ছবি : সংগৃহীত
কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রনের ধাক্কায় ১২ বাসযাত্রী নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রামের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
গভীর রাতে দুর্ঘটনার পর রোববার সকাল ৮টার দিকে আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। তবে পৌনে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
রোববার সকালে ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জেলা প্রশাসন থেকে নিহতদের জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা সহায়তা করবো।’
তদন্ত কমিটি
জেলা প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসন ও রেলওয়ে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাফর সাদিক চৌধুরীকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন।
রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ও জোনাল আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামের সাথে রেলযোগাযোগ শুরু হবে। কার অবহেলায় এ দুর্ঘটনা তা তদন্তের পর বলা যাবে।’
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পদুয়ার বাজার থেকে ট্রেনটি বাসটিকে টেনে এক কিলোমিটার দূরে দৌয়ারা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ট্রেনের সামনে বাসটিকে দুমড়ে মুচড়ে আটকে থাকতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী, পিবিআই ও রেলওয়ে পুলিশ মোতায়েন আছে।
স্থানীয়রা যা বলছে
শনিবার রাত পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে লহ্মীপুরগামী মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে পড়ে। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেনের ধাক্কায় বাসটির ১২ জন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দূর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা শাহেনাজ আক্তার বলেন, ‘রাত পৌনে তিনটায় আওয়াজ শুনে রেললাইনে আসি। তখন রেলের লোকজনই উদ্ধার শুরু করে। আহতদের চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে আসে। পরে আসে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।’
স্থানীয় বাসিন্দা রমিজ উদ্দিন জানান, চলন্ত ট্রেন বাসটিকে সামনের দিকে টেনে অনেক দূরে নিয়ে যায়।
আহতদের অভিযোগ
আহত যাত্রীরা জানান, ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে চট্টগ্রাম অভিমুখী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরের দিকে যাচ্ছিল বলে জানা গেছে।
আহত যাত্রী তফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রচন্ড আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে আসে।
ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রেলগেটের সিগন্যাল ম্যানের অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে অনেকবার ফোন দিলেও কেউ কল রিসিভ করেনি।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, বাস চালকের ভুলের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার আগেই পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আরও কয়েকটি লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক বলেন, হতাহতদের হাসপাতালে আনা হয় রাত চারটার দিকে। ১২ জনের মরদেহ হাসপাতালে আছে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দু'জন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।
কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, রাত তিনটার দিকে আমরা দুর্ঘটনা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
দেবাশীষের মেয়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন এডুকেয়ার স্কুলের শিক্ষকরা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দমবন্ধ হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাতজন। তাদের মধ্যে আজকের পত্রিকা-চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪) রয়েছেন।
এ দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সাত বছরের মহিমা দত্ত এখন একা। ভারতে যাওয়ার আগে দেবাশীষ তার মেয়ে মহিমাকে কুষ্টিয়ায় ঠাকুমা ও ঠাকুরদার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। এখন বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সেই ঠাকুমা-ঠাকুরদাই মহিমার একমাত্র আশ্রয়।
মহিমা কুষ্টিয়ার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেজি শ্রেণির ছাত্রী। বাবা-মা ও ভাইকে হারিয়ে তার ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। মহিমার এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে মহিমার বাবা-মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে স্কুলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেলসহ শিক্ষকরা তার বাড়িতে যান। তারা মহিমার ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পড়াশোনার জন্য বই, খাতা, কলমসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ‘মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, বই-খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বহন করবে। শুরু থেকেই যেন বাবা-মায়ের অভাবে সে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। সকালে আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি।’
মহিমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার ঠাকুমা-ঠাকুরদাসহ পরিবারের সদস্য এবং দেবাশীষ দত্তের সহকর্মীরা। তারা এ উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে বুধবার রাতে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা নিহত দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তারা। মঙ্গলবার আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা শেষে বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যেই কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য বাংলাদেশিরা হলেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির আহমেদ বাবু (৪০), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার। এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহত অপর একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
জিএমপির নতুন পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন
মহানগরীর মাস্টার বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর অংশ হিসাবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় 'কাউলতিয়া পুলিশ ক্যাম্প' উদ্বোধন করেছেন জিএমপি কমিশনার মো: ইসরাইল হাওলাদার।
এ উপলক্ষে ক্যাম্প প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএমপি কমিশনার বলেন, গাজীপুর সদর থানাধীন কাউলতিয়ায় আরো একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি মাদক নির্মূলে ভূমিকা রাখবে। তিনি অপরাধ নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্হানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এতে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) বেলায়েত হোসেন, বিএনপি এ্যাড. মেহেদী হাসান এলিস, আবু তাহের মুসল্লি, সাইফুল ইসলাম টুটুলসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ধর্মপাড়া ও ভেড়ামারা এলাকার বাসিন্দা অনিতা রানী সরকারকে ঘিরে মাদক ব্যবসার বিস্তার এবং আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহীর গোদাগাড়ী প্রেমতলী গ্রামের খোকন মাহাজন, করিম মাহাজন, সহ এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে নিয়মিত হেরোইন সংগ্রহ করে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা এবং রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় পাইকারি ও খুচরা সরবরাহের সঙ্গে অনিতা রানী সরকারের সম্পৃক্ত।
অভিযোগে আরও জানাগেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত-তালতলা এলাকার রাজু ওরফে জিয়ার মাধ্যমে সীমান্তপথে গাঁজা, ফেনসিডিল এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকাতে সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে মাদক সম্রাজ্ঞী অনিতা রানী সরকার।
রেলপথ ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগ-অনিতা রানীর নিজের বক্তব্য হিসেবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ভেড়ামারা-পাকশী রেলপথ ও রেলওয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ট্রেনযোগে মাদক পরিবহনের করে। এ ক্ষেত্রে ট্রেনের স্টাফ, টিটিই, খাবার সরবরাহকারী এবং রেলওয়ে পুলিশের কিছু সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই সব করে।
তবে অনিতা রানীর কাছ থেকে কৌশলে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কোনো রেল কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগে অনুসন্ধানী টীম কাজ চলমান রেখেছে। একাধিক মাদক মামলার তথ্য-অনুসন্ধানে অনিতা রানী সরকারের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত মামলাগুলোর তথ্য পাওয়া গেছে-১৭ আগস্ট ২০২৩, গোদাগাড়ী থানায় হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা, মামলা নম্বর জিআর-৪২৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯ এপ্রিল ২০২৩: কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা; মামলা নম্বর ৪৩ তথ্য পাওয়া গেছে। ৫ নভেম্বর ২০২৩: ভেড়ামারা থানায় মামলা; মামলা নম্বর ১০ তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি কিছু সময় কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক প্রসার গড়ে তোলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ-আরও অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন অনিতা রানী। এমনকি বর্তমানে ডিবি হেডকোয়ার্টার মিন্ট রোডে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগের। তদন্তের দাবি স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিতা রানী সরকারের মাদক ও অস্ত্রের এই নেটওয়ার্কের কারণে কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ছে।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে উপরোক্ত বিষয়ে অনিতা রানী সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেনি।
বিরলে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ আয়োজনে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুল হক হীরা, সাধারণ সম্পাদক নুজ্জামাল হোসেন সোনাহার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের (আহবায়ক) ভারপ্রাপ্ত আসাদুল ইসলাম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মমিনুল ইসলাম, সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিনুর ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শেষে শহিদ মিনার চত্বরে বৃক্ষরোপন করেন।
পাইকগাছা-কয়রার মানুষের চিকিৎসা সহ সকল আধুনিক সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য। সব সময় মানব সেবার কাজে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শুধু আমি একা নই এই কাজে যারা সহযোগিতা করবে তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। নিজের এলাকার গরীব দুঃখী মানুষের পাশে দাড়াতে নিয়মিত ছোট বড় পরিসরে জনসেবা মূলক উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। জনগনের স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করাই হলো একজন মহানুভব ব্যক্তির কাজ, এটা সর্বদা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা খড়িয়া মিলনবীথি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী ফ্রী চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও খুলনা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি এসব কথা বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এসময় ৩ শ' ৫৫ জন রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।
সাতক্ষীরা গ্রামীন চক্ষু হাসপাতাল সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ফ্রী চক্ষু ক্যাম্পের সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল। ক্যাম্পে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন সাতক্ষীরা গ্রামীন চক্ষু হাসপাতালে ডাঃ সৌমিত্র বৈরাগী (এমবিবিএস) ও ক্যাম্প পরিচালনা করেন গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালে রিপ্রেজেনটেটিভ মোঃ আরাফাত হোসেন। ক্যাম্পে আগত রোগীর মধ্যে থেকে ৪০ জন ছানি রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। সনাক্ত হওয়া এসব ছানী রোগীদের সাতক্ষীরা গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের মাধ্যমে উন্নত মানের লেন্স বসিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া চক্ষু ক্যাম্পে আগত রোগীদের মধ্যে থেকে ৭০ জন রোগীর চোখ পরীক্ষা করে বিনামূল্যে চশমা ও ৪০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চোখের ঔষধ বিতরণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে সাংবাদিক রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল বলেন, আমি বিগত কয়েক বছর ধরে আমার এই অবহেলিত এলাকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে এ ধরনের সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও এমন কর্মকান্ড চলমান থাকবে।
ইনকিলাব ও বাংলাভিশনের খলিল শিকদারকে সভাপতি ও নিউজ টোয়েন্টিফোর স্যাটেলাইট টেলিভিশনের মোঃ আলম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের ২৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রুপগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে এ কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে এশিয়ান টিভির শহীদুল্লাহ গাজী, আগামীর সময় এ হায় মিলন, সহ-সভাপতি হিসাবে স্টার নিউজের এসএম শাহাদাত, জিটিভির আশিকুর রহমান হান্নান, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক হিসেবে বিজয় টিভির শরীফ আহমেদ লিটন, সমকালের জিয়াউর রাশেদ, সময়ের আলোর রাশেদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ প্রতিদিনের জাহাঙ্গীর আলম হানিফ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলা টিভির সোহেল কিরণ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক গ্রীন টিভি ও প্রতিদিনের বাংলাদেশের সাইফুল ইসলাম, ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এনটিভির শাকিল আহমেদ ও দৈনিক যাযাদিন পত্রিকা, সহ ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ইসলামিক টিভির আল-আমিন, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কালবেলার জাহাঙ্গীর মাহমুদ,
আইন ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী মাজেদুল হক মোল্লা সোহাগ, দপ্তর সম্পাদক আমাদের সময়ের শহিদুল করিম বিপ্লব, প্রচার সম্পাদক হিসেবে দৈনিক খবরের কগজের রুবেল শিকদার, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক দৈনিক প্রভাত পত্রিকার পুনম ফেরদৌস, কার্যকরি সদস্য কান্ট্রি টুডে রুহুল আমিন, নিউজ বাংলাদেশ ডট কমের মনজুরুল কবির বাবু, সিএনএন বাংলার সাইদুর রহমান, ভোরের পাতার ফরহাদুল কবির, আজকের বাংলার মাকসুদুল হক তুষার ও নারায়ণগঞ্জ পোস্টের মেহেদী হাসান ফরহাদ।
এছাড়া এ কমিটিতে উপদেষ্টা মন্ডলীতে ৮ জনকে রেখে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া এ কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য হিসেবে ৮ জনকে রাখা হয়।
এ সময় নবনির্বাচিত রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ খলিল সিকদার বলেন, আমরা আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে নতুন এ কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রেস ক্লাবের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় প্রেস ক্লাবের আদলে রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবকে একটি আধুনিক ও সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বমাদের।
রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলম হোসাইন বলেন, আমাকে নির্বাচিত করায় আপনাদের সবার প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতা।
নতুন মেয়াদে আমাদের পথচলায় প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে সমন্বিত উদ্যোগে। কমিটির সকল সম্মানিত সদস্যকে সাথে নিয়ে, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের ভিত্তিতে আমরা রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সব কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ত্বরান্বিত করব।
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি দায়িত্ব। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে রূপগঞ্জের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থাকা মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা নির্ভীকভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরা। সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে আপনারা যেন নির্দ্বিধায় কাজ করেু যেতে পারেন, তার জন্য প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
আসুন, সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও ঐক্যের যে স্তম্ভ আমরা গড়ে তুলেছি, তা অক্ষুণ্ণ রেখে এলাকা ও দেশের কল্যাণে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করি। ধন্যবাদ সবাইকে।"