প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের খরচ হয়েছে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ব্যয় ধরা হয়নি।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া হাজার হাজার মার্কিন নাগরিককে সরিয়ে নিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ দিয়েছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, সামরিক ব্যয়ও তত বাড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। অনেকের ধারণা, এই নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ সীমিত করতে চাইতে পারেন, কারণ যুদ্ধটি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
যুদ্ধ কত দিন চলবে সে বিষয়ে ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও ভিন্নতা দেখা গেছে। শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন যুদ্ধ প্রায় এক মাস চলতে পারে। পরে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের সরকার পতন এবং পারমাণবিক হুমকি শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলতে পারে।
এই যুদ্ধের খরচ শুধু অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জামে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব ইতিমধ্যেই সাধারণ মার্কিন নাগরিকের জীবনে পড়তে শুরু করেছে। পেট্রলের দাম বেড়েছে, সামনে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে।
কারণ, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটছে। মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় মর্টগেজ ঋণের সুদ বাড়ছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় শেয়ারবাজারেও পতন দেখা যাচ্ছে।
প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অর্থনীতিবিদ ওয়েইন ওয়াইনগার্ডেন বলেন, যুদ্ধের কারণে পেট্রল, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের দামে চাপ তৈরি হচ্ছে। পরিবহন, প্যাকেজিং ও সার উৎপাদনের খরচ বাড়ার ফলে এই দাম আরও বাড়তে পারে। এতে এমনিতেই উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে বিপাকে থাকা পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে। এই যুদ্ধ কীভাবে মার্কিন নাগরিকদের দৈনন্দিন খরচে প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝার জন্য কয়েকটি দিক বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবহন ও জ্বালানি
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে। এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়। ইরান এই প্রণালির উত্তর দিক নিয়ন্ত্রণ করে। যুদ্ধ শুরুর পর যেকোনো জাহাজ সেখানে প্রবেশ করলে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। একই পথ দিয়ে সার, সার তৈরির কাঁচামাল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও যায়। ফ্রান্সের এসেক বিজনেস স্কুলের অর্থনীতির প্রভাষক হেরন লিম জানান, ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর, প্লাস্টিক ও রাবার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক কাঁচামালও এই পথ দিয়ে যায়। অন্যদিকে এশিয়া থেকে ওষুধ, পোশাক ও ব্যাটারির মতো পণ্য উল্টো পথে পরিবহন করা হয়।
ইরান নাকি এই পথজুড়ে নৌ মাইন পেতে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এমন কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে, যেগুলো মাইন স্থাপন করছিল। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর মাধ্যমে তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি কার্যকর সমাধান নয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
বিকল্প পথ ব্যবহার করাও সহজ নয়। কারণ, সুয়েজ খালের পথেও নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর কারণে লোহিত সাগর হয়ে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর প্রভাব ইতিমধ্যে জ্বালানির বাজারে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন মোটর ক্লাব এএএর তথ্য অনুযায়ী, ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের গড় দাম প্রতি গ্যালন প্রায় ৩ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে। মাত্র এক সপ্তাহেই দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫ সেন্ট।
এ ছাড়া জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শিগগিরই অনেক পরিবারকে বেশি বিদ্যুৎ ও গরমের বিল দিতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের কয়েকটি দেশ গৃহস্থালি ব্যবহারের জন্য জ্বালানি সংরক্ষণের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ৮ মার্চ সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি তাদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানবে। তাদের ভাষায়, যদি প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ২০০ ডলারের বেশি সহ্য করতে পারেন, তবে এই যুদ্ধ চালিয়ে যান।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্যদেশগুলো ইতিমধ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈশ্বিক বাজারে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র তার জরুরি তেল মজুত থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল বাজারে ছাড়বে।
তবে অর্থনীতিবিদ ওয়েইন ওয়াইনগার্ডেনের মতে, এটি অনেকটা সংগীতের খেলায় চেয়ারের অভাবের মতো অবস্থা। খেলোয়াড় বেশি, চেয়ার কম। কৌশলগত তেল মজুত বাজারে ছাড়লে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে, কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তাতে বড় পরিবর্তন আসবে না।
কৃষি ও খাদ্য
যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে কৃষি ও খাদ্য খাতেও। মার্কিন ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের সভাপতি জিপি ডুভাল এক চিঠিতে ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, সার সরবরাহে বিঘ্ন এবং দাম বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকেরা বড় সমস্যায় পড়তে পারেন। এর ফল হিসেবে বাজারে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে। প্রাকৃতিক গ্যাস সার তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। আর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বে ইউরিয়া সারের অন্যতম বড় উৎস।
বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ ইউরিয়া রপ্তানি এবং প্রায় ৩০ শতাংশ অ্যামোনিয়া রপ্তানি আসে এই অঞ্চল থেকে। বিশ্বের প্রায় এক–তৃতীয়াংশ ইউরিয়াও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার পর থেকেই ইউরিয়ার দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। তেল ও গ্যাস পরিশোধনের একটি উপজাত সালফারের প্রায় অর্ধেক সরবরাহও আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। এই সালফার সার উৎপাদন ছাড়াও বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
হেরন লিম বলেন, যদি জাহাজে করে বাজারে সার পৌঁছানো না যায়, তাহলে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। এতে ফসলের উৎপাদন কমে যেতে পারে এবং খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
বিমান ও পর্যটন
বিমান ভাড়াও বাড়তে শুরু করেছে। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি সতর্ক করেছেন, জেট ফুয়েলের দাম বাড়ার কারণে বিমান ভাড়া বাড়তে পারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৫৮ শতাংশ বেড়েছে।
ক্যাথে প্যাসিফিক ও তাদের বাজেট এয়ারলাইন এইচকে এক্সপ্রেস ইতিমধ্যে জ্বালানি সারচার্জ প্রায় দ্বিগুণ করেছে। হংকং এয়ারলাইনসও একই পদক্ষেপ নিয়েছে।
মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোক জানিয়েছেন, জ্বালানি খরচ কমাতে কিছু ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে এবং খাদ্যসহ জরুরি পণ্য পরিবহনে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।
যুদ্ধের কারণে ভ্রমণপথও বদলে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে গিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের অনেক রুটে বিমান ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের কিছু রুটে এই মাসে ভাড়া প্রায় ৯০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
প্রযুক্তি
উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতেও প্রভাব পড়ছে। বিশ্বের প্রায় ৮ শতাংশ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন হয় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাতার ও বাহরাইনের কয়েকটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানা রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। ফলে অ্যালুমিনিয়ামের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে গাড়ি, নির্মাণ ও বিমানশিল্পের খরচও বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের হিলিয়াম উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে হিলিয়াম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। চিকিৎসা যন্ত্র, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতেও এর ব্যবহার রয়েছে। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আইফোন, ল্যাপটপসহ নানা ইলেকট্রনিক পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
নেদারল্যান্ডসের গ্রোনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উইলিয়াম ফিগুয়েরোয়ার মতে, যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই সাধারণ মানুষের পকেটে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পেট্রলের দাম বেড়েছে, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কায় মর্টগেজের সুদ বাড়ছে। তেল ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকির মুখেও পড়তে পারে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
এছাড়া, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’
তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।
মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁড়গুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।
পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।