`উইন্টার ইজ কামিং’ এবার জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রামের রাজপথে

  • প্রকাশ : সোমবার ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫২ এএম

জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’। ক্ষমতার লড়াই, অশনি সংকেত আর ভবিষ্যৎ বিপদের প্রতীকী ভাষার জন্যই যার খ্যাতি। 


সেই সিরিজের সবচেয়ে আলোচিত সংলাপ ‘উইন্টার ইজ কামিং’ এবার জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রামের রাজপথে। তবে এই বার্তা আর কল্পনার জগতে সীমাবদ্ধ নেই- এবার তা ব্যবহার করা হচ্ছে বাস্তব রাজনীতির প্রচারণায়।


চট্টগ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জনসভাকে কেন্দ্র করে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর থিমে তৈরি একটি ব্যানার নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। 


আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভাকে কেন্দ্র করে এই ব্যানারটি নগরে দেখা যায়।


নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম সফর করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার আগমনের দিন তার ছবি দিয়ে তৈরি এমন পোস্টার ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।


নগরের হালিশহর ও চকবাজারসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দেখা গেছে, গেম অব থ্রোনস- এর আদলে তৈরি ব্যানার। সেখানে সিরিজের জনপ্রিয় চরিত্র জন স্নোর পরিবর্তে বসানো হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ছবি। হাতে জন স্নোর তলোয়ারের আদলে রয়েছে দাঁড়িপাল্লা- জামায়াতের নির্বাচনী প্রতীক। পেছনের পটভূমিতে তুষার, নেকড়ের অবয়ব- সব মিলিয়ে পুরো ব্যানারটি যেন সিরিজের পোস্টার থেকেই উঠে এসেছে। নিচে লেখা- ‘দাদু ফ্যান ক্লাব, সিটিজি’।


গেম অব থ্রোনস- এর গল্পে ‘উইন্টার ইজ কামিং’ ছিল কেবল একটি বাক্য নয়; এটি ছিল সতর্কবার্তা- কঠিন সময় আসছে, প্রস্তুত থাকো। স্টার্ক পরিবারের এই মূলমন্ত্রের মধ্য দিয়ে দর্শকদের জানানো হয়েছিল এক অজানা ভয়ংকর ভবিষ্যতের কথা, যেখানে হোয়াইট ওয়াকারসের মতো অশুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটবে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতীকী ভাষা ব্যবহার করে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে- আগামী সময়কে ‘পরিবর্তনের মুহূর্ত’ বা ‘সংকটের কাল’ হিসেবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পপ কালচারের জনপ্রিয় উপাদানকে কৌশলে রাজনীতির মাঠে নামানো হয়েছে।


রাজনীতিতে পপ কালচারের ব্যবহার নতুন নয়, তবে গেম অব থ্রোনস- এর মতো বিশ্বব্যাপী আলোচিত সিরিজের প্রতীককে সরাসরি রাজনৈতিক বার্তায় রূপ দেওয়ার ঘটনা দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে- যা ইতোমধ্যে নগরজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


তবে এমন ব্যানার নিয়ে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে জামায়াত ও তাদের ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, এসব পোস্টারের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন।


ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখার প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতগুলো ফ্যান পেজ থেকে ছবিগুলো ভাইরাল হয়েছিল। এরপর এগুলো প্রিন্ট কেউ ব্যানার আকারে লাগিয়েছে। এটির সঙ্গে সংগঠনের কোনও সম্পর্ক নেই।


চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি শুনিনি। সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এমন কোনও ব্যানার লাগানো হয়নি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে খবর নিচ্ছি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমি আক্তারকে (২১) হত্যার অভিযোগে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা স্বামী মো. ইসমাইল হোসেনকে (২৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।  


গতকাল রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু। এর আগে, শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানাধীন ফৌজদারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ও র‍্যাব-৭-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার মো. ইসমাইল উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের দিলিলপুর গ্রামের মাইজা বেপারী বাড়ির এনামুল হক বাবুলের ছেলে।  


র‍্যাব জানায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্ত্রী সুমি আক্তারের কাছে ছাগল ও স্টিলের আলমারি অথবা ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন ইসমাইল। ভুক্তভোগীর বাবা কিছু টাকা পাঠালেও দাবিকৃত টাকা কম হওয়ায় গত বছরের ৬ জুন রাতে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন তিনি। পরে সুমিকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের পর আদালতের নির্দেশে বেগমগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ইসমাইলকে প্রধান আসামি করা হয়।


র‍্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালীর কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মিঠুন কুমার কুণ্ডু আরও বলেন, গ্রেপ্তার ইসমাইলকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৫ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে অজু করতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে আলী আকবর (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় ৮ ঘণ্টা পর পুকুরে ভাসতে থাকা জুতার সূত্র ধরে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।


গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চরজব্বর গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের বাড়ির পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আলী আকবর ওই বাড়ির মৃত দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে।


সুবর্ণচর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রুবেল মিয়া জানান, ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে ঘরের পাশের পুকুরঘাটে অজু করতে যান আলী আকবর। একপর্যায়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে তিনি ডুবে যান। সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে দুপুরে পুকুরে তার একটি জুতা ভাসতে দেখে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হবে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৫৭ পিএম

এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও প্রত্যাশার চেয়ে কম ফল পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘ব্যর্থতাই শেষ নয়, তোমাকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি ধাপ মাত্র। দক্ষতা ও অধ্যবসায় থাকলে এই হোঁচট থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও বড় হওয়া সম্ভব।’


জেলা প্রশাসক তার নিজের জীবনের এক না বলা গল্পের কথা শোনান, ‘আমার ইচ্ছে ছিল প্রকৌশলী হবার। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষায় অংকে ফল খারাপ হওয়ায় ভর্তির আবেদনই করতে পারিনি। তখন মা ও পরিবারের সাহসে নতুন করে শুরু করি। পরে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করে প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়েই প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পাই। সেদিন হেরে গেলে আজ এখানে আসতে পারতাম না।’


আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘তোমার ফলাফল তোমার গল্পের শেষ নয়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের এক ব্যতিক্রমী সমাবেশে বক্তব্য দানকালে জেলা প্রশাসক কথাগুলো বলেন। সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন। 


নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আয়শা সিদ্দিকা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মনির আলী আকন্দ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মাহমুদ, পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন প্রমুখ। আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা ভূলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখান।


পুলিশ সুপার বলেন, ‘জীবন মানেই সিঁড়ির পর সিঁড়ি। পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল করেও জগতে অনেক বড় হয়েছেন, এমন উদাহরণ ভুরিভুরি আছে। একটি ধাপে ব্যর্থ হওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়।’


সমাবেশে আসা নওগাঁ প্যারিমোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা আখতার বলে, ‘জিপিএ-৫ না পেয়ে মন ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু আজ স্যারদের কথা শুনে অনুপ্রাণিত হলাম। আগের ভুল শুধরে ভবিষ্যতে ভালো ফল করতে চাই।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ পিএম

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সিগারেটের বড় একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। 


দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। শুল্ক-করসহ আটক পণ্যের মোট মূল্য ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 




এতে বলা হয়, আজ সোমবার সকাল ৮টা ১৮ মিনিটে দুবাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটটি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইটের যাত্রী ও ব্যাগেজে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়।


অভিযানে যাত্রী এমডি মঈনুল আবদিনের কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৪৯ কার্টন ও মন্ড ব্র্যান্ডের ১৫ কার্টন-মোট ২৬৪ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী আবদুল মান্নানের কাছ থেকে প্লাটিনামের ২৩৩ কার্টন ও মন্ডের ১৩ কার্টনসহ মোট ২৪৬ কার্টন সিগারেট এবং চারটি আইফোন জব্দ করা হয়। সিআইআইডির অভিযানে নুরুল আলম রিয়াদ নামে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের ২৬৫ কার্টন ও ইজি ব্র্যান্ডের সাত কার্টন-মোট ২৭২ কার্টন সিগারেট এবং পাঁচটি আইফোন জব্দ করা হয়।


২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে ১ হাজার ২০ কার্টুন


অভিযানের সবচেয়ে বড় চালানটি পাওয়া যায় বিমানবন্দরের ২ নম্বর ব্যাগেজ বেল্টে। একই বিজি-১৪৮ফ্লাইটে আসা মালিকানাবিহীন ব্যাগেজ থেকে প্লাটিনাম ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ২০ কার্টন জব্দ করা হয়। এ নিয়ে এক ফ্লাইট থেকেই মোট ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে।


সিআইআইডি জানিয়েছে, আটক সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ৮ হাজার টাকা। এর ওপর ৬২১ শতাংশ অনুযায়ী প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা। অন্যদিকে, জব্দ ১৩টি আইফোনের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ৫৮ শতাংশ অনুযায়ী এসব মোবাইল ফোনের প্রযোজ্য শুল্ক-কর প্রায় ৭ লাখ ২৩ হাজার ৭১০ টাকা। ফলে আটক সিগারেট ও মোবাইল ফোনের শুল্ক-করসহ সর্বমোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার ৩৯০ টাকা।


সিআইআইডি জানিয়েছে, একই ফ্লাইটের একাধিক যাত্রীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও আইফোন এবং মালিকানাবিহীন ব্যাগেজে আরও ১ হাজার কার্টনের বেশি সিগারেট পাওয়ার ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। 


সিআইআইডির গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে সাম্প্রতিক ইতিহাসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একযোগে সর্ববৃহৎ সিগারেটের চালান আটকের ঘটনা হিসেবে এটি বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ পিএম

উত্তরাঞ্চলের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিতব্য ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএসটি) সরকারি অনুমোদন পেয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ইএসডিওর দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।


ইএসডিও জানায়, ‘শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে উদ্ভাবন, আর উদ্ভাবন থেকে কর্মসংস্থান’ এই দর্শনকে সামনে রেখে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি গড়ে তোলা হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু ডিগ্রিধারী নয়, জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মজীবনের উপযোগী সক্ষমতা সম্পন্ন করে গড়ে তোলাই হবে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।




বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিকল্পনায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, কৃষি, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রযুক্তির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের চাহিদাসম্পন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি আধুনিক গবেষণাগার, উদ্ভাবন গবেষণাগার এবং সমস্যা সমাধানভিত্তিক গবেষণার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।


শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ, শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ কার্যক্রম, কর্মজীবন সহায়তা এবং চাকরির সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ ও স্টার্টআপ বিকাশে বিশেষ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।


ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ও ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ উজ জামান বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে একটি উচ্চমানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন তারা দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসছেন। রাষ্ট্রীয় অনুমোদন পাওয়ায় তারা আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।


তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী শুধু একটি সনদ নিয়ে বের হবে না। সে বের হবে জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং কর্মজীবনে সফল হওয়ার সক্ষমতা নিয়ে।


তার ভাষায়, ডিগ্রি নয়, সক্ষম মানুষ তৈরি করাই হবে ইউস্টের সাফল্যের মাপকাঠি।


ঠাকুরগাঁওয়ের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর মনোতোষ কুমার দে বলেন, উত্তরাঞ্চলের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাড়ি জমায়। নিজ এলাকায় মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি স্থানীয় মেধাকে স্থানীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে।


তরুণ শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু প্রচলিত শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন যথেষ্ট নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মতো খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে পারলে ইউএসটি উত্তরাঞ্চলের তরুণদের জন্য বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।


সমাজ সেবক সুবর্ণ আহমেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলের স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে গবেষণার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ, ডিজিটাল রূপান্তর, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক উদ্ভাবনের মতো বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান বের করার সুযোগ তৈরি হবে।


কলেজ শিক্ষক জুলফিকার আলী বলেন, উত্তরাঞ্চলের বাস্তব সমস্যাগুলোই বিশ্বমানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিষয় হতে পারে। কৃষি, জলবায়ু, পানি, পরিবেশ ও প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে গবেষণা হলে এর সুফল শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, পুরো দেশের মানুষ পেতে পারে।


স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা মাজেদুর, সাইফুল ও রহমানের মতে, উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরির কার্যকর সংযোগ ঘটাতে পারলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।


ইএসডিও কর্তৃপক্ষ জানায়, মেধাবী, নারী, প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁও শুধু একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ই পাবে না, বরং উত্তরাঞ্চলে গড়ে উঠবে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক নতুন একটি পরিবেশ। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, শিল্প ও উদ্যোক্তা সংযোগ এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


ইএসডিওর ভাষ্য, “শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে উদ্ভাবন, আর উদ্ভাবন থেকে কর্মসংস্থান” এই দর্শনকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। উত্তরাঞ্চল থেকেই বিশ্বমানের জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের নতুন পথ তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ১৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২০ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে মাহমুদুন নবী ওরফে সম্রাট (৩৯) নামে এক কলেজ শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  


আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আলী আহাম্মদের বাড়ির সামনের মসজিদের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


নিহত সম্রাট ওই এলাকার মইনুল হক রতনের ছেলে। তিনি স্থানীয় ওয়েস্ট ব্যাংক কলেজের শিক্ষক ছিলেন।  


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে সম্রাট বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। সোমবার সকালে বাড়ির পাশে মসজিদের পুকুরে তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।


কোম্পানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে রয়েছে। স্থানীয়দের তথ্যের ভিতিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাস্থলেই মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহৃ দেখা যায়নি। তবে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

সর্বশেষ সব খবর