চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)
অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারি, প্রাতিষ্ঠানিক বিশৃঙ্খলা, সংগঠিত চাঁদাবাজি, সাংবাদিক হেনস্তা এবং কোটি টাকার বিনিময়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদ বাগিয়ে নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগে এবার নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনে। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস. এম. সরওয়ার কামাল।
অভিযোগের গুরুত্ব ও বিস্তৃতি এতটাই প্রকট হয়ে উঠেছে যে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করতে বাধ্য হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, কুমিল্লা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে পদায়ন নিশ্চিত করতে আট কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি একটি গোপন অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।
গত বুধবার (১৩ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি কর্পোরেশন-২ শাখা থেকে জারি করা ওই নোটিশে সরওয়ার কামালকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারকে উদ্দেশ্য করে আট কোটি টাকার বিনিময়ে ডিসি পদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চুক্তিপত্র ও সম্মতিপত্র স্বাক্ষরের নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চসিকের অভ্যন্তর ও বাইরে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ কি তবে এখন প্রকাশ্য দর-কষাকষির পণ্যে পরিণত হয়েছে?
বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেনও। তিনি বলেন, “আট কোটি টাকার চুক্তির বিষয়টি আমিও শুনেছি। যেহেতু মন্ত্রণালয় বিষয়টি তদন্ত করছে, তাই আমি আর হস্তক্ষেপ করছি না।” তবে তিনি নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
চসিকের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সরওয়ার কামাল কার্যত রাজস্ব বিভাগকে ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বলয়ে নিয়ে গেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধে যত গুরুতর অভিযোগই উঠুক না কেন, রহস্যজনকভাবে প্রতিবারই তিনি দায় এড়িয়ে যান। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষ্য, চসিকে তিনি যেন “অঘোষিত সম্রাট”, যার সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ কথা বলার সাহস পান না।
এরই মধ্যে সামনে এসেছে সাংবাদিক হেনস্তা ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগও। অভিযোগ অনুযায়ী, চলতি মাসের ৭ মে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রতিবেদক ওমর ফারুক চসিকের রাজস্ব বিভাগের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ বাণিজ্যের বিষয়ে বক্তব্য নিতে চসিক ভবনে যান। প্রথমে তিনি রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানির সঙ্গে কথা বলেন। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে সরওয়ার কামালের কক্ষে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগ, কক্ষে প্রবেশের পরই তাকে উদ্দেশ্য করে অপমানজনক, তাচ্ছিল্যপূর্ণ ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয় এবং প্রায় ৪৫ মিনিটের বেশি সময় কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যক্তিগত চ্যাট, এমনকি গ্যালারির ব্যক্তিগত ছবিও তল্লাশি করা হয়।
শুধু তাই নয়, মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের সদস্যদের নম্বর সংগ্রহ করে ফোন দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সাংবাদিককে “চাঁদাবাজ” আখ্যা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
সাংবাদিক ওমর ফারুক বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ধরনের ন্যক্কারজনক আচরণ শুধু সাংবাদিকতার জন্য নয়, পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্যই হুমকিস্বরূপ। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিককে এভাবে অপদস্থ, অবরুদ্ধ ও হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত এবং এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
এদিকে সরওয়ার কামালের কথিত অঙ্গীকারনামা ও সম্মতিপত্র সামনে আসার পর বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নথিতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন নিশ্চিত হলে নগদ আট কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা এবং মনোনীত রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার অঙ্গীকারও সেখানে উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক দুর্নীতির নজিরই হবে না; বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
অভিযোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চসিকের রাজস্ব বিভাগকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা কথিত “অর্থ আদায়ের সিন্ডিকেট”। একাধিক লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরওয়ার কামালের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে টিও, ডিটিও, কর আদায়কারী ও অনুমতি পরিদর্শকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাস শেষে অনেক কর্মচারী বেতন হাতে পেলেও নানা অজুহাতে সেই অর্থের বড় অংশ কেটে নেওয়া হয়। এমনকি “স্কেল প্রদান”-এর নামে প্রায় ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। একই সঙ্গে স্থায়ী পদে না থাকা ব্যক্তিদের অবৈধভাবে পদোন্নতি দেওয়ার অভিযোগ পুরো প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এছাড়া প্রতি মাসে সভা ও মিটিংয়ের নামে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি সভায় আপ্যায়নের অজুহাতে প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয় এবং মাসে গড়ে ২২টি সভার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতবদল হয়।
বিভিন্ন ব্যক্তির নামে পার্সেল এনে অতিরিক্ত বিল প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের একটি কৌশলী প্রক্রিয়াও পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
‘পিকনিক’ আয়োজনের নামেও নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এতে অংশগ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের নানা উপায়ে হয়রানি ও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, তথাকথিত “সার্কেল ভিজিট” কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রতিবার ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের হোল্ডিং চেক নির্দিষ্ট ব্যাংকে জমা দিয়ে সেখান থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, এমনকি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কম্পিউটার, এলইডি টিভিসহ মূল্যবান উপঢৌকন গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে।
রাজস্ব বিভাগে ভয় ও আতঙ্কের সংস্কৃতি তৈরি করতে বিভিন্ন সার্কেলে দালাল নিয়োগের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব দালাল কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, সরওয়ার কামাল বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ২৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। উপসচিব পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা বর্তমানে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি তিনি ডেপুটেশনে এ পদে যোগ দেন। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ মাঠ ও কেন্দ্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এস. এম. সরওয়ার কামাল। তার দাবি, কথিত অঙ্গীকারনামা ও চুক্তিপত্র সম্পূর্ণ ভুয়া এবং সেখানে তার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আট কোটি টাকার চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। যে বিভাগ থেকে নোটিশ ইস্যু হয়েছে, আপনারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, চসিকের সরওয়ার কামাল নামের কাউকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।
ছবি : সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে রিকশার গ্যারেজের মালিক ও ইসলামী আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দিলে মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় জাহিদ হাসান বুলবুলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি সালেহনগর শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে এবং ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় তার রিকশার গ্যারেজে লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলা তুলে নিতে দীর্ঘদিন ধরে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ঘটনার রাতে প্রধান অভিযুক্ত সিফাত ও তার সহযোগীরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বুলবুলের ওপর হামলা চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন বলেন, প্রধান অভিযুক্ত সিফাতকে রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বোঝানোর পর পৌনে ১১টার দিকে মহাসড়ক থেকে সরানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ( ২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় হেয়ার রোডের ৩৫ নম্বর বাড়িতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন Social Progress and Development Society (SPDS)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সারমীন আক্তার।
সাক্ষাৎকালে সারমীন আক্তার এসপিডিএসের পক্ষ থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতির নতুন দায়িত্বের সফলতা কামনা করেন এবং দেশ ও জনগণের কল্যাণে তাঁর নেতৃত্বে একটি সুন্দর, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এসপিডিএসের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সারমীন আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে এবং নতুন দায়িত্বের জন্য শুভকামনা জানাতেই এই সাক্ষাৎ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
সাক্ষাৎ শেষে সারমীন আক্তার মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের কল্যাণে তাঁর নেতৃত্ব আরও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, Social Progress and Development Society (SPDS) দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক উন্নয়ন, মানবিক সহায়তা, পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
গাজীরহাট হাজি নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
খুলনার দিঘলিয়ায় হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় বিদ্যালয়ের টয়লেট থেকে এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে তাকে স্কুলের পাশের ভবনের কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক উদ্ধার করেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উদ্ধার শিক্ষার্থী উপজেলার গাজীরহাট হাজী নৈমুদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বিদ্যালয়ের টয়লেটে যায় সে। কিন্তু পেছন থেকে কে বা কারা তাকে মারধর ও তার ওপর চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে। চেতনা ফিরে এলে সে দেখে তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা। এ সময়ে বাথরুমের ভেতর থেকে চিৎকার করতে থাকে।
তারা আরও জানান, বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী একটি ভবনে কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন। পরে তারা ওয়াশরুমের দরজা ভেঙে ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে খুলনার বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়।
খুলনার দিঘলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুম বলেন, ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের সাথে সে কথা বলেছে। হামলাকারীদের সে দেখতে পায়নি। বিস্তারিত কোনো কিছু সে জানাতে পারেনি। ঘটনাস্থলে পুলিশে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। ঘটনার পর ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামিরদিয়া এলাকায় ওয়াসিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির মাদক সেবন ও অসদাচরণের প্রতিবাদ করেন স্থানীয় যুবক আলমগীর হোসাইন। এ নিয়ে ওয়াসিমের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের সৃষ্টি হয়।
এর জের ধরে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আলমগীর হোসাইনের বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ও বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আবারও বাড়িতে এসে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পটুয়াখালীর মহিপুরে চার বছরের এক শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সেকান্দার চৌকিদার (৪৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে মহিপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতার সেকান্দার চৌকিদার অনন্তপাড়া এলাকার মৃত মোতাহার আলীর ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সেকান্দার চৌকিদার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের অনন্তপাড়ার একই এলাকায় বসবাস করায় মাঝেমধ্যে ভিকটিমের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। গত ১৪ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টা থেকে ৮টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে চার বছরের শিশুটিকে তার পৈত্রিক বাড়ির সংলগ্ন খালপাড়ে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ আগস্ট মহিপুর থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মহিপুর থানার (মামলা নং-০৭)মামলা রুজু করা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে অভিযুক্ত সেকান্দার চৌকিদারকে গ্রেফতার করে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো শামীম আহমেদ বলেন, “চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামি সেকান্দার চৌকিদারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।”
সিলেট নগরীতে বাসার ভেতরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামী বাবুল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে ফের জেল-হাজতে প্রেরণ করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জবানবন্দিতে তিনি আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। যা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা যাবে না।’
এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে বাবুল মিয়াকে আদালতে তোলে পুলিশ। পরে রাত ৯টার দিকে জবানবন্দি শেষে তাকে আদালত থেকে বের করা হয়।
সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফারহানা সুলতানা গত রোববার (১৬ আগস্ট) বাবুল মিয়ার চারদিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। এদিন পুলিশ বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমাণ্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে আদালত তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
সিলেট নগরির রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে গত বুধবার সকালে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ঘটনার পর যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা। তবে অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডে পুলিশের হাতে আটক বাবুল মিয়ার নাম উল্লেখ করেননি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইনজীবী ও ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন সেলিনা। মামলার এজহারে সেলিনা উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে তার বাবা, মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে।