ছবি : সংগৃহীত
হেডিংলি ও লর্ডস টেস্টে শোচনীয় হারের পর দল পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান। দলের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি সরফরাজ আহমেদকে প্রধান কোচ ও উমর গুলকে বোলিং কোচের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বদলে গেছে যে পাকিস্তানের টেস্ট দলে পাঁচজন নতুন মুখের পাশাপাশি সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকে ডাকা হয়েছে, যাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা মাত্র ১০ ম্যাচের। সীমিত ওভারে দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকে টেস্ট দলের কোচিং প্যানেলে যোগ দিয়েছেন। টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন হেসন।
মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলী উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ—এই সাত খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টের আগে স্কোয়াডে যোগ দেওয়া পাঁচ নতুন মুখ—আরাফাত মিনহাজ, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রাজউল্লাহ।
গত কয়েক বছরে পাকিস্তান দলে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে, তবে টেস্ট সিরিজের মাঝপথে এবং সেটাও সিরিজ হার নিশ্চিতের পর নিয়ম রক্ষার ম্যাচের আগে এত বড় পরিসরে দল পুনর্গঠন নজিরবিহীন।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়া এবং ১৯৭২ সালের পর ওই ভেন্যুতে প্রথম অতিথি স্পিনার হিসেবে এই নজির গড়া আলী উসমানকে বাদ দেওয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
চলতি সফরে মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিংয়ে স্টাম্পের কাছে দাঁড়িয়ে অসাধারণ কিপিং করলেও ব্যাট হাতে রান পাচ্ছিলেন না রিজওয়ান। লর্ডসে তাঁর স্কোর ৭ ও ১ এবং হেডিংলিতে ১২ ও ৪১। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ইনিংসে করেছিলেন মোটে ৪১ রান।
লর্ডস টেস্টে প্রথম দিনে খেলা শেষে বাঁ পায়ের মাংশপেশিতে গ্রেড-ওয়ান চোট পাওয়ায় পাকিস্তানের দুই ইনিংসে ব্যাট করতে নামেননি ইমাম। এতে তিনি তীব্র সমালোচনার শিকার হন। পাকিস্তানের টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আগা লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে খেলেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যাটিং ফর্ম পড়ে যাওয়ার কারণে হেডিংলিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করার পরও তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।
চলতি বছরের শুরুতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে পাকিস্তানের জার্সিতে আর খেলেননি আইয়ুব। ফিটনেস সমস্যায় কোনো সংস্করণেই তাঁকে বিবেচনা করা হয়নি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে খেলেন সর্বশেষ টেস্ট। সেই টেস্টে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার পর থেকে তিনি কেবল দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, যা গত বছরের কায়েদ-এ-আজম ট্রফিতে।
টেস্ট দলে পাঁচ নতুন মুখের মধ্যে শুধু বাঁহাতি স্পিনার মিনহাজই এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। চলতি বছর মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে তাঁর অভিষেক এবং স্পিন-সহায়ক উইকেটে দারুণ বোলিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।
সরফরাজের নেতৃত্বে বর্তমান কোচিং প্যানেল গত এপ্রিলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের ঠিক আগে নিয়োগ পায় এবং সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়কের দায়িত্বে এটি তৃতীয় সিরিজ। উমর গুলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম। চলতি সিরিজের আগে পাকিস্তান ব্যাটিং কোচ হিসেবে আসাদ শফিকের স্থলাভিষিক্ত হন মাইক স্মিথ।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী আনিসা খান
যুক্তরাজ্যের জাতীয় নারী কাবাডি দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী আনিসা খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই নতুন দায়িত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন আনিসা নিজেই। পরবর্তীতে তার বাবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইয়াওর খানও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। পেশাগত জীবনে আনিসা খান একজন দক্ষ কনসালট্যান্ট এবং পরিচিত ফুড ব্র্যান্ড ‘বোম্বে পিৎজা’-এর প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা। তিনি যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
খেলাধুলা ও ব্যবসার পাশাপাশি ব্রিটিশ বিনোদন জগতেও পরিচিত মুখ আনিসা; বিবিসি ওয়ানের জনপ্রিয় ও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর ফাইনালে উঠে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।
২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম কাবাডি খেলার সঙ্গে যুক্ত হন আনিসা। কঠোর অনুশীলন ও ধারাবাহিক নৈপুণ্যের মাধ্যমে দ্রুতই তিনি নজর কাড়েন এবং একপর্যায়ে ইংল্যান্ড জাতীয় নারী কাবাডি দলে নিয়মিত সদস্য হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের দলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এবার জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তার কাঁধে নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো।
আনিসা খানের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে। তার বাবা ইয়াওর খান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।
প্রবাসে রেস্তোরাঁ ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে তিনি সফল আবাসন ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন এবং যুক্তরাজ্যে মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমাদৃত। চার ভাই-বোনের মধ্যে আনিসা পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।
২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে পর্দা উঠছে এবারের কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের। বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের মোট ১৪টি দেশের জাতীয় দল এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে শিরোপার লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। সেখানে লাল-সাদা জার্সিতে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হিসেবে ম্যাটে নামবেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আনিসা খান।
ফুটবল মাঠে তার কীর্তি আগেই জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। এবার প্রকৃতির জগতেও অমর হয়ে থাকছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার প্রতি সম্মান জানিয়ে পেরুর বিজ্ঞানীরা আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত একটি সুগন্ধি উদ্ভিদের নাম রেখেছেন ‘সালভিয়া মেসি’। ফুলটির নীল-সাদা পাপড়িতে যেন ফুটে উঠেছে মেসির দেশের পতাকা ও আর্জেন্টিনার জার্সির রং।
আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরুর দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় এই উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। আন্দিজ পর্বতমালার পাথুরে ঢালে জন্মানো উদ্ভিদটি আগে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচিত ছিল না। গবেষণার পর নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রকাশ করা হয়েছে।
‘সালভিয়া মেসি’ ল্যামিয়াসি পরিবারের একটি গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। এই পরিবারেই রয়েছে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি ও সেজের মতো পরিচিত গাছ। উদ্ভিদটির আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক বর্ণনায় যুক্ত ছিলেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস। তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ফাইটোতাক্সা-তে।
মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণের পেছনে ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন গবেষকেরা। মায়মোনাইডস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তির মতে, বিজ্ঞানীরাও সমাজ ও মানুষের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন নন। তার ভাষায়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি। তাই মেসির মতো বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানাতে গবেষকদের ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা কাজের ক্ষেত্রের পার্থক্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
এমন ঘটনা অবশ্য মেসির ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রাণী ও জীবের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার নাম। আর্জেন্টিনার বারিতু জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত একটি ছত্রাকের নাম রাখা হয়েছে ‘সেরকোপেমসেস মেসি’। এ ছাড়া ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’ নামে একটি মাকড়সা, ‘লিওলায়েমুস মেসি’ নামে একটি টিকটিকি এবং ‘ভালচার মেসি’ নামে আন্দিজ অঞ্চলের একটি প্রাগৈতিহাসিক শকুনের নামকরণ করা হয়েছে। ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’ নামেও পরিচিত একটি প্রাগৈতিহাসিক খোলসধারী প্রাণী।
হামজা চৌধুরী
চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড। হারের ম্যাচে হামজা চৌধুরী দেখেছেন লাল কার্ড। তাই পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে দলটিকে।
ফ্রাটন পার্কে ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হামজা। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে রায়ান কাভুমা ম্যাককুইনকে ফাউল করার জন্য প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন হামজা। এর ঠিক দশ মিনিট পর আবারও কাভুমার সঙ্গে একটি চ্যালেঞ্জে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন।
প্রথম হলুদ কার্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে তেমন বিতর্ক না থাকলেও দ্বিতীয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কাভুমা হামজার পায়ের ফাঁক দিয়ে বল বের করে সামনে এগিয়ে যান। এরপর হামজার সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ২-২ সমতা ফিরিয়েছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। তবে ৮৯ মিনিটে এবু অ্যাডামসের গোলে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় তারা।
লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় পরের ম্যাচে খেলতে পারবেন না হামজা।
ইংলিশ ফুটবল লিগের (ইএফএল) নিয়ম অনুযায়ী, এক ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড দেখে বহিষ্কৃত হলে সাধারণত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পান সেই খেলোয়াড়। গত শনিবার ব্রিস্টল সিটির বিপক্ষে শেফিল্ড ইউনাইটেডের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার।
শেফিল্ড ইউনাইটেডের কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডার। তার দাবি, রেফারি প্রথমে হামজাকে জানিয়েছিলেন যে তাকে মাঠ ছাড়তে হবে না। পরে সিদ্ধান্ত বদলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান।
ছবি : সংগৃহীত
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগকে কেন রিয়াল মাদ্রিদের টুর্নামেন্ট বলা হয়, রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তার আরেকটি অবিশ্বাস্য প্রমাণ মিলল। ম্যাচের ৮২ মিনিট পর্যন্ত ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ৭ মিনিটের ঝড়ে রোমাকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে রূপকথার এক জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে লিগ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে রিয়ালের পয়েন্ট ছয়। রোমার পয়েন্ট এক।
রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে তখন জয়ের আগাম উৎসব। ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে দারুণ এক শটে দলকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তার শট থিবো কোর্তোয়াকে পরাস্ত করে জালে ঢোকে। যদিও এর পাঁচ মিনিট পরেই চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের শততম ম্যাচ খেলতে নামা কিলিয়ান এমবাপ্পের শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে জড়ালে সমতায় ফেরে রিয়াল, ইউরোপ সেরার মঞ্চে এটি ফরাসি তারকার ৭২তম গোল।
বিরতির আগে মার্ক কুকুরেইয়া ও জুড বেলিংহ্যামও গোলের কাছে যান, তবে গোল আর পাননি। দ্বিতীয়ার্ধে দোনিয়েল মালেনের জোড়া গোল রোমাকে চালকের আসনে বসায়। ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলে বল পেয়ে প্রথম গোলটি করেন ডাচ এই স্ট্রাইকার। এর সাত মিনিট পর দ্বিতীয় গোলটিতে ভিএআর-এর সহায়তায় অনসাইড প্রমাণিত হন তিনি। ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়া রিয়াল মাদ্রিদের পরাজয় তখন সময়ের ব্যাপার বলেই মনে হচ্ছিল।
ম্যাচের শেষ দিকে রোমার কোচ গাসপেরিনি রক্ষণ মজবুত করতে বদলি নামালেও মরিনিওর কৌশলগুলো পুরো ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। ৮৩ মিনিটে বদলি নামার ঠিক ৫ মিনিট পর ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। ৮৬ মিনিটে আরদা গুলেরের কর্নার থেকে হেডে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৩-৩ করেন তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এনদ্রিক। আর নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও গুলেরের নিখুঁত সেট পিস থেকে কাছ থেকে ভলিতে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন পূর্ণ করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার।
ম্যাচ শুরুর আগে গ্যালারিতে প্রিয় কোচ জোসে মরিনিওকে ঘিরে সমর্থকরা ব্যানার টানিয়ে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। আড়াই বছর রোমার দায়িত্বে থাকার সময় তিনি দলকে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জেতান। ইউরোপা লিগের ফাইনালেও তুলেছিলেন। তাই রোমা যখন জয়ের সুবাস পাচ্ছিল, ঠিক তখনই মরিনহোর দুর্দান্ত সব বদলি কৌশল আর রিয়ালের হার না মানা মানসিকতা রোমার সেই উৎসবকে রূপান্তর করল চরম হতাশায়।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
নেফতচির বিপক্ষে জয়ের পর আল নাসরের সমর্থকদের চমকে দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এই পর্তুগিজ অধিনায়ক এমন একটি কাজ করেছেন, যা সবার নজর কেড়েছে। হুথিদের আক্রমণে যখন সৌদি আরব বিপর্যস্ত, তখন দেশটির প্রতি নিজের ভালোবাসাটা তিনি স্পষ্ট করে দেখিয়েছেন।
সোমবার সন্ধ্যায় এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ এলিটের দ্বিতীয় রাউন্ডে আল নাসর ৩-১ গোলে জিতেছে। ৪২ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনালদো। এর আগে অ্যাঞ্জেলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে নেফতচির ডিফেন্ডার বুয়ান সিগের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে।
ম্যাচ শুরুর আগেই এই লড়াই নিয়ে খানিকটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। রিয়াদে ম্যাচ শুরুর ১৫ মিনিট আগে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স একটি নিরাপত্তা সতর্কতা দেয়। তাই খেলা শুরু হতে দেরি হয়। রিয়াদের একাধিক জায়গা সম্প্রতি ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
খেলা যখন বন্ধ ছিল, ক্যামেরায় তখন রোনালদোকে দেখা যায়। তিনি আল নাসরের জার্সিতে থাকা সৌদি পতাকায় চুমু খাচ্ছিলেন। সৌদি আরবে খেলতে আসার পর থেকে এই দেশের প্রতি তার যে কৃতজ্ঞতা, দৃশ্যটি তা-ই বোঝায়। ম্যাচ শেষে তিনি আরেকভাবে নিজের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
উদযাপনের মাঝখানে রোনালদো সমর্থকদের কাছে একটি স্কার্ফ চান। সেই স্কার্ফে ছিল সৌদি পতাকা। তিনি সেটি কাঁধে জড়িয়ে নেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে এই কাজ তার উদযাপনকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
আল নাসরের পরের ম্যাচ ১৬ অক্টোবর। সৌদি প্রো লিগে তারা আল আহলির মুখোমুখি হবে।
লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলার চার দিন পরই ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। ফেরার ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন জোড়া গোলে। তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও করলেন দুই গোল। দুই তারকার নৈপুণ্যে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ডিসি ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। একই সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের জয়খরাও কাটিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মায়ামি। মাত্র তৃতীয় মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুয়ারেজ। ৩৯ মিনিটে মেসির শট প্রতিহত হলে ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর গোলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মেসি। ৪৭ মিনিটে সুয়ারেজের বাড়ানো বল এক স্পর্শে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর ৬০ মিনিটে আসে তার দ্বিতীয় গোল। রদ্রিগো ডি পলের পাস পেয়ে ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলরক্ষক সিন জনসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতে ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় মায়ামির।
এই জোড়া গোলে চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩, যা লিগে সর্বোচ্চ। গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুবার এমভিপি হওয়া মেসি এবারও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে।
মায়ামির জন্য জয়টি ছিল বিশেষ স্বস্তির। আগের পাঁচ ম্যাচে চারটি ড্র ও একটি হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল দলটি। গত ২৯ আগস্ট সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে হারানোর পর এটিই তাদের প্রথম জয়।