দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২০ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গতকাল শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজিবি জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধীন ধর্মজান বিওপির একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩১৯/৩-এস থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বনগাঁও এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ১২০ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত দ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঝালকাঠির নলছিটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে (৫ সেপ্টেম্বর) রোজ শনিবার বিকাল ৪ ঘটিকায় নলছিটির মোল্লারহাট গার্লস স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি নলছিটি- ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিচুর রহমান খাম হেলাল, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা জনাব গোলাম মস্তফা সালু, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সহ- সভাপতি জনাব আলহাজ্ব শহিদুল হক শহিদ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোল্লারহাট ইউনিয়ন বিএনপির সহ- সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন বাচ্চু। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা বক্তব্যে বলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায় সমর্থকরা অংশ নেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
দেশের মানুষ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায় মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া কথা রক্ষা করেনি।
আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শফিকুর রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কুমিল্লা বিভাগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯৪ সালে সিলেট বিভাগ হওয়ার সময় একই সঙ্গে কুমিল্লা বিভাগ করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু তখন কুমিল্লা বিভাগ হয়নি। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী—প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ‘ধানাই-পানাই’ না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, পাশের বৃহত্তর নোয়াখালীও বিভাগ দাবি করছে। তারাও বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।
কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো! চাঁদাবাজ নাই! আছে?’ এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। দাবি আদায়ের জন্য ওই কর্মসূচিতেও কুমিল্লার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লংমার্চে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারের মন্ত্রীদের সন্তান, পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের অনেকে দুর্নীতি ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
এই সরকারের উপরে বিরক্ত মানুষ মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ছয় মাসে সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনোটি সরকার রাখতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জনগণের বক্তব্য শুনতে হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ বলছে, তারা বর্তমান সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেখানে যাওয়া যায়, সেখানেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জায়গা দখল, নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও মাদকের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দেশকে ‘জাহান্নামে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন এলডিপির সভাপতি। তিনি বলেন, মানুষের মুখে মুখে আছে যে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন হবে। তাঁর দাবি, সরকার কিছু করুক বা না করুক, ‘নিজের ভারে নিজেই পড়ে যাবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, জনগণের রায় কার্যকর করে জনদুর্ভোগ কমানোর পদক্ষেপ নিতে সরকার ব্যর্থ হলে জনতার মিছিল আরও দীর্ঘ হবে। এই মিছিল বাড়তে বাড়তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত গণজোয়ার তৈরি হবে এবং সেই গণস্রোতে সরকার ভেসে যেতে বাধ্য হবে।
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে তাঁরা তা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে সরকারের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম প্রমুখ।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভা পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবুর রহমান। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কুমিল্লার মানুষ কখনো ফ্যাসিবাদ মেনে নেয়নি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবসময়ই তারা প্রতিবাদ করেছে। এ কারণে চব্বিশের জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না এবং তাদের বঞ্চিত করেছেন। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, যাকে আমরা ২০২৪ সালে বিতাড়িত করেছি, তিনিও কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না। কারণ কুমিল্লার মানুষ কোনো ফ্যাসিবাদকে কখনো মেনে নেয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই বাকশাল ও ফ্যাসিবাদের জন্য কুমিল্লা এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লার মানুষ প্রতিবাদ করতে কখনো ভয় পায়নি। জুলাইয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে কুমিল্লায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে রেখেছিল।
শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কুমিল্লার মানুষের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, সেই কারণে তিনি কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না। কুমিল্লার মানুষকে বঞ্চিত করতেন। কিন্তু কুমিল্লার মানুষের প্রতিবাদই তাকে এই দেশের বাইরে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে।
মহাসড়কে ধীর গতি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
পদুয়ার বাজারের পথসভাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পাশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। তাঁদের অনেকে মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকামুখী লেনে যান চলাচলে ধীর গতি সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চলাচলকারীরা।
অন্যদিকে চট্টগ্রামমুখী লেনে লংমার্চের বিশাল গাড়িবহর চলাচল করায় থেমে থেমে যানজট ও ধীর গতি দেখা দেয়। এতে যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
এর আগে আজ শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। লংমার্চটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এবং সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও পথসভার আয়োজন করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে—অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
নোয়াখালীর হাতিয়ার মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া সিমেন্টসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ সব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, একই দিন ভোরে ভোরে হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়ার সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
কোস্ট গার্ড জানায়, শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়ার সদস্যরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ওই এলাকায় সন্দেহজনক দুটি বোটে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা ৫৯৫ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়। এসব সিমেন্টের ২৯ হাজার ৭৫০ কেজি এবং আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সঙ্গে পাচারকাজে ব্যবহৃত দুটি বোটসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন আরও বলেন, জব্দ করা সিমেন্ট, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় করতোয়া নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ নিয়ে আলাদা তারিখ ঘোষণা করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নৌকা বাইচ বন্ধ ঘোষণা করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার পঞ্চকোশী ইউনিয়নে করতোয়া নদীর কালিগঞ্জ ঘাটে স্থানীয়দের উদ্যোগে এই নৌকা বাইচ আয়োজন করা হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বিএনপির পক্ষ থেকে ৭, ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর এ প্রতিযোগিতার তারিখ ঘোষণা করা হয়।
এর পরই জামায়াত নেতারা ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচের তারিখ ঘোষণা ও প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে উভয় পক্ষই উপজেলা প্রশাসনের অভিযোগ করে।
বিএনপি আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম রেজা বলেন, ৭-৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির পক্ষ থেকে করতোয়া নদীর কালিগঞ্জ ঘাটে ১৭তম নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রতিযোগিতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান অতিথি এবং সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খানকে বিশেষ অতিথি করা হয়।
তিনি বলেন, “এ অবস্থায় হঠাৎ করে জামায়াত নেতা জহুরুল ইসলাম পেনু আমাদের মঞ্চের পাশে মঞ্চ তৈরি করে একই ঘাটে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করেন।”
যে কারণে ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ঘাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে নৌকা বাইচ বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, মূলত ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন বন্ধ করার উদ্দেশ্য নিয়েই এমন দ্বন্দ্বের পরিবেশ তৈরি করেছে একটি পক্ষ।
তিনি বলেন, “তবে এই প্রতিযোগিতা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। এটা বন্ধ হওয়া ঠিক হবে না। তাই আমরা সবাই মিলেমিশে প্রতিযোগিতার আয়োজন করার চেষ্টা করছি।”
এদিকে জামায়াত আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চকোশী ইউনিয়ন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম পেনু বলেন, “বিদ্যুৎমন্ত্রীকে প্রধান অতিথি এবং উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্যকে বিশেষ অতিথি করে আমরা ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি শুরু করেছিলাম।
“তবে বর্তমানে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি হয়তো প্রতিযোগিতায় উপস্থিত হতে পারবেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমাদের প্রতিযোগিতা বন্ধের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার রায়হানুল ইসলামকে তার ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিয়ে এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি ও জামায়াত একই স্থানে আলাদা আলাদাভাবে কালিগঞ্জ ঘাটে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। কোনো পক্ষই প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি।
“পরে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দেওয়ায় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির আশংকার কথা জানানো হয়েছে। যে কারণে উপজেলা প্রশাসন প্রতিযোগিতা বন্ধ ঘোষণা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কালিগঞ্জ নৌকা ঘাট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে।”
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এএসআই আব্দুল মান্নান
নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার সামনে এক এএসআইয়ের গান ও নাচের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। ভিডিওতে ওই পুলিশ সদস্যকে অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যায়। গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর নৌ থানার ওসি মো. রকিবুজ্জামান।
তিনি বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের নাম আব্দুল মান্নান। তিনি সদর নৌ থানায় এএসআই হিসেবে কর্মরত। দাম্পত্য কলহ থেকে মান্নান এমন আচরণ করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি মাটিতে বসে গান করছেন। পরে উঠে গানের সঙ্গে নাচতে থাকেন। এ সময় তাকে ঘিরে কয়েকজন মানুষ জড়ো হন।
তারা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলেও তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে গান ও নাচ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাকে একটি চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওতে মান্নানকে বলতে শোনা যায়, তার স্ত্রী তাকে জুতা দিয়ে মেরেছেন। এ কারণে তিনি এমন আচরণ করছেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে মান্নান মাদক সেবন করেছেন কি-না, তা নিয়েও কথা বলতে শোনা যায়।
ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, আব্দুল মান্নান মাদকজাতীয় কোনো কিছু সেবন করেছিলেন কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মান্নান থানার কোয়ার্টারে থাকেন। তার স্ত্রী সিলেটে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। শুক্রবার রাতে মোবাইলে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপরই থানার সামনে তাকে এমন আচরণ করতে দেখা যায়।
ওসি রকিবুজ্জামান বলেন, মান্নানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছে পুলিশ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।