ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর গণমিছিল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. মহসিনের পক্ষে এক বিশাল গণমিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণমিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশাল এক বিশাল মিছিলের মাধ্যমে সমাবেশ টি সফল করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. মহসিন। তিনি বলেন, জনগণের ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বাঞ্ছারামপুরের সার্বিক উন্নয়ন, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমীর মাওলানা মোবারক হোসাইন আকন্দ।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রেখে জনগণের কাছে জামায়াতের আদর্শ ও কর্মসূচি পৌঁছে দিতে নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক নকিবুল হুদা এবং নবীনগর উপজেলা আমীর মোখলেছুর রহমান।
তারা সবাই জনগণের অধিকার আদায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা আমীর কাজী মাওলানা আবুল বাশার এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি শামীম নূর ইসলাম।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দশ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের নেতৃবৃন্দ, এনসিপির আহ্বায়ক মো. মাইনুদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উপজেলা সহ-সভাপতি মাওলানা সারোয়ার আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং উপজেলার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ।
গণমিছিল ও সমাবেশে নেতৃবৃন্দ শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখে জনগণের কাছে জামায়াত প্রার্থীর বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নোয়াখালীর সেনবাগে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে আটচল্লিশ বছর বয়সী এক প্রবাসীর স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী চারজনকে আসামি করে সেনবাগ থানায় মামলা করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো.লিংকন (২৭) নামে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নে পূর্ব শ্যামেরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি প্রায় ২০ সেকেন্ডের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়দের মুঠোফোনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং আশপাশে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। একপর্যায়ে ওই নারীর হাতে কয়েকটি মুরগি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
গ্রেপ্তার লিংকন উপজেলার বীজবাগ ইউনিয়নের কাজিরখীল গ্রামের ফরাজি বাড়ির মো.মোস্তফার ছেলে।
এ ঘটনার বিচার চেয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন নির্যাতনের শিকার নারী। তিনি অভিযোগ করেন, মুরগি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন গৃহিনী। পাশাপাশি বাড়িতে মুরগি ও কোয়েল পাখির কামার দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার স্বামী ও এক ছেলে প্রবাসে থাকেন। আসামিদের সঙ্গে তার জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তার ঘরে ঢুকে মুঠোফোন কেড়ে নেন এবং জোর করে পাশের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে মুরগি চুরির অভিযোগ তুলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিবাগত রাত প্রায় ১টা পর্যন্ত মারধর করা হয় বলে অভিযোগ তার।
তবে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, ওই নারী মুরগি চুরির কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তার ঘর থেকে ৪৫টি মুরগি উদ্ধার করে খামারিকে ফেরত দেওয়া হয়।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, গাছে বেঁধে রাখার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। নারীর লিখিত অভিযোগ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় দেড় মাস বয়সী এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা পরস্পরকে হত্যার জন্য দায়ী করে অভিযোগ করায় শিশুটির বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, একই দিন ভোরে উপজেলার চরকাকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লারটেক এলাকার মফিজ মিয়ার নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত শিশুর নাম হুমাইরা জান্নাত (১ মাস ২০ দিন)। সে ওই এলাকার অলি উল্লাহ আজাদ (৩৫) ও পারুল আক্তারের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারুল আক্তার তার ছেলে সিফাত (৫) ও মেয়ে হুমাইরাকে নিয়ে ঘরের ভেতরের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। শিশুটির বাবা অলি উল্লাহ আজাদ ঘরের সামনের কক্ষে ঘুমান। ভোরে ঘুম থেকে উঠে অলি উল্লাহ শিশুটিকে দেখতে গিয়ে তার কোনো নড়াচড়া দেখতে পাননি। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে দেখতে পান, শিশুটি মারা গেছে। এ সময় অলি উল্লাহ অভিযোগ করেন, শিশুটির মা পারুল আক্তার তাকে হত্যা করেছেন। অন্যদিকে পারুল আক্তার অভিযোগ করেন, শিশুটির বাবা অলি উল্লাহ শিশুটিকে হত্যা করেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো.আবু কাউছার বলেন, পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ পরীক্ষা করে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি। তবে শিশুটির নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। হুমাইরা জন্মের পর থেকেই অসুস্থ ছিল এবং মাথায় সমস্যাও ছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। জন্মের পাঁচ দিন পর অসুস্থতার কারণে তাকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চার দিন ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নুরুল হাকীম বলেন, এ ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে শিশুটির মরদেহ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী বাজারের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চৌমুহনী পৌরসভা এলাকার চৌমুহনী বাজারের রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, চাটেখেলর তালতলা গ্রামের আবু নাছের শরীফ (৬৩), চট্রগ্রামের মিরসরাই থানা এলাকার মো. ইমন হোসেন (৩২), চৌমুহনী পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপুর এলাকার মো. হানিফ (৩৫), চৌমুহনী পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ডের সাফায়েত হোসেন সাকিব (২৭), বরিশালের বড় জালিয়া গ্রামের রিনা বেগম (৩৪), সুনামগঞ্জের লালপুর গ্রামের স্নেহা আক্তার (২১), ঢাকার যাত্রাবাড়ির মাইশা আক্তার (১৮), সুধারাম থানার সল্যা সোনাপুর ইসরাত জাহান পূর্ণিমা (১৮), নোয়াখালীর পৌরসভার ৪নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা আক্তার নুসরাত (১৮), একই ওয়ার্ডের জান্নাতুল ফেরদৌস মারিয়া (১৮), বেগমগঞ্জের হাজীপুর গ্রামের মরিয়ম আক্তার (৩০) ও নওগাঁ জেলার বদলগাছি গ্রামের মিম আক্তার (২৮)।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং ওসি, ডিবির সার্বিক তত্ত্বাবধানে রিলাক্স আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ যুবতীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে (৩৮) গ্রেপ্তারের পর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া একাধিক গায়েবি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে হাতিয়া থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি যুবদল নেতা মোহাম্মদ হানিফ নন; একই নামের অন্য এক হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয় বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, তমরুদ্দী ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তারের পর তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে দ্রুত বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তমরুদ্দী ইউনিয়নের কাটাখালি এলাকা থেকে মোহাম্মদ হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে হাতিয়া থানায় না নিয়ে নলচিরা নৌ-পুলিশ ক্যাম্পে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বৃহস্পতিবার তাকে নোয়াখালী জেলা শহরে সুধারাম থানায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে দুপুরে তিনটি চুরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৫ সালের একটি রাজনৈতিক মারামারির মামলায় সম্প্রতি আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর হানিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ২০২৬ সালের তিনটি চুরি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তমরুদ্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার বলেন, হানিফ ইউনিয়ন যুবদলের প্রচার সম্পাদক এবং অতীতে রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া পুরোনো রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে নতুন তিনটি গায়েবি চুরির মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি যদি অপরাধী হন প্রচলিত আইনে বিচার হবে। গায়েবি মামলায় তাকে কেন গ্রেপ্তার করা হবে।
তিনি বলেন, সে কোনো পেশাদার চোর বা অপরাধী নয়। পুলিশ কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই তাকে তিনটি চুরির মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মত নিরীহ মানুষকে মিথ্যা এবং গায়েবি মামলায় হয়রানি করছে হাতিয়া থানার ওসি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে প্রশাসনের মধ্যে এরা কারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। তিনি বলেন, যাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তার কোন বিএনপির পদ নেই। আপনি স্থানীয়দের থেকে ভালো ভাবে খোঁজ নেন।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অর্থনৈতিক অনিয়ম, শিক্ষক রাজনীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী তালুকদার এবং তাঁর অনুসারীদের প্রভাবে বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
তাঁর দাবি, বরখাস্তকৃত সহকারী প্রধান শিক্ষক মোসাঃ হামিদা বেগমসহ কয়েকজন শিক্ষক ভূয়া কাগজপত্র তৈরি, জেলা পরিষদের অর্থ আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের বেতন-ফি বাবদ প্রায় ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
প্রধান শিক্ষক আরও অভিযোগ করেন, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কথিত অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। গত ১৬ আগস্ট ইউএনওর বিদ্যালয় পরিদর্শন নিয়েও তিনি অভিযোগ তুলে বলেন, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া এবং পরদিন শিক্ষার্থীদের সামনে আর্থিক অনিয়মের কথা বলায় তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান জানান, একাধিক শিক্ষকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এবং প্রধান শিক্ষককে অবহিত করেই পরিদর্শন করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হলেও তা উপস্থাপন করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে কিছু অসংগতি পাওয়ায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যালয় থেকে নেওয়া কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং প্রধান শিক্ষককে অপমান করার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
ইউএনও জানান, ভাউচার পর্যালোচনায় কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে; তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৮টি জোন ও ৫৭টি ওয়ার্ডে শীঘ্রই উন্নতমানের খেলার মাঠ ও আধুনিক ফুটসাল টার্ফ নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে টঙ্গী প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: অর্জন, প্রত্যাশা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে জমি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ডিপিপি (উচ্চ) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী কলেজগেট অডিটোরিয়াম ও স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণটি সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে উদ্ধার করা হয়েছে। বুয়েটের প্রকৌশলীদের দিয়ে সেখানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক স্টেডিয়াম এবং সিটির আঞ্চলিক কার্যালয়ের স্থানে ১০ তলা ভবনের নকশার কাজ চলছে। জনভোগান্তি নিরসনে বিআরটি প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করে চেরাগ আলী ও কলেজগেট এলাকায় রেইলিং ফেনসিং নির্মাণ, নতুন ফুটওভার ব্রিজ চালুর পাশাপাশি টঙ্গী প্রেসক্লাবের জন্য একটি নিজস্ব ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্টানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)'র সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সবচাইতে বড় অর্জন হলো স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও একটি মুক্ত বাংলাদেশ। বিগত সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতা চরমভাবে হরণ করা হয়েছিল। অপসাংবাদিকতা দূর করতে হলে পেশাদার সাংবাদিকদের সঠিক মূল্যায়ন ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় প্রেসক্লাব, প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সাংবাদিকদের সরকারি কর্মকর্তা স্কেলের বেতন ভাতা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষায় অনেক অবদান রেখেছেন।
টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মো: মেরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ আজিজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, জিএমপি (দক্ষিণ)-এর এডিসি মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি সৈয়দ আতিক প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মাহবুব চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: জাকারিয়া চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদ আহম্মেদ রবিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সবুর খান, দপ্তর প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান শোভন, সদস্য এম আর নাসিরসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।