ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১১ মে, ২০২৬, সময় : ১০:৫২ এএম

খেলা বন্ধ থাকল ৩ ঘণ্টা ৫ মিনিট, অর্থাৎ পুরো এক সেশনের বেশি সময়। মধ্যাহ্নবিরতির মধ্যে আসা বৃষ্টি থেমে খেলা আবার শুরু হতে হতে বেলা ৩টা ৪৫ মিনিট। মাঝে প্রবল বর্ষণে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রায় ডুবুডুবু অবস্থা। 


গ্যালারি আর মিডিয়া প্লাজার প্যাসেজে দর্শকদের অনেকেই মনের আনন্দে বৃষ্টিতে ভিজেছেন। আসলে সেই পরিস্থিতি থেকে যে আবার দিনের খেলা শুরু হতে পারে, এটা ভাবাই তখন কঠিন ছিল।


কিন্তু খেলা আবার ঠিকই শুরু হয়েছে, ঝলমলে রোদে হেসেছে শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। দুর্দান্ত পানিনিষ্কাশন-ব্যবস্থার সুবাদে যথারীতি মাঠও প্রস্তুত হয়। 


তবে বর্ধিত সময় পর্যন্ত যেতে পারেনি দিনের খেলা, দেড় ঘণ্টা খেলা হওয়ার পরই আলোকস্বল্পতায় দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। সে পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০.৩ ওভার ব্যাট করে ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলেছে বাংলাদেশ দল। পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৩৮৬ রান থেকে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে ১৭৯ রানে।


৪৮.৪ ওভারের দিনটা যে কার, সেটি ওই বৃষ্টি-বাধার কারণেই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও টপ অর্ডারের ব্যর্থতায় বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা হয়েছে হোঁচট খেয়ে। 


আগের দিন শেষ বিকেলে করা ৭ রান নিয়ে খেলতে নেমে আজ দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান আর সাদমান ইসলামকে হারাতে হয় দলীয় ২৩ রানের মধ্যে।


৫ রান করে মাহমুদুল এলবিডব্লু হয়েছেন মোহাম্মদ আব্বাসের বলে, আর সাদমান ১০ রান করে হাসান আলীর বাড়তি বাউন্স পাওয়া বলে গালিতে সৌদ শাকিলকে ক্যাচ দেন। তবে দিনের প্রথম ঘণ্টার ধাক্কা দুটিকে ‘ভূমিকম্পে’ রূপ নিতে দেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ও মুমিনুল হক।


প্রথম ইনিংসেও ৩১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর নাজমুল-মুমিনুলই ১৭০ রানের জুটি গড়ে পথ দেখিয়েছিলেন। নাজমুল তো সেঞ্চুরিই (১০১) করলেন, মুমিনুলের ব্যাট থেকে আসে ৯১। 


দ্বিতীয় ইনিংসেও একই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে। উইকেটে বল মাঝেমধ্যেই বাড়তি টার্ন-বাউন্স পেয়েছে। তার মধ্যেও তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজনে গড়েছেন বিপর্যয় এড়ানো ১০৫ রানের জুটি।


দিনের প্রথম ঘণ্টায় হোঁচট খাওয়ার পর আর কোনো উইকেট পড়তে না দিয়ে নাজমুল-মুমিনুল জুটি মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় দলকে ৯৩ রানে রেখে, বাংলাদেশের লিড তখনই ১২০ রানের। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান মাথায় রাখলে বাংলাদেশ ভালো একটা অবস্থানে যাওয়ার ভিতও বলা যায় সেটাকে।


তৃতীয় দিন শেষে মেহেদী হাসান মিরাজ বলে গিয়েছিলেন, এই ইনিংসে তাঁদের লক্ষ্য থাকবে ২৯০-৩০০ রান করা। ওদিকে মিরপুরের অতীত বলছে, চতুর্থ ইনিংসে এ মাঠের উইকেটে কোনো দল ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে জিততে পারেনি। ২০১০ সালে সেটি করেছিল ইংল্যান্ড। মিরপুরে ১৫০-এর বেশি রান তাড়া করে জেতার ঘটনাও আছে একটিই। ২০০৮ সালে চতুর্থ ইনিংসে ২০৫ রান তাড়া করে বাংলাদেশকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।


শুরুতে ২ উইকেট হারালেও বৃষ্টির বাধার দিনে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যের দিকে খুব একটা খারাপ এগোয়নি বাংলাদেশ। তবে আক্ষেপ থাকছে মুমিনুল হকের জন্য। ব্যক্তিগত ২ রানে মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং ৪৩ রানে আবদুল্লাহ ফজল দুবার তাঁর ক্যাচ ফেলেন। দুই দফা নতুন জীবন পেয়েও মাত্র ৫৬ রানে থেমেছে ১২০ বল খেলা মুমিনুলের ইনিংস। ৪৩তম ওভারে শাহিন আফ্রিদির বলে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। তার আগে টেস্টে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ৫ হাজার রানের দেখা পান মুমিনুল।


ফিফটি করেও সেঞ্চুরির দেখা না পাওয়া ইনিংসের তালিকাটা আরও বাড়ল মুমিনুলের। তাঁকে নিয়ে প্রথম ইনিংসে দেওয়া তথ্যটাই একটু ‘আপডেট’ করে দিতে হচ্ছে নতুন করে। টেস্টে এ নিয়ে ৪০ ইনিংসে পঞ্চাশ ছুঁয়েও তিন অঙ্কে যেতে পেরেছেন মাত্র ১৩ বার, বাকি ২৭টি ইনিংস সন্তুষ্ট থেকেছেন ফিফটিতে। শুধু তাই নয়, চলমান মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসসহ টানা পাঁচ ইনিংসে ফিফটি করেও সেঞ্চুরির দেখা পেলেন না মুমিনুল। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এই ‘কীর্তি’ তাঁর আগে ছিল শুধু সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের।


দিনের শেষভাগে মুমিনুলের আউটটাই যা একটু অতৃপ্তি। নইলে বৃষ্টিতে খেয়ে নেওয়া দিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতেই ছিল। নাজমুল দিন শেষে অপরাজিত আছেন ১০৫ বলে ৫৮ রান নিয়ে, সঙ্গে ১৬ রানে অপরাজিত প্রথম ইনিংসে ৭১ রান করা মুশফিকুর রহিম।


চতুর্থ দিন শেষে মিরপুর টেস্টটা যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে কাল শেষ দিনটা হয়ে উঠতে পারে রোমাঞ্চকর। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় সে সম্ভাবনা বাড়ছে আরও।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:


বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (নাজমুল ৫৮*, মুমিনুল ৫৬, মুশফিক ১৬ ; হাসান ১/২৩, আব্বাস ১/৩৫, শাহিন ১/৩৯ )।


পাকিস্তান : ৩৮৬।


-চতুর্থ দিন শেষে।



সর্বশেষ সব খবর

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৯ পিএম

ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ফুটবলার রবার্তো কার্লোসের ইসলাম গ্রহণ নিয়ে সম্প্রতি বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, অবশেষে তা নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। এ খবরকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে জানিয়ে দিয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) গোল.কমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।


সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিল তারকা তুরস্কের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়ে পড়ার পর সৌদি সংবাদপত্র ওকাজ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে কথা বলেন।


রবার্তো বলেন, ইসলামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। আমার স্ত্রীকে নামাজ পড়তে দেখা চমৎকার লাগে। কিন্তু আমার ইসলাম গ্রহণ নিয়ে যে গুজব ছড়াচ্ছে, তা সত্য নয়।


এর আগে, বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রাজিলের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শেখ জিহাদ হামাদার সঙ্গে দেখা করেছেন কার্লোস। পাশাপাশি অনলাইনে এমন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একজন কাজির উপস্থিতিতে ইসলামিক রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে এবং সেখানে রবার্তো কার্লোসও আছেন। এতেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ইসলামিক রীতিতে একজনকে বিয়ে করেছেন।


ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই লেফটব্যাক সম্প্রতি মরক্কোর ব্যবসায়ী সোহাইলা তাহিরির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ছবিগুলো দেখে মনে হতেই পারে, স্ত্রীর ধর্ম অনুসরণ করে তিনিও বুঝি মুসলিম হয়েছেন। পরে গুঞ্জনের জট ছাড়াতে সম্প্রতি এ বিষয়ে কথা বলেন রবার্তো কার্লোস।


বিয়ের অনুষ্ঠান ঘিরে চলা আলোচনা প্রসঙ্গে কার্লোস ব্যাখ্যা করেন, ‘আমাদের বিয়ের অনুষ্ঠান একাধিক ধরনের হয়েছিল। আমরা পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাসের সঙ্গে মানানসই একটি অনুষ্ঠান করেছি, কারণ তারা ক্যাথলিক ধর্মের অনুসারী। এর পাশাপাশি আমার স্ত্রী ও তার মুসলিম বন্ধুদের জন্য আরেকটি অনুষ্ঠানও করা হয়েছিল।’


সাফল্যে পূর্ণ রবার্তো কার্লোস ফুটবল ক্যারিয়ারে ব্রাজিল জার্সিতে জিতেছেন ২০০২ বিশ্বকাপ, আগের আসরে রানার্সআপ। রিয়াল মাদ্রিদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা, উয়েফা সুপার কাপ উৎসব করেছেন। ফুটবল মাঠে নিজের গতিময় ফ্রি-কিক ও সফল ক্যারিয়ারের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের কমতি নেই। তবে তার নিজের এই স্পষ্ট বক্তব্যের পর ইসলাম গ্রহণ সংক্রান্ত সব গুঞ্জনের অবসান ঘটল।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০২ পিএম

বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে ৯ উইকেটের বড় হারটা মেনে নিতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া। সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে দ্বিতীয় টেস্টের আগে স্কোয়াডে পরিবর্তন এনেছে স্বাগতিকরা। স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন বাঁহাতি ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড। তার জায়গায় দলে ফিরেছেন আরেক বাঁহাতি ব্যাটার ম্যাট রেনশ। এক বিবৃতিতে এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।


দুই ম্যাচের সিরিজের জন্য শুরুতে ১৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে দলে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। ডারউইনে দুই ইনিংসে ওয়েদারাল্ডের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ২৩ ও ০ রান।


অন্যদিকে রেনশ প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে ফিরলেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছিলেন ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটার। কঠিন পরিস্থিতিতেই এবার আবার সাদা পোশাকে ফেরার সুযোগ পেলেন তিনি। স্কোয়াডে পরিবর্তন অবশ্য একটিই। 


তবে একাদশেও পরিবর্তন আসতে পারে। দলে থাকলেও দ্বিতীয় টেস্টে মার্নাস লাবুশেনের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তার পরিবর্তে জশ ইংলিসকে একাদশে দেখা যেতে পারে।


ডারউনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৪২৬ রানের বিশাল সংগ্রহের পর অস্ট্রেলিয়াকে দুই ইনিংসে ১৯৮ ও ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। 


ফলে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য পেয়ে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এতে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।


সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ২২ আগস্ট, ম্যাকাইয়ে। সিরিজ বাঁচাতে সেই ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই অস্ট্রেলিয়ার।


দ্বিতীয় টেস্টের জন্য অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড: ট্রাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স কেয়ারি, বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন, জশ হ্যাজেলউড, জশ ইংলিস ও স্কট বোল্যান্ড।

সর্বশেষ সব খবর

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৪২ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের স্মরণীয় জয় পাওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


রোববার (১৬ আগস্ট) এক ভিডিও কলে জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি দলের অসাধারণ পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন এবং সিরিজের পরবর্তী টেস্টের জন্য খেলোয়াড়দের শুভকামনা জানান।


এসময় তিনি সড়ক পথে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ দলের জয়ের খবর আসলে তিনি ভিডিও কলে টাইগারদের অবিনন্দন জানান।


উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ৯ উইকেটের জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ পিএম

প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের পর তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি। ব্যাটে-বলে দুই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে আসার আগে জয়ের স্বপ্ন না দেখা বাংলাদেশ দল ও ভক্ত-সমর্থকরা আশা করতে শুরু করে ঐতিহাসিক কিছুর। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে।


প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ২২৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রানে। তানজিদের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং ইতিহাস গড়তে মাঝপথে কাজটা সহজ করে দেন মেহেদী হাসান অলরাউন্ড নৈপুণ্যে। ৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংসের পর বল হাতে ফাইফার। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হাজার রান ও ১০০ উইকেটেরও মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রান করলেও মিরাজের তোপে ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে ৫৬ রানের বেশি লিড নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।


ক্ষুদ্র এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হলেও জয় পেতে কষ্ট করতে হয়নি সফরকারীদের। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে তামিম সাজঘরে ফেরেন ডাক মেরে। দলীয় ৪ রানে বোল্ড হন তিনি।


কিন্তু সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল হক ৩০ রানে অপরাজিত থেকে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বীরের বেশে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়


এর আগে, তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিনের শুরুটাও করে নড়বড়ে। ব্যাট হাতে ফিফটি করার পর বল হাতেও অজিদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।


৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়া হারায় আরও ৩ উইকেট লাঞ্চের আগেই।


চতুর্থ দিন হলুদ জার্সিধারিদের সেই ৩ উইকেটই তুলে নেন মিরাজ। ৩০ রান করার অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান দলীয় ১৭৮ রানে। পতন হয় পঞ্চম উইকেটের। ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।


এরপর ৫ রান করা ওয়েবস্টার বোল্ড হলে ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।


সপ্তম উইকেটের পতন হয় অধিনাক প্যাট কামিন্স ৮ রান করে মিরাজের বলে সাদমানকে ক্যাচ দিলে। দলীয় ২০৭ রানে আউট হন কামিন্স।


লাঞ্চের পর তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্টার্ক ১৮ রান করে। ২৫০ রানে ৮ উইকেট হারায় অজিরা।


স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি আদায় করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। দলের বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রিন। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন ধীরসুস্থে খেলে ৪টি চার ও এক ছক্কায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি তার ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু ১০৪ রানে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ফলে ৯ উইকেট হারিয়ে বড় লিডের আশা শেষ হয় অজিদের।


শেষ উইকেট হিসেবে নাথান লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রিভিউ নিয়েও তাতে কোনো লাভ হয়নি তার। লায়নকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করেন মিরাজ।


অলআউট হওয়ার আগে ৫৬ রানের লিড জমা হয় স্বাগতিকদের বোর্ডে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জিততে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। যে লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে ৯ উইকেটে জিতে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়।


সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী ২২ আগস্ট শুরু হবে ম্যাকায়।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ এএম
  • আপডেট : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:২৪ এএম

জাতীয় অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে নিয়ে বিতর্ক উঠেছিল আগেই। দুজনই নারী হিসেবেই খেলে আসছিলেন জাতীয় প্রতিযোগিতায়। কিন্তু আদতে তাঁরা পুরুষ, এমন অভিযোগও ওঠে। ১৯ বছর বয়সী কবিতা স্প্রিন্টার। ২৮ বছরের জান্নাত থ্রোয়ার।


বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি দুজনকেই পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁদের সব পদক বাতিল ও আজীবন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আজ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে।


জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাথলেট, কবিতা নৌবাহিনীর। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে লিঙ্গ নির্ধারণে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানায় অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের আগের কমিটি।


বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। গত ১১ মে শেষ হয় তাঁদের কার্যক্রম। ১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাঁদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।


মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতার শরীরে নারীর স্বাভাবিক হরমোনের চেয়ে বেশি হরমোন ধরা পড়েছে।


রক্তে জান্নাত বেগমের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার, যা ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমার (২ দশমিক ৫ এনমোল/ লিটার) প্রায় ৮ গুণ বেশি, কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ এনমোল/লিটার, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে (২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার) সাড়ে ৬ গুণের বেশি।


ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের বিধিমালা অনুযায়ী নারী বিভাগে অংশগ্রহণের জন্য অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ধরে ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার-এর নিচে থাকা বাধ্যতামূলক।


এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, ‘চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত, ওরা দুজন নারী নয়, পুরুষ। তাই দুই খেলোয়াড়ের জাতীয় প্রতিযোগিতায় সব পদক বাতিল করা হয়েছে। জান্নাতের কয়েকটি সোনাসহ ৯টি পদক রয়েছে। কবিতার পদক গোটা চারেক। পদকগুলো বডিলি শিফট হয়ে যাবে এখন।’ 


আলী ইমাম বলেন, ‘তাদের দুজনকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা আর খেলতে পারবে না।’

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

একদিকে ২২৮ রানের বিশাল লিড, অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে চার উইকেটের পতন। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে হিসাবটা বেশ পরিষ্কার; জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, আর ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা ঘিরে ধরেছে অস্ট্রেলিয়াকে। দিন শেষে স্বাগতিকরা এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ৬৭ রানে পিছিয়ে।


সিরিজের প্রথম টেস্টের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর ব্যাট হাতে দারুণ জবাব দেয় টাইগাররা। শান্ত, মিরাজ ও তানজিদদের ব্যাটে বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে। তাতেই প্রথম ইনিংসে লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান।


বড় সেই লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখার কাজটাও ভালোভাবেই করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। তৃতীয় দিনের শেষ পর্যন্ত ৫৩ ওভারে ১৬১/৪ অস্ট্রেলিয়া। অর্থাৎ এখনো ৬৭ রানে পিছিয়ে তারা।


অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লড়াইটা ধরে রেখেছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৮৬ বলে ৪৩ এবং ক্যারি ৫০ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। শেষ বিকেলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিই আপাতত অস্ট্রেলিয়াকে টিকিয়ে রেখেছে।


এর আগে প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা স্টিভ স্মিথ দ্বিতীয় ইনিংসে থামেন ৪৪ রানে। দুর্দান্ত ক্যাচে তাকে ফিরিয়ে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।


বল হাতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নিয়েছেন ২ উইকেট। দুই ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড ও ট্রাভিস হেডকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার শুরুতেই ধাক্কা দেন তিনি। বাকি দুটি উইকেট গেছে মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ঝুলিতে।


এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে প্রথম লক্ষ্য; বাংলাদেশের লিড পেরোনো। আর বাংলাদেশের লক্ষ্য তারও আগে স্বাগতিকদের বাকি ছয় উইকেট তুলে নেওয়া। ডারউইনে তাই চতুর্থ দিনটা হতে পারে ইতিহাস লেখার দিন বাংলাদেশের।

সর্বশেষ সব খবর