ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য ক্রিস্টাল জিমারম্যান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক যুদ্ধ নিয়ে বেশ চিন্তিত। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার বিষয়ে আগে সমর্থন দিলেও বর্তমান পরিস্থিতি তাঁকে ভাবিয়ে তুলছে।
একের পর এক বোমা হামলা আর চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ট্রাম্পের হুমকির পর এখন একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসার কোনো পথ নেই। জিমারম্যানের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো নিজের অজান্তেই এক অন্তহীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।
বাগদাদ থেকে ফেরার পর বিষণ্নতা ও অনিদ্রায় ভুগছেন ৪০ বছর বয়সী জিমারম্যান। কলোরাডো স্প্রিংসের একটি ভেটেরানস অ্যাফেয়ার্স ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া শেষে তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ আসলে সম্পদ ও অর্থের অপচয়। এতে আমাদের ভাবমূর্তি একজন উৎপীড়কের মতো হয়ে উঠছে।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাত সপ্তাহে গড়িয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প আবারও তার চিরায়ত বাগাড়ম্বর ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ফিরে গেছেন।
ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তিনি দেশটির বন্দর অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিকের মনেই ক্ষোভ, হতাশা ও বিভ্রান্তি দেখা দিচ্ছে।
জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রতি ১০ মার্কিন নাগরিকের মধ্যে প্রায় ৬ জনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধের বিরোধী। বলা বাহুল্য, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইরাক ও আফগানিস্তান আক্রমণ বা ’৯০-এর দশকে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ে জনগণের জোরালো জনসমর্থনের তুলনায় এটি এক বড় পরিবর্তন।
অনেকের মতে, এই যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসন বিভ্রান্ত। তাদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট এই যুদ্ধের জন্য জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেননি এবং যুদ্ধের কারণও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। উত্তর ক্যারোলাইনার ফেয়্যাটভিল শহরে কফিতে চুমুক দিতে দিতে ১৯ বছর বয়সী এমেলিয়া লরেঞ্জেন বলেন, ‘আমার মনে হয় না ট্রাম্প কোনো বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’
ফেয়্যাটভিল শহরটি ফোর্ট ব্র্যাগ সেনাঘাঁটির জন্য বিখ্যাত। এখানে সেনাবাহিনীর স্পেশাল অপারেশনস এবং থার্ড স্পেশাল ফোর্সেস গ্রুপের সদর দপ্তর অবস্থিত। তবে যুদ্ধের বিরুদ্ধে এই বিরোধিতার সুর এখনো বেশ মৃদু। ক্যাফের আড্ডা কিংবা সাবেক সেনাসদস্যদের সভায় আলাপচারিতার মধ্যেই মূলত এই অসন্তোষ দানা বাঁধছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ বা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের প্রাক্কালে যেমন বিশাল গণবিক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, এবার তার পরিবর্তে শুধু ছোটখাটো সমাবেশ হচ্ছে।
আমি অবাক হচ্ছি যে আরও বেশি মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না। তবে সত্যি বলতে, তিনি (প্রেসিডেন্ট) এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে অবাক হওয়াটাও কঠিন।
৬৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক মাইক কিফ
অরেগনের পোর্টল্যান্ডে একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ৬৪ বছর বয়সী মাইক কিফ বলেন, ‘আমি অবাক হচ্ছি, আরও বেশি মানুষ কেন রাস্তায় নামছে না। তবে সত্যি বলতে, তিনি (প্রেসিডেন্ট) এখন যা-ই করুন না কেন, তাতে অবাক হওয়াটাও কঠিন।’
ইরান যুদ্ধের বিরোধিতার বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক দলের ভিত্তিতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট ভোটারদের বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরোধী। অন্যদিকে রিপাবলিকান ভোটারদের বেশির ভাগই প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে সমর্থন জানাচ্ছেন। জরিপটি সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির আগে করা হয়েছিল।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে লড়তে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য অশনিসংকেত দিচ্ছে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ। এতে দেখা গেছে, রিপাবলিকানঘেঁষা নিরপেক্ষ ভোটারদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থন নিয়ে স্পষ্ট বিভক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার কৌশলের প্রতি ৫২ শতাংশ ভোটার সমর্থন জানালেও ৪৫ শতাংশই এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন।
সিএনএনের মার্চ মাসের এক জরিপ অনুযায়ী, রিপাবলিকান দলের ভেতরের এই ফাটল মূলত ট্রাম্পের গতানুগতিক কট্টর সমর্থকদের বাইরে থেকে তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নিজেদের ‘মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) রিপাবলিকান’ হিসেবে পরিচয় দেন না, তাদের মধ্যে যুদ্ধের সমর্থনের হার কট্টর সমর্থকদের তুলনায় অনেক কম।
এই জরিপে আরও দেখা গেছে, ৪৫ বছরের বেশি বয়সী রিপাবলিকানদের তুলনায় তরুণ রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তকে অনেক কম সমর্থন করছেন। সামগ্রিকভাবে নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে পরিচয় দেওয়া ভোটাররা এই যুদ্ধের জোরালো বিরোধিতা করছেন।
এমনকি যেসব রিপাবলিকান এই যুদ্ধ সমর্থন করছেন, তাঁরাও এ পরিস্থিতিকে খুব একটা সন্তোষজনক মনে করছেন না। পিউ জরিপ বলছে, এই রিপাবলিকানদের মাত্র অর্ধেক মনে করেন যে যুদ্ধ ঠিকঠাক এগোচ্ছে।
কলোরাডো স্প্রিংস, সান আন্তোনিও এবং ফিয়্যাটভিলের মতো সামরিক শহরগুলোয় নেওয়া এসব সাক্ষাৎকারে ভোটাররা তাঁদের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ট্রাম্প ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধবিরোধী’ এবং শান্তির পক্ষে প্রচার চালিয়ে ক্ষমতায় এলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে আরও একটি ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধের দিকেই ঠেলে দিচ্ছেন।
যুদ্ধ শুরুর ছয় সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও মার্কিনদের অনেকেই জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য কী, কিংবা কেন তিনি এ সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে হামলায় যোগ দিলেন-সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই। তাঁদের মতে, সবকিছুই খুব দ্রুত এবং অসংলগ্নভাবে ঘটেছে।
মার্কিন নাগরিকেরা বলছেন, জর্জ ডব্লিউ বুশ বা তাঁর বাবা জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের মতো সাবেক প্রেসিডেন্টরা আফগানিস্তান বা ইরাক হামলা এবং কুয়েত থেকে সাদ্দাম হোসেনকে হটানোর অভিযানের আগে মাসের পর মাস এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন। তখন আন্তর্জাতিক জোট গঠন করা হয়েছিল এবং কংগ্রেসেও বিতর্ক হয়েছিল।
অথচ এবার ইরানে হামলার আগে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এর ওপর সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনালাপে এবং ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গভীর রাতে ট্রাম্পের দেওয়া একের পর এক পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্চের শুরুর দিকের এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার এবং ৭১ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার মনে করেন, যুদ্ধের আগে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। বিপরীতে ইরাক যুদ্ধের আগে বুশ যেসব যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, তা জনসাধারণের বড় একটি অংশের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছিল বলে জরিপে দেখা গেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া লরেঞ্জেন তাঁর একটি হুমকিতে বিশেষভাবে বিচলিত। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির পুরো সভ্যতা ধ্বংস করে দেবেন। শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় সেই ভয়াবহ ঝুঁকি আপাতত এড়ানো গেছে।
লরেঞ্জেন বলেন, ‘ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান দিক ছিল তিনি নিজেকে একজন যুদ্ধবিরোধী মানুষ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। অথচ সেই কথা বলার পর এখন আমরা তাঁকে এত দ্রুত যুদ্ধের দিকে পা বাড়াতে দেখছি। বিষয়টি আসলে মোটেও বোধগম্য নয়।’
ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের ব্যর্থতা যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে এই ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে। ওই দুই যুদ্ধে ৭ হাজারের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য ও ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ভোটাররা ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের অজুহাত হিসেবে ব্যবহৃত গণবিধ্বংসী অস্ত্রের সেই মিথ্যা দাবি এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের রক্তাক্ত বিদায়ের কথা টেনে আনছেন। তাঁদের মনে এখন একটাই সংশয়, আবারও কি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে?
৫৫ বছর বয়সী সাবেক মেরিন সেনা কুয়েতা রদ্রিগেজ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার সময় ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে এক ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি সে সময়কার সম্মিলিত শোক এবং মার্কিন নাগরিকদের একতাবদ্ধ হওয়ার কথা মনে করেন। ইরাক আক্রমণের বিষয়ে বুশের যুক্তির সঙ্গে তিনি একমত না হলেও রদ্রিগেজ মনে করেন, বুশ অন্তত জনগণকে সঙ্গে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
সান আন্তোনিওর বাসিন্দা রদ্রিগেজ এখন ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ। কারণ, ট্রাম্প দেশকে এমন এক অঞ্চলে যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে অনেক সেনা ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন। প্রেসিডেন্টকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় তিনি কংগ্রেসের ওপর হতাশ এবং অনেক নাগরিককে এই যুদ্ধ নিয়ে নির্লিপ্ত দেখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
রিপাবলিকানপন্থী অন্যান্য সাবেক সেনা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাঁরা এখনো ট্রাম্প ও এই যুদ্ধকে সমর্থন করেন। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া এবং শত শত মার্কিন সেনা হত্যায় সহায়তা করা একটি ‘ধর্মতাত্ত্বিক স্বৈরতন্ত্রের’ ওপর হামলা চালানোর জন্য তাঁরা ট্রাম্পের প্রশংসা করছেন।
ট্রাম্পের সমালোচকেরা যেখানে ইরান হামলাকে অগোছালো বলছেন, সেখানে তাঁর গোঁড়া সমর্থকেরা মনে করেন এই হামলা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।
ইরাকে দায়িত্ব পালন করা ৫৮ বছর বয়সী গ্যারি ফ্রিস বলেন, ‘ইরান একটা হুমকি, একে নির্মূল করা দরকার।’ বর্তমানে নিজের হার্লে ডেভিডসন মোটরসাইকেল নিয়ে রকি মাউন্টেন চষে বেড়ানো এই সাবেক সেনা বলেন, ইরান আক্রমণ করে ট্রাম্প দেখিয়েছেন, ‘তাঁর মেরুদণ্ড আছে।’
পশ্চিম আইওয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও ট্রাম্পের যুদ্ধের প্রতি জোরালো সমর্থনও রয়েছে। গত তিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ অঞ্চলে ট্রাম্পের জয়ের ব্যবধান ক্রমাগত বেড়েছে।
নিজের খামারের গরুর মাংস বিক্রি করেন ৫১ বছর বয়সী কেলি গ্যারেট। তিনি এমন একজন কৃষক, যিনি সরকারের এই ইরান আক্রমণের যৌক্তিকতা পুরোপুরি না বুঝলেও তাতে সমর্থন দিচ্ছেন। মূলত অনেক রিপাবলিকানেরই প্রেসিডেন্টের ওপর অটুট বিশ্বাস রয়েছে।
ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক ও কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে আগে থেকেই বিপর্যয়ের মুখে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলো। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সার ও ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। ঠিক যে সময় কৃষকেরা বীজ বপনের জন্য জমি ও যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করছিলেন, তখনই অর্থনীতির ওপর এই নতুন আঘাত এল।
তবু আইওয়ার অনেক রিপাবলিকান কৃষক এই উচ্চমূল্যের জন্য ট্রাম্পকে নয়, বরং করপোরেট মুনাফাখোরদের দায়ী করছেন।
অবসরপ্রাপ্ত কৃষক কট্টর রিপাবলিকান সমর্থক ওয়েইন ব্রিঙ্কস (৭২) মনে করেন, যদি এই যুদ্ধের ফলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা যায়, তবে বর্তমানের এই সাময়িক কষ্ট মেনে নেওয়া সার্থক হবে।
ইরানের নেতৃত্ব সম্পর্কে ব্রিঙ্কস বলেন, ‘ওরা চরম ধর্মীয় উগ্রপন্থী। আমার মনে হয় প্রেসিডেন্ট ভেবেছেন পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। পরে কখনোই তা সম্ভব হবে না। আমাদের কিছু একটা করতেই হতো।’
তবে কট্টর রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আইওয়াতেও এখন সন্দেহ আর উদ্বেগ দানা বাঁধছে। উডবেরি কাউন্টির কৃষক ও রিপাবলিকান সুপারভাইজার মার্ক নেলসন (৩৫) ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এই আক্রমণ প্রেসিডেন্টের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বার্তাকেই ক্ষুণ্ন করছে।
ট্রাম্পপন্থী প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসন, অ্যালেক্স জোনস এবং মেগিন কেলিদের মধ্যেও এমন সমালোচনা এখন জোরালো হচ্ছে।
নেলসন বলেন, ‘এই যুদ্ধে যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় হচ্ছে, তা হাস্যকর।’ যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রভাব কতটা ছিল, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। নেলসনের মতে, ‘আমার মনে হয় না, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কোনো আসন্ন বিপদ ছিল।’
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
এছাড়া, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’
তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।
মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁড়গুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।
পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।