ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৫:৩৫ এএম

ঘটনাটা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক দুই দিন পরের। নারী এশিয়ান কাপের ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ইরান। 


ম্যাচের আগে যখন ইরানের জাতীয় সংগীত বাজছিল, ফুটবলাররা তখন পাথরের মতো স্থির ছিলেন। ঠোঁট নড়েনি একজনেরও। অনেকেই মনে করছেন, এটি ইরানের বর্তমান শাসকদের বিরুদ্ধে নারী ফুটবল দলের প্রতিবাদ। 


এই ঘটনা ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, যা নারী ফুটবলারদের ঠেলে দেয় চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ তকমাও দেওয়া হয়।


এ ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইরানের মেয়েদের নিরাপত্তা দাবি করেন ইরানের প্রয়াত শাহর পুত্র রেজা পাহলভি। অন্যদের মধ্যে ‘হ্যারি পটার’ স্রষ্টা জে কে রাউলিং ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্যাম্পেইনার জাকি হায়দারিও ইরানি মেয়েদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


পরবর্তী সময়ে এশিয়ান কাপে খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচ খেলোয়াড় মঙ্গলবার সেখানে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। খেলোয়াড়দের এই আবেদন মেনে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার তাঁদের আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।


বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, দলের অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিসহ পাঁচ খেলোয়াড় সোমবার গভীর রাতে দলীয় হোটেল ছেড়ে গোপনে বেরিয়ে অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয় চান।


এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরেই এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। এই সাহসী নারীদের দুর্দশা অস্ট্রেলিয়ার মানুষকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁরা এখানে নিরাপদ এবং এখানেই যেন নিজেদের ঘরের মতো অনুভব করেন।’ জাহরা ছাড়া অন্য চার নারী হলেন ফাতেমেহ পাসানদিদেহ, জাহরা সারবালি, আতেফেহ রামাজানজাদেহ ও মোনা হামৌদি।


অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ দেশটির গণমাধ্যমকে সংযম দেখানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন, খেলোয়াড়েরা নিরাপদে পৌঁছানো পর্যন্ত আশ্রয় প্রার্থনার খবরটি প্রকাশ করা হয়নি। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক দিন ধরে গোপনে খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। গোল্ড কোস্টের হোটেল ছাড়ার পর তাঁদের দ্রুত একটি নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়।


প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, একটি টেবিল ঘিরে খেলোয়াড়েরা বসে আছেন, আর টনি বার্ক মানবিক বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়ায় থাকার বিশেষ ভিসার কাগজপত্রে সই করছেন। বার্ক বলেন, বিশেষ ভিসা পাওয়ার পর খেলোয়াড়েরা ‘অজি, অজি, অজি’ স্লোগানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দলের বাকি সদস্যরাও চাইলে অস্ট্রেলিয়ায় থাকতে পারবেন বলেও জানান তিনি।


ইরানের বাকি খেলোয়াড়েরা দেশে ফিরে যাবেন, নাকি কবে অস্ট্রেলিয়া ছাড়বেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, পাঁচ খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে আছেন। গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী আলবানিজের সঙ্গে ফোনালাপের পর তিনি এ তথ্য জানান।


এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প অস্ট্রেলিয়ার প্রতি সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। খেলোয়াড়দের জোর করে ইরানে ফেরত পাঠানো হলে সেটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।





  • প্রকাশ : শনিবার ০৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

টিকেটের চড়া দামের কারণে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামের গ্যালারি পুরোপুরি পূর্ণ না হলেও, বড় জয় নিয়ে নিজেদের এশিয়া সফর সফলভাবে শেষ করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। 


কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে স্বাগতিক ভারতকে। যদিও কাঙ্ক্ষিত মন ভোলানো ফুটবল উপহার দিতে পারেনি সেলেসাওরা, তবে নিজেদের শক্তি, সামর্থ্য আর ঐতিহ্যের ব্যবধান ঠিকই মাঠে ফুটিয়ে তুলেছে তারা। অন্যদিকে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াইয়ের ম্যাচে আশাব্যঞ্জক উন্নতির ছাপ রেখেছে ভারতীয় দলও।


শনিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রেখে খেলতে শুরু করে ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন উদীয়মান তারকা এস্তেভাঁও। এরপর আক্রমণ শানিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরোয়ার্ড পেদ্রো। ভারতের ডিফেন্ডাররা প্রথমার্ধে কিছু প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের তারকাখচিত আক্রমণভাগের সামনে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুই গোলে এগিয়ে থেকে স্বস্তিতে বিরতিতে যায় কার্লো আনচেলত্তির দল।


বিরতির পর খেলার গতি আরও বাড়িয়ে দেয় ব্রাজিলিয়ানরা। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে জোড়া গোল করে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি ভেঙে দেন সামুয়েল লিনো। ভারতের ফুটবলাররা মাঝেমধ্যে কিছু ভালো আক্রমণ তৈরির চেষ্টা করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।


ছবি: ক্রিকইনফো

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩২ এএম

২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপিং এবং সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের ২ অক্টোবর শুরু হবে ক্রিকেটের বিশ্বআসর। ২১ নভেম্বর মাঠে গড়াবে ফাইনাল ম্যাচ।


২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। আগামী ৮ অক্টোবর নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে লিটন কুমার দাসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ।




বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ১৪তম আসরের গ্রুপিং ও সূচি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।


বাংলাদেশ জায়গা পেয়েছে ‘বি’ গ্রুপে। এই গ্রুপে ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দলও যুক্ত হবে গ্রুপটিতে, যাদের আপাতত ‘কোয়ালিফায়ার বি’ হিসেবে রাখা হয়েছে।


অন্যদিকে ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। বাছাইপর্ব থেকে আসবে আরও একটি দল, ‘কোয়ালিফায়ার এ’।


ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮ অক্টোবরের ম্যাচের পর ১২ অক্টোবর কুয়াগোম্পো সিটিতে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এরপর ১৬ অক্টোবর ডারবানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে লিটন-মিরাজরা।


সহ-আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচও হবে ডারবানে। ১৯ অক্টোবরের ওই ম্যাচের পর গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ২৩ অক্টোবর ছুয়ানে ‘কোয়ালিফায়ার বি’র মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।


বিশ্বকাপের মূল পর্বের লড়াই শুরু হবে ৭ অক্টোবর। কেপ টাউনে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও রানার্সআপ ভারতের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে গ্রুপ পর্ব। ১০ অক্টোবর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে ভারত-পাকিস্তানের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ। গ্রুপ পর্বের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে এই লড়াইকে।


এর আগে ২ অক্টোবর পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের। বাছাইপর্বে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে থাকা তিন দলের মধ্যে হবে নতুন কাঠামোর ‘সুপার সিরিজ’। সেখান থেকে একটি দল মূল পর্বে জায়গা করে নেবে।


দ্বিতীয় ধাপে ১২টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। প্রতিটি দল নিজেদের গ্রুপের অন্য দলগুলোর বিপক্ষে খেলবে। প্রতি গ্রুপের শীর্ষ ৩টি দল এবং দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলের মধ্যে সেরা দলটি নিয়ে গঠিত হবে ‘সুপার ৭’। সুপার ৭ পর্বে হবে ২১টি রাউন্ড-রবিন ম্যাচ। সেখান থেকে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে উঠবে।


 কেন ভারতে বিশ্বকাপ খেলেনি বাংলাদেশ- ব্যাখ্যা দিলেন আসিফ নজরুল


সেমিফাইনালে প্রথম স্থানে থাকা দল খেলবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল মুখোমুখি হবে তৃতীয় স্থানে থাকা দলের। সেমিফাইনালের জয়ী দুই দল খেলবে বিশ্বকাপের ফাইনালে। সেখানেই নির্ধারিত হবে ২০২৭ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:১৫ পিএম

হাসি-আনন্দে শুরু হয়েছিল সকালটা। বাংলাদেশ দলের নাশতার টেবিলে কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছিল হামজা চৌধুরীর জন্মদিন। সতীর্থদের শুভেচ্ছা, হাসি আর কেক কাটার মুহূর্তে হয়তো কেউ ভাবেননি, কয়েক ঘণ্টা পরই একই দলের ডিনারের টেবিল ভারী হয়ে উঠবে ৯ গোলের বেদনায়।


১ অক্টোবর, হামজার জন্মদিন। অথচ এই বিশেষ দিনটিই তার জীবনের সবচেয়ে দুঃসহ জন্মদিনগুলোর একটি হয়ে রইলো। আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে বাংলাদেশ হেরেছে ৯-২ গোলে। একের পর এক গোল হজম করে যখন বাংলাদেশের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ছিল, তখন জন্মদিনের আনন্দও যেন ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছিল।


প্রথমার্ধে যেন খেলাই ভুলে গেল বাংলাদেশ! আক্রমণ হলেই বল জড়াচ্ছিল জালে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা লড়াই করলেও, কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে আসিয়ান কাপের প্রিমিয়ার ডিভিশনে ফাইনালে জায়গা করে নিল ইন্দোনেশিয়া।


ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় সোমবার ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই সফরকারীরা পিছিয়ে পড়ে ৬-১ গোলে!


ইন্দোনেশিয়ার হয়ে একাই পাঁচটি গোল করেছেন মিচেল বেকার! একটি করে গোল করেছেন রিজকি রিধো, জাস্টিন হাবনার, লুক ভিক‍্যারি ও কেভিন ডিকস।


বাংলাদেশের গোল দুটি করেছেন শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলি ওয়াহিদ। একাদশ মিনিটে বেকারের গোলে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। ৯ মিনিট পর তিনিই দ্বিগুণ করেন ব‍্যবধান। ৩২তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করেন রিধো। চার মিনিট পর ব‍্যবধান কমান ইমন।


৩৭তম মিনিটে হ‍্যাটট্রিক পূরণ করেন বেকার। পাঁচ মিনিট পর ফের জালের দেখা পান তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে হাবনারের গোলে আরও পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।


দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় রক্ষণ জমাট রাখে বাংলাদেশ। গোলরক্ষকও বেশ দৃঢ়তা দেখান। তাতে বাড়তে থাকে ইন্দোনেশিয়ার অপেক্ষা। একই সময়ে হওয়া অন‍্য ম‍্যাচে মালয়েশিয়া গোল পার্থক‍্যে এগিয়ে থেকে ফাইনালে যাওয়ার আশা জাগায়। ৯০তম মিনিটে জাল খুঁজে নেন ভিক‍্যারি। পরের মিনিটে ফারহানের গোলে স্কোরলাইন হয়ে যায় ৭-২। ফাইনালে যেতে তখন স্বাগতিকদের প্রয়োজন পড়ে আরও দুই গোল।


ফ্রি কিক থেকে সতীর্থর হেডে খুব কাছ থেকে হেডেই যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গোল করেন ডিকস। দুই মিনিট পর নিজের পঞ্চম ও দলের নবম গোলে ইন্দোনেশিয়াকে ফাইনালে নিয়ে যান বেকার। মাঠে তখন হতাশায় নুইয়ে পড়েন হামজারা। ডাগআউটে ডুলিকে দেখে মনে হচ্ছিল ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন বাংলাদেশ কোচ। এতো বাজে ফুটবল কোনো দল খেলতে পারে, যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার।


মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হেরে আসর শুরুর পর, দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে লড়াই করে ১-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে সবচেয়ে বিব্রতকর হারের স্বাদ পেল তারা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ পিএম

তাওহিদ হৃদয়ের একাকী লড়াই সত্ত্বেও এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটের ফাইনালে ওঠা হলো না বাংলাদেশের। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) জাপানের নিশিন শহরের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। এর ফলে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দৌড় থেকে ছিটকে গেল লিটন দাসের দল।


বৃষ্টিভেজা আউটফিল্ডের কারণে ম্যাচ দেরিতে শুরু হওয়ায় আম্পায়াররা দৈর্ঘ্য কমিয়ে ১৩ ওভারে নামিয়ে আনেন। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই অনায়াসে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।


কার্টেল ওভারের এই ম্যাচে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল চরম বিপর্যয়ের। পাকিস্তানি বোলারদের স্পিন আক্রমণে মাত্র ২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুর পাওয়ারপ্লেতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে দল। তানজিদ হাসান তামিম (১৭), পারভেজ হোসেন ইমন ও অধিনায়ক লিটন কুমার দাস (২) দ্রুত বিদায় নেন। চতুর্থ উইকেটে লড়াইয়ের চেষ্টা চালান সাইফ হাসান, তবে ১৯ রানে তিনি এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে মাত্র ৪৫ রানে ৪ উইকেট হারায় লাল-সবুজরা।


এমন নাজুক পরিস্থিতি থেকে দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে মাত্র ৩০ বলে ৫৩ রানের ঝোড়ো জুটি গড়ে দলকে শত রানের কোটা পার করান। হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস উপহার দেন। তবে ইনিংসের শেষ দিকে সুফিয়ান মুকিমের ঘূর্ণিতে টানা দুই বলে হৃদয় ও মোসাদ্দেক বিদায় নিলে রানের গতি কিছুটা থমকে যায়। শেষ দিকে শেখ মাহেদীর চারে ভর করে নির্ধারিত ওভারে ১১১ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট।


১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ৫৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে শুরুতে বিপাকে পড়েছিল পাকিস্তানও। সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব ও উসমান খানকে ফিরিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন বাংলাদেশের বোলাররা।


তবে পঞ্চম উইকেটে আবদুল সামাদ ও হাসান নওয়াজ অবিচ্ছিন্ন ৫৯ রানের ম্যাচজয়ী জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেন। বিশেষ করে সামাদ মাত্র ১৫ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ২২ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন হাসান নওয়াজ। শেষ পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে নেয় পাকিস্তান।


ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হলেও এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের আশা এখনই শেষ হচ্ছে না। আগামী শনিবার (৩ অক্টোবর) ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী (তৃতীয় স্থান) ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।


সংক্ষিপ্ত স্কোর:


বাংলাদেশ: ১৩ ওভারে ১১১/৭ (হৃদয় ৪২, সাইফ ১৯, তানজিদ ১৭; সুফিয়ান ৩/২৬)।


পাকিস্তান: ১১.৩ ওভারে ১১২/৪ (সামাদ ৩০*, হাসান ২৭*, উসমান ১৪; মাহেদী ১/১৭, মুস্তাফিজ ১/৪১)।


ফল: পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৫ পিএম

‘নতুন যুগ।’


ক্যাপশনটি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের একটি ফেসবুক পোস্টের। মারিও কেম্পেস স্টেডিয়ামে খেলা শুরুর পর করা সেই পোস্টের ছবিতে নিকো পাজ। লিওনেল মেসির কি তা দেখে একটু খারাপ লেগেছে? এত দিন এসব পোস্টে দেখা যেত মেসিকে। কিংবদন্তি আকাশি-সাদায় শেষ টেনে দেওয়ায় বলিভিয়ার বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচ দিয়ে নতুন যুগের দ্বার খুলল আর্জেন্টিনা। অন্যভাবে বললে, সেই দ্বার খুলেছেন এমন কেউ, যাঁকে আর্জেন্টাইনরা ভেবে রেখেছেন মেসির উত্তরসূরি হিসেবে। নিকো পাজ!


চোখধাঁধানো একটি গোল, তারপর সেট পিস থেকে গোল করানো। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি গায়ে মেসি যা করে এসেছেন আরকি! পাজ সেই দায়িত্বই পালন করলেন আর্জেন্টিনার ৪-০ গোলে জয়ের এই ম্যাচে। ১০ নম্বর জার্সি তাঁর গায়ে ছিল না। তবে ২৮ মিনিটে গোলটি দেখে মেসির ইচ্ছা হতে পারে ওই জার্সিটা এখনই তাঁর গায়ে তুলে দিতে!


এজেকুয়েল পালাসিওসের রক্ষণচেরা পাসটাও ছিল মেসির মতোই। খুবই সরু ফাঁকা জায়গা ধরে থ্রু পাস। পাজ দৌড়ে সেই পাস ধরে বলিভিয়া গোলকিপার গিয়ের্মো ভিসকারার মাথার পাশ দিয়ে যে চিপটি করলেন, সেটা অবিকল মেসির মতোই। যেন মেসির অনুপস্থিতিতে নতুন যুগেরই হাতবদল হলো একই সুরে, একই ছন্দে!


লাওতারো মার্তিনেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও ফ্লাকো লোপেজ সেই সুর-ছন্দকে আরও সুন্দর করে তুলেছেন গোল করে। কোচ লিওনেল স্কালোনির যুগে আর্জেন্টিনা কখনো টানা দুই ম্যাচ হারেনি। গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিার এই প্রথম ম্যাচে জয়টা তাই অবধারিতই ছিল। মেসি জাতীয় দলকে বিদায় বলার পর আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে সেটাই এল খানিকটা বিরহ-মধুর সুরে, স্বাদে।


প্রশ্ন উঠেছিল, মেসির অনুপস্থিতিতে স্কালোনির খেলানোর কৌশল কী হবে? ৪-৪-২ ফর্মেশনে আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজকে রেখে উত্তরটা ভালোই দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। ১৮ মিনিটে মার্তিনেজের গোলটিও স্কালোনির এই আস্থার প্রতিদান। আর এই গোলের উৎসেও কারও কারও হয়তো মেসিকে মনে পড়েছে, মন পুড়েছে। কিংবদন্তির চিরচেনা সেই থ্রু পাসের মতোই অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টারের পাসটি ধরেন মার্তিনেজ। লাতিন ছন্দে একবার ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে তাঁর নেওয়া শটটি জাত স্ট্রাইকারদের গোল।


ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেছিলেন, মেসির অনুপস্থিতে আর্জেন্টিনার খেলার মৌলিক ধারাগুলো পাল্টাবে না। সেই ছোট ছোট পাস এবং ছদ্ধবদ্ধভাবে সদলবলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকতে দেখা গেল আর্জেন্টিনাকে। কন্ডাক্টরের ভূমিকায় ছিলেন পাজ। সেট পিস নেওয়ার দায়িত্বও ছিল তাঁর। বোঝা গেল, এখন ১৮ নম্বর জার্সি পরলে কী হবে, সামনে ১০ আসছে! ৫৩ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে সেট পিসে বল একদম রোমেরোর মাথার ওপর ফেলে সেই দাবিও আরও জোরালো করলেন কোমো প্লে-মেকার। রোমেরোকে শুধু দূরের পোস্টে হেডে গোলের আনুষ্ঠানিকতাটুকু মারতে হলো।


ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৭তম লাতিন দলটির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার বাকি ছিল শুধু বেঞ্চের গোল পাওয়া। কাছ থেকে করা শটে ৮৬ মিনিটে সেটাও এনে দেন মাথায় আঘাত পাওয়া মার্তিনেজের বদলি নামা ফ্লাকো লোপেজ। বলিভিয়া ততক্ষণেও আর্জেন্টিনার পোস্টে একটি শটও রাখতে পারেনি। পারেনি পুরো ম্যাচেও। উল্টো ১৮টি শটের মধ্যে মাত্র ৬টি কীভাবে বলিভিয়ার পোস্টে থাকল, খেলোয়াড়দের কাছে সেই ব্যাখ্যা চাইতে পারেন স্কালোনি। বল দখলে রাখার হারও (৬৯%) নিশ্চয়ই আরেকটু বেশি প্রত্যাশিত ছিল?


কর্দোবা থেকে দূরে কোথাও বসে মেসি হয়তো ভাবতে পারেন, তিনি থাকলে কী আকাশি-সাদা রংটা আরেকটু বেশি উজ্জ্বল লাগত? সে সুযোগ আর একবারই পাবেন কিংবদন্তি।


এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আরও দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার ভোরে তাদের প্রতিপক্ষ বুরকিনা ফাসো, এরপর আগামী বুধবার শেষ প্রতিপক্ষ বেনিন। এই শেষ ম্যাচ হবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিরও শেষ ম্যাচ। মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে ঘরের ছেলেকে বিদায় জানাবেন আর্জেন্টাইনরা। আর আজ কর্দোবায় যে স্টেডিয়ামে খেলা হলো, সেখানে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ঘরের দর্শকদের সামনে অভিষেক হয়েছিল স্কালোনির। এমন লগ্নে কোচও কি মিস করেছেন তাঁর প্রিয় শিষ্যকে? সে তো বটেই।


স্কালোনি হয়তো থাকবেন নতুন মেয়াদে। তাই মেসিকে মিস করাটা সইয়ে নিতে হবে। অবশ্য এখন মানিয়ে নিতে হবে অনেক কিছুতেই। যেমন ধরুন, রদ্রিগো দি পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসের মধ্যে কেউ না থাকায় এই ম্যাচে একটি বিষয় দেখা যায়নি। ২০২১ কোপা আমেরিকা থেকে দুজনই আর্জেন্টিনার ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে ক্যান্ডি চিবোনাটা ‘রিচুয়াল’-এ পরিণত করেছিলেন। তাঁদের কেউ ছিলেন না।


হ্যাঁ, নতুন বিশ্বকাপচক্র সামনে রেখে রুপান্তর শুরু হয়েছে আর্জেন্টিনা দলে। যেখানে থাকবেন না মেসি, জায়গাটা নেবেন হয়তো তিনজন মিলে, পাজ-আলভারেজ-মার্তিনেজ!


আর্জেন্টিনা

  • প্রকাশ : বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪২ পিএম

বিশ্বকাপের পর এই প্রথম মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে এরই মধ্যে অনেক কিছু বদলে গেছে লাতিন জায়ান্টদের। দলের প্রাণভোমরা লিওনেল মেসি অবসর নিয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার কারণে নেই লিসান্দ্রো পারেদেস, অবসর নিয়েছেন নিকোলাস ওতামেন্দি। 


তাদের জায়গায় কাদের খেলাবেন, সে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডে মেসি থাকলেও আগামী ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষেই কেবল খেলবেন তিনি। সেটি তাঁর বিদায়ী ম্যাচও। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় শুরু হতে যাওয়া বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তরুণদের সুযোগ দিতে পারেন কোচ স্কালোনি। 


দুদিনের বিরতি শেষে গত সোমবার বিকেল থেকে আবার অনুশীলন শুরু করেছে আর্জেন্টিনা দল। এজিজায় ট্রেনিং সেন্টারে অনুশীলন শুরুর আগে স্কালোনি ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট ক্লদিও তাপিয়া মাঠের মধ্যে দাঁড়িয়েই লম্বা আলোচনা সারেন। বলিভিয়ার বিপক্ষে একাদশ কেমন হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো ধারণা দেননি আর্জেন্টিনার কোচ। তবে অনুশীলন দেখে কিছুটা আঁচ পাওয়া গেছে একাদশ কেমন হবে। 


গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ নিশ্চিত; রক্ষণে কুতি রোমেরা ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা যেতে পারে অগাস্তিন গিয়াই ও ফাকুন্দো মেদিনাকে। চার মিডফিল্ডার এজিকুয়েল প্যালাসিওস, ম্যাক এলিস্টার, ভ্যালেন্তিনো বারকো ও নিকোলাস পাজ। দুই স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।