ঈদ ঘিরে বাড়ছে রেমিট্যান্স
পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে চলতি মার্চের প্রথম ১১ দিনে দেশে এসেছে ১৯২ কোটি বা ১ দশমিক ৯২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি মার্চের প্রথম ১১ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯২ কোটি ডলার। আর গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৩৩ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ৪০ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এতেই বাড়ছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ। তবে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
আর গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।
এ ছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।
সদ্য সমাপ্ত সেপ্টেম্বরে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে এসেছে ২৭৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার বেশি (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ মাসিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার দেশে এসেছে। আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৬৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। সে হিসাবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৩ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৮৬ কোটি মার্কিন ডলার এবং আগস্টে আসে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রেমিট্যান্স এসেছে ৮৫৯ কোটি ১০ লাখ ডলার। এই আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসেছিল ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার।
রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়লে দেশে ডলারের সরবরাহ বাড়ে, যা আমদানি ব্যয় মেটানো ও বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ, প্রবাসীদের জন্য প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। ফলে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, গেল ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই-জুন) দেশে বৈধ চ্যানেলে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি মার্কিন ডলার।
আগের অর্থবছরে এ পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৩২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে এত বেশি রেমিট্যান্স আগে কখনো আসেনি।
অনলাইনভিত্তিক প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান মার্ট বাংলাদেশ- বিরুদ্ধে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। বাংলাদেশে ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকার পণ্য বিক্রির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি এ পরিমাণ অর্থের ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এনবিআর বলছে, রাজধানীর পল্লবীতে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে ঢাকার কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট (পশ্চিম) অভিযান চালায়। ভ্যাট ফাঁকির আলামত পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও অন্যসব নথি জব্দ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নথি যাচাই করে দেখা যায়, তারা ‘নিয়মবহির্ভূত’ মোট ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪৭ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। যার বিপরীতে ফাঁকি দেওয়া মুসকের (ভ্যাট) পরিমাণ মোট ৩ কোটি ১৯ লাখ ৫৭ হাজার ৪৯০ টাকা।
এনবিআর জানিয়েছে, কোরিয়ান মার্টের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে অনলাইনভিত্তিক দোকানগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে এনবিআরের ভ্যাট কমিশনারেট। একাধিক অভিযানে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট।
তেলের দাম কমে ১০১ ডলার
আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। গত শনিবার ইরান-সমর্থিত হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরও সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, এমন সম্ভাবনা আছে। বিনিয়োগকারীরা এখন সেদিকেই নজর রাখছেন। ফলে আজ সোমবার তেলের দাম কমে গেছে।
জ্বালানি তেল সাধারণত দুভাবে বিক্রি হয়। একটি হলো স্পট মার্কেটে, যে বাজার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তেল কেনা যায়, ফলে দাম কিছুটা বেশি পড়ে। আরেকটি হলো আগাম কেনাবেচার বাজার, যাকে বলে ফিউচার।
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রডের নভেম্বর মাসের ফিউচার দর ২ দশমিক ১১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমেছে। কয়েক দিন আগে ১৫ সেপ্টম্বর তেলের দাম ১০৯ ডলারে উঠেছিল।
এ ছাড়া অক্টোবর মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের ফিউচার দরও ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে।
জেপি মরগ্যানের বিশ্লেষকেরা ১৮ সেপ্টেম্বর এক নোটে বলেছেন, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে বেশ ভালো পরিমাণে তেল সরবরাহ হচ্ছে। বিষয়টি আশ্চর্যজনক বলে অভিহিত করেছেন তাঁরা। গত ১০ দিনে দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৭১ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের গড়ের তুলনায় তা দৈনিক ৬১ লাখ ব্যারেল কম।
তবে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ যে পুরোপুরি কেটে গেছে, তা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের বিষয়ে তিনি হয়তো শিগিগরই সিদ্ধান্ত নেবেন। অদূর ভবিষ্যতে ‘খুব বড় কিছু’ ঘটতে যাচ্ছে, এমন কথা বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, কখন। আর যদি কাজটা করতেই হয়, তাহলে পুরো দেশটা উড়িয়ে দেব কি না। তাদের ঠিকমতো আচরণ করতে হবে।’
স্কাই লিংকস ক্যাপিটাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড্যানিয়েল তাকিয়েদ্দিন মনে করেন, মূলত রপ্তানি কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কূটনৈতিক অগ্রগতি কতটা হয়, তেলের দাম তার ওপর নির্ভর করবে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলে বা জাহাজ চলাচলে নতুন করে ঝামেলা হলে বাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমবে। এতে তেলের দাম আবার বাড়তে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর পর থেকে তেলের দাম ওঠানামা করছে। তবে ১০০ ডলারের নিচে নামেনি এখনো। এর মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সর্বোচ্চ ১০৯ ডলারে ওঠে। ১৬ সেপ্টেম্বর; অর্থাৎ এক দিনের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০৪ ডলারে নেমে আসে। এরপর সোমবার তেলের দাম ১০১ ডলারে নেমে গেল।
ইরান যুদ্ধের প্রভাব
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা শুরু করে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ১ মার্চ বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ৭২ ডলার। ৩০ এপ্রিল তেলের দাম সর্বোচ্চ ১২৬ ডলার পর্যন্ত ওঠে। যুদ্ধবিরতি শুরু হলে তেলের দাম কমতে কমতে ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে।
এরপর ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি ভেঙে দিলে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম যতটা বাড়তে পারত, ততটা বাড়েনি।
তেলের চাহিদা কমছে
এই যে তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম এখনো অতটা বাড়ল না, তার মূল কারণ হলো তেলের চাহিদা কমে যাওয়া। কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে যা অনেক দেশ এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে ঝুঁকেছে, বিশেষ করে চীনে এই প্রবণতা স্পষ্ট।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান রিস্টাডের হিসাবে, পেট্রোকেমিক্যাল ও পরিবহন জ্বালানিতে তেলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্বে দৈনিক তেলের চাহিদা ৩৫ লাখ ব্যারেল কমেছে। চাহিদা যত কমেছে, তার অর্ধেকের বেশি কমেছে চীনের ক্ষেত্রে। সে দেশে পরিবহন খাতে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে। একই সঙ্গে কয়লাভিত্তিক রাসায়নিক শিল্পের প্রসার ঘটছে। ফলে তেলনির্ভর জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যালের চাহিদা কমছে।
ছবি : সংগৃহীত
প্রতি বছর বাজেটের পর দেশে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলো নতুন প্যাকেট তৈরিতে এক ধরনের শুভংকরের ফাঁকি দেয়। জাতীয় বাজেটে নির্ধারিত সিগারেটের নতুন মূল্যস্তর অনুযায়ী প্যাকেট তৈরিতে সময়ক্ষেপণ করে। এই সময় বাজারে পুরোনো সিগারেট বাড়তি দামে বিক্রি হয়। এতে সরকার বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারায়।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্যস্তর নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও দেশের দুই বৃহৎ সিগারেট কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেড ও জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের সিগারেট বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। দেশের আইন অনুযায়ী, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে দেওয়া সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ নেই। কিন্তু কোম্পানি দুটির সিগারেটের ক্ষেত্রে বাজারে তা পরিপালন হচ্ছে না। যার প্রমাণ পেয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, সিগারেটের ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন মূল্যস্তর নির্ধারণ করেছে এনবিআর। আর সিগারেট বিক্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না বলেও আইন পাস হয়েছে। কিন্তু বাজেটের দুই মাস পরও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সিগারেট বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিন যার প্রমাণ পেয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। সাধারণত সিগারেট বিপণনের সময় সর্বশেষ খুচরা মূল্যের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
সংসদে পাস হওয়া আইন অনুযায়ী, খুচরা মূল্যের অধিক দামে কোনো পর্যায়েই সিগারেট বিক্রি করা যাবে না বলেও ভ্যাট গোয়েন্দার চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বিগত অর্থবছরের মুদ্রিত প্যাকেট ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো নতুন মূল্যস্তরের দামে বিক্রি করছে। যা আইনের পরিপন্থি বলেও জানিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। সংস্থাটির মহাপরিচালক বাড়তি দামে বিক্রির কারণে সরকারের ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে জানিয়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট, এলটিইউকে (ভ্যাট) চিঠি দিয়েছেন। কারণ এলটিইউ ভ্যাটের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ পিএলসি এবং জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ভ্যাট বাস্তবায়ন ও ভ্যাট পলিসির সদস্যকে অনুলিপি দিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যাট পলিসির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. আজিজুর রহমান বলেন, সিগারেট কোম্পানির রাজস্ব সংক্রান্ত একটি চিঠি ভ্যাট গোয়েন্দা থেকে এলটিইউ ভ্যাটকে দেওয়া হয়েছে। এই চিঠির অনুলিপি ভ্যাট পলিসিকেও দেওয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান এনবিআরের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
সূত্র আরও জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্তরে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে এনবিআর। বাজেটের দুই মাস পরও বাড়তি দামে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এবং জেটিআইর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট বাজারে বিক্রি হওয়ায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
এ ছাড়া এনবিআরের আদেশ অনুযায়ী, পূর্বের সর্বোচ্চ মূল্যে মুদ্রিত সিগারেটের প্যাকেটে সিল দ্বারা নতুন সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য মুদ্রণ করার বিধান রয়েছে। এই সিলও ব্যবহার করছে না ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। আগের বছরে মুদ্রিত প্যাকেট নতুন বছরে তার চেয়ে বেশি দামে বাজারজাত করছে কোম্পানিটি। বাড়তি দামে সিগারেট বাজারজাতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও ভ্যাট গোয়েন্দার চিঠিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের মনোনীত পিআর প্রতিষ্ঠান অ্যাবস্ট্রাক্ট স্ট্র্যাটেজির তারিন ফাহিমা এই প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি জানতে চান। পরে আইন অমান্য করে সিগারেট বাজারজাতের বিষয়টি উল্লেখ করে খুদে বার্তা পাঠানো হলে তিনি বিষয়টি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর এই সংক্রান্ত বক্তব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেবেন বলেও জানান। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বাজারে শুধু ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে না। একইভাবে বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনালের উৎপাদিত সিগারেটও। তবে প্রতিষ্ঠানটি নতুন অর্থবছরে নতুন মূল্যস্তর অনুযায়ী প্যাকেট মুদ্রণ করলেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। এতে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ভ্যাট গোয়েন্দার কর্মকর্তারা।
বাড়তি দামে জেটিআইর সিগারেট বিক্রির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মোর্শেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বিষয়টি উল্লেখ করে তার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার বলেন, নতুন আইন অনুযায়ী পুরোনো মুদ্রিত সিগারেট বাজারজাত করলেও সিলের মাধ্যমে নতুন মূল্য থাকতে হবে। কিন্তু ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো এই আইন পরিপালন করছে না। গত অর্থবছরের মুদ্রিত প্যাকেট নতুন অর্থবছরে বাড়তি মূল্যে বাজারজাত করছে। পুরোনো প্যাকেট নতুন দামে বিক্রি হওয়ায় সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই প্রতিষ্ঠানটি থেকে ভ্যাট আদায় করতে এলটিইউ ভ্যাটকে অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
সার্বিক বিষয়ে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, সিগারেটের প্যাকেটে সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) উল্লেখ থাকার পরও এর চেয়ে বেশি দামে সিগারেট বিক্রি করা শুধু ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণাই নয়, এটি সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ-দুই ক্ষেত্রেই গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে। ২০২৩ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করে এমআরপির বেশি দামে সিগারেট বিক্রি না করার নির্দেশনা দিলেও বাজারে এর কার্যকর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ব্যুরোর গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু গত অর্থবছরেই এমআরপির বেশি দামে সিগারেট বিক্রির কারণে সরকার ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে। এর অর্থ হলো, বিদ্যমান আইন ও রাজস্ব নীতিমালা যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় সরকার একদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলো বাজারে নিজেদের মতো করে মূল্য নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিগারেটের দাম কার্যকরভাবে বাড়ানো এবং সরকারের নির্ধারিত মূল্য কাঠামো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা তামাক ব্যবহার কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়। কারণ, তামাক ব্যবহার হৃদরোগ, ক্যানসার, শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে সিগারেটের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতা তামাক ব্যবহারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। অথচ বাজারে যদি কোম্পানিগুলো বা তাদের বিক্রয় নেটওয়ার্ক ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে এবং একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তামাক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যও বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রাজস্ব সুরক্ষা এবং তামাকের ক্ষতিকর স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর স্বার্থে এমআরপি বাস্তবায়নে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সয়াবিন তেল
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এত দিন বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১৯৯ টাকা। এখন নতুন দাম হয়েছে ২০৪ টাকা। আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যসচিব মো. আতাউর রহমান খান এ তথ্য জানান।
এর আগে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ভোজ্যতেল পরিশোধন কারখানার মালিকেরা বৈঠক করেন।
বাণিজ্যসচিব আতাউর রহমান খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে পরিবহন ব্যয়। এসব কারণ দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ব্যবসায়ীদের দাবি ছিল আরও বেশি (লিটারে ১০ টাকা) দাম বাড়ানোর। তিনি বলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। সম্প্রতি বেড়েছে চিনির দাম।
নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কি না-এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।’
বাংলাদেশ ও মিয়ানমার পতাকা
যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ডলার- কারণে দেশটির ব্যবসায়ীরা সরাসরি মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন না। সে জন্য তাঁরা তৃতীয় কোনো দেশ থেকে পরিশোধ করতে চান বাংলাদেশি পণ্যের দাম।
এদিকে মিয়ানমারে রপ্তানি হওয়া পণ্যের দাম তৃতীয় কোনো দেশ থেকে আনার অনুমতি চেয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন করেছে একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান।
এ নিয়ে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবেদনটি অনুমোদন করা হবে। জানা গেছে, ‘এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গত জুলাই মাসে তৃতীয় কোনো দেশ থেকে রপ্তানির অর্থ আনার অনুমতি চেয়ে এনবিআরে আবেদন করে। আবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ থেকে সিমেন্ট, আলু ও ওষুধ আমদানি করতে আগ্রহী; কিন্তু সেখানে যুদ্ধপরিস্থিতিতে নিরাপত্তাঝুঁকি ও ডলার-সংকট থাকায় তাঁরা সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন না। তাই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড কিংবা দুবাই থেকে বাংলাদেশি পণ্যের দাম পরিশোধ করতে চান।
বাংলাদেশের পণ্য টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়েই মিয়ানমারে রপ্তানি হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বলছেন, যুদ্ধের কারণে মিয়ানমারের অনেক সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বেড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুডের মালিক এম ডি আলম বলেন, মিয়ানমারে সিমেন্ট কারখানা কম। তাই সেখানে সিমেন্টের চাহিদা অনেক; কিন্তু প্রয়োজনীয় এনওসি ও অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এতে রপ্তানির সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, দেশি আলু ও বিভিন্ন ধরনের এনার্জি ড্রিংকস রপ্তানিরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
কীভাবে মিলবে অনুমোদন
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুডের তৃতীয় দেশ থেকে রপ্তানি আয় আনার আবেদনটি প্রথমে নিজেরা পর্যালোচনা করেছেন। এরপর ব্যাংক খাতের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। যেহেতু মূল লক্ষ্য রপ্তানি সহজ করা, সেহেতু অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা শিগগির জানানো হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তৃতীয় দেশ থেকে রপ্তানি আয় আনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো বাধা নেই। তাই বৈদেশিক মুদ্রা আয় সহজ করতে আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রজ্ঞাপনেও এ ধরনের সুযোগের বিধান রয়েছে। ২০১৮ সালে বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগ থেকে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে ভিন্ন কোনো দেশ থেকেও রপ্তানি মূল্য পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে অনুমোদনের বিষয়টি এখন (রোববার) পর্যন্ত টেকনাফ শুল্ক স্টেশনে পৌঁছায়নি। ফলে রপ্তানির অপেক্ষায় রয়েছেন এ ওয়ান ফিশ অ্যান্ড মেরিন ফুডের মালিক এম ডি আলম।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি মুদ্রা আয়ের এমন সুযোগের জন্যও ঘুরতে হয়, অপেক্ষা করতে হয়।’
এদিকে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটিতে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পণ্য। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে সিমেন্ট ও আলুর পাশাপাশি ছিল ইয়ার্ন ও পাটপণ্য।
ব্যবসা কমেছে, জেগেছে নতুন আশা
মিয়ানমারের সঙ্গে পণ্য রপ্তানি-আমদানিতে যুক্ত রয়েছেন শতাধিক ব্যবসায়ী। চীন থেকে মিয়ানমার হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডরকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় চীন এই করিডর গঠনের প্রস্তাব দেওয়ায় এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বাণিজ্য সম্ভাবনার কথা ভাবছেন।
বাংলাদেশ–মিয়ানমার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি এস এম নুরুল হক বলেন, রোহিঙ্গা আগমনের পর দুই দেশের বাণিজ্য আগের তুলনায় কমে প্রায় ২৫ শতাংশে নেমে এসেছে। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হলে ব্যবসা আবার গতি পাবে। নতুন করিডর হলে সরাসরি চীন, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সঙ্গেও পণ্য বিনিময় করা যাবে। লিড টাইম ১০ দিন থেকে ১ দিনে নেমে আসবে।
মিয়ানমারে পণ্য পাঠিয়ে অন্য দেশ থেকে তার দাম পাওয়ার বিষয়ে এস এম নুরুল হক বলেন, মিয়ানমারের অনেক ধনী ব্যবসায়ী থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। তাই তাঁরা সেসব দেশ থেকে বিল পরিশোধ করতে পারেন। আন্তর্জাতিক নিয়মে এটি সম্ভব। যুদ্ধের কারণে মিয়ানমারে ডলার-সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে গেছে। আগে সেখানে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখা ছিল, এখন সেটিও নেই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ওষুধ মিয়ানমারের বাজারে বেশ জনপ্রিয়।
কক্সবাজার চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবু মুর্শেদ বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সিমেন্ট রপ্তানির ক্ষেত্রে কিছুটা কঠোরতা রয়েছে। কারণ, এসব সিমেন্ট দিয়ে আরাকান আর্মি বাংকার তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কা আছে।