নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগবিতণ্ডা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর একাংশ) আসনে উঠান বৈঠকে বাধা দেওয়ার জেরে আচরণবিধি প্রতিপালনে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ (গুগদ) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জুয়েল মিয়া নামের রুমিন ফারহানার এক অনুসারী জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন। উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, আজ বিকেলে ইসলামাবাদ গ্রামে উঠান বৈঠক করছিলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বক্তব্য রাখার একপর্যায়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে সেখানে হাজির হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার হাসান খান। এ সময় রুমিন ফারহানা বৈঠকস্থলের পাশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ–সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্দেশে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি পারলে থামাই দেন। আজকে আপনাকে ভদ্রতার সঙ্গে বলছি। নেক্সট টাইম কিন্তু ভদ্রতা দেখাব না।’ এ সময় পাশে থাকা এক ব্যক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘আপনাদের তারা বুইড়া আঙুল দেখায়, আপনারা কিছুই করতে পারেন না।’ এ সময় রুমিন ফারহানা বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচিয়ে বলেন, ‘আপনাদের তারা এই রকম দেখায়।’
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে এ সময় বলতে শোনা যায়, ‘কে এমন করে?’ প্রত্যুত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘খোঁজ নেন, প্রশাসনে বইসা আছেন। আমি যদি না বলি, এখান থেকে বাইর হইতে পারবেন না। এক্সকিউজ মি স্যার, দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম, আই অ্যাম ওয়ার্নিং ইউ।’ তখন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ হলে আমাদের তো আসতে হবেই।’ উত্তরে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সব জায়গাতেই হচ্ছে। আপনারা কিছুই করতে পারেন না।’ এ সময় রুমিন ফারহানার অনুসারীরা ‘ঠিক, ঠিক’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁর বিরুদ্ধে ১৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আচরণবিধি ভঙ্গের লিখিত অভিযোগ দেন রুমিন ফারহানা। এর পরদিন হাবিবুর রহমান এক সমাবেশে ওই অভিযোগকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ দেখান।
এ বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমার প্রতিপক্ষের জোটের প্রার্থী ও তার লোকজন প্রতিদিন স্টেজ করে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করে আইন ভঙ্গ করছে। আমাকে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিস্যু পেপার বলছে, নর্তকী বলছে। আমি অভিযোগ দিয়েছি। এর উত্তরে তারা বৃদ্ধাঙ্গুল দেখাচ্ছে, আমি বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটকে স্যার সম্বোধন করে বলেছি। তারা (প্রশাসন) আমার প্রতিটি উঠান বৈঠকে আইনের অপপ্রয়োগ করছে। আমি একটি হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করি, কোনো স্টেজ করি না। এতে প্রতিদিন বাধা দিচ্ছে, জরিমানা করছে। আজ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এর আগেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। কিন্তু তাদের কোনো বাধা দিচ্ছে না।’
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার বলেন, ‘আচরণবিধি ভঙ্গ করায় তাঁকে (রুমিন ফারহানা) অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান। আমরা আশা করি, সবাই আইন মেনে চলবেন। ওনার যদি অভিযোগ থাকে, তবে উনি অভিযোগ দিতে পারেন।’
সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে ছিলেন। কিন্তু আসনটিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপি নেতা মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব ও লাল চিহ্নে জেমিনি লোগো। ছবি: তার ফেসবুক থেকে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিতর্কে জড়িয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিয়া হাসিবুল হাসান হাসিব।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে ছবিটি পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে দাবি করা হয়, আগের দিন ১৫ আগস্ট একটি দলীয় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়েছে। ছবিতে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
ছবিটি পোস্ট করে হাসিব লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! গতকাল আমার অনুভূতির মূল উৎস, আমার শ্রদ্ধেয় নেতার সঙ্গে সালাম বিনিময়ের পরম সৌভাগ্য হয়েছিল। যে নেতাকে দেখে প্রতিনিয়ত পথচলার প্রেরণা পাই, তার সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ আমার হৃদয়ে অসীম আনন্দ এনে দিয়েছে।’
তবে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ছবিটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে ছবিটি বিশ্লেষণ করে এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়। ছবিতে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের হাতলের নিচের অংশে Gemini AI-এর লোগোও দেখা যায়। এ ছাড়া ছবির বিভিন্ন অংশে অসংগতি রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। খন্দকার আব্দুল্লাহ নামের একজন ছবিটির নিচে মন্তব্য করেন, ‘ওরে বাটপাড়, এআই দিয়ে ছবি বানিয়ে ছাড়ে!’
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি বাশারুল বারী বলেন, সে এর আগে আওয়ামী লীগের আমলে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছে, এখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সংঙ্গে এআই জেনারেটেড ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে। তিনি আসলে কি বুঝাতে চাইছে। এগুলো করে এলাকায় বোঝাতে চায় যে, আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর যোগাযোগ আছে। এতে প্রভাব বিস্তার ও জমি দখল করতে সুবিধা হয়। প্রশাসনও তাকে বেশি মূল্যায়ন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তার বড় ভাই ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য নুরুল হাসান মিয়া। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন হাসিব দেখভাল করছেন। পাঁচ তারিখের পর বিদেশ থেকে এসে বড় নেতা হয়ে গেছেন। এখন আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগ, সবাই এআই বোঝে। এ ধরনের বাটপাড়ি ধরা পড়ে যাবে। এতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ছবি এভাবে এআই দিয়ে তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করা আইনত অপরাধ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।
আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল হক রিপন বলেন, লিডারের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে আলফাডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতায় জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংস্কার, মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
সোমবার বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি এসএম বজলুর রশীদ।
এ সময় জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ মো. দাদন মিয়া সহ জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও বিকেনগর সরকারি কলেজের সিনিয়র শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় এসএম বজলুর রশীদ বলেন, “জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের ফলে কলেজের নিরাপত্তা ও পরিবেশ আরও সুন্দর হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলামের নেতৃত্ব ও সহযোগিতায় কলেজের উন্নয়ন কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।”
এসময় অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় আমরা আনন্দিত। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ হলে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষার্থীদের সুন্দর পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ তৈরি হবে। কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যারা সহযোগিতা করছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়ন ও কলেজের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।”
কলেজ সংশ্লিষ্টরা জানান, সংস্কার, মেরামত ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে জাজিরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে। উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যেও সন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২১) হত্যার অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা স্বামী মো. ইসমাইল হোসেনকে (২৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফৌজদারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ও র্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মো. ইসমাইল উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের দিলিলপুর গ্রামের মাইজা বেপারী বাড়ির এনামুল হক বাবুলের ছেলে।
র্যাব জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্ত্রী সুমি আক্তারের কাছে ছাগল ও স্টিলের আলমারি অথবা ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন ইসমাইল। ভুক্তভোগীর বাবা কিছু টাকা পাঠালেও দাবিকৃত টাকা কম হওয়ায় গত বছরের ৬ জুন রাতে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তিনি। পরে সুমিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ইসমাইলকে প্রধান আসামি করা হয়।
র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, গ্রেপ্তার ইসমাইলকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অজু করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে আলী আকবর (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুকুরে ভাসতে থাকা জুতার সূত্র ধরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের বাড়ির পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আলী আকবর ওই বাড়ির মৃত দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে।
সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রুবেল মিয়া জানান, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে ঘরের পাশের পুকুরঘাটে অজু করতে যান আলী আকবর। একপর্যায়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে তিনি ডুবে যান। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুপুরে পুকুরে তার একটি জুতা ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও প্রত্যাশার চেয়ে কম ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যর্থতাই শেষ নয়, তোমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি ধাপ মাত্র। দক্ষতা ও অধ্যবসায় থাকলে এই হোঁচট থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও বড় হওয়া সম্ভব।’
জেলা প্রশাসক তার নিজের জীবনের এক না বলা গল্পের কথা শোনান, ‘আমার ইচ্ছে ছিল প্রকৌশলী হবার। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষায় অংকে ফল খারাপ হওয়ায় ভর্তির আবেদনই করতে পারিনি। তখন মা ও পরিবারের সাহসে নতুন করে শুরু করি। পরে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করে প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েই প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পাই। সেদিন হেরে গেলে আজ এখানে আসতে পারতাম না।’
আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘তোমার ফলাফল তোমার গল্পের শেষ নয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের এক ব্যতিক্রমী সমাবেশে বক্তব্য দানকালে জেলা প্রশাসক কথাগুলো বলেন। সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা ভূলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখান।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘জীবন মানেই সিঁড়ির পর সিঁড়ি। পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করেও জগতে অনেক বড় হয়েছেন, এমন উদাহরণ ভুরিভুরি আছে। একটি ধাপে ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।’
সমাবেশে আসা নওগাঁ প্যারিমোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা আখতার বলে, ‘জিপিএ-৫ না পেয়ে মন ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু আজ স্যারদের কথা শুনে অনুপ্রাণিত হলাম। আগের ভুল শুধরে ভবিষ্যতে ভালো ফল করতে চাই।’
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিগারেটের বড় একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের মোট মূল্য ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, আজ সোমবার সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইটের যাত্রী ও ব্যাগেজে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।
অভিযানে যাত্রী এমডি মঈনুল আবদিনের কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৪৯ কার্টন ও মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫ কার্টন-মোট ২৬৪ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী আবদুল মান্নানের কাছ থেকে প্লাটিনামের ২৩৩ কার্টন ও মন্ডের ১৩ কার্টনসহ মোট ২৪৬ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। সিআইআইডির অভিযানে নুরুল আলম রিয়াদ নামে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৬৫ কার্টন ও ইজি ব্র্যান্ডের সাত কার্টন-মোট ২৭২ কার্টন সিগারেট এবং পাঁচটি আইফোন জব্দ করা হয়।
২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে ১ হাজার ২০ কার্টুন
অভিযানের সবচেয়ে বড় চালানটি পাওয়া যায় বিমানবন্দরের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে। একই বিজি-১৪৮ফ্লাইটে আসা মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ২০ কার্টন জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এক ফ্লাইট থেকেই মোট ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, আটক সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। এর ওপর ৬২১ শতাংশ অনুযায়ী প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। অন্যদিকে, জব্দ ১৩টি আইফোনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ৫৮ শতাংশ অনুযায়ী এসব মোবাইল ফোনের প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৭১০ টাকা। ফলে আটক সিগারেট ও মোবাইল ফোনের শুল্ক-করসহ সর্বমোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা।
সিআইআইডি জানিয়েছে, একই ফ্লাইটের একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও আইফোন এবং মালিকানাবিহীন ব্যাগেজে আরও ১ হাজার কার্টনের বেশি সিগারেট পাওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
সিআইআইডির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সাম্প্রতিক ইতিহাসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একযোগে সর্ববৃহৎ সিগারেটের চালান আটকের ঘটনা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।