• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ এএম

বরগুনা-১ (সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার সুযোগ না থাকা এবং দলটি নিষিদ্ধ থাকায় মাঠে নেই তাদের প্রার্থী ও সাংগঠনিক কার্যক্রম।


এতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরগুনা-১ আসনে তৈরি হয়েছে ভোট দখলের লড়াই। তবে এই লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের ভোটারদের সমর্থন পেতে মাঠে সক্রিয় বিএনপি ও চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।


মূল প্রশ্ন হলো আওয়ামী লীগের বিপুল ভোটব্যাংক কার দখলে যাবে? বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন।


পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১১ জন। বরগুনা সদর ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ জন।


আমতলী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত, ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮৪৮।


তালতলী উপজেলা ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, ভোটার সংখ্যা ৮৭ হাজার ২০। তিন উপজেলার এই বিশাল ভোটারদের বেশিরভাগ আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দৃশ্যপট পালটে জল গড়িয়েছে অনেক দূর।


শীর্ষ নেতারা পলাতক, কেউবা রয়েছেন জেলে। মামলায় জর্জরিত নেতা-কর্মীদের রাজনীতিতে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর মতো অবস্থায় নেই৷


তবে তৃণমূলের সাধারণ কর্মী ও ভোটারদের বেশিরভাগই বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।


দলটির অনুপস্থিতিতে এই কর্মী-সমর্থকদের ভোটগুলো কোন দিকে যাবে, সেটিই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


তাদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক এবার একমুখী হবে না। মধ্যপন্থী ভোটের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারে। আবার ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে একটি অংশ ইসলামী আন্দোলনের দিকে যেতে পারে।


একই সঙ্গে একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তারা ভোট কেন্দ্রে গেলে ভোটের হিসেব পালটে যেতে পারে। বিএনপি এই আসনকে নিজেদের জন্য সুযোগ হিসেবে দেখছে।


দলটি ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়েছে। বেগম জিয়ার মৃত্যু, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে পূর্ণদায়িত্ব পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করেছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা ব্যাপক বাড়ানো হয়েছে।


সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নিরপেক্ষ ভোটারদের কাছে পৌঁছানোই বিএনপির অন্যতম লক্ষ্য বলে একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।


বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ‘এনপিবি’-কে বলেন, “রাজনীতির মাঠে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা হিসেবে আমি জনগণের পাশে ছিলাম। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনঅধিকার প্রতিষ্ঠায় আজও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।


দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমি দলকে এই আসনটি উপহার দিতে চাই। বরগুনাকে উন্নয়নে এগিয়ে নিতে চাই।


অন্যায়, অত্যাচার ও লুটপাটের রাজনীতি বরগুনা থেকে চিরতরে নির্মূল করতে চাই। সাধারণ মানুষ ও নতুন প্রজন্ম আমার প্রতি আস্থা রেখে, ইনশাল্লাহ ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবে।"


অপরদিকে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বাজিমাত করার স্বপ্ন দেখছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা ইসলামী শাসনব্যবস্থা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের কথা বলে ধর্মপ্রাণসহ সকল ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।


স্থানীয়ভাবে চরমোনাই নেতারা আশা করছেন, আওয়ামী লীগের ভোটের একটি বড় অংশ তাদের দিকে যাবে।


এরইমধ্যে চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট রাজনীতির বাইরে থেকে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে মাঠে রয়েছে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় মাহফিলকেন্দ্রিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা ধারাবাহিকভাবে ভোটার সংযোগ বাড়িয়েছে।


তরুণ ও কওমি ধারা, সনাতন ভোটারদের মধ্যে দলটির প্রভাব দিন দিন বাড়ছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা হচ্ছে।


সেক্ষেত্রে চরমোনাই মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন কি আওয়ামীপন্থী ভোটারের একটা অংশ এরই মধ্যে তার পক্ষে মাঠে সক্রিয় হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।


জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করে মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ ‘এনপিবি’ কে বলেন, "আমরা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। আমাদের সঙ্গে কোনো দলের সংঘাত নাই, তাই আওয়ামী লীগের ভোটও আমরা পাবো বলে বিশ্বাস করি।


বিগত দিনে ভোটের স্বাধীনতা থেকে বার বার আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এবারের নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হলে সকল মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে আমি বিজয়ী হবো।”


বরগুনা-১ আসনের নির্বাচন এবার শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত ভোটব্যাংক দখলের প্রতিযোগিতা।


প্রায় সাড়ে ৫ লাখ ভোটারের এই আসনে কারা এগিয়ে থাকবে, তা নির্ভর করবে ভোটার উপস্থিতি, মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক কাঠামো এবং আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট ব্যবহারের সিদ্ধান্তের ওপর। উপকূলীয় এই আসনের ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও বার্তা দিতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।


বরগুনা-১ (বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী) আসনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা(ধানের শীষ প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোঃ মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ(হাতপাখা প্রতীক), খিলাফাত মজলিস থেকে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসাইন(ঘড়ি প্রতীক) ও জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মোঃ জামাল হোসাইন (বাই সাইকেল প্রতীক)।


এদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান অলিউল্লাহ।


এ আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ জন। এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ জন। পোস্টাল ভোটার রয়েছেন ৬ হাজার ২৯৮ জন। আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৯০টি।




  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪৩ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার ইমাম উদ্দিনকে (৪৫) কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হোটেলের ক্যাশ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছেন তিনি।


শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে দিকে উপজেলার চৌমুহনী-ফেনী রোডের আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজারের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।


আহত ইমাম উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নওয়াজপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত।


এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় দায়ের করা এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন, হাসান মাহমুদ শুভ (৩৫), বাবু (৩৫), এনামুল হক লালন (৩২) ও মহদী হাসান (৩০)। তারা সবাই চৌমুহনী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং মাদকাসক্ত।


এজাহারে ইমাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, হোটেলের পার্টনার হাসান মাহমুদ শুভ বিভিন্ন সময় হিসাবের বাইরে টাকা নিয়ে যেতেন। অন্যান্য পার্টনাররা তাকে হিসাবের বাইরে কোনো টাকা না দিতে নিষেধ করেন। এরপর থেকে শুভ তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।  


ভক্তভোগী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে চার আসামিসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন রামদা, ছেনি, চাপাতি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে ইমাম উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়ে পাঁচটি সেলাই লাগে। এছাড়া লোহার রড দিয়ে মাথার বাম পাশে আঘাত করে গুরুতর জখম করা এবং ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেয়। অপর এক আসামি গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ইমাম উদ্দিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আব্দুল মালেক নামে এক বৃদ্ধকেও মারধর করে আহত করা হয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার হোটেলে হামলা ভাঙচুর চালান। পরে হামলাকারীরা মামলা করলে প্রাণে মেরে লাশ গুম করার হুমকি দেন। পরে আহত ইমাম উদ্দিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার হাসান মাহমুদ শুভ'র মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।  


যোগাযোগ করা হলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  


  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩০ পিএম

“রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে বর্ণাঢ্য  র‍্যালি, বেলুন উড়ানো ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


রোববার (১৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর, ঠাকুরগাঁওয়ের আয়োজনে জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য সড়ক র‍্যালিটি বের হয়। র‍্যালির আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন উপলক্ষে বেলুন উড়ানো হয়। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


র‍্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় মৎস্য পক্ষের তাৎপর্য ও দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার সরকার।


সভায় বক্তারা মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, জলাশয় সংরক্ষণ এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


উল্লেখ্য, জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ চলবে ১৬ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। এ উপলক্ষে মৎস্য খাতের উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।



  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম


সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জে) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। 


অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন।


শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আড়চালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের কাছে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতবিনিময় সভা শেষে এমপি আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।


এ ঘটনার পর ধানগড়া এলাকায় স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ করেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী মো. শেখ রিয়াদ ও শ্রাবণ বলেন, ফয়সাল বিশ্বাসকে আজকের অনুষ্ঠানে কেউ দাওয়াত দেয়নি। তিনি এসে তাদের উসকানিমূলক কথা বলেন।


তারা বলেন, ‘আমরা এমপিকে শ্রদ্ধা করি। আমরা তাঁকে আমাদের দাবি-দাওয়া জানাচ্ছিলাম। কিন্তু ফয়সাল বিশ্বাস আমাদের জঙ্গিসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে গালাগালি করেন। বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী আমাদের আহত করেন। পরে ফয়সাল বিশ্বাস এমপির গাড়িতে চলে গিয়ে লাইভে এমপির গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে বলে জানান।’


শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, এমপির গাড়িতে যাওয়ার সময় তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।


পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, এমপির গাড়িতে হামলা হয়েছে। শিবিরের, এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। 


অন্যদিকে এমপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে চান্দাইকোনা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে বক্তারা এমপির গাড়িবহরে হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী, শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।


ঘটনার বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক বলেন, ‘আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি হামলা করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, আমি নিজ চোখে দেখেছি। প্রশাসন আজ রাতেই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে।’


তিনি বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীসহ বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।


রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. এসএম মুনসুর আলী বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ছাত্রশিবিরের সভাপতির সাথে কথা বলেছি তারা অবগত নয় বলে জানিয়েছে।’ তবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


এদিকে ঘটনার পর থেকে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন।


বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কয়েকজন সদস্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েক প্রজাতির ৬৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।


গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বণ্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬ এর ধারা ৩৬ (২), (৪) ও ৪৭ (২), সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর ২৬ (৩) এবং দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর, ১৯৮৯ ধারা ১০৩, ৫১৬ ক ও ৫২৫ এর বিধানর ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেঃ এ এইচ এন সারতাজ বিন সোহরাব এর বিরুদ্ধে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করা হবে না; সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।   


জব্দকৃত অবৈধ মাছের মধ্যে ছিলো শাপলাপাতা মাছ ৪৪০ কেজি ও গিটার মাছ ২৫০ কেজি। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। 


কোস্টগার্ডের সূত্রানুযায়ী- স্থানীয় বিএফডিসি মৎস্য ঘাটের একটি আড়তে সামুদ্রিক মাছ মজুদ রেখে বিক্রয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি বলে জানান কোস্টগার্ড। 


একই সূত্রে আরও জানা গেছে- পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে আদালতকে অবহিত করেন।


সুশিলা রাণী

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

জীবন সায়াহ্নের শেষ দশকে এসেও একটু শান্তির মুখ দেখতে পারছেন না আশি পেরোনো রুহিয়ার বয়োবৃদ্ধা সুশিলা রাণী। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতে শান্তিতে দিন কাটানো তো দূরের কথা, নিজের সম্পত্তি ভোগদখল করতে না পেরে উল্টো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ভুক্তভোগী এই বৃদ্ধার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং বদলেছে কেবল অত্যাচারীর পেছনের রাজনৈতিক অভিভাবক।


ভুক্তভোগীর দাবি, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রুহিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পার্থ সারথি সেনের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সুশিলা রাণীর দূর সম্পর্কের ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকার জমি জবর দখলের এসব অন্যায় কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। সে সময় একাধিকবার স্থানীয়ভাবে জানানোর পরও কোনো বিচার পাননি অসহায় সুশিলা রাণী।


২৪ এর অভ্যূত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও বদলায়নি সুশিলা রাণীর জীবনের চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিকাশ চন্দ্র সরকারের এই অপকর্মের নতুন আগের রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেইন ধরে রেখে বর্তমানে নতুন স্থানীয় নেতৃত্বকে ব্যবহার করে জমি দখলের পাঁয়তারা ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছেন বিকাশ।


আজ শনিবার (১৫ আগষ্ট) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সুশিলা রাণী তার জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে স্বামীর ভিটের দিকে ফেল ফেল তাকিয়ে রয়েছেন আর নিজ মনে কি যেন বিরবির করে বলছেন। 


ভিটেমাটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে উঠেন, যে পতাকাই উড়ুক না কেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন,তার মতো নিঃস্ব মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিতে কেনো সবাই এক হয়ে যায়? রাজনৈতিক রঙ বদলালেও ক্ষমতার আশ্রয়পুষ্ট বিকাশের মতো মানুষদের চাবুকের আঘাত তো একই রকম রয়ে গেল। ভেবেছিলাম আ’লীগ পালাইছে, এখন হয়তো শান্তিতে থাকতে পারবো। কিন্তু আমার সেই আশা আর পুরণ হলো না, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার বিকাশ তাদের দলে ভিরে ওই একই রকম আচরণ করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই, এর শেষ দেখতে চাই।




এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দল বদলালেও তাদের ওপর নির্যাতনের রূপ বদলায়নি। বিগত সরকারের সময় শুরু হওয়া অসম্পূর্ণ অন্যায়গুলোর দায় যেন এখন নতুন করে কে বা কারা  গ্রহণ করেছে।


সুশিলা রাণীর মেয়ে শোভা রাণী সরকার বলেন, আমি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করি। আমার মা আমাদের বোনদেরকে সহ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। আমাদের কোন অভিভাবক না থাকায় আমাদের ভিটে মাটি নিয়ে যখন যে ইচ্ছে তাই করেছে, আমাদের সাথে ক্রমাগতভাবে অন্যায় করে চলেছে। আমার মাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। অনেকবার বিচার সালিশ হয়েছে, কিন্তু ফল পায়নি আমার মা। আমার কাকাতো ভাই বিকাশ বা তার মত যারা আছে তারা তো অন্যায় করেছেই। ভাবতে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে এ শ্রেণির মানুষ গুলোই সব রাজনৈতিক দলেই আশ্রয় পায়।  


এ বিষয়ে সুশিলার ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান।


নিজের ভিটেমাটিতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাসটুকু ফেলার আকুতি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অসহায় সুশিলা রাণী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।


জামায়াত ও গণধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। 


এছাড়া হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির নিজস্ব কার্যালয়ে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।শনিবার সাড়ে ৬টার দিকে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। 


ভাঙচুরে আমির হামজার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি

এই সমাবেশস্থলের অদূরেই আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমাবেশস্থলে এলে সেখানে থাকা তার কয়েকজন সমর্থক বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 


আমির হামজার সমর্থকরা পরে সেখান থেকে মিছিল করে ছয় রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে দাবি করেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা।  এ সময় সংবাদকর্মীরা এর ছবি সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর আমির হামজার সমর্থকরা চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। 


গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ জানান, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় হামজার সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে এ ব্যাপারে আমির হামজার দুই কর্মী তাৎক্ষণিক জানান, গণঅধিকার পরিষদের লোকজন প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।



জেলা জামায়াতের আমির আলী মহসিন জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য আমির হামজা সুস্থ আছেন। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের লোকজন আগে হামলা করেনি। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তারা কেবল প্রতিরোধ করে। 


কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, তারা উত্তেজনা প্রশমন করার জন্য দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। 


জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কোন ভিত্তি নাই তাদের অল্প কয়েকজন কর্মী রয়েছে, তারা বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালায়। 


তিনি বলেন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে এমপি সাহেবের গাড়িতে হামলা চালায়, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।