্ন ভাষাভাষী ভোটারও। মমতা নিজেও প্রায়শই ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ বলে থাকেন। বহুত্ববাদী চরিত্রের এই আসনে রয়েছে মোট আটটি ওয়ার্ড— ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২। জনবিন্যাসের নিরিখে ভবানীপুরে প্রায় ২৪ শতাংশ মুসলিমের বাস। বাকি ৭৬ শতাংশ অমুসলিম, যার মধ্যে অন্য সংখ্যালঘুরাও রয়েছেন। শিখ এবং জৈন ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবে।
ওই ৭৬ শতাংশ অমুসলিমের মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশ বাংলাভাষী। বাকি ৩৪ শতাংশ অবাঙালি (গুজরাতি, পঞ্জাবি, মাড়োয়ারি, বিহারি এবং ওড়িয়া)। ভবানীপুরের ৭২ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড বাঙালি অধ্যুষিত। ৬৩, ৭০, ৭১, ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে আবার দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন গুজরাতি, পঞ্জাবি এবং মাড়োয়ারিরা। ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা সংখ্যায় অধিক।
ভবানীপুরে রয়েছে আর্থসামাজিক বিন্যাসও। উচ্চবিত্তদের মধ্যে বেশির ভাগই অবাঙালি ব্যবসায়ী। উচ্চমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্তদের মধ্যে রয়েছেন বাঙালিরা। আর্থিক দিক থেকে তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে-থাকা বস্তিবাসীরাও রয়েছেন এই কেন্দ্রে। গোটা কেন্দ্র জুড়েই রয়েছে মিশ্র জনবিন্যাস। ফলে ভবানীপুরে একটিই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ভোটব্যাঙ্কের প্রভাব রয়েছে, তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না।
ভবানীপুর আসনে নির্বাচনের উত্তাপ টের পাওয়া গিয়েছিল ভোটগণনার দিনেও। পরিচিত ছক ভেঙে ভোটের দিন সকাল সকাল এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। ওই দিন বুথে বুথে ঘোরেন মমতা। ভোটের দিনগুলিতে সাধারণত এ ভাবে দেখা যায় না তাঁকে। ভোটের দিন বিকাল পর্যন্ত বাড়িতেই থাকবেন এবং সারাদিন ভোটের তদারকি করবেন— এটাই ছিল তাঁর চেনা রুটিন। কিন্তু এ বারের ভোটপর্বে সেই রুটিন ভেঙে রাস্তায় নেমেছিলেন তৃণমূলনেত্রী। গণনার দিনের জন্য তখন থেকে ধীরে ধীরে তপ্ত হতে শুরু করেছিল ভবানীপুরের রাজনীতির বাতাবরণ।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি
ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির মূল আদর্শিক অভিভাবক হিসেবে পরিচিত ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস) প্রধানের নিউ ইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি।
রয়টার্স জানিয়েছে, ২৯ আগস্ট, শনিবার ম্যানহাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কাছে জানতে চাওয়া হয়, অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না।
নিউ ইয়র্কের প্রথম এই মুসলিম ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মেয়র জবাবে বলেন, “আমি এই সমাবেশের সমর্থক নই। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার মতো আইনি এখতিয়ার নগর কর্তৃপক্ষের আছে কি না, তা আমার জানা নেই।”
মামদানি বলেন, “আমি ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী এক ভারতের রূপ দেখে বড় হয়েছি, যেখানে সবার সমান অধিকারে বিশ্বাস করা হতো। কিন্তু আজ বিভেদের আদর্শ নিয়ে এমন একটি গোষ্ঠীর উত্থান সত্যিই উদ্বেগজনক।”
আয়োজকদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ২৯ আগস্টের এই আয়োজনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দু-আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করা।
আয়োজক সংগঠন ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এঙ্গেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়লগ’ জানায়, যৌথ সংস্কৃতি ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতেই এই আয়োজন, যেখানে বেশ কয়েকটি হিন্দু-আমেরিকান দল সমর্থন দিচ্ছে। তবে আরএসএসের সহিংস ইতিহাস ও সংগঠনটির প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির কারণে নিউ ইয়র্কের অনেক স্থানীয় গোষ্ঠী অনুষ্ঠানটির কড়া সমালোচনা করছে।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলায় জড়িত একটি ‘আধা-সামরিক বাহিনী’ হিসেবে তাদের যে পরিচিতি আছে তা কাটাতে সম্প্রতি বিদেশে সফর আয়োজনের কথা জানিয়েছিল আরএসএস।
তবে আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, আরএসএস দশকের পর দশক ধরে ভারতে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর হওয়া চরম সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
অসহিষ্ণুতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আরএসএস দাবি করে, তারা একটি ‘হিন্দু-কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন’, যার মূল লক্ষ্য হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ করে জাতিকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নিগ্রহ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
এর প্রমাণ হিসেবে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বৃদ্ধি, ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব আইন, মুসলমানদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি গুঁড়িয়ে দেওয়া, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল এবং ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বৈষম্যের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।
তাদের দাবি, খাদ্য ভর্তুকি ও বিদ্যুৎ সুবিধা দেওয়ার মতো সরকারি কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোর সুফল ভারতের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে পাচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির ক্ষমতায় আসার পর কঠোর অভিবাসনবিরোধী নীতি গ্রহণ করেন। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা–সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে। ট্রাম্প আগ্রাসীভাবে অভিবাসীদের বহিষ্কার ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আওতায় ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজায় হামলার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো নানা কারণে মার্কিন ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তাঁর এ কঠোর অভিযানের লক্ষ্য, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনকে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে কিছু আইনি বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন বিচারক প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করেছেন, যার অধীন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল।
বিচারক বলেন, ওই নীতির মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশিক্ষণটির বিস্তারিত বা এর সময়সূচি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি। তবে বলেছে, এ প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জনকল্যাণমূলক সুযোগ–সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন সামগ্রিকভাবে ও ধারাবাহিকভাবে করা হয়, তা নিশ্চিত করাও এর লক্ষ্য।
ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করার খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীর সাক্ষাৎকারের সময়সূচি নির্ধারিত ছিল, তাঁদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এ অভিযান বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
সংগঠনগুলো আরও বলছে, এ কঠোর অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তাদের আশঙ্কা, তাঁরা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ বা বিশেষ নজরদারির শিকার হচ্ছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনকেও কঠিন করে তুলেছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।