ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:০৩ পিএম

রেকর্ড ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একসঙ্গে পথচলা অনেক বছরের। ৪১ বছর বয়সেও সেই যাত্রা চলছে। এবার আল নাসরের হয়ে সৌদি প্রো লিগে ক্লাবটির সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিলেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। গতকাল রাতে আল তাওউনের বিপক্ষে আল নাসরের ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে জয়সূচক গোলটি রোনালদোর। এর মধ্য দিয়ে সৌদি প্রো লিগে রোনালদোর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০৪–এ।


ম্যাচের ৫০তম মিনিটে গোলটি করেন রোনালদো। এর মাধ্যমে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন মোহাম্মদ আল সাহলাওয়িকে। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এক দশকে সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে ২০৫ ম্যাচে ১০৩ গোল করেছিলেন আল সাহলাওয়ি।


রোনালদো সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন তিন বছরের একটু বেশি সময় নিয়ে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আল নাসরে যোগ দেন রোনালদো। আল তাওউনের বিপক্ষে গোলটি রোনালদোর ক্যারিয়ারের ৯৭৮তম গোল। ক্যারিয়ারে ১০০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে আর ২২ গোল চাই রোনালদোর।


ম্যাচে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি আল নাসরের। ১১তম মিনিটে মোহাম্মদ বাসসাম আল হুরাইজির গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সামু কোস্তা গোল করে সমতায় ফেরান আল নাসরকে।


এরপর ৫০তম মিনিটে রোনালদোর গোলে এগিয়ে যায় দলটি। বাঁ প্রান্ত দিয়ে দারুণভাবে আক্রমণে উঠে আল তাওউনের বক্সে ঢুকে পড়েন জোয়াও ফেলিক্স। তাঁর কাটব্যাক থেকে বল পান মোহামেদ সিমাকান। বক্সের প্রান্ত থেকে সিমাকানের নেওয়া গোলমুখী শট ছয় গজ দূর থেকে পায়ে ছুঁয়ে জালে জড়িয়ে দেন রোনালদো। রোনালদোর এই গোলে জয়ের ধারা ধরে রাখল আল নাসর। চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে তারা।


এর আগে গত মঙ্গলবার আল ইত্তিফাকের বিপক্ষেও নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলের জয় পেয়েছিল আল নাসর। সেই ম্যাচে আল নাসর গোলরক্ষক বেন্তো লাল কার্ড দেখেছিলেন এবং প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল দলটি।


পরে কোচ অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগলু রোনালদোকে তুলে নেওয়ার পর শেষ ১৬ মিনিটে ৩ গোল করে অবিশ্বাস্য জয় ছিনিয়ে নেয় আল নাসর। তবে আল তাওউনের বিপক্ষে এবার পুরো ম্যাচই খেলেছেন রোনালদো।



  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ পিএম

ক্রিকেট মাঠে কতভাবেই না বেঁচে যান ব্যাটসম্যান! তবে এবার যা ঘটল, তা একটু অন্য রকম। স্টাম্প ভেঙে দিয়েও ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠাতে পারলেন না বোলার। আর এর পেছনে দায়ী একটি তোয়ালে! কাল আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে ম্যাচে এমনই এক কাণ্ড ঘটেছে।


আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে বোল্ড হয়েছিলেন ব্রায়ান বেনেট। কিন্তু সাজঘরে ফেরার বদলে তিনি পেয়েছেন নতুন জীবন। কারণ, বল করার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল!


কী ঘটেছিল?


ঘটনাটি জিম্বাবুয়ের ইনিংসের অষ্টম ওভারের। বল করছিলেন ওমরজাই। তাঁর বল সরাসরি আঘাত হানে বেনেটের স্টাম্পে। বোলার-ফিল্ডারদের উদ্‌যাপনও শুরু হয়ে গিয়েছিল।


কিন্তু বেনেট দাবি করেন, বল খেলার ঠিক আগে ওমরজাইয়ের তোয়ালে পড়ে গিয়েছিল। আর এতে তাঁর মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে। নন–স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও বিষয়টি আম্পায়ারের নজরে আনেন।


আম্পায়ার এহসান রাজা লেগ আম্পায়ার ফারুক খানের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপরই আসে সিদ্ধান্ত-ডেড বল! অর্থাৎ, বোল্ড হয়েও আউট হলেন না বেনেট।


আইনে কী বলা আছে?


আইসিসির ছেলেদের ওয়ানডে খেলার প্লেয়িং কন্ডিশনের ২০.৪.২.৬ ধারা অনুযায়ী, ব্যাটসম্যান বল খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কিংবা বল খেলার সময় কোনো শব্দ, নড়াচড়া বা অন্য কোনো কারণে বিভ্রান্ত হলে আম্পায়ার ডেড বল ঘোষণা করতে পারেন। সেই বিভ্রান্তির উৎস মাঠের ভেতরে কিংবা বাইরেও হতে পারে।


বেনেটের ক্ষেত্রে ওমরজাইয়ের রানআপের সময় তোয়ালে পড়ে যাওয়াকে ব্যাটসম্যানের মনোযোগে ব্যাঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই বোল্ড হওয়ার পরও তাঁকে ফিরে যেতে হয়নি সাজঘরে।


তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে ছিল ভিন্নমত। একজনের মতে, বেনেটের উচিত ছিল বল খেলার আগেই সরে যাওয়া। তাঁর ভাষ্য, ‘আমার বোঝাপড়া অনুযায়ী, ব্রায়ান বেনেটের স্ট্রোক খেলার আগে সরে যাওয়া উচিত ছিল। দেখে মনে হচ্ছে, তিনি শট খেলেছেন, বোল্ড হয়েছেন, এরপর বিষয়টি তুলেছেন।’


অন্য ধারাভাষ্যকার অবশ্য সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, শেষ মুহূর্তে তোয়ালে পড়ে গেলে ব্যাটসম্যানের দৃষ্টি ও মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতেই পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সিদ্ধান্তটি যথেষ্ট যুক্তিসংগত। শেষ কয়েক সেকেন্ডে তোয়ালে পড়ে যাওয়াটা ব্যাটসম্যানের মনোযোগে প্রভাব ফেলতে পারে। বেনেট বিষয়টি আম্পায়ারকে জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত আমার মনে হয়, বাস্তববুদ্ধির পরিচয় দেওয়া হয়েছে।’


এভাবে বেঁচে গিয়েও বেনেট কাল ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৩১ রানে ম্যাচের ১৩তম ওভারে আউট হন। তাঁর দল জিম্বাবুয়েও হারে ১৫৮ রানে।

এক মাস নিষিদ্ধ রোনালদো, সঙ্গে জরিমানা

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ঘোষণা


ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম

কোচের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শাস্তির মুখে পড়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকাকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি ২৫৫ ইউরো আর্থিক জরিমানা করেছে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল। সোমবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া গণমাধ্যম গোল ডটকম।


গত সেপ্টেম্বরের শেষভাগে আন্তর্জাতিক বিরতির সময় ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল। নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগালের ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচে পুরো সময় সাইডবেঞ্চে বসে থাকতে হয় ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ডকে। রোনালদোর দাবি ছিল, কোচ জর্জ জেসুস তাঁকে অন্তত আধা ঘণ্টা মাঠে খেলানোর পূর্ব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে ওয়ার্ম-আপ করতে বলা হলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামানো হয়নি। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে কোচের বিষয়টি খোলাসা করার কথা থাকলেও তা না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তিনি।


পর্তুগিজ অধিনায়ক কোচের এমন আচরণের প্রতিবাদে ডেনমার্কের বিপক্ষে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচের আগে কোপেনহেগেনে দলের চলমান অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে আকস্মিকভাবে বেরিয়ে যান। তবে কোচ জর্জ জেসুস রোনালদোর এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সমঝোতা হয়নি বলে দাবি করেন। যদিও ভবিষ্যতে রোনালদোর দলে ফেরার সম্ভাবনা নাকচ করেননি তিনি।


পরে এক দীর্ঘ বিবৃতিতে দলের সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং দলকে ফেলে আসার ভুল স্বীকার করে তিনি জানান, একজন আদর্শ খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর ওপর আরও কঠোর দৃষ্টি থাকা স্বাভাবিক এবং এই আচরণের দায় কোনো শাস্তি ছাড়া শেষ হতে পারে না। ফলে যেকোনো আইনি শাস্তি মাথা পেতে নিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে আবারও ফেরার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।


পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের তদন্তে রোনালদোর বিরুদ্ধে আনা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তবে জ্যোতির্বিদ্যাসম বেতনের তুলনায় তাঁর ওপর আরোপিত ২৫৫ ইউরোর জরিমানাটি প্রতীকী হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই নিষেধাজ্ঞা রোনালদোর দল ছাড়ার দিন অর্থাৎ গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকরের (ব্যাকডেটেড) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২৯ অক্টোবর শেষ হতে পারে। 


তবে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার দিনগুলো চূড়ান্ত শাস্তির মেয়াদ থেকে বাদ যাবে কি না এবং এটি কোন কোন ম্যাচ ও কার্যক্রমে কার্যকর হবে, তা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনো পুরোপুরি খোলাসা করা হয়নি।


পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, বিতর্কের ইতি টানার পর ফেডারেশনের সবাই রোনালদোকে পুনরায় জাতীয় দলে দেখতে আগ্রহী। আগামী ১৪-১৫ নভেম্বর পর্তুগাল তাদের পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে। সেই ম্যাচের আগে রোনালদো জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা পান কি না, সেদিকেই এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর।


ঢাকায় যাত্রাবিরতির সময় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১১ পিএম

মরক্কো থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় প্রায় ২ ঘণ্টার যাত্রাবিরতি। সেই সময়টা কাজে লাগিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে ফুটবল নিয়ে আলোচনা করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, সহসভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদীসহ আরও তিন সহসভাপতি। 


বাফুফে কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্যেই বাংলাদেশের ফুটবলের বিভিন্ন ইতিবাচক বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন ইনফান্তিনো। যাওয়ার আগে ২ মিনিটের ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের ফুটবলের অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন তিনি। 


শিগগিরই বাংলাদেশে আসবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো, ‘বাফুফে সভাপতির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা হয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কিছু সুন্দর প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রেনিং সেন্টার, একাডেমি এবং বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের নিয়ে পরিকল্পনা। বাংলাদেশ যে ফুটবলপ্রেমীদের একটি দেশ, তা বলতেই হবে। শিগগিরই আমি বাংলাদেশে আসব। এ দেশের ফুটবলের উন্নয়নে কিছু করার চেষ্টা করব।’


ফিফা সভাপতির সঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে ফিফার ভবিষ্যৎ সহযোগিতা, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপক্ষে খেলা, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন, অব্যবহৃত ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের অর্থ এবং দেশের স্টেডিয়াম অবকাঠামোর উন্নয়ন। 


তাবিথের আশা, চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হলে বাংলাদেশ সফরে আসবেন ফিফা সভাপতি, ‘আমরা মূলত আলোচনা করেছি, ভবিষ্যতে ফিফার সঙ্গে বাংলাদেশ আরও কীভাবে কাজ করতে পারে। 


ফিফা প্রেসিডেন্ট জানতে চেয়েছেন, আসিয়ান কাপে আমাদের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল এবং এ ধরনের আরও টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলে বাংলাদেশ অংশ নেবে কিনা।’ 


ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় বরাদ্দ অর্থের যে অংশ এখনও ব্যয় করা হয়নি, তা নিয়েও ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাবিথ।


লুইস সুয়ারেজ ও লিওনেল মেসি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৫ এএম

লিওনেল মেসির চেনা ছন্দের জাদুতে আটলান্টা ইউনাইটেডকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকালে প্রতিপক্ষের মাঠে দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এতে এমএলএসে তার গোলসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫, যা চলতি মৌসুমে লিগের সর্বোচ্চ। প্রথমার্ধের ৪৫তম মিনিটে মেক্সিকান স্ট্রাইকার জার্মান বেরতেরামের গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন মেসি।


৫৬তম মিনিটে ডান দিক থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে বেরতেরামের সঙ্গে বল দেয়া-নেয়ার পর প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে জালে বল পাঠান তিনি। চার মিনিট পর লুইস সুয়ারেজের পাস ধরে পাল্টা আক্রমণে আবারও নিজের দক্ষতার ঝলক দেখান মেসি। এবারও এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী তারকা।


শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করেন মায়ামির সাবেক ফরোয়ার্ড ফাফা পিকো।


এই জোড়া গোলে এমএলএসের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের চেয়ে ছয় গোলে এগিয়ে গেলেন মেসি। পাশাপাশি তার অ্যাসিস্টসংখ্যা ১৫, যা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির সন হিউং-মিনের সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।


এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিন মৌসুমে ১৫টি করে অ্যাসিস্টের কীর্তিও গড়েছেন মেসি। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে টানা ১৩ ম্যাচে গোল কিংবা অ্যাসিস্টে অবদান রেখে নিজের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ধারারও সমান হয়েছেন তিনি।


নতুন কোচ ক্রিস্তিয়ান ‘কিলি’ গনসালেসের অধীনে টানা তৃতীয় জয় পেয়েছে ইন্টার মায়ামি। চলতি সপ্তাহেই প্লে-অফ নিশ্চিত করা দলটি এখন ইস্টার্ন কনফারেন্সে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। শীর্ষে আছে ন্যাশভিল।


অন্যদিকে মেসির সাবেক কোচ জেরার্দো ‘তাতা’ মার্তিনোর অধীনে আটলান্টা রয়েছে ১৪তম স্থানে। প্লে-অফে জায়গা করে নিতে দলটির সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী শনিবার নিউইয়র্ক রেড বুলসের মাঠে খেলতে নামবে ইন্টার মায়ামি।


বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী আনিসা খান

  • প্রকাশ : শনিবার ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৪ এএম

যুক্তরাজ্যের জাতীয় নারী কাবাডি দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ তরুণী আনিসা খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এই নতুন দায়িত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন আনিসা নিজেই। পরবর্তীতে তার বাবা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইয়াওর খানও গণমাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 


আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে ভারতের আহমেদাবাদে শুরু হতে যাওয়া কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে ইংল্যান্ড জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। পেশাগত জীবনে আনিসা খান একজন দক্ষ কনসালট্যান্ট এবং পরিচিত ফুড ব্র্যান্ড ‘বোম্বে পিৎজা’-এর প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা। তিনি যুক্তরাজ্যের স্বনামধন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস (এলএসই) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। 


খেলাধুলা ও ব্যবসার পাশাপাশি ব্রিটিশ বিনোদন জগতেও পরিচিত মুখ আনিসা; বিবিসি ওয়ানের জনপ্রিয় ও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর ফাইনালে উঠে রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি।


২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রথম কাবাডি খেলার সঙ্গে যুক্ত হন আনিসা। কঠোর অনুশীলন ও ধারাবাহিক নৈপুণ্যের মাধ্যমে দ্রুতই তিনি নজর কাড়েন এবং একপর্যায়ে ইংল্যান্ড জাতীয় নারী কাবাডি দলে নিয়মিত সদস্য হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নেন। 


এর আগে ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান বিচ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের দলেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এবার জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তার কাঁধে নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হলো।


আনিসা খানের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আকুয়া গ্রামে। তার বাবা ইয়াওর খান ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। 


প্রবাসে রেস্তোরাঁ ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীতে তিনি সফল আবাসন ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন এবং যুক্তরাজ্যে মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান কারি অ্যাওয়ার্ডস’-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমাদৃত। চার ভাই-বোনের মধ্যে আনিসা পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান।


২৩ অক্টোবর ভারতের আহমেদাবাদে পর্দা উঠছে এবারের কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের। বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের মোট ১৪টি দেশের জাতীয় দল এই মর্যাদাপূর্ণ আসরে শিরোপার লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছে। সেখানে লাল-সাদা জার্সিতে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হিসেবে ম্যাটে নামবেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আনিসা খান।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৯ পিএম

ফুটবল মাঠে তার কীর্তি আগেই জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসে। এবার প্রকৃতির জগতেও অমর হয়ে থাকছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকার প্রতি সম্মান জানিয়ে পেরুর বিজ্ঞানীরা আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত একটি সুগন্ধি উদ্ভিদের নাম রেখেছেন ‘সালভিয়া মেসি’। ফুলটির নীল-সাদা পাপড়িতে যেন ফুটে উঠেছে মেসির দেশের পতাকা ও আর্জেন্টিনার জার্সির রং।


আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেরুর দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় এই উদ্ভিদের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। আন্দিজ পর্বতমালার পাথুরে ঢালে জন্মানো উদ্ভিদটি আগে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিচিত ছিল না। গবেষণার পর নতুন প্রজাতিটির বৈজ্ঞানিক বর্ণনা প্রকাশ করা হয়েছে।


‘সালভিয়া মেসি’ ল্যামিয়াসি পরিবারের একটি গুল্মজাতীয় সুগন্ধি উদ্ভিদ। এই পরিবারেই রয়েছে তুলসী, পুদিনা, রোজমেরি ও সেজের মতো পরিচিত গাছ। উদ্ভিদটির আবিষ্কার ও বৈজ্ঞানিক বর্ণনায় যুক্ত ছিলেন পেরুর সান মার্কোস জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরের পল গঞ্জালেস, আর্জেন্টিনার স্বাধীন গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং পেরুর হুরারাঙ্গো নেচারের জ্যঁ কাপচা-রামোস। তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ফাইটোতাক্সা-তে।


মেসির নামে উদ্ভিদটির নামকরণের পেছনে ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন গবেষকেরা। মায়মোনাইডস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ন্যাচারাল, এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সায়েন্সেস এবং আজারা ফাউন্ডেশনের গবেষক ক্লদিও বের্তোনাত্তির মতে, বিজ্ঞানীরাও সমাজ ও মানুষের আবেগ থেকে বিচ্ছিন্ন নন। তার ভাষায়, বৈজ্ঞানিক গবেষণা মানুষেরই সৃষ্টি। তাই মেসির মতো বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে সম্মান জানাতে গবেষকদের ভৌগোলিক দূরত্ব কিংবা কাজের ক্ষেত্রের পার্থক্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।


এমন ঘটনা অবশ্য মেসির ক্ষেত্রে নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন প্রাণী ও জীবের বৈজ্ঞানিক নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তার নাম। আর্জেন্টিনার বারিতু জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত একটি ছত্রাকের নাম রাখা হয়েছে ‘সেরকোপেমসেস মেসি’। এ ছাড়া ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’ নামে একটি মাকড়সা, ‘লিওলায়েমুস মেসি’ নামে একটি টিকটিকি এবং ‘ভালচার মেসি’ নামে আন্দিজ অঞ্চলের একটি প্রাগৈতিহাসিক শকুনের নামকরণ করা হয়েছে। ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’ নামেও পরিচিত একটি প্রাগৈতিহাসিক খোলসধারী প্রাণী।