ছবি : সংগৃহীত
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে ইসরায়েলের আরও একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি থাকার তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ৩ মার্চ এক মেষপালক আওয়াদ আল-শাম্মারি দুর্ঘটনাক্রমে একটি ঘাঁটির কাছে গেলে ইসরায়েলি হেলিকপ্টার থেকে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
গোপন ঘাঁটিগুলো ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হতো। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে জানলেও ইরাককে জানায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আরও গোপন ঘাঁটি থাকতে পারে বলে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
দিনটি ছিল ৩ মার্চ, স্থানীয় সময় বেলা প্রায় ২টা। একটি পিকআপ ট্রাক ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমি দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে এগিয়ে যাচ্ছে। মরুভূমিতে বসবাস করা স্থানীয় বেদুইন বসতির কাছে সেটি পরিচিত এক দৃশ্য। পিকআপটি স্থানীয় এক মেষপালকের। তিনি বাজার করতে কাছের শহর আল-নুখাইবে যাচ্ছিলেন।
তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই পিকআপটি ফিরে আসে, যা একেবারেই অস্বাভাবিক ছিল। ফিরে আসার সময় সেটিতে আগুন জ্বলছিল এবং গুলিতে সেটি ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছিল।
তিনজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, একটি হেলিকপ্টার ট্রাকটিকে (পিকআপ) ধাওয়া করছিল এবং বারবার গুলি চালাচ্ছিল, একপর্যায়ে সেটি মরুভূমিতে বালুর মধ্যে থেমে যায়। সেটিতে তখনো আগুন জ্বলছিল।
ইরাকের মরুভূমিতে প্রাণঘাতী এই হামলা নিয়ে আগে কখনো কোথাও খবর প্রকাশ পায়নি। ট্রাকটি ২৯ বছর বয়সী আওয়াদ আল-শাম্মারির। শাম্মারির চাচাতো ভাই আমির আল-শাম্মারি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তাঁর ভাই আওয়াদ ট্রাকটি নিয়ে বাজার করতে বের হয়েছিলেন। কিন্তু পথ চলতে গিয়ে তিনি অজান্তে ইরাকের মরুভূমিতে গোপনে স্থাপন করা একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির মুখোমুখি পড়ে যান।
অত্যন্ত গোপনীয় এবং দারুণভাবে সুরক্ষিত ওই সামরিক আস্তানার কাছাকাছি চলে যাওয়ার কারণেই আওয়াদকে প্রাণ দিতে হয়েছে বলে বিশ্বাস তাঁর পরিবারের।
আওয়াদ আল-শাম্মির কারণেই শেষ পর্যন্ত থলের বিড়াল বের হয়ে আসে। জানা যায়, এক বছরের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল তাদের শত্রুদেশ ইরাকের ভেতরে দুটি গোপন সামরিক স্থাপনা থেকে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে। দুর্ভাগ্যজনক সেই যাত্রা শুরুর পর থেকে ভয়াবহ পরিণতির আগে কোনো একসময় আওয়াদ ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি যা দেখেছিলেন, তা জানাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ওই মেষপালক বলেছিলেন, সেখানে একটি উড়োজাহাজ ওঠা-নামার পথ এবং সেটি ঘিরে সেনা, হেলিকপ্টার ও তাঁবুর সমাবেশ রয়েছে।
জ্যেষ্ঠ ইরাকি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, বাগদাদের আঞ্চলিক মিত্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য ইসরায়েল সেখানে একটি ঘাঁটি পরিচালনা করছিল।
এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ইরাকের ভেতরে ইসরায়েলের একটি সামরিক ফাঁড়ি থাকার খবর প্রকাশ করে। ইরাকি কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমিতে আওয়াদের আবিষ্কার করা সামরিক স্থাপনাটি ইসরায়েলের দ্বিতীয় আরেকটি ঘাঁটি।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, আওয়াদ আল-শাম্মারি যে ঘাঁটির সন্ধান পেয়েছিলেন, সেটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধেরও আগে তৈরি। ২০২৫ সালের জুনে তেহরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধে ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
আঞ্চলিক কর্মকর্তারা আরও বলেন, দেশের বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চল বেছে নিয়ে ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকেই ইসরায়েল অস্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করে, যাতে ভবিষ্যৎ সংঘাতের সময় অভিযান চালানোর জন্য সেগুলো ব্যবহার করা যায়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের এই ফাঁড়ি ও ঘাঁটি এবং আওয়াদ আল-শাম্মারির হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য করা একাধিক অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়াদ হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেছেন।
ইসরায়েলি ঘাঁটিগুলো নিয়ে যেসব কর্মকর্তা কথা বলেছেন, তাঁদের অধিকাংশই এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা বিষয় হওয়ায় নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তবে তাঁরা যে তথ্য দিয়েছেন, তা ইঙ্গিত করে যে অন্তত একটি ঘাঁটি, যেটিতে আওয়াদ হঠাৎ করে পৌঁছে গিয়েছিলেন, সেটির বিষয়ে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকেই অথবা তারও আগে থেকে ওয়াশিংটনের কাছে তথ্য ছিল।
এর অর্থ দাঁড়ায়, বাগদাদের অন্য প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত এ বিষয়ে ইরাককে কোনো তথ্য দেয়নি। তাদের শত্রু বাহিনী যে গোপনে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে, এটা ওয়াশিংটন বাগদাদকে জানতে দেয়নি।
ইরাকের পার্লামেন্ট সদস্য ওয়াদ আল-কাদু বলেন, ‘এটি ইরাকের সার্বভৌমত্ব, দেশটির সরকার ও তার বাহিনীগুলোর পাশাপাশি ইরাকি জনগণের মর্যাদার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা প্রদর্শন করার শামিল।’
আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরাকের নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ইসরায়েলের সেই হিসাব-নিকাশের অংশ ছিল, যার ভিত্তিতে ইসরায়েল ধরে নিয়েছিল, ইরাকে গোপনে সামরিক আস্তানা গড়ে সেখান থেকে সামরিক অভিযান চালানো তাদের জন্য নিরাপদ হবে।
দুজন ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গত বছর জুনের সংক্ষিপ্ত যুদ্ধ এবং চলমান সংঘাত-উভয় ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের উড়োজাহাজগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে ইরাককে তাদের রাডার বন্ধ করতে বাধ্য করেছিল। এর ফলে বাগদাদ শত্রুর তৎপরতা শনাক্তের জন্য আরও বেশি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
ইসরায়েলের এসব ঘাঁটির উপস্থিতির তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া ইরাকের জন্যও অস্বস্তিকর কিছু প্রশ্ন তৈরি করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মরুভূমির এক মেষপালকের নজরে পড়ার আগপর্যন্ত সত্যিই কি ইরাকি বাহিনী নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি জানত না? নাকি তারা জানত, কিন্তু উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?
যেকোনো সম্ভাবনাই এই ইঙ্গিত করে, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের টানাপোড়েনে আটকে থাকা ইরাক এখনো নিজের ভূখণ্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি।
আল-কাদু বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা নেতৃত্বের অবস্থান অত্যন্ত লজ্জাজনক।’
এ নিয়ে ইরাকি সেনাবাহিনীর ওয়েস্টার্ন ইউফ্রেতিস ফোর্সেসের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের এই আবিষ্কারের এক মাসের বেশি সময় আগে থেকে তাঁর বাহিনী মরুভূমিতে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে সন্দেহ করে আসছিল।
আল-হামদানি বলেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরাক সরকার এ নিয়ে নীরব।
ইরাকের সরকার এখন পর্যন্ত তাদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি ঘাঁটির অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। এটি স্বীকার করা তাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।
কারণ, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরাকের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দেশটির জনগণ ইসরায়েলকে শত্রু হিসেবে দেখে।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদ মান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইরাকের কাছে ‘কোনো ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।’
মরুভূমিতে ইসরায়েলের ঘাঁটির উপস্থিতির তথ্য প্রকাশের পর ইরাকে ক্ষোভ বাড়ছে। ফলে দেশটিতে ইরানের প্রভাব সীমিত করার যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
আঞ্চলিক দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আওয়াদ যে ঘাঁটির তথ্য প্রকাশ করেছিলেন, সেটি ইসরায়েলের বিমানবাহিনীকে অভিযানে সহায়তা, জ্বালানি সরবরাহ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হতো।
এসব ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছিল, যাতে ইসরায়েলি উড়োজাহাজগুলোকে ইরান পর্যন্ত পৌঁছাতে যে দূরত্ব অতিক্রম করতে হতো, তা কমানো যায়। এটি মূলত সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য একটি অস্থায়ী উপস্থিতির কথা মাথা রেখে তৈরি করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধের সময় এই ঘাঁটি অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল বলে জানান দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা।
গত বছরের যুদ্ধের পর দেওয়া এক ভাষণে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির বলেছিলেন, অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ‘বিমানবাহিনী এবং স্থল কমান্ডো বাহিনীর সমন্বয় ও প্রতারণামূলক কৌশলের কারণে’ ইসরায়েলি অভিযানে সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা পেন্টাগনের সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকে ইসরায়েলি অভিযানের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রশ্নগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছে পাঠাতে বলেছে।
তবে সাবেক শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডার, পেন্টাগনের কর্মকর্তারা এবং ওই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা মার্কিন কূটনীতিকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিজেদের ভেতর যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তাতে সেন্ট্রাল কমান্ড ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ইসরায়েলি উপস্থিতির বিষয়ে কিছুই জানে না—এটা কল্পনাতেও বিশ্বাস করা অসম্ভব।
বিপজ্জনক গোপন তথ্য যেভাবে ফাঁস হলো
ইরাকের আঞ্চলিক কমান্ডার জেনারেল আল-হামদানি দাবি করেন, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের মরুভূমির বেদুইন সম্প্রদায়গুলো কয়েক সপ্তাহ ধরে আঞ্চলিক কমান্ডকে সেখানে অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতার বিষয়ে নানা খবর দিচ্ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী কাছাকাছি না গিয়ে বরং দূর থেকে ‘সম্ভাব্য ইসরায়েলি বাহিনীর সন্দেহজনক তৎপরতার ওপর নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল’।
তারা মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে এ বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছিল, কিন্তু কোনো উত্তর পায়নি বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
আওয়াদ আল-শাম্মারি যেদিন বিদেশি বাহিনীর মুখোমুখি হন, সেদিন তিনিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই এবং কারবালা আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ডের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ফাহিম আল-গুরাইতি।
তার কিছু সময় পর জেনারেল আল-গুরাইতি ও আওয়াদ আল-শাম্মারির পরিবারের সদস্যরা জানান, সেনাবাহিনী ও তাঁর স্বজনেরা তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না। তাঁর পরিবার দুই দিন ধরে খোঁজাখুঁজি করে, এরপর হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করা বেদুইন বাসিন্দাদের সন্ধান পায়। তাদের কাছ থেকে তাঁরা আওয়াদের শেষ পরিণতির কথা জানতে পারে, জানতে পারে তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল।
আওয়াদের চাচাতো ভাই আমির বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল, আওয়াদের পিকআপের মতোই দেখতে একটি পুড়ে যাওয়া পিকআপ ট্রাক সেখানে পড়ে আছে, কিন্তু কেউ সেখানে যাওয়ার সাহস করেনি। আমরা সেখানে গিয়ে পোড়া ট্রাক ও পুড়ে যাওয়া মরদেহ দেখতে পাই।’
আওয়াদের পরিবার তাঁর রক্তাক্ত ও পোড়া মরদেহের ছবি দেখিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর মাথা ও আঙুল পুড়ে কালো হয়ে গেছে। ছবিতে পোড়া পিকআপও দেখা যাচ্ছে। জেনারেল আল-গুরাইতি ও জেনারেল আল-হামদানি বলেন, মেষপালকের কাছ থেকে খবর পাওয়ার এক দিন পর ইরাকের আঞ্চলিক কমান্ড একটি পুনর্বীক্ষণ দল সেখানে পাঠায়।
তারও এক দিন পর ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনিটগুলো এলাকাটির কাছে পৌঁছালে তারা গোলাগুলির মুখে পড়ে। এতে এক সেনা নিহত এবং দুজন আহত হন, দুটি যানবাহনে বোমা হামলা চালানো হয়। এরপর ইউনিটগুলো সেখান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বাগদাদে ইরাকের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তখনো বোঝার চেষ্টা করছিলেন, সেখানে আসলে কী ঘটেছিল।
দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের কারণে তাঁদের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হয়। শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা ঘটনাটিকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাননি বা এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছিলেন।
সেনাদের ওপর হামলা ও সেনা হতাহতের ঘটনার পর জনসমক্ষে ইরাকের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছিল, ‘বিদেশি’ বাহিনী তাদের সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে অভিযোগ করেছে।
আর ইরাকি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল-আমির ইয়ারাল্লাহ গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বলে জানান জেনারেল আল-হামদানি এবং দুজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা। তাঁরা বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী নিশ্চিত করেছিল, ওই কাজ তাদের বাহিনীর নয়, ওটা মার্কিন বাহিনী নয়। তখন আমরা বুঝতে পারি, এটি ইসরায়েলি বাহিনী ছিল।’
ইরাকি সেনাদের ওপর হামলার চার দিন পর, ৮ মার্চ ইরাকি পার্লামেন্ট সামরিক নেতৃত্বকে একটি গোপন ব্রিফিং আয়োজনে বাধ্য করে। ওই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত পার্লামেন্ট সদস্যরা জানান, তাঁরা এর বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারেননি। তবে তাঁদের একজন হাসান ফাদাম নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ইসরায়েল ইরাকের ভেতরে অন্তত আরও একটি ফাঁড়ি স্থাপন করেছিল।
হাসান ফাদাম বলেন, আল-নুখাইবেরটি সেই ঘাঁটিগুলোর একটি, শুধু এটির অবস্থান ফাঁস হয়েছে।
আরেক ইরাকি কর্মকর্তা দ্বিতীয় ঘাঁটির অস্তিত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে সেটির অবস্থান সম্পর্কে আলাদা কিছু জানাননি। শুধু বলেছেন, সেটিও দেশটির পশ্চিমের মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত।
সাবেক ও বর্তমান দুজন জ্যেষ্ঠ ইরাকি কর্মকর্তা বলেন, সরকারি প্রটোকল অনুযায়ী ইরাকি ভূখণ্ডে কোনো কার্যক্রম চালালে তা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাগদাদকে জানানো বাধ্যতামূলক।
ওই দুই কর্মকর্তা বলেন, এর অর্থ দাঁড়ায়, ওয়াশিংটন হয় ইসরায়েলি কার্যক্রম গোপন রেখেছিল অথবা ইরাকের শীর্ষ কমান্ডকে জানানো হয়েছিল, তারা তা গোপন রেখেছিল।
তবে কর্মকর্তারা এ–ও বিশ্বাস করেন, মরুভূমির ওই মেষপালক ঘটনাটি প্রকাশ করার আগপর্যন্ত ইরাকি নেতৃত্ব বিদেশি সামরিক বাহিনীর ওই উপস্থিতি যে ইসরায়েলি বাহিনী ছিল, তা তারা জানত-এমনটা প্রায় অসম্ভব। বরং খুব সম্ভবত তারা সেটিকে মার্কিন ঘাঁটি বলে ধরে নিয়েছিল।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
এছাড়া, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’
তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।
মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁড়গুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।
পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।