বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
চিকিৎসা কোনো ব্যবসা নয়, এটি একটি সেবা। তাই চিকিৎসক ও রোগীর স্বজন- উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ও সহনশীল আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি।
তিনি বলেন, ইন্টার্ন চিকিৎসক হোক কিংবা অন্য পর্যায়ের চিকিৎসক, রোগীদের সঙ্গে সদয় আচরণ করা এবং যথাযথ সেবা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীর স্বজনদেরও ধৈর্য ধারণ করতে হবে।শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেটে একটি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের সাথে মারামারির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক।
এ প্রসঙ্গে শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বা অপ্রতুলতার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালানো হলে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থাই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। চিকিৎসকদের দুর্ব্যবহার যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি রোগীর স্বজনদের বিশৃঙ্খল আচরণ বা হামলাও কাম্য নয়।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরপর ঘটে যাওয়া একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওসমানী মেডিকেলের পরপর একাধিক এরকম ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আমরা কনসার্ন। এটি নিয়ে আমরা কাজ করব, কাজ করছি।
গাইবান্ধায় এলজিইডির রাস্তার কাজ বুঝে নিচ্ছেন কর্মকর্তা'রা। ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নে রাস্তা পাকাকরণের কাজ যথাযথভাবে বুঝে নিচ্ছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মিয়া।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুপতলা ইউনিয়নের পাচজুম্মা এলাকায় চুক্তিমূল্যে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রায় ১৫০০ মিটার রাস্তা নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় গাইবান্ধার স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রশিদ ট্রেডার্স।
ইতোমধ্যে রাস্তার কার্পেটিং করণের কাজ শুরু হয়েছে। ভালোমানের পাথর ও বিটুমিন দিয়ে মিক্সিং করে রাস্তায় ফেলানোসহ সকল কাজ সঠিকভাবে বুঝে নিচ্ছেন গাইবান্ধা সদর এলজিইডির কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মালামাল মিক্সিং পয়েন্টে একজন ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট, বেডে ২ জন ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট এবং ফিনিশিং য়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মিয়া সঠিকভাবে তদারকি করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে কাঁচা রাস্তার কারণে বর্ষাকালে চলাচল অনেক কষ্টের হতো। উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পড়তে হতো অনেক বিপাকে। তবে রাস্তার উন্নয়ন হওয়ায় এখন অনেক ভালো লাগছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।
আ’লীগ নেতার অবৈধ করাখানা সিলগালা, জেল-জরিমানা। ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের অদূরে, মাত্র দুই কিলোমিটার দূরেই উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ির ভিতর কারখানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করেন মহিলা শ্রমিকরা। রাতের আঁধারে বাজারজাত করা হয় নকল পণ্য। বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব অবৈধ কারবার। মাঝে মাঝে অভিযান চালায় প্রশাসন। কিন্তু বন্ধ হয়না নকল পণ্য উৎপাদন। এবার সেখানেই অভিযান চালান জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, এসআরবি, উপজেলা প্রশাসন ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। নকল সার আর ভেজাল কীটনাশক তৈরির দায়ে সিলগালা করা হয় সেখানকার “এসডি এগ্রোভেট” নামের কারখানাটি। সেই সাথে একজন মালিককে একমাসের কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অপরজনের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা হয় ভেজাল সার ও কীটনাশক তৈরির বিপুল পরিমাণ সামগ্রী।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় অভিযানটি পরিচালনা করার সময় কারখানাটির মালিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর আলম পলাতক ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাহিনুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে নকল পণ্য তৈরি করে সাধারণ চাষীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। নকল পণ্য বাজারজাত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। শাহীনুরের পিতা মোতার হোসেনের মৃত্যুর কারখানাটি শাহীনুর ও তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন পরিচালনা করে আসছে।
অভিযান পরিচালনাকারি মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদনের অভিযোগে এসডি এগ্রোভেটের মালিক শাহিনুরের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী হাসনাত জাহান পাপিয়ার বিরুদ্ধে বালাইনাশক আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা, একই নামে আরেকটি কারখানা চালানোয় শাহিনুরের ভাই দেলোয়ার হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়।
অভিযানে অংশ নেয়া মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, সেখান থেকে হরমন প্লাস ৬৫ কন্টেইনার, ওস্তাদ ক্যারেট ব্যাডকিলার ১১৫০ প্যাকেট, বিন্না ক্লাস ১ কেজি, দীন জৈব সার ৪০ কেজি, খোলা ছাঁই, খোলা গোবর, বিভিন্ন চকের গুঁড়া, মিশ্রণ মেশিন জব্দ করেছেন। এখানে ছাঁই, গোবর, তামাকের গুঁড়া মিশিয়ে জৈব সারের মিশ্রণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এটার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব টেষ্টে পাঠানো হবে। জৈব সারের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হবে। বালাইনাশক চকের গুঁড়া বানাচ্ছে তেলাপোকা মারার জন্য। সেখানে তারা সাইপার মেথিন মেশাচ্ছে যা অবৈধ। চকের গুঁড়া পিএইচপি রেজিষ্ট্রেশনে রাখে, কিন্তু সাইপার মেথিন একটা কীটনাশক, এটা ইমপোর্ট করার অনুমতি নাই। বাড়ির মধ্যে এরকম কীটনাশকের কারখানায় যারা কাজ করছে, তারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মথ্যে রয়েছেন। অচিরেই বড় রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকবে। এই কারখানাটি পরিবেশের এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র কিভাবে পেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এসআরবি-৫ এর কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে অবৈধভাবে নকল সার ও কীটনাশক তৈরি করে আশেপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। কৃষক ফসলের ফলন বাড়ানোর জন্য এসব প্রয়োগ করছেন। কিন্তু ফলন বাড়ার পরিবর্তে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই কৃষিপ্রধান দেশে আমরা যদি কৃষকদের প্রতারণা করি, তাহলে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এখানে উৎপাদিত সারের গায়ে যেসব সামগ্রীর নাম লেখা আছে তার বিন্দুমাত্র বস্তার ভিতর নেই। এটা দেশের জন্য রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অবস্থা।
উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের ৪ জুন এই কারখানায় একই অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অনিক চৌধুরী। এসময় র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মোহাইমেনুর রশিদসহ সিপিসি-৩, র্যাব-৫ জয়পুরহাটের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।"ওস্তাদ" ব্রান্ডের কীটনাশক ও বিষ উৎপাদনের অনুমতি থাকলেও তারা সিরিয়াস, ম্যাজিক, কারেন্ট, দ্বীন গোল্ড হরমোন প্লাস, অল-ক্লিয়ার ইত্যাদি অননুমোদিত নকল ব্রান্ডের পাউডার ও কীটনাশক উৎপাদন করে আসছিল। অভিযানে শাহিনুর আলমের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে হামলা
খুলনা নগরীর ব্যস্ততম পিটিআই মোড়। সময়- শনিবার দুপুর পৌনে একটা। পাশের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে তখন রোগীদের ভিড়। অসংখ্য মানুষের সামনে চাইনিজ কুড়াল হাতে সেখানে প্রবেশ করলেন পাঁচ যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা কাঁচের দরজা, জানালা, এসি, টিভিসহ সামনে যা পেয়েছে কুপিয়ে ও ভেঙে তছনছ করে ফেলে।
এরপর সবার সামনে দিয়ে বীরের মতোই বের হয়ে যায়। গত এক মাসে খুলনায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এভাবে হামলা ও ভাঙচুরের চতুর্থ ঘটনা এটি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে পঞ্চম। আগের প্রতিটি ঘটনার মতো এবারও মালিকপক্ষ ‘বোবা’ হয়ে গেছেন। পুলিশও কিছু বলতে পারছে না।
ওই ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠান এবং ভুক্তভোগীরা জানান, পিটিআই মোড় কেন্দ্রিক প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিজ ও তার বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। মূলত দাবি করা চাঁদা না পাওয়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয় দেখাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় দিন দিন সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঘটনাস্থল ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাঁচজন যুবক খানজাহান আলী রোডের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে প্রবেশ করেন। তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দু’টি এসি, একটি টিভি, সামনের দরজার গ্লাস, রিসিপশনের কাউন্টারসহ সামনে যা পেয়েছে সব কিছু ভেঙে ফেলে। এর মধ্যে তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভেতরে থাকা রোগীরা ভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন। ভাঙচুর শেষ হলে তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য আমাকে ফোন দেয়। আমি বলি এই নামে কাউকে চিনি না। এ কথা বলার পরপরই বিপরীত দিকে হতে ফোন কেটে দেয়া হয়। মালিকপক্ষের কারও কাছে চাঁদা চেয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’ আগের ঘটনাগুলোর মতোই দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে সকলকে শনাক্ত করা গেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত মাসের মাঝামাঝি নগরীর রয়েল মোড়ে অবস্থিত সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ২৪ অক্টোবর নগরীর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ৮-১০ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ কাউন্টারেও তাণ্ডব চালায়।
যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর নগরীর আহসান আহমেদ সড়কে অবস্থিত ‘চাইনিজ প্যালেস’রেস্তোরাঁ য় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিনের বেলা কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকে।
মালিককে না পেয়ে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের কথিত ‘ভাইয়ের’ ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে যুবকেরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে অবস্থিত রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেনি। সন্ধানীতে গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
নাটোরের লালপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবীর হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুব্রত কুমার সরকার, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল ইসলাম প্রমুখ,
আলোচনা সভায় দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় এ দিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এসময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ও বিপ্লব সংহতি দিবস উপলক্ষে রংপুরে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত। ছবি: সংগৃহীত
আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে চলছে নির্মাণ কাজ
নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশ অমান্য করে বিরোধীয় জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ করা হয়েছে। এব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও থানা পুলিশ আদালতের আদেশ প্রতিপালনে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। পুলিশ বলছে উভয়পক্ষকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্ন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের চকহরিবল্লভ প্রকাশ কুশাপুকুর গ্রামের মৃত রমেশ চন্দ্র মন্ডলের ছেলে অজিত কুমার মন্ডল অভিযোগ করেন যে, তিনি আমমোক্তার হিসেবে উপজেলার সিদ্দিকপুর গ্রামের মৃত প্রাণকৃষ্ণ মন্ডলের ছেলে বিশ^নাথ মন্ডল এবং মৃত ক্ষিতিশ চন্দ্র মন্ডলের দুই ছেলে প্রদীপ কুমার মন্ডল ও পবিত্র কুমার মন্ডলের পক্ষে বাদী হয়ে মোট ১০ দশমিক ৮০ একর জমি বাবদ ২০১২ সালে শ্রী অনুকুল চন্দ্র মন্ডলসহ ১৩ জনকে বিবাদী করে নওগাঁর তৃতীয় সাব জজ আদালতে একটি বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করেন। মোকদ্দমা নং ২৩/২০১২, পরে তা নওগাঁর মহাদেবপুর সিভিল জজ আদালতে ২২৯/২০২১ নম্বরে বদলী হয়। বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ওই মামলায় ২০১২ সালের ২৫ জুন মোকদ্দমা নিস্পত্তিকালতক নালিশী তপশীল সম্পত্তিতে স্ট্যাটাসকো (স্থিতাবস্থা) বজায় রাখার আদেশ দেন। কিন্তু আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ অমান্য করে বিবাদীপক্ষ গত ২৬ অক্টোবর মহাদেবপুর মৌজার দুটি স্থানে মোট ৪ দশমিক ৩২ শতক জমির উপর পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। বাধা দিতে গেলে তারা বাদীপক্ষকে নানান হুমকি প্রদান করে।
অজিত কুমার মন্ডল এব্যাপারে আদালতের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশের ইনফরমেশন স্লিপ দাখিল করে দরিয়াপুর গ্রামের নিতাই চন্দ্রের ছেলে শ্রী অমিত কুমার, মহাদেবপুর কুশার সেন্টারপাড়া মহল্লার মৃত সুরেশ চন্দ্রের দুই ছেলে অনুকুল চন্দ্র ও অরুন চন্দ্র, মৃত রনজিতের ছেলে রাহুল চন্দ্র, অরুন চন্দ্রের ছেলে শ্রী মিঠুন, চক ধর্মপুর গ্রামের মৃত বিভূতির ছেলে শ্রী সন্দিপের বিরুদ্ধে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মহাদেবপুর থানার এসআই জহির উদ্দিনকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। আবেদনের পর তিন দিন নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখলেও এরপর বিবাদীরা আবার নির্মাণ কাজ করতে থাকে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মহাদেবপুর মডেল মসজিদ সংলগ্ন দক্ষিণের ফাঁকা জায়গায় নতুন করে ভীত কেটে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া গরুর গাড়ী মোড়ের পূর্বদিকে একটি বিশাল মার্কেটে নতুন করে দোতালা নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিবাদী রাহুল চন্দ্র দাবি করেন যে, মামলাটি একবার খারিজ হয়েছিল। ফলে স্থিতাবস্থার আদেশও বাতিল হয়েছে। কিন্তু আদালত সূত্র জানায়, গত আগস্ট মাসে মামলাটি সাক্ষি হাজির না হওয়ায় খারিজ হয়। দুসপ্তাহ পর আদালতে কষ্ট (জরিমানা) প্রদান করলে মামলাটি পুনরায় আগের অবস্থায় চালু হয়।
জানতে চাইলে মহাদেবপুর থানার এসআই জহির উদ্দিন বলেন, উভয়পক্ষকে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্ন সৃষ্টি থেকে বিরত থাকার এবং আদালতের মাধ্যমে নিস্পত্তি করে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।