ছবি : সংগৃহীত
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ উড়োজাহাজে চড়ে তুরস্ক সফরে গিয়েছিলেন, সেটিতে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই। উড়োজাহাজটি কীভাবে নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে, সে বিষয়ে অবহিত একাধিক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, এ বিমানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ক্ষমতা যুক্ত করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাতার থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে এ ক্ষমতাগুলো না থাকায় এটি নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঝুঁকির বিষয় গত বুধবার আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিক্রেট সার্ভিসের অনুরোধে ট্রাম্প হঠাৎ করেই নতুন উড়োজাহাজটি রেখে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে তুরস্ক ছাড়ার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেন।
এ ঘটনার পর থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি দাবির ওপর সবার নজর পড়েছে। সরকারি উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত আগের বিমানবহরটি বেশ পুরোনো হয়ে গেছে অভিযোগ তুলে কাতার থেকে পাওয়া ৭৪৭ বিমানটিকে দ্রুত রাষ্ট্রীয় ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য তিনি অনড় ছিলেন।
গত এক বছর ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাতারের দেওয়া এ উড়োজাহাজের সংস্কারকাজ চলেছে। এটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করার জন্য এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে দাবি তুলেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তা শুধু প্রেসিডেন্টের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তাঁর সঙ্গে থাকা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা, সিক্রেট সার্ভিসের সদস্য, সাংবাদিক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্যও সমান জরুরি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এ নতুন উড়োজাহাজ যত দ্রুত সম্ভব চালু করার জন্য শুরু থেকেই জোর দিচ্ছিলেন। আন্তর্জাতিক সফরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান যথেষ্ট আকর্ষণীয় বা জমকালো নয় বলে তিনি প্রায়ই অসন্তোষ প্রকাশ করতেন।
নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস নতুন উড়োজাহাজটির সক্ষমতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো প্রশ্নের জবাব না দিলেও এর নিরাপত্তাব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়েছে। হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চ্যং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক আকাশযান। প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এতে উচ্চস্তরের নিরাপত্তা প্রোটোকল যুক্ত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁর ওপর নজর রাখছে।” আমরা সেসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা প্রতিটি হাতিয়ার ব্যবহার করছি।’
কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজের নিরাপত্তাব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন বিমানবাহিনী। বলেছে, প্রেসিডেন্টের বহরের অংশ হিসেবে স্থায়ীভাবে তৈরি হতে থাকা দুটি বোয়িং জেটের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটি একটি ‘সেতু’ বা সাময়িক উড়োজাহাজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে উপহার হিসেবে পাওয়া উড়োজাহাজটি প্রেসিডেন্টকে বহনের জন্য প্রস্তুত, এমন ঘোষণা দেওয়ার সময় বিমানবাহিনী স্বীকার করেছিল, সাময়িক ব্যবহারের জন্য এই উড়োজাহাজে সাধারণত একটি এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা সব সরঞ্জাম নেই।
গত ১৯ জুন এক বিবৃতিতে বিমানবাহিনী বলেছিল, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা বা মিশনের যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। তবে উড়োজাহাজটি যেন আগামী ৪০ বছর ভালোভাবে সেবা দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে গিয়ে কম ব্যবহৃত মিশন সেটের ক্ষেত্রে (কম প্রয়োজনীয় কিছু সুযোগ-সুবিধা) ছাড় দিতে হয়েছে।’
‘কম ব্যবহৃত মিশন সেট’ বলতে প্রকৃতপক্ষে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি বিমানবাহিনী। তবে উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবহিত এবং নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতার থেকে পাওয়া এ উড়োজাহাজে আগের মডেলের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ বিদেশ সফরে ট্রাম্পের নতুন উড়োজাহাজ ব্যবহারে বিস্ময়
পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, বিমানবাহিনীর এমন দুজন সাবেক কর্মকর্তা এ ঘটনায় গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, যেখানে নিরাপত্তাঝুঁকি অনেক বেশি, সেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই নতুন উড়োজাহাজে চড়ে বিদেশ সফরে গেছেন।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে যে দেশটিতে গিয়েছিলেন, সেই তুরস্কের সঙ্গে রয়েছে ইরানের সীমান্ত। আর এ সপ্তাহেই ইরানজুড়ে নতুন করে একাধিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সাবেক এ কর্মকর্তারা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। তবে তাঁরা বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের গতি দেখেই বোঝা যায়, একটি পূর্ণাঙ্গ প্রেসিডেনশিয়াল উড়োজাহাজের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে যেসব নিরাপত্তাব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার, তার সব কটি করার মতো পর্যাপ্ত সময় এখানে পাওয়া যায়নি।
বিমানবাহিনীর সাবেক সেক্রেটারি ফ্রাঙ্ক কেন্ডাল বলেন, ‘সময়স্বল্পতার কারণে একটি সাধারণ এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের পরিবর্তন এখানে করা সম্ভব হয়নি। তাই এর নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে।’
কেন্ডাল যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন বোয়িং যাতে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা দুটি নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজ সরবরাহের কাজ দ্রুত শেষ করে, সেই চেষ্টা তিনি করেছেন।
চলমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে কেন্ডাল আরও বলেন, ‘বর্তমান ইরান পরিস্থিতির কারণে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সত্যি বলতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নতুন এ উড়োজাহাজের ব্যবহার দেখে আমি বেশ অবাক হয়েছি।’
বাইডেন প্রশাসনের সময় এয়ার ফোর্স ওয়ান কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা বিমানবাহিনীর সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যান্ড্রু পি হান্টারও একই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, ‘একটি বোয়িং ৭৪৭ উড়োজাহাজকে প্রকৃত অর্থেই এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে গড়ে তুলতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার প্রয়োজন হয়।’
ট্রাম্প তুরস্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার ঠিক আগের দিন, সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিমানবাহিনীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তাঁরা কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজটির সংস্কারকাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং এতে প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
কানেটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস মারফি এবং অন্য ১২ সিনেটরের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প নিজেই এ উড়োজাহাজের নজিরবিহীন বিলাসিতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এ বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট যে এ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার চেয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আরাম ও পছন্দই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।’
আঙ্কারায় উড়োজাহাজ বদলের নেপথ্যে
পেন্টাগনের তিনজন সাবেক কর্মকর্তার মতে, এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো বিমানগুলোতে এমন একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল, যা তাপ অনুসরণকারী ক্ষেপণাস্ত্রকে (হিট-সিকিং মিসাইল) ধ্বংস করতে পারত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য নির্মাণাধীন বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজগুলোতেও এ ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা প্রোটোকলের বর্ণনা দিতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের ডানার নিচে ও লেজে এ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ বাইরে থেকে দেখা যায়। তবে কাতার থেকে পাওয়া উড়োজাহাজের ছবিতে এমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
এয়ার ফোর্স ওয়ানের ইতিহাসে এ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যবহার খুব একটা না হলেও, উড়োজাহাজটির নিরাপত্তার জন্য এটিকে সব সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন বর্তমানে নির্মাণাধীন বোয়িং বিমানগুলোর যে বিবরণ প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে নতুন জেটগুলোতে একটি ‘আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা’ ও ‘মিশন যোগাযোগব্যবস্থা’ থাকবে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ‘রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান নির্বাহী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের’ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার জন্য এ নিরাপত্তাব্যবস্থাগুলো থাকা জরুরি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্পকে নিশানা বানিয়েছে ইরান। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের ওপর প্রাণঘাতী হামলার আগেও তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়েছিল সিক্রেট সার্ভিস। ইরানের গুপ্তচরবৃত্তির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র হামলা আবার শুরু হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমান গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ব্রিফিং পাওয়া মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা বিশ্বাস করেন না যে এই মুহূর্তে ট্রাম্পকে হত্যা করার কোনো তাত্ক্ষণিক পরিকল্পনা ইরানের রয়েছে।
গোয়েন্দা মূল্যায়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের জীবন কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কতটা বড় উসকানি হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সে সম্পর্কে ইরানের পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।
তা সত্ত্বেও আঙ্কারায় থাকাকালীন ইরানের এত কাছাকাছি অবস্থানে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে সিক্রেট সার্ভিস এতটাই চিন্তিত ছিল যে দেশ ছাড়ার সময় তারা প্রেসিডেন্টকে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। গত বুধবার নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এই খবর প্রকাশ করে।
অবশ্য উড়োজাহাজ পরিবর্তনের এ ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প ভিন্ন একটি গল্প শুনিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি পুরোনো উড়োজাহাজে ফিরছেন যাতে নতুন জেটটি আগেভাগে রওনা হতে পারে এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যাত্রাবিরতি দিয়ে সেনাদের কাছে এর ‘চমৎকার’ রূপ প্রদর্শন করতে পারে।
প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত সামরিক বিমানসংক্রান্ত আলোচনায় যুক্ত থাকা হোয়াইট হাউসের সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভ্রমণের সময় যখনই নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে, তখনই হোয়াইট হাউসের কর্মী, সামরিক উপদেষ্টা ও সিক্রেট সার্ভিসের মধ্যে প্রায়ই একধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়।
তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা যখনই কোনো পরিবর্তনের দাবি জানান, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সাধারণত তাঁদের সিদ্ধান্ত মেনে নেন, যা সম্ভাব্য হুমকি প্রশমিত করতে সহায়তা করে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
এছাড়া, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’
তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।
মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁড়গুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।
পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।