তেহরানের এক ব্যানারে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুলুল্লাহ খোমেনি, পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিকৃতি (ছবি-এএফপি)
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রের আরও অনেক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা প্রাণ হারান। এর মধ্য দিয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের একটি যুগের অবসান ঘটে। তবে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্র ভেঙে পড়েনি। বরং নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইরান দ্রুত নতুন বাস্তবতায় নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, বিপ্লব-পরবর্তী নতুন এই নেতৃত্ব আগের তুলনায় বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম এবং কৌশলগতভাবে আরও সক্রিয়। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিবর্তন কি শুধু নেতৃত্বের পালাবদল, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রকে নিঃশেষ করে ফেলা। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যে চিত্র সামনে এসেছে, তা অনেক পর্যবেক্ষকের প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি।
ঐতিহাসিক ভার্সাই থেকে মধ্যপ্রাচ্য
গত মাসে ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। স্থানটি বেছে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, একই প্রাসাদে ১৯১৯ সালে সই হয়েছিল ঐতিহাসিক ভার্সাই চুক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছিল এই চুক্তি। সেই ইতিহাসের সঙ্গে এবারের মাত্র দেড় পৃষ্ঠার নতুন এই সমঝোতা স্মারকের তুলনা করতে শুরু করেন অনেকে। দুই চুক্তির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও প্রশ্ন উঠেছে—এই সমঝোতাও কি ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস বদলে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হবে? যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও তা এখন পর্যন্ত ভঙ্গুর। হরমুজ প্রণালি ঘিরে ছোট ছোট সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধের মূল কারণগুলোরও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলটি এখনো অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
ইরানকি আরও শক্তিশালী?
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ভালি নাসরের মতে, বড় যুদ্ধ শুধু বিজয়ী-পরাজিত নির্ধারণ করে না, এটি পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক দাবার ছকই বদলে দেয়। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে শেষ পর্যন্ত এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নতুনভাবে সাজিয়ে দিতে পারে।’ যুদ্ধের আগে ইরানকে অত্যন্ত দুর্বল বলেই মনে করা হচ্ছিল।
দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতি বিপর্যস্ত ছিল। পারমাণবিক কর্মসূচিও বড় ধাক্কা খেয়েছিল। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। একই সময়ে ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়ে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের সরকার ক্ষমতা হারায়। লেবাননে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। গাজায় হামাসের ওপর ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক অভিযান চলে। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধেও একাধিক হামলা হয়।
এসব কারণে অনেক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছিল, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান সম্ভবত সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ফলের সঙ্গে এ ধারণা পুরোপুরি মিলছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক চাপের মধ্যেও ইরান রাষ্ট্র হিসেবে টিকে গেছে। শুধু তাই নয়, বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করার ক্ষমতাও দেখাতে পেরেছে তেহরান। ফলে যুদ্ধ শেষে প্রশ্নটি নতুনভাবে সামনে আসে—আসলে কে কাকে দুর্বল করল?
ভিন্ন কৌশলে নতুন নেতৃত্ব
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যাকে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসন পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত ইরানের জন্য সুবিধাজনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার ভাষায়, একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্ম এখন ক্ষমতায় এসেছে। তারা একদিকে যেমন যুদ্ধ পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে শান্তি আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছেন।
নাসর বলেন, ‘ইরানের নতুন এই নেতৃত্ব আগের প্রজন্মের মতো আদর্শবাদী নয়, বরং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিতেও দ্বিধা করে না।’ নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বয়স ৫৬ বছর। তার বাবা প্রয়াত আলি খামেনির চেয়ে প্রায় ৩০ বছর ছোট তিনি। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ওয়াহিদিসহ বর্তমান নেতৃত্বের বেশিরভাগই বিপ্লব-পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধি। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ‘দীর্ঘদিন আলি খামেনির নেতৃত্বই রাষ্ট্রব্যবস্থায় পরিবর্তনের বড় বাধা ছিল। তার বিদায়ের পর সেই কাঠামো পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
আড়াল থেকে সর্বোচ্চ নেতা: বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আলি খামেনির সময় ইরান এমন একটি কৌশল অনুসরণ করত, যেখানে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে না গিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা হতো। কিন্তু নতুন নেতৃত্ব সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে যুদ্ধবিরতির আলোচনায়ও অংশ নেয়।
ভালি নাসরের মতে, আগের নেতৃত্বের তুলনায় বর্তমান নেতৃত্ব অনেক বেশি ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত। এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও তাদের দ্বিধা কম। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২০ সালের ঘটনাটি উল্লেখ করেন। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় আইআরজিসির কমান্ডার কাশেম সোলেইমানি নিহত হলে, ইরান ঘোষণা দিয়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়। এতে কোনো মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধে সেই সংযম দেখা যায়নি। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর, কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিসহ বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এ দফায় কুয়েতে ছয় মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক সেনা আহত হয়।
উপসাগরীয় রাজনীতিতে বদলে যাচ্ছে সমীকরণ
বিবিসির মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা-নীতি নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব দেশ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু এবার সেই ঘাঁটিগুলোই ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরানবিষয়ক পরিচালক আলি ভায়েজ বলেন, উপসাগরীয় অনেক দেশ এখন বুঝতে পারছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকির কারণও হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, এ কারণেই উপসাগরীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এমনকি সৌদি আরবও আঞ্চলিক বৈঠকের উদ্যোগ নিতে পারে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে বিবিসি। তবে ভায়েজ মনে করেন, এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বলয় ছেড়ে দেবে। কারণ বাস্তবে ওয়াশিংটনের বিকল্প এখনো তাদের হাতে নেই।
বদলাবে কি ইরানের সাধারণ মানুষের ভাগ্য?
ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের সময় ইরানের জনগণকে নিজেদের সরকার নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।তেহরানে নতুন নেতৃত্ব এলেও সাধারণ মানুষের জন্য আরও স্বাধীন বা সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা এখনো সামনে আসেনি। চ্যাথাম হাউজের বিশ্লেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজির মতে, সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এখন নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা। তাই ভিন্নমত দমনের নীতিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে সামাজিক কিছু ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের বাইরে হিজাবের বাধ্যবাধকতা কার্যত শিথিল হয়েছে। তেহরানের কিছু রেস্তোরাঁয় নীরবে মদ বিক্রিও চলছে—যা আগে কল্পনাও করা যেত না।
অধ্যাপক ভালি নাসরের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে আদর্শগত কোনো কারণ নেই। বরং যুদ্ধের পর রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই সরকার বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যুদ্ধের পর বদলে গেছে সাধারণ মানুষের মনোভাবও। সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের সাধারণ মানুষের মানসিকতায়ও বড় পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছে বিবিসি।
বহু বছর ধরে সরকারের কঠোর দমন-পীড়নে ক্ষুব্ধ থাকা অনেক মানুষ যুদ্ধের সময় ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হতে দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন—তাদের প্রকৃত শত্রু কে? যুদ্ধের প্রথম দিনেই মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহু শিশুর মৃত্যু সেই প্রশ্নকে আরও তীব্র করে তোলে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নিজেদের ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে তুলে ধরছিল, তাদের হামলায় সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এমন উপলব্ধিও তৈরি হয়েছে ইরানি সমাজের একাংশে।
চীনের মতো সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ইরান
আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক আলি ভায়েজ বর্তমান পরিস্থিতিকে মাও-পরবর্তী চীনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, ইরানের পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা এখন বুঝতে পারছে যে পুরোনো পথে আর এগোনো সম্ভব নয়। রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে জনগণের সঙ্গে নতুন এক সামাজিক সমঝোতা গড়ে তুলতে হবে। তবে সেই পরিবর্তন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। কারণ ক্ষমতার কেন্দ্র আগের চেয়ে আরও বেশি মাত্রায় আইআরজিসির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষিত তরুণদের বড় একটি অংশ এখনো মনে করেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা নেই।
কূটনীতিতে নতুন সুযোগ: যুদ্ধের পর উত্তেজনা পুরোপুরি না কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতোমধ্যে দুই দেশের সম্পর্ক ‘মৌলিকভাবে পরিবর্তনের’ সম্ভাবনার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড়ের বিনিময়ে যদি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হয়, তাহলে সেটি ইরানের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হতে পারে। সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র ৬০ দিনের জন্য কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে ইরান সীমিত পরিসরে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারে।
আলোচনা সফল হলে ইরানের জব্দ থাকা কয়েকশ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের পথও খুলে যেতে পারে। এছাড়া সমঝোতা স্মারকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদিও এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অর্থনৈতিক প্রণোদনাই নতুন নেতৃত্বকে সমঝোতার পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে।
চ্যাথাম হাউজের সানাম ভাকিল মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতা ব্যর্থ হলে বা আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ধৈর্য হারালে নতুন করে সামরিক সংঘাতও শুরু হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের অবিশ্বাস, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও লেবাননসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট এখনো অমীমাংসিত। ফলে সামনে যেমন নতুন সম্পর্ক গড়ার সুযোগ রয়েছে, তেমনি ব্যর্থতার ঝুঁকিও সমানভাবে রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান ভেঙে পড়বে—এই ধারণা বাস্তবে সফল হয়নি। বরং ইরানের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তুলনামূলক বেশি বাস্তববাদী, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগোতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়—এই পরিবর্তন ইরানের জন্য নতুন স্থিতিশীলতার সূচনা করবে, নাকি আবারও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে মধ্যপ্রাচ্যকে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
এছাড়া, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’
তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।
মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁড়গুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।
পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।