দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)
কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলায় অবস্থিত দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ওসি (তদন্ত)-এর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, মামলার কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ, অবৈধ অর্থ আদায় এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একাধিক স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যে অভিযোগগুলোর মধ্যে মিল পাওয়া গেছে, যা বিষয়টির গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
দ্বিপক্ষীয় ঘুষ ও মামলায় প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে, একই মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকেই পৃথকভাবে অর্থ নেওয়া হয়। পরে যে পক্ষ বেশি অর্থ প্রদান করে, সিদ্ধান্ত সাধারণত তাদের পক্ষে যায় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এমনকি চার্জশিট থেকে আসামির নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে ওসি ও ওসি তদন্তের বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও বিতর্কিত ঘটনা
সাম্প্রতিক একটি ঘটনায় জানা যায়, একটি বহুজাতিক তামাক কোম্পানির ডিপো দৌলতপুর পিপুলবাড়িয়াতে সেই তামাকের ডিপোতে চাঁদাবাজি ও অনৈতিক সুবিধাভোগের অভিযোগে দৌলতপুরের এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লার ছেলে শিশির মোল্লাকে আটকে রাখে জেটিআই তামাক কোম্পানি। সেখানে দৌলতপুর থানার কর্মকর্তাগন ওসি ও ওসি তদন্ত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন।
অভিযোগ আছে, এ ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো হয়েছে এবং ওসি তার ব্যাক্তিগত আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। এদিকে দৌলতপুর উপজেলার তেলিগান্দিয়া গ্রামে জুয়া বসিয়ে সেই জুয়ার বোর্ড থেকে ওসি দৌলতপুর ও ওসি তদন্ত দৌলতপুর প্রতি রাত কন্টাকে অবৈধ ঘুষ বানিজ্য করে। দৌলতপুর থানাতে জনসাধারন পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য গেলে নির্ধারিত অফিসার নিযুক্ত রয়েছে ওসির। ওসি সেই নিযুক্তকৃত অফিসারের মাধ্যমে দৌলতপুর থানার সকল অফিসারদের কাছ থেকে প্রতি মাসে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা আদায় করে। থানাতে কোনো মেয়ে ভুক্তভোগী অভিযোগ নিয়ে গেলে ওসি তদন্ত তার রুমে নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা গল্পের মাধ্যমে পরিশেষে অর্থের বিনিময়ে অভিযোগ কপি রিসিভ করে।
সাধারণ মানুষের হয়রানি-স্থানীয়দের অভিযোগ
বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে থানায় ডেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়। অর্থ ফেরত চাইলে অসহযোগিতামূলক আচরণের শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী ওসি দৌলতপুরকে প্রদানকৃত টাকা ফেরত চাইলে তিনি বলে, থানাতে এসে টাকা নিয়ে যান। আর কিছু বল্লেই থানাতে যেয়ে কথা বলতে বলেন।
অবৈধ কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদী সংলগ্ন বৈরাগীরচর ভাদু ফকিরের আস্তানার নিচ থেকে অবৈধভাবে টলিতে করে ফিলিং বালু উত্তোলনের বিষয়ে মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও মরিচা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক এক মেম্বার ওসির রুমে গেছিলো সেদিন উক্ত ফিলিং বালু উত্তোলনের জন্য অর্থ গ্রহন করে ওসি দৌলতপুর।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন এসব কার্যক্রম থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেকেই।
নাম প্রকাশে আরো একাধিক ব্যবসায়ী বলে, ভাই সামনে অনুষ্ঠান থানাতে, দৌলতপুর উপজেলার অফিসারদের নিয়ে প্রোগ্রাম হবে আপনাকে এগুলো, ওগুলো দিতে হবে। আরেকটি বিষয়, আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগ-একটি জমির রিসিভার নিয়োগ সংক্রান্ত ঘটনায় আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা দাবী করেছিলেন টাকা নিলেন ওপেন ডাক-অকশনের জন্য কিন্তু সেটা না করে মনগড়া কাজ করছেন এটা কাম্যনা। তবে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হলেও এখনো তা ফেরত দেওয়া হয়নি। অর্থ চাইলে ওসি দৌলতপুর বলেন, থানাতে এসে টাকা নিয়ে যান। এছাড়া অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়ার অভিযোগ-অর্থের বিনিময়ে হত্যা, ডাকাতি, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রবিউলের উপর পূর্ব শত্রুতার জেরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। এমন পরিস্থিতিতে এলাকায় অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
এছাড়া সদ্য সাবেক দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান মন্টি সরকারের একটি স্ট্যাটাসে পোষ্টে-যেদিন থেকে পুলিশের একটা ডায়লগ বন্ধ হবে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেব! সেদিন থেকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
মব জাস্টিস হলো শামিম, পুলিশ বলল অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাবস্থা নিব, মামলা রেকর্ড করব, মরিচায় সেচ্ছাসেবক দলের নেতার বাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষন হল, তাও পুলিশ বলছে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যাবস্থা নিব। অথচ আমার এলাকায় দুই ভাই জমি নিয়ে মারামারি, পুলিশ আরেক ভাইয়ের ছেলেকেও ধরে এনেছে, সকলে আসল আমাকে বলল সেই ছেলেটা ছিলনা। আমি লোক পাঠালাম, ওসিকে ফোন দিয়ে বললাম ভাই ছেলেটা ছিলনা ও কিছু জানেনা ওকে ছেড়ে দিয়ে, ওর বাপকে আসামি করে চালান দেন। উনি খুব উত্তেজিত হয়ে আমাকে বললেন প্রয়োজনে আমরা পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দিব তবুও ছাড়ব না, বাপ বেটা দুজনকেই আসামি করে চালান দিলেন। বুঝলাম ওসি সাহেবের পারসোনাল ইন্টারেস্ট। ঘটনা ঘটলেই এ্যাকশন নিতে হবে এবং পুলিশের ঘুষ খাওয়া বন্ধের কার্যকারি পদক্ষেপ নিতে হবে, তাছাড়া দেশে সুশাসন সম্ভব না। বেড়ায় ক্ষেত খাচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্ধ, বিরক্ত হয়ে উঠছে, দৌলতপুর আবার সন্ত্রাসের আতুড়ঘর হয়ে উঠছে। এর জন্য প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যাক্তি দায়ি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত থানার কর্মকর্তা ওসি বলেন, উপরোক্ত বিষয়ে সব ভিত্তিহীন, যে টাকা গ্রহন সম্পর্কে বলেছেন, কে বলেছেন, আমি জানি, তাকেই বলেন আমার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করুক। উপস্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুতর হওয়ায় স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাময়িক প্রত্যাহার, আর্থিক লেনদেন ও মামলার নথি পর্যালোচনা এবং জনগণের গোপন সাক্ষ্য গ্রহণের সুপারিশ করেছেন।
দৌলতপুর থানাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জনআস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
দৌলতপুর থানার বড় চোর আমি - ওসি আরিফুর রহমান
ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসানো দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফুটপাতকেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজির পরিমাণ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। তবে এই অর্থের হিসাব, কারা চাঁদা আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত-এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।
ফুটপাত দখল ও সেখান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটা আমাদের কাজ না, এটা সিটি করপোরেশনের কাজ।”
তাঁর এমন বক্তব্যের পর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন দাবি করেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা আদায় করে-এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ফলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন। এ ঘটনায় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।
নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও যানজট নিরসনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও এর আগে জানিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো এবং সেখান থেকে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
নগরবাসীর প্রশ্ন-যদি ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে কারা এই অর্থ সংগ্রহ করছে? টাকা যাচ্ছে কার কাছে? আর এর পেছনে রয়েছে কারা?
এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিরপেক্ষ তদন্ত, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
তবে মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইটের দেয়াল তুলে ও গাছ লাগিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা
নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে ইট দিয়ে ঘিরে ও গাছ লাগিয়ে জমি জবর দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা সদরের মেইন বাজারে এঘটনা ঘটে।
উপজেলা সদরের কাচারীপাড়ার মৃত নির্মাল্যভূষণ দাসের ছেলে শ্রী জয়ন্ত কুমার দাস অভিযোগ করেন যে, মহাদেবপুর বাজারের আরএস ৪০৫ ও ৪০৬ নং খতিয়ানের ৫৯০ দাগে তার পিতার ত্যক্ত মোট ১০ শতক সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী তারা তিন ভাই জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস। এই সম্পত্তির সামনের অংশে তাদের দোকান ঘর রয়েছে। কিন্তু দোকানের পিছনের দিকে তাদের অংশের বেশিরভাগ জমি তার ভাই বিশ্বনাথ দাস ও ভাতিজা দেবাশীষ দাস দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের পাঁয়তারা করে আসছে।
গত ৭ আগস্ট সকালে তারা সেখানে ইট দিয়ে ঘিরে দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এনিয়ে মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা রাতের আধারে কাজ করতে থাকে।
জয়ন্ত দাস এব্যাপারে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আদেশ দেন। মহাদেবপুর থানার এসআই আছির উদ্দিন গত ১২ আগস্ট এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ দেন। নোটিশ পাবার পরও গত শনিবার প্রতিপক্ষরা বিরোধীয় জমিতে গাছ লাগিয়ে দখল প্রমাণের পাঁয়তারা করে।
জানতে চাইলে দেবাশীষ দাস বলেন, মৃত নির্মাল্য ভূষণ দাসের জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস ছাড়াও প্রশান্ত কুমার দাস নামে আরো এক ছেলে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রশান্ত তার অংশের সমুদয় জমি দেবাশীষের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। সেই দলিলমূলেই তিনি অতিরিক্ত জমি দাবি করছেন। কিন্তু জয়ন্তরা তা দিতে নারাজ।
জয়ন্ত জানান, প্রশান্ত ১৯৭৪ সালে ভারতে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সুতরাং তার অংশের জমি তারা অন্য তিন ভাই পাবেন। প্রশান্ত এখন ভারতের আধারকার্ডধারী নাগরিক। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন।
১৯৯৬ সালে তার স্বাক্ষরে একটি ভূয়া আমমুক্তারনামা সৃজন করে দেবাশীষ প্রশান্তের অংশের জমি দাবি করছে। ওই কথিত ভূয়া আমমুক্তারনামায় জমির কোন তপশীল উল্লেখ না করে সমুদয় সম্পত্তি লেখা হয়েছে।
“রূপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে অফিসার্স ক্লাবে এসে শেষ হয়। পরে বরগুনা অফিসার্স ক্লাবের পুকুরে রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পের পোনা অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং সংগ্রাম স্মার্ট প্রজেক্ট এর সহযোগিতায় আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।
সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন।
সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ, সংগ্রাম’র উপনির্বাহী পরিচালক চৌধূরী মোহাম্মদ মঈন, প্রেসক্লাব সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমূখ।
আলোচনায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘরই এখন তালাবদ্ধ। কোথাও দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় ঘরের চারপাশে গজিয়েছে আগাছা ও জঙ্গল।
জনবসতি কমে যাওয়ায় এসব খালি ঘরকে ঘিরে মাদকসেবীদের আনাগোনা, চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগও উঠেছে। ফলে একদিকে প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন ও যাচাই-বাছাই নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম থেকে চতুর্থ ধাপে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জলঢাকা উপজেলায় ক-শ্রেণিভুক্ত গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ৯৪৯টি আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করাই ছিল এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তবে সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, বরাদ্দ পাওয়া ঘরের একটি অংশে উপকারভোগীরা বসবাস করছেন না। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে অনেক ঘর। কোনো কোনো ঘরের চারপাশ আগাছা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত ঘরগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি কৈমারী ইউনিয়নের বালাপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১০০টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৩২টি পরিবার বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলোর অধিকাংশই তালাবদ্ধ। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পাতাইবাড়িডাঙ্গা ও পৌরসভার ডাকুরডাঙ্গাসহ উপজেলার আরও কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকায় জনবসতি কমে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। এতে নারী, শিশু ও একাকী বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা বিভিন্ন সময়ে ঘর থেকে মূল্যবান মালামাল চুরির অভিযোগও করেছেন।
মিরগঞ্জ পাতাইবাড়ি ডাঙ্গা আশ্রয়ণের বাসিন্দা কোহিনূর বেগম বলেন, “আশ্রয়ণে মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়েছে। তাদের কিছু বলাও যায় না। সন্ধ্যার পর এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।”
কৈমারী বালাপাড়া আশ্রয়ণের ৭৬ নম্বর ঘরের বাসিন্দা প্রিয়বালা বলেন, “আশপাশের অনেক ঘর খালি পড়ে আছে। একা থাকতে ভয় লাগে। পানির টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবন্ধী বাসিন্দা জানান, দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি আশ্রয়ণে বসবাস করছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় বখাটেদের উৎপাতের কারণে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়।
এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন উপকারভোগীর দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় কোনো কোনো ঘরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আবার কিছু ঘর থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুলে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
তবে প্রকল্পে বসবাস না করার পেছনে শুধু নিরাপত্তা নয়, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবকেও দায়ী করছেন কয়েকজন উপকারভোগী। তাদের দাবি, ঘর পেলেও জীবিকার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকের পক্ষে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা ঘরগুলোর উপকারভোগীরা প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন কি না, অন্যত্র তাদের জমি বা বসতবাড়ি রয়েছে কি না-তা পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানি, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, বসবাসের পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধার বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখা দরকার।
এ বিষয়ে মিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা মানিক বলেন, “এসব সমস্যা আমাদের নজরে আসেনা। বিষয়গুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখব।”
প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, “বিষয়গুলো আমাদের লিখিতভাবে জানালে ভালো হয়।”
তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।
টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসক শরিফা হক। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মিয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ, জলাশয়ের সঠিক ব্যবহার এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
পরে মৎস্য খাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।