ছবি: রয়টার্স
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ব্যস্ত প্লাজাগুলো দৈনন্দিন জীবনের চেনা ছন্দেই চলছে। হাতে চকোলেট কিংবা বরফজমানো ফল বিক্রি করছেন ফেরিওয়ালারা।
দোকানিরা বিকেলের ভিড়ের মধ্যে তাক সাজাতে ব্যস্ত। তবুও এই চিরচেনা দৈনন্দিন জীবন-যাপনের মধ্যেও বিরাজ করছে নতুন এক উদ্বেগ, উত্তেজনার আবহ।
ভেনেজুয়েলা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, আর দুই দেশের উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। শঙ্কা, সংশয় আর আশার মিশ্রণে ভেনেজুয়েলাবাসী এখন বিভক্ত।
কেউ বিদেশি শক্তির আগমনকে সম্ভাব্য মুক্তি হিসেবে দেখছেন, কেউ দেখছেন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের ওপর আঘাত হিসেবে। মাতৃভূমিকে রক্ষায় কেউ আবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
৫২ বছর বয়সী কৃষক ও ব্যবসায়ী ডেভিড ওরোপেজা বলেন, “মাতৃভূমি তো মাতৃভূমিই, আর আমাদের সেনাবাহিনী আমাদেরই বাহিনী।”
ওরোপেজা নিজেই ফল সংগ্রহ করে ফ্রোজেন স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাকবেরি বিক্রি করেন। স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তাকে সপ্তাহে তিনবার চিকিৎসা নিতে হয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা করলে তিনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
“ওদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ ময়দানে নামতে আমি প্রস্তুত। আগ্রাসনকারীদের মুখোমুখি হব ভেনেজুয়েলার সেনাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েই,” আল-জাজিরাকে বলেন ওরোপেজা।
ডাউনটাউন কারাকাসে বাসের অপেক্ষায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ৫২ বছর বয়সী এই কৃষক-ব্যবসায়ী বলেন, “যেভাবে পারি দেশের জন্য সাহায্য করব।”
‘ইতিবাচক পরিবর্তন’
সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই ডজন হামলা চালিয়েছে, যাতে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ হামলায় চারজন নিহত হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলোতে মাদক বা চোরাচালানকারী ছিল। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে তারা কোনও প্রমাণ তুলে ধরেনি। নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল এমন কোনও প্রমাণও ট্রাম্প প্রশাসন দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র নৌযানগুলোতে হামলা চালানোর কোনও আইনি যৌক্তিকতাও তুলে ধরেনি। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এইসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
এর মধ্যেই ট্রাম্প আবার একথাও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলভাগে মাদক চোরাচালানকারীদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মানে ভেনেজুয়েলার মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযান খুব শিগগিরই চলতে পারে এমন আভাসই মেলে।
ট্রাম্প সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার কাছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বে র সবচেয়ে বগ বিমানবাহী রণতরী ইউএএস গেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছে। সঙ্গে মোতায়েন হয়ে হাজার হাজার সেনা এবং এফ-৩৫ জঙ্গিবিমানও।
কয়েক দশকের মধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এমন শক্তি প্রদর্শন আর দেখা যায়নি। ভেনেজুয়েলাবাসীদের কেউ কেউ মনে করেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ দেশের জন্য ভাল।
এক ভেনেজুয়েলাবাসীর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের কারণে “ভেনেজুয়েলা মুক্ত হবে। আমাদের মুক্তির দিন আসবে।” মাদুরো এখনই অনেক চাপ অনুভব করছেন- এমনটিই মনে করেন বলে জানান তিনি।
তার কথায় মাদুরোর শাসন ঘিরে ভেনেজুয়েলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক হতাশারই প্রতিফলন ঘটেছে। জানুয়ারিতে তৃতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা নেওয়া মাদুরোর শাসনামলে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংকটই কেবল আরও গভীর হয়েছে।
‘মাতৃভূমি মাতৃভূমিই’
ভেনেজুয়েলা এবং এর অভিজাতদের নিয়ে এমনকি ট্রাম্পের অভিপ্রায় নিয়ে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ী ডেভিড ওরোপেজা।
তারপরও তিনি মনে করেন, দেশে যত সমস্যাই থাকুক, যুদ্ধ এর কোনও জবাব হতে পারে না। তার কথায়, “কেউ যুদ্ধ চায় না। সবাই শান্তি চায়।”
তার মতে, “মার্কিন রাজনীতি অস্ত্রের ওপরই অনেকটা চলে, আর সেটা ক্ষমতায় থাকা মানুষকে আরও ধনী করে। ভেনেজুয়েলার পক্ষেও সেনা মোতায়েনে স্থানীয় অভিজাতরাই হয়ত লাভবান হবে।” তিনি বলেন, “কারা ধনী হচ্ছে? তারা, আর আমরা যাদেরকে চিনি না তারা।”
ওরোপেজা নিজেকে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সমর্থক তিনি নন। তবু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তার অবস্থান কঠোর। সরকারে অনাস্থা থাকলেও বিদেশি হামলাকে সমর্থন করেন না তিনি।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোও পাল্টা শক্তি প্রদর্শন করেছেন। সেনা ও মিলিশিয়াদের সমাবেশ ঘটেছে, ক্যারিবিয়ান উপকূল জুড়ে অ্যান্টি–এয়ার সিস্টেম পরীক্ষা করেছে সেনাবাহিনী।
নভেম্বর নাগাদ সরকার জানায়, সম্ভাব্য যে কোনও মার্কিন পদক্ষেপের মোকাবেলায় সেনা ও নাগরিকদের ব্যাপকমাত্রায় সমাবেশ করা হবে।
সন্দেহ ও সম্পদ:
তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ মূলত ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। “আমার মনে হয় আমরা বিপদে আছি,” বলেন ২৪ বছর বয়সী সুপারশপ কর্মী দিয়েগো মেহিয়া।
‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন’ এটা নিয়ে সন্দেহ আছে দিয়েগোর। তার কথায়, “যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আগেই হামলা করতে পারত।” কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কি চায় সে বিষয়ে তার ধারণা পরিষ্কার। তিনি বলেন,
“ভেনেজুয়েলা অনেক বেশি সম্পদশালী। ভেনেজুয়েলার তেল এবং ইউরেনিয়াম আছে উল্লেখ করে দিয়েগো বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভেনেজুয়েলা নিয়ে আগ্রহী। কারণ তাদের এই দেশটির সম্পদ প্রয়োজন।”
বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। এছাড়া আছে বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত।
তেল–গ্যাস ছাড়াও দেশটিতে গ্যাস, স্বর্ণ, হীরা, বক্সাইট, লোহার আকরিক, এবং ইলেকট্রনিকস–অ্যারোস্পেস শিল্পের জন্য জরুরি কোলটানের মতো বিরল খনিজ আছে।
তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার উদ্বেগ সামলাতে মেহিয়া ভরসা করেন বিশ্বাসে; তার কথায়, “ঈশ্বর এখানে কিছু হতে দেবেন না।”
ভেনেজুয়েলার রাস্তায় এখনও মানুষের স্বাভাবিক আনাগোনা দেখে এবং খাদ্য মজুতে ব্যস্ত হতে না দেখে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন নয়।
অজানার ভয়ে ভেনেজুয়েলা:
অন্যান্য ভেনেজুয়েলাবাসী আবার এতটা নিশ্চিত নন।
সন্তানকে নিয়ে পার্কে এসে ৩৪ বছর বয়সী গৃহিণী দালিবেথ ব্রেয়া বললেন, এই পরিস্থিতি তার মনে আশা ও শঙ্কা- দু’য়েরই উদ্রেক করে। এই উদ্বেগ, উত্তেজনা তার পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিমন্ডলেও বাস্তব।
তার এক বন্ধু সরকারি চাকরিতে আছেন। চাকরি বিরূপ প্রভাব পড়ার ভয়ে তিনি এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।
ব্রেয়া মনে করেন, ভেনেজুয়েলা যে চাপের মুখে পড়েছে তা দেশের জন্য ভাল কিছুও বয়ে আনতে পারে। তার কথায়, “বাইরের দেশগুলোতে যে উন্নয়ন দেখি, সেটা এখানে হলে ভালো লাগবে।”
তবে সহিংসতার সম্ভাবনা ব্রেয়াকে আতঙ্কিতও করেছে। কৃষক ও ব্যবসায়ী ওরোপেজার মতো শত্রুবাহিনীকে রুখে দাঁড়ানোর মনোভাব তার নেই; বরং লুকিয়ে থাকারই প্রবণতা।
“ভয়ে আমি আশ্রয় নিতাম,” স্বীকার করেন তিনি। তার প্রস্তুতি খুব সাধারণ: “বাড়িতে খাবার জমা রাখা, আর সবাইকে এক জায়গায় রাখা।”
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা শহরটিতে সূর্য ডবিতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেয়ার মুখে শোনা যায় অন্য লাখো মানুষের মতোই অনিশ্চয়তার সুর।
“আমি জানি না কিছু ঘটবে কি না,” বলেন তিনি। “কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় হবে—আবার কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় হবে না।”
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতাল
ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিভাগের ওয়ার্ডে আগুন লেগেছে। এতে অন্তত ১৫ নবজাতক মারা গেছে। আজ বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিআইএমএসের কর্মকর্তারা জানান, হাসপাতালটির ওই ওয়ার্ডে নবজাতকদের রাখার কক্ষে মোট ১৬টি শিশু ছিল। একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকারী দল সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত। ধারণা করা হচ্ছে, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) কম্প্রেসর বিস্ফোরণের পর ওই কক্ষে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালটির এমসিএইচ ওয়ার্ডের তৃতীয় তলায় লাগা আগুনে ১৪ শিশু পুরোপুরি দগ্ধ হয়েছে। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি গাড়ি ও চারটি অ্যাম্বুলেন্স সেখানে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়।
অগ্নিকাণ্ডে অতিরিক্ত উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুন লাগার কারণ খুঁজবে এবং কীভাবে এ ঘটনা ঘটল, সেটা খতিয়ে দেখবে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে আদিবাসী জনগোষ্ঠী, দলিতসহ বঞ্চিত জাতিগোষ্ঠী এবং বাংলাভাষী মুসলিমদের সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বৈষম্যবিরোধী একটি কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও যৌন সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জাতিসংঘের জাতিগত বৈষম্য বিলোপবিষয়ক কমিটি (সিইআরডি) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এ দেশে বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেট ক্রাইম) ঘটছে। এগুলো বন্ধে ভারতকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানিয়েছে সিইআরডি।
কমিটি তাদের তদন্তের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবরে কমিটি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর এসব ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে তফসিলি উপজাতি, তফসিলি জাতি—বিশেষ করে দলিত সম্প্রদায় এবং যারা ভারতের নাগরিক নন, তারাও রয়েছেন।’
সিইআরডি কমিটি বলেছে, এসব ঘটনার মধ্যে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতা, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই নির্বিচারে ও দীর্ঘ সময় আটক, নির্যাতন, দুর্ব্যবহার এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিইআরডি।
সিইআরডির মতামত বা সুপারিশগুলো মানতে কোনো দেশ আইনগতভাবে বাধ্য নয়। তবে এসব সুপারিশ কোনো দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
ভারতে সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বর্ণপ্রথা এখনো একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ, শিক্ষা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে কে কতটা পাবে, তা অনেক সময় এই বর্ণপ্রথাই নির্ধারণ করে দেয়।
হাজার বছরের পুরোনো এ সামাজিক প্রথা হিন্দুদের পেশা ও সামাজিক অবস্থান অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করেছে।
কমিটির আগের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে এর সদস্য স্টামাতিয়া স্তাভরিনাকি বলেন, দলিতদের ক্ষেত্রে বৈষম্য বা ভেদাভেদ যে সত্যিকার অর্থে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তা প্রমাণ করার মতো সূচক বা তথ্য থাকাটা খুব জরুরি।
সিইআরডি হলো ১৮ জন স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি। এ কমিটির ১৮২টি সদস্যদেশ রয়েছে। সদস্যদেশগুলো সব ধরনের জাতিগত বৈষম্য দূর করার সনদ ঠিকমতো মেনে চলছে কি না, তা নজরদারি করে এ কমিটি।
সনদটি ১৯৬৯ সালে কার্যকর হয়। এটির অধীন সদস্যদেশগুলোকে অবশ্যই জাতিগত বৈষম্য ও মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করতে হবে। একই সঙ্গে আইনের চোখে সবার সমানাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
চলতি মাসের শুরুতে সিইআরডি’র পর্যালোচনায় অংশ নেয় ভারত। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম কমিটির সামনে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ভারতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
পর্যালোচনায় ভারতীয় প্রতিনিধি দল দেশটির বহুত্ববাদ, বৈচিত্র্য, বিশালতা ও জটিলতার পাশাপাশি সংবিধান ও আইনি কাঠামোর কথা তুলে ধরে। ভারতের মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, সবার জন্য সমতা, মর্যাদা ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশটি এগিয়ে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের কর্ণাটকে মন্দিরে প্রবেশকে কেন্দ্র করে এক নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ানোর পর তাকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির এক বিধায়কের মেয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ আগস্ট কর্ণাটকের মান্ড্য জেলার শ্রীরঙ্গপাটনা এলাকার আরতি উক্কাদা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ঐশ্বরিয়া বিজেপি বিধায়ক সুরেশ গৌড়ার মেয়ে। আর পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সবিতা বি. পাতিল মান্ড্য মহিলা থানায় কর্মরত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভীমনা অমাবস্যার ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ওই দিন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সবিতা। এ সময় ঐশ্বরিয়া মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে বাধা দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঐশ্বরিয়া পুলিশ কর্মকর্তা সবিতাকে চড় মারছেন। এর পরপরই সবিতাও তাকে পাল্টা আঘাত করেন। পরে সেখানে থাকা লোকজন দুজনকে আলাদা করে দেন।
এ ঘটনায় সবিতা পাতিলের অভিযোগের ভিত্তিতে ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে পুলিশ। অভিযোগে সবিতা দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ঐশ্বরিয়া তাকে গালিগালাজ ও মারধর করেন।
শ্রীরঙ্গপাটনার কায়থানাহাল্লি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধেই শুধু নয়, তার পক্ষ থেকেও একটি পাল্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, ঐশ্বরিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। ঐশ্বরিয়া একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী বলেও জানা গেছে।
ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ড থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সামরিক পরিবহন বিমান লাটভিয়া হয়ে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করার তথ্য মিলছে একটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। তবে ওই উড়োজাহাজে কারা ছিলেন বা কেন সেটি মস্কো গেছে, সে বিষয়ে ক্রেমলিন বা হোয়াইট হাউসের কেউ মুখ খোলেনি।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট 'ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর' এর বরাতে রয়টার্স ও এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মস্কোর ভনুকোভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ওই মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ।
বোয়িং সি-১৭এ গ্লোবমাস্টার-৩ মডেলের বিরাট ওই সামরিক বিমানের টেইল নম্বর ছিল ০৭-৭১৮১।
ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বলছে, উড়োজাহাজটি লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর সরাসরি মস্কোতে পৌঁছায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টার পরপরই সেটি অবতরণ করে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যারিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজ (ওয়াশিংটন ডিসি সংলগ্ন ক্যাম্প স্প্রিংস এয়ারবেজ) থেকে উড়োজাহাজটি যাত্রা শুরু করে এবং সেদিনই লাটভিয়ার রিগায় পৌঁছায়।
বিশাল ওই উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী বা বিশেষ কার্গো ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
রয়টার্স লিখেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বিমানটির বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তা, হোয়াইট হাউস এবং মস্কো ও ওয়াশিংটনে অবস্থিত দুই দেশের দূতাবাসগুলোর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কোনো মন্তব্য করেনি।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা ঘটল, যখন ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার আলোচনা অনেকটা স্থবির হয়ে আছে। রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত কোনো বিমান অবতরণের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে নিয়ে একটি বিমান মস্কো গিয়েছিল।
ইমরান
পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে দেশটির সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন মাইকেল আথারটন। ইংলিশ সাবেক অধিনায়কের অভিযোগ, জনজীবন ও ইতিহাস থেকে ইমরানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কারাবন্দি ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গত রোববার পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লেখেন বিভিন্ন দেশের একদল সাবেক অধিনায়ক। ছয় মাসের ব্যবধানে যেটি ছিল তাদের দ্বিতীয় চিঠি। ওই অধিনায়কদের মধ্যে একজন ছিলেন আথারটনও।
পরদিন (সোমবার) স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেটে বিষয়টি নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন আথারটন। যেখানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আরেক সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন। তিনিও ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।
“নাস (নাসের হুসাইন) এবং আমি সেই ২১ সাবেক অধিনায়কের মধ্যে ছিলাম, যারা গতকাল (রোববার) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছি। এটি ছিল মানবিক আবেদন- ইমরান খান যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। তবে আমার মনে হয়, রাষ্ট্র যেন ইমরানের অস্তিত্ব প্রায় মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে যা দিন দিন আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মোট ২১ জন সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ওই চিঠি দেন। যেখানে ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনিল গাভাস্কার, কাপিল দেব ও দিলিপ ভেঙ্গসারকারও স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শাহবাজকে চিঠি দিয়েছিলেন। ওই সময় খবর বের হয়েছিল, চোখের সমস্যায় ভুগছেন ইমরান। তার পরিবার জানিয়েছিল, ওই সমস্যার কারণে এক চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তিনি। কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না- এমন অভিযোগও উঠেছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের টানাপোড়েন চলছে অনেক দিন ধরেই। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তার কাছে যেতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাবের জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে বিরোধী দল। সরকার এই অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করেছে।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান। এরপর ২০২৩ সালের অগাস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যে অভিযোগগুলো তিনি ও তার দল অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তানের হয়ে ৮৮ টেস্ট ও ১৭৫ ওয়ানডে খেলেছেন ইমরান। তাকে মনে করা হয় সর্বকালের সেরা পেসারদের একজন, সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন। পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা অধিনায়ক হিসেবে তিনি অবিসংবাদিত।
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইমরানের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পাকিস্তান, যা এখনও ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি রূপকথা হয়ে আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কানাডার অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও বাড়াতে থাকলে, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমন হুমকি দিয়েছেন অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধান ডগ ফোর্ড। এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। সম্প্রতি কানাডার গাড়ি, ট্রাক, অটো যন্ত্রাংশ ও ইস্পাতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।
এছাড়া, প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর গত শনিবার পৃথক ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ফোর্ড সোমবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের হুমকি দেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ডগ ফোর্ড বলেন, ‘সবকিছুই বিবেচনার মধ্যে আছে। যা করা দরকার, আমি তাই করব।’
তিনি আরও বলেন, অন্টারিও বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারে, এমনকি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
ফোর্ড জানান, তারা প্রায় ১৫ লাখ বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেন। তাই কানাডার উৎপাদন খাত ধ্বংসের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে চাইলে ট্রাম্পের উচিত ব্যাটারি সঙ্গে রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিদেশি দেশগুলোর মধ্যে কানাডাই সবচেয়ে বড়। তবে পুরো দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা তুলনামূলকভাবে কম।
মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর কানাডা থেকে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কানাডায় প্রায় ১৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে অন্টারিওর প্রাদেশিক প্রধানকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে ‘কানাডার নেতাদের লাইনে আসার’ জন্য সতর্ক করেছেন ট্রাম্প।
তিনি লিখেছেন, কেউ দয়া করে এই ‘ভাঁড়গুলোকে লাইনে আসতে’ বলুন। তা না হলে কানাডার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে।
পোস্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে আবারও ‘গভর্নর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অনেক বড়, ধনী ও শক্তিশালী। তাদেরকে ছাড়া কানাডা টিকে থাকতে পারবে না।