ভালুকায় ২২ একর বনভূমি উদ্ধার

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫৫ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ি মৌজায় সরকারি বনভূমি দখলমুক্ত করে বনায়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বন বিভাগ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভিযান পরিচালনা করে তিনটি দাগে প্রায় ২২ একর বনভূমি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় দেড়শ কোটি টাকা, উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা এসব জমিতে শাল, গর্জন ও চাপালিশ প্রজাতির ২০ হাজার চারা রোপণের মাধ্যমে বনায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে।


বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা ইফাজ মোর্শেদ সাহিলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হবিরবাড়ি মৌজার ১৮৫ নম্বর দাগে ভালুকা রেঞ্জ অফিসের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের ওরিয়ন গ্রুেপের দখলে থাকা প্রায় চার একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এ জমির আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০ কোটি টাকা।


এ ছাড়া একই মৌজার ১৫৪ নম্বর দাগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের তিন একর এবং ৭১৭ নম্বর দাগে প্রায় ২২ কোটি টাকা মূল্যের ১৫ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে তিনটি দাগ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২২ একর বনভূমি।


বন বিভাগ জানায়, বনভূমি উদ্ধারের পর শুধু দখলমুক্ত করেই কার্যক্রম শেষ করা হয়নি। উদ্ধার করা জমিতে দেশীয় প্রজাতির শাল, গর্জন ও চাপালিশের ২০ হাজার চারা রোপণ করে বনায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে একদিকে সরকারি বনভূমি পুনরুদ্ধার হয়েছে, অন্যদিকে নতুন করে সবুজ বনাঞ্চল সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীর যোগসাজশে রেঞ্জ অফিসের সামনের বনভূমির প্রায় চার একর জায়গা একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যায়। দীর্ঘদিন পর বন বিভাগ ওই জমি উদ্ধার করে সেখানে বনায়ন করায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।


হবিরবাড়ি বিট কর্মকর্তা ইফাজ মোর্শেদ সাহিল বলেন, সরকারি বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বে উদ্ধার হওয়া ২২ একর বনভূমিতে দেশীয় প্রজাতির ২০ হাজার চারা রোপণের মাধ্যমে বনায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, “বনভূমি শুধু দখলমুক্ত করাই নয়, উদ্ধার করা জমিকে আবার সবুজ বনাঞ্চলে ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণের মাধ্যমে বনাঞ্চল সম্প্রসারণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সরকারি বনভূমি সংরক্ষণে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও বনভূমি দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি চালানো হবে।”


স্থানীয়দের মতে, বনভূমি উদ্ধারের পাশাপাশি সেখানে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রজাতির চারা রোপণ করায় উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বন বিভাগের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভালুকার হারিয়ে যেতে বসা বনভূমি সংরক্ষণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪১ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে দেওতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। 


বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন জানান, প্রতিদিনের ন্যায় রবিরার (১৬ আগষ্ট) বিকেলে বিদ্যালয় ছুটির পর অফিস বন্ধ করে সবাই চলে যাই। সোমবার (১৭ আগষ্ট) সকালে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি বিদ্যালয়ে এসে কেচি গেটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অফিস কক্ষের দিকে যাওয়ার সময় তিনি দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। বারান্দার পকেট গেটের তালাও ভাঙা ছিল বলে বিষয়টি ফোনে আমাকে জানান। 


খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে এসে অফিস কক্ষে ঢুকে দেখি, আলমিরার দরজা খোলা এবং সব কটি ড্রয়ারও খোলা। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তল্লাশি করে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ, শিশুদের হাতে-কলমে শেখানোর কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নেই। ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর প্রজেক্টরটিও নিয়ে গেছে, তাদের এতটুকু দয়াও হলো না।’


স্থানীয় বাসিন্ধা ও অভিভাবকগণ জানান, দেওতলা গ্রামের ইতিহাসে বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা এবারই প্রথম। এলাকায় নেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।


উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জ উপজেলায় মোট ১২৯টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৪৭টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী আছেন। বাকি ৮২টি বিদ্যালয়ে কোনো নৈশপ্রহরী নেই। গত মাসে আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। আমি এখানে যোগদানের মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা হলে কিংবা বরাদ্দ দিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে এ ধরনের চুরি কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো। দেওতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দেওতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে পেশার মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৭ দফা দাবিতে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি জেলা শাখার পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। মঙ্গলবার জেলা কালেক্টরেট চত্বরে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন পালন শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।   


মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দলিল লেখ সমিতি ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো: আব্দুল ওয়াদুদ সরকার প্রমুখ। মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কার্যক্রমে সংগঠনের সদস্যগণ অংশ নেন। 


স্মারকলিপিতে ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না, দলিল প্রতি সম্মানি ভাতা ৫ হাজার টাকা বাস্তবায়ন করতে করা, রেজি: প্রাপ্ত দলিল লেখক ব্যতিত অন্য কেহ দলিল সম্পাদিত করতে পারবে না ও দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য দলিল দাখিল করতে পারবে না মর্মে প্রজ্ঞাপণ জারী করা, থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ব্যতিত অনবিজ্ঞদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারী করা, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারী খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দেওয়া, যেহেতু পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজ পত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়, সেহেতু দলিল লেখকদের পেশাগত কারণে দলিল লেখা/মুসাবিধা ব্যাংক হিসাবে দলিল লেখকদের আসামী করা যাবে না এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি প্রদান করার দাবি রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন রুহিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলাউদ্দিন। পরিদর্শনকালে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। 


(১৮ আগষ্ট)মঙ্গলবার  বিদ্যালয় হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহকারী প্রধান শিক্ষক জিতেন্দ্র নাথ গোস্বামী, সিনিয়র শিক্ষক হারিসুল ইসলাম, মকসেদ আলীসহ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান যেন সমগ্র ঠাকুরগাঁও জেলায় মডেল হিসেবে গড়ে ওঠে, সে বিষয়ে ইউএনও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন। 


শ্রেণিকক্ষে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিষয়ভিত্তিক বিশেষ যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে তারা মূলধারায় ফিরে আসতে পারে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও আধুনিক করে গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ে ৪টি বিশেষ ক্লাব গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়। ক্লাব গুলো হলো- কম্পিউটার ক্লাব, ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব ও সাইন্স ক্লাব। সভায় গৃহিত সকল গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও নির্দেশনা রেজুলেশন আকারে লিপিবদ্ধ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:২৪ পিএম

জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সমাপনী ও সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার(১৮ আগষ্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের আয়োজনে সমাপনী অনুষ্ঠান ও সাঁতার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


সাঁতার প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুর রহমান ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা(অ:দা:) আব্দুস সালাম, সমাজসেবা অফিসার জাকির হোসেন।


জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনী অনুষ্ঠানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা(অ:দা:) আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সমবায় অফিসার জাকিয়া ফারহানা, খাদ্য কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।


সাঁতার প্রতিযোগিতায় ১ম শুভ দাস উত্তর দুড়াকুটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি,২য় স্বাধীন দাস উত্তর বাহাগিলী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ও ৩য় স্থান অর্জন করেন দিলীপ দাস উত্তর বাহাগিলী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি। এ সাঁতার প্রতিযোগিতায় ১৫ জন মৎস্যজীবী জেলেরা অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

দলিল লেখকদের দীর্ঘদিনের ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি (বাদলেস), শরীয়তপুর জেলা শাখা।


আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) সংগঠনের পক্ষ থেকে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর কাছে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়। শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের পক্ষে উক্ত স্মারকলিপি গ্রহণ করেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া ইসলাম সীমা।


স্মারকলিপিতে শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ নুরুল হক মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক বি এম মকবুল হোসেন স্বাক্ষর করেন।


এসময় উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি সরোবর হোসেন সবুজ, সহ-সভাপতি আজিজুল হক, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান ফকির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন সাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বেপারী, অর্থ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, ধর্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা দলিল লেখক সমিতির আহবায়ক বি এম মোস্তাফিজ (মোস্তফা), জেলা কার্যকরী সদস্য মোঃ সাগির হোসেন, সদস্য মফিদুল ইসলাম পাহাড়, সদস্য কামাল হোসেন মামুন তালুকদার, সদস্য সাখাওয়াত হোসেন প্রমূখ।


স্মারকলিপিতে দলিল লেখকদের পেশাগত মর্যাদা, নিরাপত্তা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে; দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, দলিলপ্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল লেখা বা মুসাবিদার সুযোগ না দেওয়া, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ, পেশাগত কারণে দলিল লেখকদের হয়রানি বা মামলায় আসামি না করা। থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ব্যতিত অনভিজ্ঞদের দলিল লেখাার লাইসেন্স প্রদান করা যাবেনা মর্মে প্রজ্ঞাপন জারী করতে হবে। থানা ও জেলা কার্যালয় সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে। যেহেতু পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়; সেহেতু দলিল দেখকদের আসামী করা যাবেনা। দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে। 


স্মারকলিপিতে সংগঠনটি জানায়, দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাদের পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষের সেবাও আরও সহজ ও কার্যকর হবে।


স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতির সমাবেশে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সারাদেশের দলিল লেখকরা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে আসছেন।


শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, আইনমন্ত্রী বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দলিল লেখকদের ন্যায়সঙ্গত দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫৩ পিএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে সৌরভ হোসেনকে (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিক বিকারগ্রস্থ বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


গত শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার ভোর রাতের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাইলি বেগম ও তার ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব করেন। পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমান। প্রায় ৮-১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলি বেগমের বাম হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারতেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি বেগম তফুরা বেগমের ঘরে গিয়ে রাতের খাবার খান। পরে নিজ ঘরে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরা বেগমের ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। পরে লাইলি ও তার ছেলে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।


পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তার মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি তিনি তার দাদী তফুরা বেগমকে জানান। তফুরা বেগম ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান এবং চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। 


এরপর সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তার বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘুম থেকে তুলে জানান, তার মা মারা গেছেন। বাড়িতে এসে আলমগীর তার স্ত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তার বাম হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে ছেলা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।


খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা।


মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই)  সুমন বণিক বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা নেওয়া হয়। পরে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও তার দাদী তফুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছেলে মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। 


অপরদিকে, তফুরাকে হত্যাকান্ডের আলামত লোপাট চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর