ছবি : সংগৃহীত
ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি করে ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় তিন ঘণ্টা মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা।
আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ফয়সাল আহমেদ ও রোজিনা আকতারসহ একাধিক শ্রমিক জানান, এ সময় অর্ধশতাধিক বিক্ষোভকারী শ্রমিক আহত হয়েছেন।
এর আগে বেলা আড়াইটা থেকে শ্রমিকদের অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে। এর আগে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকার অন্তত ১৮টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা। পরে আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভে অংশ নেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকেরা বলেন, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগের মতো ওভারটাইমের সুযোগও নেই। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম বাড়লেও তাদের বেতন বাড়েনি। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
শিল্প পুলিশ, কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাকসহ বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপরও বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার দুপুরে টিফিন বিরতির সময় কাজে যোগ না দিয়ে ইন্টারস্টপ কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আশপাশের ময়লা-আবর্জনার বস্তা রাস্তায় ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করেন তারা। একপর্যায়ে পাশের ডিভাইন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। এতে চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বেলা আড়াইটা থেকে অবরোধ শুরু হলে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকরা।
চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় কথা হয় বাসচালক খবির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চন্দ্রা এলাকায় বসে আছি। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই পরিস্থিতি হয়েছিল। পোশাকশ্রমিকেরা প্রায়ই এভাবে রাস্তা বন্ধ করে রাখলে আমাদের কী হবে?’
যাত্রী মো. কারেকুল ইসলাম বলেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। চন্দ্রায় এসে বাস থেকে নেমে বাধ্য হয়ে হেঁটে যাচ্ছি।
জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করতে হবে। তবে দাবি আদায়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে। মানুষের জানমালের ক্ষতি বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আশপাশের ১০ থেকে ১২টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পাঁচটার দিকে শ্রমিকদের ধাওয়া দিয়ে ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের ওপর হামলা, অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন, চাঁদা দাবি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগের প্রতিবাদে গাজীপুরের টঙ্গীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের সামনে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের ওপর হামলা ও অপহরণের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে অপহরণ, নির্যাতন, চাঁদা দাবি কিংবা ব্যক্তিগত সম্মানহানির হুমকির মুখে পড়তে হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য অশনিসংকেত। অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব।
তারা আরও বলেন, সাংবাদিকের কলম স্তব্ধ করে অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ কে এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কালিমুল্লাহ ইকবালের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, বিএনপি নেতা বি. এম. শামীম, গাজীপুর সেন্ট্রাল ক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওহাব রিঙ্কু, গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুর রহমান জিলানী, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল বারী চৌধুরী, সহসভাপতি আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউদ্দিন খান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মামুন হাসান, রোমান হোসাইন, সুজন সারওয়ার, পারভীন ইতি, মো. পাপেল মিয়া, মো. আনু হাসান, মোহাম্মদ শামীম রেজা, গাজী মামুন, হানিফ মিয়া, মো. খোকন মিয়া ও মো. জাহাঙ্গীর আলম সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, টঙ্গী রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শাহা, দৈনিক যায় যায় দিন পত্রিকার টঙ্গী প্রতিনিধ রেজাউল কবির রাজীব, রোমান, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন টঙ্গী পূর্ব থানার যুগ্ন আহবায়ক মোক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে কালিমুল্লাহ ইকবাল বলেন, “সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়, বরং সমাজের অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন সাংবাদিক যদি অপহরণ, নির্যাতন, চাঁদাবাজি কিংবা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হন, তাহলে তা শুধু ব্যক্তির ওপর হামলা নয়, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না; চাই সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার। মহিন উদ্দিন রিপনের ঘটনায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁর ও পরিবারের নিরাপত্তা দিতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকার সুযোগ দেওয়া যাবে না।”
মানববন্ধন থেকে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে সত্য প্রকাশের অধিকার এবং সাধারণ মানুষের তথ্য জানার অধিকার সুরক্ষিত করা। তাই এ ঘটনায় দৃশ্যমান আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার ও সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দিলেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন। ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছর পূর্তিতে নানা আয়োজন, আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, রাজনৈতিক সহনশীলতা ও সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ। সঞ্চালনা করেন জেলা যুবদলের সদস্যসচিব রেজাউর রহমান রেজা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন যুবদলের ৪৮ বছরের পথচলায় সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের বর্তমান নেতৃত্বের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসেছে। এ পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তাঁদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদল শুধু দিনাজপুরে নয়, সারা দেশেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের যুবসমাজকে সংগঠিত করতেও সংগঠনটির ভূমিকা রয়েছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের দমন-পীড়ন, গুম, খুন ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও তার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অতীতের অন্যায়-অবিচারের বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কা থেকে যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিএনপি কথার চেয়ে কাজে এবং জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে। জনগণই রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার উৎস। কোনো বিদেশি শক্তি, প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করে নয়, জনগণের সমর্থন ও আস্থার ভিত্তিতেই রাজনীতি করতে চায় বিএনপি।তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলমান- সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। পাহাড় ও সমতলের মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সবার অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা রাজনৈতিক দায়ীত্ব। বিএনপির নেতাকর্মীরা ক্ষমতায় কিংবা বিরোধী দলে- উভয় অবস্থাতেই মানুষের পাশে থাকার ঐতিহ্য ধারণ করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক বক্তব্য ও পারস্পরিক সমালোচনার ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধান অতিথি বলেন, গণতন্ত্রে সবার কথা বলার অধিকার রয়েছে। তবে বক্তব্যের ভাষা ও পরিসরে দায়ীত্বশীলতা থাকা জরুরী। অহেতুক কাদা ছোড়াছুড়ি না করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে স্বৈরাচারের পথ উন্মুক্ত হয়- এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ও গণতন্ত্রবিরোধী অপচেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মোকাররম হোসেন, সহসভাপতি আলহাজ্ব মাহবুব আহমেদ, মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল ও মোঃ হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল। জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোঃ নাজমুল হুদা জনি, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান বাদশা এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মণ্ডল বকুলসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম গুরুও বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জিনাত আরা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুলতানা ডিউটিসহ জেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, তাঁতীদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসু খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা ও বক্তব্য পর্ব শেষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শান্তির প্রতীক সাদা পায়রা এবং বেলুন আকাশে উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। এরপর প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি দিনাজপুর ইনস্টিটিউট মাঠ প্রাঙ্গণ থেকে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে দিনাজপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটির মূলনীতি ‘যুব-ঐক্য-প্রগতি’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৪৮ বছরের পথচলায় সংগঠনটি বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন, সাংগঠনিক কার্যক্রম ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভূমিকা রেখে চলেছে।
টাঙ্গাইলে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৩১ অক্টোবর শনিবার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হাফিজুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ফৌজদারি কার্যবিধির সাম্প্রতিক সংশোধনীসমূহের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ফোকাল পার্সন মারুফ আল্লাম। প্রেজেন্টেশন শেষে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা এবং ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বিষয়ভিত্তিক উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কনফারেন্সে ছোটখাটো অপরাধের মামলাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে মারামারির মামলায় জখম সংক্রান্ত বিষয়ে চিকিৎসকের সঠিক মতামত যেন মামলার শুরুতেই নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া মাদক সংক্রান্ত মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ এবং সঠিক নিয়মে আলামত সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যক্রমে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হাফিজুর রহমান, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামরুজ্জামান এবং অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার এবং সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যার যার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও কনফারেন্সে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (বিদ্যুৎ আদালত), অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, বিভিন্ন পর্যায়ের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ, পারিবারিক আদালতের বিচারকগণ, জেলা পুলিশের বিভিন্ন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারগণ, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), জেলা এডভোকেট বার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেল সুপার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এবং জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জগণ (ওসি) স্ব-স্ব মতামত উপস্থাপন ও আলোচনায় অংশ নেন।
কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুরাইয়া।
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই এবার সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সঙ্গে প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সাজেকের কৃলাবুনিয়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে এই গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। থেমে থেমে গোলাগুলি চলার খবরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়।
তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল বলে স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি এলাকার স্থানীয় সাংবাদকর্মী মো. মহিউদ্দিন। তার ভাষ্য, শনিবার দুপুর থেকে সাজেকের কলাবুনিয়া পাড়ায় দুপক্ষের মধ্যে আধিপত্য ধরে রাখার লড়াই চলছে।
এ বিষয়ে জানতে সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিকেল ৪টায় তিনি দুপক্ষের গোলাগুলির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির খবর শুনেছি। তবে এখনও পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
তাছাড়া গোলাগুলির ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ইউপিডিএফ ও জেএসএস’র পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। সংগঠন দুটির দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
মূলত দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধের কারণে সাজেকে বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা বিরাজ করছে, চলছে অবরোধও। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখতে রোববার ১২ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিলের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারী দুটি সংগঠন। সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচলে বাধা থাকবে না। তবে সোমবার থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হবে।
শুক্রবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীসহ পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে এক দিনের জন্য কর্মসূচি শিথিল করা হচ্ছে।
বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষেও বিশেষ ছাড়ের কথা জানিয়েছে সংগঠন দুটি। বাবুধন চাকমা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের জন্য বৌদ্ধ ভিক্ষুদের চলাচলে যানবাহন প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিহার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। এটি তাদের তৃতীয় দফার কর্মসূচি। সংগঠন দুটির অন্যতম দাবি, পিসিজেএসএসের সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক থেকে সরিয়ে নিতে হবে। তাদের অভিযোগ, ওই সশস্ত্র সদস্যদের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তবে পিসিজেএসএস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার দাবি, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
অবরোধের জেরে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ২৫ অক্টোবর আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরদিন ২৬ অক্টোবর সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সাজেকের উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনায় পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে সমাধান হয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহার করেনি সংগঠন দুটি।
এর আগে সাজেক ঘিরে এই অস্থিরতা প্রথম প্রকাশে আসে গত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। গত ১১ অক্টোবর প্রথম দফায় অবরোধ শুরু হলে সেখানে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় অবরোধ শুরু হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত ছিল। বিরতি শেষে ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় তৃতীয় দফার অনির্দিষ্টকালের অবরোধ।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়ে ২২ অক্টোবর থেকেই সাজেক পর্যটন ভ্যালি বন্ধ রেখেছে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সময় উজো বাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ-সেনা বাহিনী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তৎপর হলে পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। পাল্টা গুলি ছৃুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও।
ওই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দায়ী করলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংগঠনটি। পরে হামলা, লাঠিপেটা এবং ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুরের প্রতিবাদে ২৪ অক্টোবর রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে অর্ধদিবস অবরোধ পালন করে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।
চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ হাজার ২০৪ শিক্ষার্থী। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সিলেট শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
সংশ্নিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ ৫ কমেছে। গত বছর সিলেটে পাসের হার ছিল ৫১ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আর জিপিএ ৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন। এবার সিলেটের পাসের হার গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
এদিকে, পাসের হারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ সাফল্য জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও বড় ভাটা পড়েছে। এবার এই বোর্ড থেকে মাত্র ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পেরেছে। অথচ গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী। এ বছরের পরীক্ষায় ৭১,৮৯৩ জন অংশ নেন। যার মধ্যে পাসের হারে ছেলেদের তুলনায় ৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৮,৯৩৫ জন ছাত্রের মধ্যে ১৪,০৯৬ জন পাস করায় পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭২ শতাংশ; অন্যদিকে ৪২,৯৫৮ জন ছাত্রীর মধ্যে ২২,৫০১ জন পাস করায় তাদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।
বিভাগ ভিত্তিক ফলাফলে ৬৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বিজ্ঞান বিভাগ এ বিভাগে ১৪,৩৫৩ জনের মধ্যে পাস করে ৯,৮৩৮ জন, এরপর ৪৭ দশমিক ৮১ শতাংশ পাসের হার নিয়ে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ। এ বিবাগে ৮,১৮১ জনের মধ্যে পাস করে ৩,৯১১ জন এবং ৪৬ দশমিক ২৯ শতাংশ পাসের হার মানবিক বিভাগে।এ বিভাগে ৪৯,৩৫৯ জনের মধ্যে পাস করে ২২,৮৪৮ জন।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন- স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে শেকলবন্দি করতেই দুজন সাংবাদিকের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে। সিলেটের মানুষের সেবা পাওয়ার ন্যায্য দাবির প্রতি এটা চরম আঘাত। এই হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, গোটা সিলেটবাসীর ওপরেই করা হয়েছে। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সিলেটবাসীর সম্পত্তি, এখানে কোনো ধরনে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাশত করা হবে না।
ওসমানী হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক রেজা রুবেল ও নিবেন্দু তালুকদার। এর প্রতিবাদে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সিলেটের সকল সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ নেন।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে ও জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তারা বলেন- এই প্রতিবাদ সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের নয়, বরং পুরো সিলেটবাসীকে জাগ্রত করার সমাবেশ। অতীতে ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরাই তাদের পাশে থেকে সংবাদ প্রচার করেছিলেন, যার প্রতিদান দেওয়া হয়েছে সাংবাদিকদের রক্তাক্ত করে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে রোগীদের জিম্মি করার সংস্কৃতি চলতে পারে না।
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন-অবিলম্বে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অতীতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ভূমিকা রাখলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকবে। এই হামলা পুরো চিকিৎসক সমাজকে কলঙ্কিত করেছে। ওসমানী হাসপাতালে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও মাস্তানি বন্ধ করে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি অংশের মাধ্যমে রোগীদের স্বজন ও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা এবং লাঠিসোটা নিয়ে পেটানোর ঘটনা নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে। গত বুধবার দুই সাংবাদিককে নির্যাতনের ঘটনায় অবিলম্বে ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন- কোনো আপসকামী সমাধান নয়, সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে শীঘ্রই বৈঠকে বসা হবে এবং সেখানেই পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেট-এর সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান রিপন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ূন কবীর লিটন, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমদ রনি প্রমুখ।
সিলেটের সর্বস্তরের সাংবাদিক সমাবেশে সংহতি জানিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব এবং দক্ষিণ সুমরা ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাব ও বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিলেট কল্যাণ সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ, দৈনিক উত্তর পূর্বের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, দৈনিক সমকাল’র সিলেট ব্যুরো প্রধান মুকিত রহমানী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্য়মদ মুহিবুর রহমান,সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মহসিন ও শফিকুর রহমান, জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সজল ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক রবি কিরণ সিংহ (মাইস্লাম রাজেশ), দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রেজাউল হক ডালিম, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ জামিল, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনজেসি)-এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিলকিস আক্তার সুমি, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, সিনিয়র সাংবাদিক কাউছার চৌধুরী, জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য নবীন সোহেল, রনজিৎ কুমার সিংহ, তুহিন আহমদ ও রাজীব রাসেল, অধ্যক্ষ মকসুদ আহমদ, সিলেট কল্যাণ সংস্থা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহের, সাংবাদিক নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ, মো. ইউসুফ আলী, সোয়েব বাসিত, সাঈদ চৌধুরী টিপু, পিংকু ধর, রাশেদুল হোসেন সুয়েব, এনামুল কবীর, সাঈদ নোমান, মো. আহসান হাবীব, মোজ্জাম্মেল আহমদ, লুৎফুর রহমান, মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মাকসুদ হোসেন, মোখলেছুর রহমান, শামীম হোসেন সামী, আলমগীর আলম, কামরুল হাসান বুলবুল, মাকসুদুর রহমান নাহিদ, এস. এম. সুজন, দেবব্রত রায় দিপন প্রমুখ।