এমপি ফজলে হুদা বাবুল

আওয়ামী লীগকে রাস্তায় নামতে দেয়া হবেনা

আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত থানা ভবন উদ্বোধন

এমপি ফজলে হুদা বাবুল

  • প্রকাশ : সোমবার ২২ জুন, ২০২৬, সময় : ৫:৪১ এএম

নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেশের বিশিষ্ট টক শো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল বলেছেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এখন নিষিদ্ধ। যতদিন নিষিদ্ধ আছে ততদিন তাদের রাস্তায় নামতে দেয়া হবেনা, নামতে দিবোনা, দিবোনা, দিবোনা। এখনও বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে আওয়ামী দোসররা আড্ডা দেয়। আপনারা এগুলো খেয়াল রাখবেন, থানা পুলিশকে জানাবেন।”


এমপি বলেন, “বিএনপি ছাড়া এই আসনে অন্যকিছু থাকবেনা। একটি দল আসলে ধর্মীয় দল না। এরা হচ্ছে ভারতের বি টিম। এরা ৪৭ এ ভারতকে সাপোর্ট করেছে। এজন্য বক্তব্যের সময় এই গুপ্তরা ভারতকে টেনে আনে। তোমরা বেঈমান, তোমরা মুনাফেক, তোমরা ব্যাংক ডাকাত। আমরা দেখেছিলাম শেখ কামাল ব্যাংক ডাকাত, আর সংসদে বলেছি ইসলামী ব্যাংকে এরা ডাকাতি করেছে ১১ হাজার কোটি টাকা।”


এমপি ফজলে হুদা বলেন, “মসজিদে কোন রাজনীতি চলবেনা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমামদের নিরপেক্ষ হতে হবে। তারা কোন রাজনৈতিক লিডার হতে পারবেন না। ইমাম সাহেবরা একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হয়ে গেছেন। কিছু কিছু মসজিদ কমিটিতে এখনও আছে আওয়ামী দোসর, ধান্দাবাজ, বাকশালী, দেশ বিক্রিকারীদের লোক। এদের পরিবর্তন করতে হবে। এই ব্যাপারে আপনারা সোচ্চার থাকবেন।”


গত শনিবার বিকেলে এমপি নওগাঁর মহাদেবপুর থানা পুলিশের নবনির্মিত চারতলা ভবনের ফলক উন্মোচন শেষে থানা ভবন মিলনায়তনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দানকালে কথাগুলো বলেন। এমপি মামলা করতে আসা কারো কাছ থেকে টাকা না নেয়ায় মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুকের প্রশংসা করেন।


নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডমিন) মনিরুজ্জামানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ, মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক, উপজেলা পুলিশিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহারুল ইসলাম, পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও মহাদেবপুরে এমপির রাজনৈতিক সচিব মতিউর রহমান মতি প্রমুখ।


এসময় অন্যদের মধ্যে থানা পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জেলা কৃষক দলের সভাপতি মমিনুল ইসলাম চঞ্চল, সাধারণ সম্পাদক এটিএম ফিরোজ দুলু, বদলগাছীতে এমপির রাজনৈতিক সচিব ও বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউন নবী স্যান্ডো, মহাদেবপুর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি সুলতান মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার নান্নু, সহ-সভাপতি, সফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস, এম, হান্নান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সাগর, হাজী আককাস, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি এনামুল হক, উপজেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী রওশন জাহান, হাতুড় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সেকেন্দার আলী, উত্তরগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাসান আলী, ভীমপুর ইউপি চেয়ারম্যান রামপ্রসাদ ভদ্র, চেরাগপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান সবুজ, উপজেলা কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন অর রশিদ রাজু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মাহমুদুল হাসান সুমন, হারুন অর রশিদ হারুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাফ্ফর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদস্য সচিব রিপন মাহমুদ, জেলা ছাত্রদলের নেতা এফআই ইসলাম সবুজ প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।


উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করে। তখন দোতলা পর্যন্ত এর ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। পরে উপরে আরো দুটি তলার জন্য বরাদ্দ করা হয় চার কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ে ভবনটির কাজ সমাপ্ত না হলেও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গতবছর ২০ মে ভবনটি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু ভবনটিতে নানান নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এতদিন এটি ব্যবহার উপযোগী ছিলনা। থানা পুলিশ নিজ অর্থ ব্যয়ে কিছু কিছু ফিটিংসের কাজ করান। এখনও এর মূল বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। থানার পুরোনো ভবন থেকে লাইন টেনে বিদ্যুৎ সংযোগ নেয়া হয়।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

  • ‘এটা আমাদের কাজ নয়, সিটি করপোরেশনের কাজ’-পুলিশ কর্মকর্তা
  • ‘পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে’-সিটি প্রশাসক


ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসানো দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফুটপাতকেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজির পরিমাণ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। তবে এই অর্থের হিসাব, কারা চাঁদা আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত-এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।


ফুটপাত দখল ও সেখান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটা আমাদের কাজ না, এটা সিটি করপোরেশনের কাজ।” 


তাঁর এমন বক্তব্যের পর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন দাবি করেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা আদায় করে-এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ফলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন। এ ঘটনায় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।


নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও যানজট নিরসনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও এর আগে জানিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো এবং সেখান থেকে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।


নগরবাসীর প্রশ্ন-যদি ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে কারা এই অর্থ সংগ্রহ করছে? টাকা যাচ্ছে কার কাছে? আর এর পেছনে রয়েছে কারা?


এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিরপেক্ষ তদন্ত, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।


তবে মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

ইটের দেয়াল তুলে ও গাছ লাগিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে ইট দিয়ে ঘিরে ও গাছ লাগিয়ে জমি জবর দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা সদরের মেইন বাজারে এঘটনা ঘটে।


উপজেলা সদরের কাচারীপাড়ার মৃত নির্মাল্যভূষণ দাসের ছেলে শ্রী জয়ন্ত কুমার দাস অভিযোগ করেন যে, মহাদেবপুর বাজারের আরএস ৪০৫ ও ৪০৬ নং খতিয়ানের ৫৯০ দাগে তার পিতার ত্যক্ত মোট ১০ শতক সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী তারা তিন ভাই জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস। এই সম্পত্তির সামনের অংশে তাদের দোকান ঘর রয়েছে। কিন্তু দোকানের পিছনের দিকে তাদের অংশের বেশিরভাগ জমি তার ভাই বিশ্বনাথ দাস ও ভাতিজা দেবাশীষ দাস দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। 


গত ৭ আগস্ট সকালে তারা সেখানে ইট দিয়ে ঘিরে দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এনিয়ে মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা রাতের আধারে কাজ করতে থাকে। 


জয়ন্ত দাস এব্যাপারে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আদেশ দেন। মহাদেবপুর থানার এসআই আছির উদ্দিন গত ১২ আগস্ট এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ দেন। নোটিশ পাবার পরও গত শনিবার প্রতিপক্ষরা বিরোধীয় জমিতে গাছ লাগিয়ে দখল প্রমাণের পাঁয়তারা করে।


জানতে চাইলে দেবাশীষ দাস বলেন, মৃত নির্মাল্য ভূষণ দাসের জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস ছাড়াও প্রশান্ত কুমার দাস নামে আরো এক ছেলে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রশান্ত তার অংশের সমুদয় জমি দেবাশীষের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। সেই দলিলমূলেই তিনি অতিরিক্ত জমি দাবি করছেন। কিন্তু জয়ন্তরা তা দিতে নারাজ। 


জয়ন্ত জানান, প্রশান্ত ১৯৭৪ সালে ভারতে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সুতরাং তার অংশের জমি তারা অন্য তিন ভাই পাবেন। প্রশান্ত এখন ভারতের আধারকার্ডধারী নাগরিক। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। 


১৯৯৬ সালে তার স্বাক্ষরে একটি ভূয়া আমমুক্তারনামা সৃজন করে দেবাশীষ প্রশান্তের অংশের জমি দাবি করছে। ওই কথিত ভূয়া আমমুক্তারনামায় জমির কোন তপশীল উল্লেখ না করে সমুদয় সম্পত্তি লেখা হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ পিএম

“রূপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। 




এ উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে অফিসার্স ক্লাবে এসে শেষ হয়। পরে বরগুনা অফিসার্স ক্লাবের পুকুরে রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পের পোনা অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং সংগ্রাম স্মার্ট প্রজেক্ট এর সহযোগিতায় আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।


সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন। 




সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ, সংগ্রাম’র উপনির্বাহী পরিচালক চৌধূরী মোহাম্মদ মঈন, প্রেসক্লাব সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমূখ।


আলোচনায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ পিএম

ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘরই এখন তালাবদ্ধ। কোথাও দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় ঘরের চারপাশে গজিয়েছে আগাছা ও জঙ্গল। 


জনবসতি কমে যাওয়ায় এসব খালি ঘরকে ঘিরে মাদকসেবীদের আনাগোনা, চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগও উঠেছে। ফলে একদিকে প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন ও যাচাই-বাছাই নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম থেকে চতুর্থ ধাপে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জলঢাকা উপজেলায় ক-শ্রেণিভুক্ত গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ৯৪৯টি আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করাই ছিল এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তবে সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, বরাদ্দ পাওয়া ঘরের একটি অংশে উপকারভোগীরা বসবাস করছেন না। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে অনেক ঘর। কোনো কোনো ঘরের চারপাশ আগাছা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত ঘরগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।




সম্প্রতি কৈমারী ইউনিয়নের বালাপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১০০টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৩২টি পরিবার বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলোর অধিকাংশই তালাবদ্ধ। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পাতাইবাড়িডাঙ্গা ও পৌরসভার ডাকুরডাঙ্গাসহ উপজেলার আরও কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে।


বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকায় জনবসতি কমে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। এতে নারী, শিশু ও একাকী বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা বিভিন্ন সময়ে ঘর থেকে মূল্যবান মালামাল চুরির অভিযোগও করেছেন।


মিরগঞ্জ পাতাইবাড়ি ডাঙ্গা আশ্রয়ণের বাসিন্দা কোহিনূর বেগম বলেন, “আশ্রয়ণে মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়েছে। তাদের কিছু বলাও যায় না। সন্ধ্যার পর এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।”


কৈমারী বালাপাড়া আশ্রয়ণের ৭৬ নম্বর ঘরের বাসিন্দা প্রিয়বালা বলেন, “আশপাশের অনেক ঘর খালি পড়ে আছে। একা থাকতে ভয় লাগে। পানির টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়েছে।”


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবন্ধী বাসিন্দা জানান, দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি আশ্রয়ণে বসবাস করছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় বখাটেদের উৎপাতের কারণে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়।


এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন উপকারভোগীর দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় কোনো কোনো ঘরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আবার কিছু ঘর থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুলে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।


তবে প্রকল্পে বসবাস না করার পেছনে শুধু নিরাপত্তা নয়, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবকেও দায়ী করছেন কয়েকজন উপকারভোগী। তাদের দাবি, ঘর পেলেও জীবিকার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকের পক্ষে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা ঘরগুলোর উপকারভোগীরা প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন কি না, অন্যত্র তাদের জমি বা বসতবাড়ি রয়েছে কি না-তা পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানি, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, বসবাসের পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধার বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখা দরকার।


এ বিষয়ে মিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা মানিক বলেন, “এসব সমস্যা আমাদের নজরে আসেনা। বিষয়গুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখব।”


প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, “বিষয়গুলো আমাদের লিখিতভাবে জানালে ভালো হয়।” 


তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১১ পিএম

টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক।


অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসক শরিফা হক। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।




এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মিয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।


আলোচনা সভায় বক্তারা মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ, জলাশয়ের সঠিক ব্যবহার এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে  কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।


পরে মৎস্য খাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পটুয়া ফকদনপুর গ্রামে সৌদি আরবের অর্থায়নে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ১৩০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. রেজাউল ইসলাম রন্টুর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের প্রতিকার ও টাকা ফেরতের দাবিতে (১৬ আগষ্ট) আজ রোববার দুপুরে ভুক্তভোগীরা ঠাকুরগাঁও শহরের চৌরাস্তায় মানববন্ধন করেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে রেজাউল ইসলাম রন্টু গ্রামের লোকজনকে জানান, সৌদি আরব থেকে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। ছাদযুক্ত পাকা ঘরের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং টিনশেড পাকা ঘরের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। বাকি অর্থ ফাউন্ডেশন বহন করবে বলে তাদের জানানো হয়। তার কথায় বিশ্বাস করে প্রায় ১৩০ জন টাকা প্রদান করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘর নির্মাণ শুরু হয়নি। পরবর্তীতে ঘরের কাজ শুরু অথবা টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় তাদের মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত মো. রেজাউল ইসলাম রন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সর্বশেষ সব খবর