ইউএনও এর কার্যালয়ে ভাঙ্গচুর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় বিক্ষোভকারীরা।


​একই সময় অনিয়ম ও ভাঙচুরের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক আমার সংবাদ ও দৈনিক গনকন্ঠের গাইবান্ধা মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার এর জেলা প্রতিনিধি এবং ফুলছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান তুহিন।


​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বেশ কয়েকজন প্রার্থী ও স্থানীয় অধিবাসী সহ সরকার দলীয় নেতা কর্মিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তারা নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ এনে ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং কার্যালয়ের ভেতরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালায়।


​ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান তুহিন ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতা কর্মী তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আক্রমণ করে।


​নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


​খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। 


সাংবাদিকের ওপর হামলা ও সরকারি কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ।​ তদন্তের মাধ্যমেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সততা নিশ্চিত হওয়া এবং এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করছে স্থানীয় সচেতন মহল।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৫০ পিএম

ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চল ভালুকায় আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফিশ প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন এবং প্রক্রিয়াজাত মাছ বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর উদ্যোগে নেওয়া এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।


মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য পরিকল্পনা-২ শাখা থেকে গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ বিষয়ে একটি চিঠি জারি করা হয়। উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুজয়া চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিটি মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত)-এর কাছে পাঠানো হয়েছে।


চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ আহমেদ বাচ্চু জাতীয় সংসদ থেকে প্রেরিত ডিও পত্রের মাধ্যমে ভালুকা উপজেলায় আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ফিশ প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন এবং প্রক্রিয়াজাত মাছ বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে প্রস্তাব দেন। তাঁর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।


প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ভালুকায় মাছ সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। উৎপাদিত মাছ স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেজিং করার সুযোগ তৈরি হবে।


মৎস্য খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রসেসিং অবকাঠামো গড়ে উঠলে স্থানীয় মৎস্যচাষিরা উৎপাদিত মাছের আরও ভালো বাজার ও ন্যায্য মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে মাছ পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানিকে ঘিরে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।


বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, কাঁচা মাছ রপ্তানির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রক্রিয়াজাত মাছ রপ্তানি করলে পণ্যে মূল্য সংযোজনের সুযোগ বাড়ে। ফলে স্থানীয় উৎপাদনকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


ইতোমধ্যে শিল্পায়নের কারণে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে ভালুকা। এর সঙ্গে আধুনিক মৎস্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প যুক্ত হলে কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে শিল্প ও রপ্তানি খাতের একটি নতুন সমন্বয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


তবে প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্থান নির্বাচন, কারিগরি সক্ষমতা, বিনিয়োগ, পরিবেশগত বিষয়, আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা ও রপ্তানি মানদণ্ডসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই করে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর উদ্যোগে নেওয়া প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে যাবে। বাস্তবায়িত হলে ভালুকায় শুধু মাছ উৎপাদন নয়–সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সমন্বিত একটি আধুনিক মৎস্যশিল্প গড়ে উঠতে পারে। যা স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং দেশের রপ্তানি আয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বড় থালায় আস্ত খাসি না থাকায় বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে চলে গেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। সোমবার বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।


কনের পক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে আত্মীয়স্বজন নিয়ে কনের বাড়িতে পৌঁছান জুনায়েদ। এসময় তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে ফুল ও গেটের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে আত্মীয়স্বজনদের খাওয়ানো শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য খদরে খাবার দেওয়া হয়। কিন্তু ওই খাবারে খাসি না থাকায় আপত্তি জানান জুনায়েদ। তিনি খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে জানান।


এসময় কনেপক্ষের আত্মীয়স্বজনসহ উপস্থিত অনেকেই তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই একাই কনের বাড়ি থেকে চলে যান জাপানপ্রবাসী জুনায়েদ।


কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, আমাকে আগে জানানো হলে খদরে খাসির ব্যবস্থা করতাম। এ বিষয়ে আমাকে আগে কিছুই বলা হয়নি। এরপরও আত্মীয়স্বজনসহ সবাই ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।


স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। কোনো বাবা-মা চান না মেয়ের বিয়েতে এমন ঘটনা ঘটুক। খাসির বিষয়টি আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। অবশেষে বিয়ে না করেই তিনি চলে যান।


এদিকে, এই ঘটনার পর আস্ত খাসি না পেয়ে বিয়ে না করে চলে যাওয়ার এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন জুনায়েদ। উল্টো তিনি দাবি করেন- কাবিনের টাকা নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় তিনি বিয়ে না করেই অনুষ্ঠান ত্যাগ করেন।


জুনায়েদ জানান, আমি কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্যে বিয়ের মঞ্চ থেকে চলে আসিনি। বিয়ের আগে দুই পক্ষের মধ্যে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছিল, সেগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বিয়েটা সম্পন্ন হবে- এটাই আমার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কনেপক্ষ থেকে আমার সামর্থ্যের তুলনায় বেশি কাবিনের টাকা দাবি করা হয়।


তিনি আরও বলেন, আমি তখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, আমার কাছে মনে হয়েছে এই অবস্থায় বিয়ে করলে ভবিষ্যতে আমাদের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিই।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ পিএম

সৎ ভাইয়ের নামের সাথে নিজের নাম সংযুক্ত করে মিথ্যা হলফনামা তৈরি ও হলফনামার মাধ্যমে জমির রেকর্ড নিজের নামে নিয়ে ভোগদখল করার অভিযোগে বরগুনার বেতাগী উপজেলাধীন ৬নং কাজিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক মেম্বার মোঃ আবুল হোসেন গাজীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।


জাল-জালিযাতির এ অভিযোগে সোমবার (১৭ আগস্ট) বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হলে জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ওয়ারিশ সনদ, প্রত‍্যায়ন পত্র, মিউটেশন খতিয়ান ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে ন‍্যায়  বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালতের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসেন এ আদেশ প্রদান করেন।


মামলা সূত্রে জানাগেছে- চলতি বছরের গত ১৩ জুলাই সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন গাজী ভাক্ত ও জালিয়াতির মাধ্যমে চেয়ারম্যান কর্তৃক ওয়ারিশ সনদ ও প্রত্যয়নপত্র তৈরি করে নিজেকে আঃ সোবাহান গাজী ও নিজের মা এবং সৎ মা একই ব্যক্তি দাবি করে ঘোষণাপত্র আদালতে দাখিল করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক। মূলত আবুল হোসেন গাজী তার সৎ ভাই আঃ সোবাহান গাজীর জমি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে এই অবৈধ ও জালিয়াতির পথ বেছে নেয়।


পরে আঃ সোবাহান গাজী বিষয়টি টের পেলে বিভিন্ন মাধ্যমে আসামির সৃষ্ট জাল কাগজপত্র সংগ্রহ করে বিজ্ঞ আদালতে একটি প্রতারণামূলক অভিযোগ এনে আবুল হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে গত ১৯ জুলাই বেতাগী বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ জুডিসিয়াল ম‍্যাজিস্ট্রেট মোঃ রানা শেখ মামলাটি প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হয়ে এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য বেতাগী থানার ওসি কে নির্দেশ দেন।


অতপর প্রতারণার এই মামলায় বিজ্ঞ আদালতে হাজির হলে জামিন না মঞ্জুর করে আদালত আসামী সাবেক মেম্বার আবুল হোসেন গাজীকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ প্রদান করেন। বর্তমানে প্রতারণার এই মামলায় আবুল হোসেন গাজী বরগুনা জেলা হাজতে রয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সুরক্ষা এবং নদী দূষণ রোধে পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


পরিবেশ অধিদপ্তর, বাগেরহাট এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মোংলা ফরেস্ট ঘাটের ফুয়েল জেটিতে নৌযান মালিক ও চালকদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। 


সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুর রহমান বলেন, প্রতিটি পর্যটকবাহী নৌযানে ঢাকনাযুক্ত প্যাডেল বিন রাখতে হবে। কোনো ধরনের বর্জ্য নদীতে ফেলা যাবে না। ভ্রমণ শেষে ডাস্টবিনের জমা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। একইসঙ্গে নৌযানে উচ্চ শব্দে গান-বাজনা না করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।


সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নদী দূষণ রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।


সভায় উপস্থিত নৌযান মালিক ও চালকরা মোংলা ফেরিঘাট ও পিকনিক কর্নারে স্থায়ীভাবে তিনটি ডাস্টবিন স্থাপনের দাবি জানান। নদী দূষণ রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনেরও অঙ্গীকার করেন নৌযান মালিক ও চালকরা।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দেলোয়ার হোসেন, জালি বোট মালিক সমিতি, মোংলার সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিস আলী, সভাপতি ইমাদুল হোসেন, মাঝিমাল্লা ইউনিয়ন সংঘের জয়েন্ট সেক্রেটারি সোহাগ হাওলাদারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় নৌযান মালিক ও চালকরা। 


সভায় ৫০ জন নৌযান মালিক ও চালক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। সভা শেষে পর্যটকদের সচেতনতায় বিভিন্ন নৌযানে এসব লিফলেট লাগিয়ে দেওয়া হয়।


উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে বিখ্যাত বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সুন্দরবন অংশে বন বিভাগের সংরক্ষিত পর্যটন স্পট করমজল অবস্থিত। প্রতিদিন শত শত পর্যটক মোংলা ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌযানে করমজল ভ্রমণে যান। 


এসময় পর্যটকদের সঙ্গে করে নেওয়া চিপস, বিস্কুট, চকলেটসহ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবার, পানির বোতল নদীতে ফেলার কারণে সুন্দরবন ও সংলগ্ন নদ-নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:১৪ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে সৌদি আরব প্রবাসী মাসুম ভুইয়ার বসতবাড়ীর জমি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা জুয়েল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে প্রবাসীর বড় ভাই আব্দুল হালিম ভুইয়া বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের ফুলদী মৌজার বিগত আরএস রেকর্ডে ১৫৩নং খতিয়ানের ১১টি দাগে ৩২০ শতাংশ সম্পত্তির মধ্যে আট আনা হিস্যায় ১৬০ শতাংশ সম্পত্তি মৃত আব্দুল জব্বারের দুই পুত্র আমিনদ্দিন ভুইয়া ও মেছবা উদ্দিনের নামে ভুলক্রমে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে আমিনদ্দিন ও মেছবা উদ্দিনের ওয়ারিশগণ বিগত ২২/৬/২০০৪ইং তারিখে কালীগঞ্জ সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের ৩৮৬৪নং নাদাবি দলিলমূলে ৬৪.৫০ শতাংশ সম্পত্তি মূল মালিক নাছির উদ্দিনের পুত্র মনির উদ্দিনের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেয়। 


পরবর্তীতে মনির উদ্দিন বুক্ত সম্পত্তি নিজ নামে নামজারী জমাভাগ করে ১৮০৭নং জোত খোলে নিয়মিত খাজনাদি পরিশোধ করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার পুত্র ও কন্যাগণ উক্ত সম্পত্তি শান্তিপূর্ণ ভোগদখল করতে থাকেন। কিন্তু আমিনদ্দিনের ওয়ারিশ নুরু মিয়া, দিনারা বেগম ও রিনা বেগম স্থানীয় বিএনপি নেতা জুয়েল এর সহযোগীতায় গত সোমবার (১৭ আগষ্ট) সকালে উক্ত সম্পত্তি জবরদখলের উদ্দেশ্যে ঘর নির্মাণ শুরু করে। এসময় প্রবাসী মাসুমের স্ত্রী স্মৃতি, বড় ভাই আব্দুল হালিম ও বোন শান্তা জবরদখলকারীদের বাধা দিলে তারা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। পরে আব্দুল হালিম জরুরী সেবা ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ আসার আগেই সন্ত্রাসীরা ঘর নির্মাণের মালামাল ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে আব্দুল হালিম বাদী হয়ে সোমবার বিকেলে কালীগঞ্জ থানায় জুয়েল, নুরু মিয়া, দিনারা বেগম ও রিনা বেগমের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


প্রবাসীর বড় ভাই আব্দুল হালিম জানান, আমাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তি জবরদখলের জন্য বিএনপি নেতা জুয়েল দলের নাম ভাঙ্গিয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ৈ দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা করে আসছে। জুয়েল বিএনপির কোন পদে নেই। সে আমাদের এলাকার বাসিন্ধাও নয়। পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে এসে আমাদের জমি দখল করতে চায়। আমরা আমাদের সম্পত্তি রক্ষায় স্থানীয় সাংসদ ও পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করছি।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুয়েল মোবাইল ফোনে জানান, রেজিঃকৃত নাদাবী দলিল গ্রহণযোগ্য নয়। তাই আমি লোকজন নিয়ে জমি দখল করতে গিয়েছি।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

আজ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এক সমাবেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।


তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আগামীতে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেজন্য আমরা জনগণের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’


আজ রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এক জনসমাবেশে বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আপনারা হাজার হাজার মানুষ সমর্থন দিয়ে বলেছেন যে এই পরিকল্পনাগুলো যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হবে। তাই আপনাদেরকে বলতে চাই, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আপনারা যে দলের ওপর আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থা ধরে রাখুন। বিএনপি আপনাদের সাথে ছিল, বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।’


তিনি বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশের জনগণের জন্যই কাজ করবে, ইনশাআল্লাহ। দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো কাজ করবে না।’


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব পদক্ষেপ বর্তমান সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হবে। সেখানে সরকার আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা তুলে ধরবে।


বিশৃঙ্খলাকারীদের সস্পর্কে সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু সংখ্যক ব্যক্তি রাস্তায়, রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। রাজপথে যদি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ জনগণ। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি ও জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু উপকৃত হয় সেই সকল বিশৃঙ্খলাকারী।’


তিনি বলেন, ‘আজকে সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে, যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, যারা জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, তাদেরকে জনগণ সকল শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করবে।’


দেশের মানুষ এখন শান্তি চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষ এখন আইনের শাসন চায়, কর্মসংস্থান চায়, সন্তানদের জন্য শিক্ষা চায়, পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায়। এই কাজগুলো যদি করতে হয়, আমাদেরকে ধৈর্য ধরতে হবে। একই সাথে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।’


পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

সর্বশেষ সব খবর