"করব কাজ গড়বো দেশ তান্ত্রিক বাংলাদেশ"—এই দীপ্ত স্লোগান ও সুদৃঢ় প্রত্যয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে এক বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ দর্শকদের মাঝে ছিল উপচে পড়া আমেজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফ। চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওহিদুল আলম খন্দকার মানি, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হাজী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু প্রমুখ।
এছাড়াও জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নেন জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির ক্রিকেট কাউন্সিলর আব্দুস সালাম, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দেশের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপিত হয়।
অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়। ব্যানারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি শোভা পাচ্ছিল।
আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণ শিল্পীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী খুদে শিল্পীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক (লাল পাঞ্জাবি-কুর্তি ও সবুজ উত্তরীয়) পরিধান করে মঞ্চে আসে। তারা দেশের গান ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
পুরো অনুষ্ঠানটির চমৎকার ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর দেশাত্মবোধক গানের সুরে সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে সাহিত্য পরিষদ চত্বর, যা উপস্থিত দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ মুগ্ধ করে রাখে।
শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসজেইউ) কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে শরীয়তপুর শহরের চৌরঙ্গীর মোড়স্থ বেপারী প্লাজার দ্বিতীয় তলায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক হুংকারের নির্বাহী সভাপতি এম. হারুন অর রশিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দিনকালের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মো. আল-আমিন শাওনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নান্নু মৃধা (যুগান্তর), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল ইসলাম খোকন (ইত্তেফাক), সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ খোরশেদ আলম বাবুল (চ্যানেল এস), কোষাধ্যক্ষ মো. রোমান আকন্দ (আমাদের সময়), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কালাম সরদার (যায়যায়দিন), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন খান (বিশ্ব মানচিত্র), দপ্তর সম্পাদক কাওছার হোসেন (নওরোজ), জনকল্যাণ সম্পাদক সোহাগ সরদার (ডেইলি আর্থ), ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোস্তফা সরদার (সমাবেশ), শিক্ষা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সোহেল (নিরপেক্ষ) এবং তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক দাউদ মো. তুহিন (আজকের আওয়াজ), আপ্যায়ন সম্পাদক মনির হোসেন (খবরের আলো), কার্যকরী সদস্য সৈকত দত্ত টিটু (গণমুক্তি), শহিদুল ইসলাম রানা (সমাচার), শাহ মোঃ জানে আলম টুটুল (স্বদেশ বিচিত্রা), আবু আলম রাকিব (কালবেলা), ইনছান সরদার (ভোরের আওয়াজ), মোঃ হাসান আলী (আলোকিত সকাল), শফিকুল ইসলাম ভূইয়া (সংবাদ মোহনা), আব্দুর রহমান সোহেল (সমাচার) ও মো. নাদিম (সংবাদ প্রতিদিন)।
এসময় সংগঠনের অন্যান্য সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা, সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন সবসময় সোচ্চার থাকবে।
সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সিলেট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলা উদ্দিন
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সেবা নিতে আসা এক প্রবাসীকে দুই গালে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীনের বিরুদ্ধে। পর্তুগাল থেকে দেশে ফিরে এনআইডি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে ওই প্রবাসী এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখানোর পরও এনআইডি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়নি। বরং কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে সবার সামনে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। তবে চড় মারার অভিযোগ সরাসরি স্বীকার করেননি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন। তিনি ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এনআইডির আবেদন নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
অভিযোগকারী প্রবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তিনি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালে যান। দীর্ঘদিন পর গত ১৪ আগস্ট দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর এনআইডি সংক্রান্ত একটি সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে যান তিনি।’
ওই প্রবাসী জানান, দেশে ফেরার প্রমাণ হিসেবে বিমানের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় নথি তিনি কর্মকর্তাকে দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এনআইডির আবেদনটি তিনি নিজে করেছেন কি না, তা নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
প্রবাসী বলেন, ‘আমি বলেছি স্যার, আমি প্রবাসী। আমি ১৪ আগস্ট দেশে আসছি। আমার টিকিট আছে, সব কাগজপত্র আছে। কিন্তু স্যার চেয়ার থেকে উঠে আমাকে বাইরে এনে দুই-তিনটা চড় মারেন। আমার দুই গালে চড় মারছেন।’
তিনি জানান, একপর্যায়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা চেয়ার থেকে উঠে তাকে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান। সেখানে তার দুই গালে চড় মারা হয়।
প্রবাসী আরও বলেন, ‘আমি খুবই লজ্জিত। একজন কর্মকর্তা হয়ে এত মানুষের সামনে একজন প্রবাসীকে, একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে এভাবে অপমান করা হলো। আমি কী অপরাধ করেছি, সেটাই তো বুঝতে পারিনি।’
ঘটনার পর ভয় দেখানোরও অভিযোগ করে ওই প্রবাসী বলেন, নিজেকে প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বরং তাকে জেলা প্রশাসকের কাছে ফোন করে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তার।
সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে সিন্ডিকেট তৈরি করে এনআইডি সংক্রান্ত কাজে আসা প্রবাসীসহ লোকজনদের নানাভাবে হয়রানী করা হয়। এছাড়া প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের এ গুরুত্বপূর্ণ অফিসে বিভিন্ন পন্থায় অসুবিদার শিকার হওয়া লোকজনদের কাছ থেকে অবৈধ পন্থায় টাকা আদায় করা হয় বলে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা লোকজন অভিযোগ করেন। বিশ্বনাথ খেকে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী এনআইডি সংক্রান্ত ঘটনায় নানাভাবে হয়রানির স্বীকার হন। তিনি এ অফিসে গোপনে দুদকের অভিযান চালানো উচিত বলে মনে করেন। এ অফিসে সিলেটের সহজ সরল মানুষকে নানাভাবে নাজেহালের অভিযোগ রয়েছে। তাই সিলেটের রাজনীতিক নেতৃবৃৃন্দেরও এদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
প্রবাসীকে চড় মারার অভিযোগের বিষয়ে সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দীন বলেন, এনআইডির আবেদন সম্পন্ন করতে ফেস ডিটেকশনসহ নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু ওই প্রবাসী দাবি করছিলেন, আবেদনটি তিনি নিজে করেননি, অন্য কেউ তার হয়ে আবেদন করেছেন।
মো. আলাউদ্দীন বলেন, ‘উনি বারবার অস্বীকার করছিলেন যে আবেদনটা তিনি করেননি। আমরা বলছিলাম, আপনি করেছেন। এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল।’
চড় মারার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, ঘটনাটি লাঞ্ছিত করার মতো নয়। দুপক্ষের মধ্যে কিছুটা বাক্যবিনিময় হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আরও বলেন, পরদিন বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। ওই প্রবাসীকে নতুন করে কীভাবে আবেদন করতে হবে, সে বিষয়েও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া পৌর এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ড্রেজারের বালু ফেলে সড়ক ভরাট ও পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে মোট ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে পৌর এলাকার রিজাপ পার সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জল হালদার উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রিজাপ পার সংলগ্ন এলাকায় ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে পূর্ব ভাণ্ডারিয়ার বাসিন্দা মো. ইউসুফ আলী গাজীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন ড্রেজারের মাধ্যমে বালু এনে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ফেলেন। এতে সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পৌরসভার ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ ঘটনায় বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২ অনুযায়ী মো. দেলোয়ার হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা এবং আবদুল জব্বারের ছেলে মো. শাহিনকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের কাছ থেকে মোট ৫১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান বলেন, জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেন কোনোভাবেই নির্মাণসামগ্রী ফেলে বন্ধ করা যাবে না। জনস্বার্থ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মো: হামিদুল ইসলাম (২০) ও মো: মিজান (৪০) নামে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার রাতে মাদকসহ তাদেরকে আটক করে ভুল্লী থানা পুলিশের একটি টিম। এ ঘটনায় মো: অন্তর (৩০) নামে এক যুব পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ওই দিন ভুল্লী থানার এস আই (নিরস্ত্র) সজিব হাসান সঙ্গীয় ফোর্সসহ ভুল্লী থানাধীন বালিয়া ইউপির লক্ষীরহাট গামী আশা এনজিওর সামনে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচানা করেন। এ সময় ভুল্লী থানার কুমারপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে মো: হামিদুল ইসলাম (২০) ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার গোয়াপাড়া মহল্লার মৃত আজিজুলের ছেলে মো: মিজান (৪০) কে ৬পিস ট্যাপেন্টাডোল ট্যাবলেটসহ আটক করা হয়। এ সময় অন্তর নামে এক যুব পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় ভুল্লী থানার এস,আই (নি:) সজিব হাসান বাদী হয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে ভুল্লী থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া ৫৩ তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় খেপু পাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে উপজেলা স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে এ পুরস্কার এবং সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মনিরুজ্জামান খান।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আনোয়ার হোসেন, খেপুপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন লিডার মো.শাহাদাত হোসেন, খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শরীরচর্চা শিক্ষক মো.নিজাম উদ্দিন প্রমুখ। খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক নুরুল হক এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। এ সময় কলাপাড়া উপজেলায় সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার শরীর চর্চা শিক্ষকগণ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, আনন্দহীন শিক্ষায় কাজ চলে মাত্র, এতে মানসিক কোন বিকাশ হয় না। তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বলেন, লেখাপড়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পাশাপাশি খেলাধুলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তবেই ওই লেখাপড়া সার্থক হবে। তিনি মাদকমুক্ত সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে খেলাধুলা কে চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করে ।
জীবিত ব্যবসায়ীকে মৃত দেখিয়ে তার মোবাইল সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাতিলের পর একই সিম নিজের নামে নিবন্ধন করার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। পরে ওই নম্বরে থাকা নগদ ও বিকাশের হিসাবে এক রাতে প্রায় দুই কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার চট্টগ্রামের ফল ব্যবসায়ী মাঈনুদ্দিন হাসান আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মাঈনুদ্দিনের করা মামলার শুনানি শেষে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলায় সিমের মালিকানা পরিবর্তনকারী হিসেবে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর নওবাড়িয়ার বাসিন্দা রায়হান মিয়াকে আসামি করা হয়েছে। তাঁর সহযোগিতার অভিযোগে রবির ঢাকার শ্যামলী কাস্টমার কেয়ারের ইনচার্জসহ আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মাঈনুদ্দিন হাসান চট্টগ্রাম নগরের বিআরটিসি সংলগ্ন ফলমন্ডির মা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে খেজুর ও ড্রাই ফ্রুটসের ব্যবসা করছেন। একই সময় ধরে তিনি রবির একটি সিম বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের মাধ্যমে ব্যবহার করে আসছিলেন। ওই নম্বরে বিকাশ ও নগদের এজেন্ট হিসাবও চালু ছিল।
গত ২৭ আগস্ট দুপুরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে থাকা অবস্থায় মাঈনুদ্দিনের মোবাইলে একটি এসএমএস আসে। এতে বলা হয়, ‘বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উক্ত নম্বরের ডেথ কেস রেজিস্ট্রেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ এর পরপরই তাঁর মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি জানতে তিনি দ্রুত চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকার রবি সেবা কেন্দ্রে যান। সেখানে তাঁর পরিচয় ও সিমের নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখানোর পর তাঁকে জানানো হয়, সিমটি আর তাঁর নামে নিবন্ধিত নেই।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকার শ্যামলী রবি সেবা কেন্দ্র থেকে সিমটির মালিকানা পরিবর্তন করে রায়হান মিয়া নামে একজনের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের পর ওই নম্বরে থাকা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করে এক রাতে নগদে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং বিকাশে ১৬ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া মাঈনুদ্দিনের হিসাবে থাকা প্রায় তিন লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করেছেন তিনি।
মাঈনুদ্দিন হাসান বলেন, ‘দোকানে বসে ব্যবসা করার সময় হঠাৎ এসএমএস পাই, আমি মারা যাওয়ায় আমার সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ আমি তখন জীবিত এবং দোকানে বসেই ব্যবসা করছিলাম। পরে জানতে পারি, ঢাকার একটি সেবা কেন্দ্র থেকে আমার সিম অন্য একজনের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, সিমটি উদ্ধারের চেষ্টা করার পর ওই নম্বরে ফোন দিলে রায়হান নামে একজন ফোন ধরেন। জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ডিজিএফআইয়ের সদস্য পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন। পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে গুম করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মাঈনুদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। আদালত কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে রায়হান মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।