• প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ এএম
  • আপডেট : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০২ এএম

‘গুগলে সার্চ করতে, ইউটিউবে ভিডিও দেখতে কিংবা অফিসের জরুরি মেইলটা জিমেইলে পাঠাতে আপনি কত টাকা খরচ করেন? আমি খরচ করি শূন্য টাকা। অর্থাৎ, একটি পয়সাও খরচ না করে আমি-আপনি গুগলের দারুণ সব সেবা ব্যবহার করছি। অথচ গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো ৪০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছে! সঠিক অঙ্কটা হলো ৪০২.৮৩৬ বিলিয়ন ডলার। একই বছরে তাদের নিট মুনাফা হয়েছে ১৩২.১৭ বিলিয়ন ডলার।


প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, যে কোম্পানির এত জনপ্রিয় সব সেবার জন্য আমরা কোনো টাকাই দিই না, তাদের রাজকোষে এত এত টাকা ঢোকে কীভাবে?


পণ্য যখন আপনি নিজেই


ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি বহুল আলোচিত কথা আছে—যেখানে আপনি কোনো সেবার জন্য টাকা দিচ্ছেন না, সেখানে অনেক সময় আপনি নিজেই মূল পণ্য! গুগলের ব্যবসার দিকে তাকালে কথাটি বেশ পরিষ্কার হয়ে যায়।


একদিকে দাঁড়িয়ে আছি আমি, আপনি আর পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ। আমরা বিনা পয়সায় গুগলে সার্চ করছি, গুগল ম্যাপসে রাস্তা খুঁজছি, জিমেইলে মেইল পাঠাচ্ছি কিংবা ইউটিউবে ভিডিও দেখছি। অন্যদিকে দাঁড়িয়ে আছে লাখ লাখ বিজ্ঞাপনদাতা। তারা তাদের পণ্য বা সেবা এমন মানুষের সামনে হাজির করতে চায়, যাদের কাছে ওই বিজ্ঞাপনের মূল্য আছে। এই দুই পক্ষের ঠিক মাঝখানে গুগল তৈরি করেছে বিশাল এক ডিজিটাল বাজার।


আমরা গুগলের সেবা ব্যবহার করার সময় নিজেদের অজান্তেই গুগলকে নানা তথ্য দিই। আপনি কী খুঁজছেন, কী দেখছেন, কোন বিষয়ে আগ্রহী—এসব তথ্য বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংগ্রহ করে গুগল। এরপর সেগুলো বিশ্লেষণ করে ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। অর্থাৎ, আমাদের কখন কোন জিনিস ভালো লাগবে, সেটা গুগল আগেই অনুমান করতে পারে। বিজ্ঞাপনের বাজারে এই তথ্যের মূল্য অনেক। এতটাই বেশি যে বলা হয় ডিজিটাল এই দুনিয়ায় সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদের নামই হলো তথ্য।


আপনি যত বেশি সময় ধরে কোনো ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করবেন, তত বেশি তথ্য তৈরি হবে। আর সেই তথ্য থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো আপনার আচরণ ও আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পাবে। ফলে একই বিজ্ঞাপন সবাইকে না দেখিয়ে, যার আগ্রহ আছে তাকেই শুধু দেখানো যায়। এতে বিজ্ঞাপনদাতার সময় যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি পণ্য বিক্রি বাড়ে বহুগুণ। এ কারণেই ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পেছনে অর্থ ব্যয় করতে মানুষ এখন আর খুব একটা ভাবে না। অর্থাৎ, আপনি টাকা না দিলেও গুগলের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা বিনিময়হীন নয়।


সংখ্যায় অ্যালফাবেট


নিচের ছকটা একনজর দেখুন

আর্থিক বছরমোট রাজস্বনিট মুনাফারাজস্ব প্রবৃদ্ধিমুনাফা প্রবৃদ্ধি
২০২৩৩০৭.৩৯৪ বিলিয়ন ডলার৭৩.৭৯৫ বিলিয়ন ডলার——
২০২৪৩৫০.০১৮ বিলিয়ন ডলার১০০.১১৮ বিলিয়ন ডলার১৩.৯%৩৫.৭%
২০২৫৪০২.৮৩৬ বিলিয়ন ডলার১৩২.১৭০ বিলিয়ন ডলার১৫.১%৩২.০%


কোথা থেকে এল ৪০০ বিলিয়ন


অ্যালফাবেটের ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাদের মোট রাজস্বের প্রায় ৭৩ শতাংশই এসেছে বিজ্ঞাপন থেকে, যার পরিমাণ ২৯৪.৬৯১ বিলিয়ন ডলার! এর মধ্যে শুধু গুগল সার্চ ও অন্যান্য থেকেই এসেছে ২২৪.৫৩২ বিলিয়ন ডলার।


ধরুন, আপনি গুগলে লিখলেন—‘ঢাকা টু কক্সবাজার বিমান টিকিট’ কিংবা ‘সেরা বাজেট ল্যাপটপ’। খেয়াল করলে দেখবেন, সার্চ ফলাফলের ওপরে 'Sponsored' বা 'Ad' লেখা কয়েকটি লিংক দেখা যায়? এগুলো এমনি এমনি সেখানে আসে না। বিজ্ঞাপনদাতারা নির্দিষ্ট সার্চের সামনে নিজেদের বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য অর্থ দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে আপনি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে সেই ক্লিকের জন্যও বিজ্ঞাপনদাতার কাছ থেকে গুগল রাজস্ব পায়। ২০২৫ সালে ‘গুগল সার্চ ও অন্যান্য’ বিভাগের পেইড ক্লিক বেড়েছে ৬ শতাংশ, আর কস্ট-পার-ক্লিক বেড়েছে ৭ শতাংশ।


ইউটিউবও কম যায় না!


ভিডিও শুরু হওয়ার আগে বা মাঝখানে যেসব বিজ্ঞাপন আমাদের বিরক্তির কারণ হয়, সেগুলোই কিন্তু গুগলের বড় আয়ের উৎস! ২০২৫ সালে শুধু ইউটিউব অ্যাডস থেকেই এসেছে ৪০.৩৬৭ বিলিয়ন ডলার। আর গুগল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্য ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে এসেছে আরও ২৯.৭৯২ বিলিয়ন ডলার।


ফ্রি থেকে পেইড


গুগলের ব্যবসা অবশ্য শুধু বিজ্ঞাপনেই আটকে নেই। ‘সাবস্ক্রিপশন, প্ল্যাটফর্ম এবং ডিভাইসেস’ বিভাগ থেকে ২০২৫ সালে গুগলের আয় হয়েছে ৪৮.০৩০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে গুগল ওয়ান, ইউটিউব প্রিমিয়াম, গুগল প্লে ও পিক্সেল স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন সেবা ও পণ্যের আয় রয়েছে।


আপনি হয়তো গুগলের কোনো ফ্রি স্টোরেজ ব্যবহার করছেন। বছরের পর বছর ছবি, ভিডিও আর ফাইল জমতে জমতে একসময় সেই জায়গা ফুরিয়ে যাবে। তখন ঠিকই আপনার সামনে আসবে আরও বেশি স্টোরেজ কেনার পেইড প্ল্যান। অর্থাৎ, ফ্রি সেবা অনেক সময় শেষ গন্তব্য নয়; বরং এটি বড় একটি ব্যবসায়িক ব্যবস্থার প্রবেশদ্বার মাত্র।


আছে গুগল ক্লাউড


সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের অনেক সেবা ফ্রি হলেও করপোরেট দুনিয়ায় গল্পটা আলাদা। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান নিজেদের সফটওয়্যার, ডেটাবেস ও এআই অবকাঠামো চালাতে গুগল ক্লাউড ব্যবহার করে। ২০২৫ সালে গুগল ক্লাউডের রাজস্ব বেড়ে হয়েছে ৫৮.৭০৫ বিলিয়ন ডলার, আর অপারেটিং ইনকাম দাঁড়িয়েছে ১৩.৯১০ বিলিয়ন ডলার।


এবার খেলায় এআই


চ্যাটজিপিটি আসার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, গুগলের সার্চ ইঞ্জিনের সাম্রাজ্য হয়তো বিপদে পড়বে। কিন্তু গুগল সহজে মাঠ ছেড়ে দেয়নি। বরং জেমিনির মতো এআই মডেলকে তারা সার্চ, ক্লাউড এবং অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে। ফলে গ্রাহকেরা একই প্ল্যাটফর্মে এআইসহ পুরোনো সেবাগুলো উপভোগ করতে পারছেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে জেমিনি অ্যাপের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল ৭৫০ মিলিয়নেরও বেশি। একই সময়ে অ্যালফাবেট জানায়, তাদের বিভিন্ন ভোক্তা সেবায় মোট পেইড সাবস্ক্রিপশন ৩২৫ মিলিয়নের বেশি।


চমৎকার এই অগ্রযাত্রার জন্য গুগল খরচও করছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। ২০২৫ সালে অ্যালফাবেটের মূলধনি ব্যয় ছিল প্রায় ৯১.৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের জন্য তারা ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলার মূলধনি ব্যয়ের বিশাল এক পরিকল্পনা জানিয়েছে।


আমরা টাকা না দিলেই কোনো কিছুকে ‘ফ্রি’ বলে ধরে নিই। কিন্তু ডিজিটাল দুনিয়ায় বিষয়টা এত সহজ নয়। গুগল আপনাকে সার্চ করতে টাকা নিচ্ছে না, ইউটিউব দেখতে টাকা নিচ্ছে না, জিমেইল ব্যবহার করতেও টাকা নিচ্ছে না। কিন্তু এসব সেবা ব্যবহার করার সময় আপনি আপনার মনোযোগ, সময় এবং তথ্য দিয়ে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরি করতে সাহায্য করছেন, যেখান থেকে বিজ্ঞাপনদাতা টাকা দিচ্ছে, গ্রাহক সাবস্ক্রিপশন কিনছে আর বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড ও এআই সেবার জন্য অর্থ খরচ করছে।


ডিজিটাল এই দুনিয়ায় তথ্য তাই শুধু ‘তথ্য’ নয়, এটি মহামূল্যবান সম্পদ। আর গুগলের মতো প্রতিষ্ঠান সেই সম্পদ ও ব্যবহারকারীর আচরণ থেকে তৈরি হওয়া মূল্যকে বিভিন্ন ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে অর্থে রূপান্তর করছে।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৬ পিএম

ঠিক প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর কেঁপে উঠছে পৃথিবী সৃষ্টি হচ্ছে এক ধরনের ছন্দময় কম্পন। এতটাই সূক্ষ্ম এই কম্পন যে মানুষ তা অনুভব করতে পারে না। অথচ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে স্থাপিত সংবেদনশীল ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রে ধরা পড়েছে এই অদ্ভুত সংকেত। 


কয়েক দশক ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই রহস্যময় স্পন্দনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। খবর এনডিটিভির। 


এই অদ্ভুত ভূকম্পন প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ভূ-পদার্থবিজ্ঞানী জ্যাক অলিভার। তিনি লক্ষ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের সিসমোমিটারে নিয়মিত বিরতিতে একটি বিশেষ কম্পন ধরা পড়ছে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণে এর উৎস নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো একটি অঞ্চলে বলে ধারণা করা হয়। বছরের নির্দিষ্ট কিছু মৌসুমে এই কম্পনের তীব্রতাও বেড়ে যায়।


তবে সে সময়ের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অলিভারের গবেষণা খুব বেশি দূর এগোয়নি। ফলে রহস্যটি অনেকটা আড়ালেই থেকে যায়।


২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারের গবেষকেরা ডিজিটাল ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আবারও এই অস্বাভাবিক সংকেত শনাক্ত করেন।


গবেষক মাইক রিটজওলারের ভাষায়, তারা এমন একটি সংকেত দেখতে পান, যা ছিল অস্বাভাবিক, ধারাবাহিক এবং দীর্ঘস্থায়ী। পরবর্তী গবেষণায় তারা এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলবর্তী গিনি উপসাগরকে চিহ্নিত করেন।


এরপর থেকেই পৃথিবীর এই রহস্যময় ‘হার্টবিট’ নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এই কম্পনের উৎস সম্পর্কে কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তবে কোনোটিই এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।


প্রথম তত্ত্ব: সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাত


একটি ধারণা অনুযায়ী, সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউ মহাসাগরের তলদেশে অবস্থিত মহীসোপানে আঘাত করার ফলে এই কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি অনেকটা এমন; একটি টেবিলের এক প্রান্তে কেউ আঘাত করলে অন্য প্রান্তেও কম্পন অনুভূত হয়। একইভাবে সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তি সমুদ্রতলদেশে ছড়িয়ে পড়ে ভূকম্পনের মতো সংকেত তৈরি করতে পারে।


দ্বিতীয় তত্ত্ব: আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ


২০১৩ সালে চীনা বিজ্ঞানীদের একটি গবেষণায় আরেকটি সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। তাদের ধারণা, গিনি উপসাগরের বাইট অব বনি অঞ্চলে সাও তোমে দ্বীপের কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এই কম্পনের কারণ হতে পারে। অবস্থানগত দিক থেকেও এই অঞ্চলটি সম্ভাব্য উৎসস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় তত্ত্বটি বিজ্ঞানীদের আগ্রহ তৈরি করে।


দশকের পর দশক ধরে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এই ঘটনা নিয়ে গবেষণা করলেও এখনো কোনো সর্বসম্মত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গবেষক মাইক রিটজওলারের মতে, এই কম্পনের মৌলিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। 


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪০ পিএম

কম্পিউটার চালু হতে দেরি হচ্ছে, কাজের মাঝখানে বারবার হ্যাং করছে কিংবা একসঙ্গে একাধিক সফটওয়্যার চালাতে গিয়ে ধীর হয়ে যাচ্ছে? দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এমন সমস্যায় পড়তে পারেন অনেকেই। তবে কম্পিউটার ধীরগতির হলেই নতুন যন্ত্রাংশ কেনা বা বাড়তি সফটওয়্যার ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। উইন্ডোজের বিল্ট-ইন ‘টাস্ক ম্যানেজার’ ব্যবহার করেই সহজে শনাক্ত করা যায়, কোন অ্যাপ কম্পিউটারের র‍্যাম, প্রসেসর ও ডিস্কের বেশি সম্পদ ব্যবহার করছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে কম্পিউটারের কাজে। চলুন, জেনে নেওয়া যাক টাস্ক ম্যানেজার ব্যবহার করে কীভাবে কম্পিউটারের ধীরগতির সমস্যা সামলাবেন।


টাস্ক ম্যানেজার দিয়ে কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর উপায়


১. কিবোর্ড শর্টকাটে চালু করুন টাস্ক ম্যানেজার


কম্পিউটার ধীরগতিতে কাজ করলে প্রথমেই কিবোর্ডের Ctrl + Shift + Esc বাটন তিনটি একসঙ্গে চাপুন। এতে সরাসরি টাস্ক ম্যানেজার চালু হবে। ফলে আলাদা করে কোনো অ্যাপ খোঁজা বা ইনস্টল করার প্রয়োজন হবে না।


২. বেশি র‍্যাম ও প্রসেসর ব্যবহার করা অ্যাপ শনাক্ত করুন


টাস্ক ম্যানেজার চালু হলে ‘Processes’ বিভাগে যান। সেখানে কম্পিউটারে চলমান বিভিন্ন অ্যাপ ও প্রক্রিয়া কতটুকু র‍্যাম (Memory), প্রসেসর (CPU) এবং ডিস্ক (Disk) ব্যবহার করছে, তা দেখা যাবে।


তালিকায় CPU, Memory বা Disk শিরোনামে ক্লিক করলে সংশ্লিষ্ট সম্পদের ব্যবহার অনুযায়ী অ্যাপগুলো সাজানো যায়। এতে কোন সফটওয়্যার কম্পিউটারের ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করছে, তা সহজেই শনাক্ত করতে পারবেন।


৩. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করুন


যে অ্যাপটি বর্তমানে প্রয়োজন নেই এবং অতিরিক্ত র‍্যাম বা প্রসেসর ব্যবহার করছে, সেটি নির্বাচন করে ‘End task’ অপশনে ক্লিক করুন। এতে অ্যাপটি বন্ধ হয়ে যাবে এবং ব্যবহৃত কিছু মেমোরি বা প্রসেসরের সক্ষমতা অন্য কাজের জন্য খালি হতে পারে।


তবে অ্যাপ বন্ধ করার আগে সতর্ক থাকুন। কোনো কাজ সংরক্ষণ না করে থাকলে তথ্য হারিয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি উইন্ডোজের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া বা অপরিচিত সিস্টেম অ্যাপ বন্ধ করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, ভুল প্রক্রিয়া বন্ধ করলে কম্পিউটারের স্বাভাবিক কাজে সমস্যা দেখা দিতে পারে।


এতেও কম্পিউটার দ্রুত না হলে কী করবেন?


টাস্ক ম্যানেজার দিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করার পরও কম্পিউটার ধীরগতিতে চললে আরও কয়েকটি বিষয় পরীক্ষা করতে পারেন।


স্টার্টআপ অ্যাপ কমান: কম্পিউটার চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যেসব অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হয়, সেগুলোর মধ্যে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখুন।

স্টোরেজে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন: হার্ডডিস্ক বা এসএসডিতে জায়গা খুব কমে গেলে কম্পিউটারের কর্মক্ষমতায় প্রভাব পড়তে পারে।

অপ্রয়োজনীয় ফাইল পরিষ্কার করুন: সাময়িক ফাইল ও অপ্রয়োজনীয় ডেটা মুছে স্টোরেজের জায়গা খালি করুন।

ভাইরাস ও ক্ষতিকর সফটওয়্যার পরীক্ষা করুন: ম্যালওয়্যার কম্পিউটারের র‍্যাম ও প্রসেসর ব্যবহার বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বিশ্বস্ত নিরাপত্তা সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে।

এ ছাড়া কম্পিউটারে র‍্যাম কম থাকলে কিংবা পুরোনো হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা হলে সেটিও ধীরগতির কারণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার ও সমস্যার ধরন অনুযায়ী র‍্যাম বাড়ানো অথবা প্রচলিত হার্ডডিস্কের পরিবর্তে এসএসডি ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যায়।


টাস্ক ম্যানেজার কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর কোনো জাদুকরি টুল নয়। এটি মূলত কোন অ্যাপ কতটুকু র‍্যাম, প্রসেসর ও ডিস্ক ব্যবহার করছে, তা দেখায় এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করতে সাহায্য করে। তাই কম্পিউটার ধীরগতির হলে প্রথমে টাস্ক ম্যানেজার থেকে সম্পদের ব্যবহার পরীক্ষা করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করা, স্টার্টআপ অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ, স্টোরেজ পরিষ্কার এবং ম্যালওয়্যার পরীক্ষা করার মতো পদক্ষেপ নিন। এতেও সমস্যার সমাধান না হলে র‍্যাম, স্টোরেজ বা কম্পিউটারের অন্যান্য হার্ডওয়্যারের অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩১ পিএম

হোয়াটসঅ্যাপে প্রতিদিনই আদান-প্রদান হয় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, ছবি, ভিডিও ও নানা প্রয়োজনীয় তথ্য। কিন্তু অসাবধানতাবশত কোনও চ্যাট ডিলিট হয়ে গেলে অনেকেই চিন্তায় পড়েন। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় কথোপকথন হারিয়ে গেলে মনে হতে পারে, সেগুলো আর ফিরে পাওয়ার কোনও উপায় নেই। তবে সব ক্ষেত্রে হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে মুছে যাওয়া চ্যাট পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।


চ্যাটটি যদি শুধু আর্কাইভ করা থাকে, তাহলে সহজেই সেটি ফিরিয়ে আনা যায়। আর স্থায়ীভাবে ডিলিট হয়ে গেলে আগে থেকে তৈরি করা ব্যাকআপ কাজে আসতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট পুনরুদ্ধারের পদ্ধতিতে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কীভাবে ফিরিয়ে আনবেন হারিয়ে যাওয়া কথোপকথন, জেনে নিন ধাপে ধাপে—


আর্কাইভ করা চ্যাট ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে


অনেক সময় চ্যাট ডিলিট হয়েছে বলে মনে হলেও সেটি আসলে আর্কাইভ করা থাকে। আর্কাইভ করলে চ্যাটটি মূল তালিকা থেকে সরে যায়, কিন্তু কথোপকথন মুছে যায় না। তাই এমন ক্ষেত্রে ব্যাকআপ পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন নেই।


অ্যান্ড্রয়েড ফোনে—


১. হোয়াটসঅ্যাপ খুলে চ্যাট তালিকার ওপরের দিকে থাকা ‘Archived’ বা ‘আর্কাইভড’ অপশনে প্রবেশ করুন।


২. যে চ্যাটটি ফিরিয়ে আনতে চান, সেটির ওপর কিছুক্ষণ চেপে ধরে নির্বাচন করুন।


৩. এরপর ওপরের দিকে থাকা ‘Unarchive’ আইকনে চাপ দিন।


৪. চ্যাটটি আবার মূল কথোপকথনের তালিকায় ফিরে আসবে।


আইফোনে—


১. হোয়াটসঅ্যাপ খুলে ‘Chats’ ট্যাবে যান।


২. চ্যাট তালিকায় ‘Archived’ বা ‘আর্কাইভড’ বিভাগ খুঁজে নিন। প্রয়োজনে তালিকাটি নিচের দিকে টেনে নিন।


৩. যে চ্যাটটি ফিরিয়ে আনতে চান, সেটির ওপর বাঁ দিকে সোয়াইপ করুন।


৪. ‘Unarchive’ নির্বাচন করুন।


এভাবে আর্কাইভ করা চ্যাট সহজেই মূল তালিকায় ফিরিয়ে আনা যাবে।


অ্যান্ড্রয়েডে ডিলিট হওয়া চ্যাট ফিরিয়ে আনার উপায়


হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটের ব্যাকআপ গুগল ড্রাইভে সংরক্ষিত থাকলে সেটি ব্যবহার করে মুছে যাওয়া কথোপকথন পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তবে ব্যাকআপটি চ্যাট ডিলিট হওয়ার আগের হতে হবে।


ধাপে ধাপে যা করবেন—


১. হোয়াটসঅ্যাপ খুলে ‘Settings’ বা ‘সেটিংস’-এ যান।


২. ‘Chats’ থেকে ‘Chat backup’ অপশনে প্রবেশ করুন।


৩. সর্বশেষ ব্যাকআপের তারিখ ও সময় দেখে নিন। ব্যাকআপটি মেসেজ ডিলিট হওয়ার আগের কি না, তা নিশ্চিত করুন।


৪. ব্যাকআপে প্রয়োজনীয় মেসেজ থাকার সম্ভাবনা থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করুন।


৫. আগের একই ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন এবং ব্যাকআপের জন্য ব্যবহৃত একই গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন।


৬. ব্যাকআপ পাওয়া গেলে ‘Restore’ বা ‘রিস্টোর’ অপশনে চাপ দিন।


প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে ব্যাকআপে থাকা চ্যাট ও বার্তাগুলো ফিরে আসতে পারে।


ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ থেকেও কি চ্যাট ফেরানো যায়?


কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে হোয়াটসঅ্যাপের স্থানীয় বা লোকাল ব্যাকআপ সংরক্ষিত থাকে। ফোনের ফাইল ম্যানেজারে নিচের পথটি অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ফোল্ডার খুঁজে দেখতে পারেন—


Android > media > com.whatsapp > WhatsApp > Databases


এখানে স্থানীয় ব্যাকআপের ফাইল থাকতে পারে। তবে ফোনের মডেল, অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ এবং হোয়াটসঅ্যাপের সংস্করণ অনুযায়ী ফাইলের অবস্থান বা নাম ভিন্ন হতে পারে।


পুরোনো স্থানীয় ব্যাকআপ ব্যবহার করে চ্যাট পুনরুদ্ধারের জন্য সঠিক ব্যাকআপ ফাইল শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ধাপ অনুসরণ করা জরুরি। ফাইলের নাম পরিবর্তন করতে হতে পারে, তবে ভুল ফাইল পরিবর্তন করলে পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে পারে। তাই কোনও পরিবর্তনের আগে ব্যাকআপ ফাইলের একটি নিরাপদ কপি রাখুন।


আইফোনে ডিলিট হওয়া চ্যাট ফিরিয়ে আনবেন যেভাবে


আইফোনে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট পুনরুদ্ধারের জন্য সাধারণত আইক্লাউডে সংরক্ষিত ব্যাকআপ ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে আগে থেকে ব্যাকআপ তৈরি করা থাকতে হবে।


যেভাবে করবেন—


১. হোয়াটসঅ্যাপ খুলে ‘Settings’-এ যান।


২. ‘Chats’ থেকে ‘Chat Backup’ অপশনে প্রবেশ করুন।


৩. আইক্লাউডে সর্বশেষ ব্যাকআপের তারিখ ও সময় পরীক্ষা করুন।


৪. প্রয়োজনীয় মেসেজটি ব্যাকআপে থাকার সম্ভাবনা থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে আবার ইনস্টল করুন।


৫. আগের একই ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট যাচাই করুন।


৬. ‘Restore Chat History’ অপশন এলে সেটি নির্বাচন করুন।


প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে আইক্লাউডে থাকা ব্যাকআপ থেকে চ্যাট পুনরুদ্ধার হতে পারে। এর জন্য আইক্লাউডে পর্যাপ্ত জায়গা, সঠিক অ্যাপল অ্যাকাউন্ট এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকআপের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।


চ্যাট পুনরুদ্ধারের আগে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন


ডিলিট হওয়া মেসেজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। তাহলো—


ব্যাকআপের তারিখ যাচাই করুন: মেসেজ ডিলিট হওয়ার আগের ব্যাকআপ থাকলেই সেটি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

একই ফোন নম্বর ব্যবহার করুন: ব্যাকআপ পুনরুদ্ধারের জন্য সাধারণত আগের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের ফোন নম্বর প্রয়োজন।

সঠিক গুগল বা অ্যাপল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করুন: যে অ্যাকাউন্টে ব্যাকআপ রাখা হয়েছে, সেটিতে প্রবেশাধিকার থাকতে হবে।

সাম্প্রতিক মেসেজ হারানোর ঝুঁকি বুঝুন: পুরোনো ব্যাকআপ ফিরিয়ে আনলে ব্যাকআপ তৈরির পর পাওয়া নতুন মেসেজগুলো পুনরুদ্ধার করা নাও যেতে পারে। তাই বর্তমান গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন নিরাপদে সংরক্ষণ করে নেওয়ার কথা বিবেচনা করুন।

ব্যাকআপ না থাকলে সতর্ক থাকুন: আগে থেকে কোনও ব্যাকআপ না থাকলে ডিলিট হওয়া চ্যাট পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত। অপরিচিত থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


হোয়াটসঅ্যাপে ডিলিট হওয়া মেসেজ ফিরে পাওয়া সম্ভব কি না, তা নির্ভর করে চ্যাটটি আর্কাইভ করা হয়েছে, নাকি স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হয়েছে এবং আগে থেকে ব্যাকআপ তৈরি ছিল কি না—এসব বিষয়ের ওপর। আর্কাইভ করা চ্যাট কয়েকটি ধাপেই ফিরিয়ে আনা যায়। অন্যদিকে, স্থায়ীভাবে মুছে যাওয়া চ্যাট পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে গুগল ড্রাইভ, আইক্লাউড কিংবা স্থানীয় ব্যাকআপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


তাই গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হারানোর ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ চালু রাখুন এবং ব্যাকআপের সময়সূচি যাচাই করুন। মনে রাখবেন, মেসেজ হারিয়ে যাওয়ার পর পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করার চেয়ে আগে থেকেই ব্যাকআপ রাখা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য উপায়।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৪ পিএম

‘মেমরি আর্কিটেকচার’ চালু করেছে চ্যাটজিপিটি। এতে করে চ্যাটজিপিটিতে হওয়া সব কথোপকথন থেকে যাবে ‘লকড পিনে’। চাইলেই কেউ উঁকি দিতে পারবে না।


এবার ইউজাররা চার সংখ্যার পিন অথবা ফেস আইডি কিংবা টাচ আইডি ব্যবহার করে অনায়াসেই লক করে রাখতে পারবেন চ্যাটজিপিটির সঙ্গে হওয়া চ্যাট। ফলে কেউ তার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ খুলে চলে গেলেও আর চিন্তা নেই। অন্য কারও পক্ষে সেই কথোপকথন পড়া সম্ভব হবে না। 


যেহেতু অনেকেই চ্যাটজিপিটির সঙ্গে সংবেদনশীল কথোপকথন শেয়ার করে থাকেন, তাই তা গোপন রাখার অভিপ্রায় সব সময়ই থাকে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে চ্যাটজিপিটির এই নয়া লকড পিনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


এক্ষেত্রে সাবধানতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা চার ডিজিটের পিন ভুলে গেলে মেমরি থেকে শুরু করে গোপন ফাইল ইত্যাদি হারিয়ে যেতে পারে। তাই পিন অন্য কোথাও লিখে রাখা বা কোনও বিশেষ উপায়ে স্মৃতিতে ধরে রাখার ব্যবস্থা করাই বাঞ্ছনীয়।


চ্যাটজিপিটির সাহায্যে এমন বহু জরুরি কাজ করানো যায়, যা অনেক সময়ই ইউজাররা খেয়াল করেন না। যেমন চটজলদি উত্তরের খোঁজ না করে, সুশৃঙ্খল গবেষণার কাজে চ্যাটজিপিটিকে ব্যবহার করুন। 


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৩ এএম

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হলে ব্যক্তিগত কথোপকথন ও পরিচিত ব্যক্তিদের তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। শুধু তা–ই নয়, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কেউ আপনার পরিচয়ে বন্ধু, পরিবারের সদস্য ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা পাঠাতে পারে। তবে চাইলেই নিজের ফোন নম্বর ব্যবহার করে হ্যাকড হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা যায়।


হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে যা করতে হবে


হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পারলে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ খুলে ‘লগ ইন এগেইন’ অপশনে ট্যাপ করুন। এরপর ‘কন্টিনিউ’ নির্বাচন করার পর ফোন নম্বর চাওয়া হলে দেশের কোডসহ নিজের ফোন নম্বর লিখুন। এরপর ‘নেক্সট’ ও ‘ওকে’ অপশনে ট্যাপ করলে এসএমএস বা ফোন কলের মাধ্যমে ছয় সংখ্যার যাচাইকরণ কোড পাওয়া যাবে। কোডটি নির্ধারিত স্থানে লিখে নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই আপনার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লগ ইন করা অন্য সব যন্ত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ আউট হয়ে যাবে। ফলে অন্য কেউ নিজের যন্ত্র থেকে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবেন না।


টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পিন চাইলে কী করবেন


অ্যাকাউন্ট উদ্বারের সময় হোয়াটসঅ্যাপ টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা দুই ধাপের ভেরিফিকেশন পিন চাইতে পারে। পিনটি জানা না থাকলে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ব্যক্তি এই নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পিন জানা না থাকলে সাত দিন অপেক্ষা করে আবার চেষ্টা করতে হবে।


হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে যে সতর্কতা মেনে চলতে হবে


ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে নতুন সিম কার্ড ব্যবহার করে ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন অনেকেই। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুরোনো ফোন নম্বরের সঙ্গে যুক্ত থাকলে চাইলেও হ্যাক হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া যায় না। আর তাই নতুন সিম কার্ড ব্যবহার করলে ‘চেঞ্জ ফোন নম্বর’ সুবিধা ব্যবহার করে দ্রুত হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বর পরিবর্তন করে নিতে হবে।


ফেসবুক

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে কনটেন্টের পারফরম্যান্স পরিমাপে প্রচলিত ‘রিচ’ মেট্রিকের পরিবর্তে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের নোটিশ দেখা গেছে মেটার বিজনেস স্যুটে।


এর ফলে ফেসবুক পেজের কনটেন্ট কতজনের কাছে পৌঁছেছে, তা পরিমাপ ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নতুন হিসাবপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত হতে হবে কনটেন্ট নির্মাতা, সংবাদমাধ্যম ও ডিজিটাল বিপণনকর্মীদের। 


ডিজিটাল বিপণনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কেশন ল্যাব প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে- তাদের পর্যবেক্ষণে মেটা বিজনেস স্যুটের ‘পোস্ট ও রিলস’ ব্যবস্থাপনা অংশে ৩১ অক্টোবর থেকে ফেসবুকের ‘রিচ’ মেট্রিক বন্ধ হওয়ার নোটিশ দেখা গেছে। সেখানে কনটেন্ট কতটি অ্যাকাউন্ট দেখেছে, তা বোঝার প্রধান পরিমাপক হিসেবে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।


তবে এ পরিবর্তনসংক্রান্ত ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা মেটার প্রকাশ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে তারিখটি আপাতত বিজনেস স্যুটে দেখা নোটিশের ভিত্তিতে পাওয়া তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


রিচ ও ভিউয়ারসের পার্থক্য কী


এত দিন ফেসবুক পেজের কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নে ‘রিচ’ বহুল ব্যবহৃত একটি মেট্রিক। এর মাধ্যমে কোনো পোস্ট বা কনটেন্ট কতজন স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছেছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়। নতুন ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিকের লক্ষ্য হলো কনটেন্ট দেখেছেন এমন স্বতন্ত্র দর্শক বা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা তুলে ধরা।


অন্যদিকে, ‘ভিউস’ বলতে কনটেন্ট কতবার দেখা হয়েছে সেই হিসাব বোঝানো হয়। একজন ব্যবহারকারী একই কনটেন্ট একাধিকবার দেখলে ভিউসের হিসাবে একাধিকবার গণনা হতে পারে। তাই ভিউয়ারস ও ভিউস একই বিষয় নয়।


মেটার এপিআই ও বিভিন্ন বিশ্লেষণী সেবার নথিতেও ২০২৬ সালে ফেসবুকের পুরোনো রিচ ও ইমপ্রেশন-সংক্রান্ত কিছু মেট্রিক পরিবর্তন এবং নতুন মিডিয়া ভিউ ও ভিউয়ারস-ভিত্তিক হিসাব চালুর কথা উঠে এসেছে। 


তবে সব মেট্রিক, সব ফেসবুক সেবা এবং বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একই পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে- এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।


কনটেন্ট নির্মাতাদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে


রিচ ও ভিউয়ারসের হিসাবের ভিত্তি এক না হলে পুরোনো ও নতুন প্রতিবেদনের সংখ্যা সরাসরি তুলনা করা কঠিন হতে পারে। কোনো পেজের ভিউয়ারস বেড়ে গেলে বা কমে গেলে সেটিকে কেবল কনটেন্টের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। আগে বুঝতে হবে, পরিমাপের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এসেছে কি না।


বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম, ব্র্যান্ড এবং ডিজিটাল বিপণন সংস্থাগুলো মাসিক বা বার্ষিক পারফরম্যান্স প্রতিবেদন তৈরির সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। পুরোনো রিচের তথ্যের সঙ্গে নতুন ভিউয়ারসের তথ্য তুলনা করলে প্রতিবেদনে মেট্রিক পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন হতে পারে।


এ ছাড়া রিচের ভিত্তিতে হিসাব করা এনগেজমেন্ট রেট বা কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়নের কিছু সূচকেও প্রভাব পড়তে পারে। তৃতীয় পক্ষের বিশ্লেষণী টুল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন মেট্রিকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবেদন ও ড্যাশবোর্ড হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।


এখন কী করবেন পেজ পরিচালকেরা


ডিজিটাল বিপণন বিশ্লেষকেরা পুরোনো তথ্য সংরক্ষণ, নতুন মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই এবং প্রতিবেদনে পরিবর্তনের তারিখ উল্লেখ করার পরামর্শ দেন। এতে ভবিষ্যতে কনটেন্টের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সময়ের তথ্য তুলনা করা সহজ হবে।


তবে রিচের মেট্রিক পরিবর্তন মানেই ফেসবুকের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অ্যালগরিদম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়। এটি মূলত কনটেন্টের দর্শকসংখ্যা পরিমাপ ও প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতির পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়। 


একইভাবে, ফেসবুক বিজ্ঞাপনের সব রিচ সূচকও ৩১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। 


তাই পেজ পরিচালকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, মেটা বিজনেস স্যুটে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দেখানো নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট মেট্রিকের সংজ্ঞা যাচাই করে পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করা।