শিশুদের ইসলামী শিক্ষা ও উত্তম চরিত্র গঠনে মাতা-পিতার ভূমিকা অপরিসীম। সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পরিবারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তারাই ভবিষ্যতে একটি সুন্দর, আদর্শ ও নৈতিক সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৭টায় নাটোরের লালপুর উপজেলার মাহরাজপুর জেনাস তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা চত্বরে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেনাস সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (জিএসডিও) আয়োজিত ‘শিশুদের ইসলামী শিক্ষা ও উত্তম চরিত্র গঠনে মাতা-পিতার ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্দিন, জেনাস সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, মহারাজপুর মধ্যপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আরিফুল ইসলাম, রামকৃষ্ণপুর জেনাস তালিমুল কোরআন মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শৈয়ব প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিশুর প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো তার পরিবার এবং প্রথম শিক্ষক মাতা-পিতা। বাবা-মায়ের আচার-আচরণ, কথাবার্তা ও নৈতিক মূল্যবোধ শিশুর চরিত্র গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই সন্তানকে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না; ইসলামী শিক্ষা, নামাজের প্রতি আগ্রহ, সত্যবাদিতা, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা দিতে হবে।
লালপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহ উদ্দিন বলেন, “শিশুরা আগামী দিনের দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাদের হাতে শুধু বই তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে বাবা-মায়ের নিজেদের আচরণও হতে হবে সন্তানের জন্য আদর্শ। কারণ শিশুরা উপদেশের চেয়ে বাবা-মায়ের কাজ ও আচরণ থেকেই বেশি শিক্ষা গ্রহণ করে।”
জিএসডিও পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “শিশুদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি তাদের নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সঙ্গে পরিবারের নিয়মিত তদারকি থাকলে শিশুরা সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।”
আলোচনা সভায় বক্তারা সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিশুদের ইসলামী ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে পরিবার, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় স্থানীয় মুসল্লি, অভিভাবক, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আবু নাছের ওরফে সোহাগ
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আবু নাছের ওরফে সোহাগ (৪৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সোহাগ বসুরহাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কবুতর ব্যাপারী বাড়ির মৃত মো.আবু তাহেরের ছেলে। তিনি বসুরহাট পৌরসভা বহুমুখী সমবায় সমিতির আদায়কারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট সোহাগ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সেলিম বলেন, সোহাগ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রথমে কোম্পানীগঞ্জের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে কুড়ালের কোপে মজিদ মোড়ল (৭০) নামের এক কলা ব্যবসায়ী শশুরকে হত্যা করে থানায় হাজির হয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছে অভিযুক্ত মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার (৩৫)। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার এবং নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে উপজেলার জামালপুর এলাকার বাসিন্দা কলা ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ মোড়লের মেয়ে শাহানারা বেগমের (২৮) সঙ্গে একই এলাকার মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মৃত নোয়াব আলী সরকারের ছেলে মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।
অভিযোগ আছে, বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল শশুর বাড়ী থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রীর ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। কলা বিক্রি করে সংসার চালানো পিতা আব্দুল মজিদ মোড়লের পক্ষে সব সময় মোজাম্মেলের দাবি মেটানো সম্ভব হতো না। আর তার জের হিসেবে প্রায়ই শাহনারা বেগমকে মারধরের শিকার হতে হতো। প্রায় ১৫ দিন আগে মোজাম্মেল মারধর করে শাহানারাকে বাড়ী থেকে বের করে দেন। তারপর থেকে শাহানারা বাবার বাড়ীতে আছেন। স্বামীর অত্যাচারে শাহানারা তার সংসারে না ফেরার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মো. মাসুদ রানা শামিম জানায়, শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) বিকেলে প্রতিদিনের মতো বাড়ী থেকে জামালপুর বাজারের উদ্দেশে রওনা হন মজিদ মোড়ল। বেলা সাড়ে চারটার দিকে বাজারের ভাঙ্গারি পট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে দিয়ে মাথায় কলার ছড়া নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো কুড়াল দিয়ে মোজাম্মেল তার শ্বশুর আব্দুল মজিদ মোড়লের মাথায় কোপ দেন। এতে গুরুতর জখম হন মজিদ মোড়ল। পরে স্থানীয়রা আব্দুল মজিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডা. মো. জিয়াউর রহমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো. লিটন মোড়ল (২৬) বাদী হয়ে মোজাম্মেল হককে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন {মামলা নং ২৪(৮)২}। মামলার পর অভিযুক্ত মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তারে রাতভর অভিযান চালায় পুলিশ। আজ শনিবার (২৯ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে মোজাম্মেল নিজেই থানায় হাজির হয়ে ঘটনার দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পঞ্চগড়ে সার সরবরাহ, সুষ্ঠু বিতরণ, মজুদ পরিস্থিতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিবন্ধিত রাসায়নিক সার ডিলারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন,“দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে। এই সার নিয়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গুজব ছড়ানোর কোনো রকম সুযোগ নেই।”
তিনি বলেন, বিগত দিনে একটি দলীয় মতের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেকেই সার ডিলার ছিলেন। তারা বহাল তবিয়তেই থাকবেন, তাদের বাদ দেওয়া হবে না। ডিলারদের বাদ দেওয়া হবে- এমন প্রচারণা সম্পূর্ণ গুজব। বরং কোনো ডিলারের পদ শূন্য হলে সেখানে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “এটাই হলো তারেক রহমান সরকার-যার কাছে দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থ এক হয়ে কাজ করার মানসিকতা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতে নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে নিজ গ্রামের ও নিজ ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিরা ডিলার হওয়ার সুযোগ পাবেন।
সার নিয়ে কৃত্রিম সংকট ও গুজব ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের প্রতি মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই টিম সার সরবরাহ, মজুদ ও বিতরণ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করবে।
জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু এবং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি শরিফ হোসেন।
এ সময় জেলার পাঁচ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পাঁচ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং নিবন্ধিত রাসায়নিক সার ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন।
লালপুরের ওয়ালিয়ায় নির্মাণাধীন ঘরের ভেতর থেকে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার একটি গাঁজার গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) গভীর রাতে লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের ওয়ালিয়া মধ্যপড়া গ্রামের মৃত দেলু প্রামাণিকের ছেলে সোহরাব আলীর নির্মাণাধীন বিল্ডিং এ অভিযান চালিয়ে লালপুর থানা পুলিশ প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার গাঁজার গাছটি উদ্ধার করে।
এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সোহরাব আলীকে আটক করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করছে। মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গাঁজার গাছটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কলাপাড়ার খাল বিল কিংবা ডোবায় পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, টাকি, শোল,চিংড়ি, বাইম, বেলে মাছ একটা সময় প্রচুর দেখা মিলতো। বর্ষার মৌসুমে গ্রামীণ জনপদের মানুষ এই মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু এই সব দেশীয় মাছের দেখা মেলা এখন ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রামীণ জনপদের খালে ও বিলে বৈশাখের নতুন পানির সাথে ভেসে আসা উজনতি মাছ শিকার করার এক মহা উৎসব দেখা যেত। এইতো সেই দিনের কথা যেদিন ফসলি জমিতে প্রয়োগ হতো পরিবেশ বান্ধব কীটনাশক তখন দেশীয় মাছের কোন ক্ষতি হতো না তখনই দেশীয় মাছে ছিল খাল বিল নদী নালায় ভরপুর। যখন থেকে সেতারা, কর্ডন প্লাস,নাইট্রো, জি- ফাইভ, ক্লোরসাইরিন, চিতা, সিমলা, নামক অনেক কীটনাশক বাজারে এসেছে তখন থেকে বিদায় নিতে শুরু করেছে এই সমস্ত দেশীয় মাছ।
প্রজননের জন্য বিলে বের হলে কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ কীটনাশক ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে এতে করেই অপ্রাপ্ত মাছগুলো বেড়ে ওঠার আগেই মারা যায়। বর্ষার সময়ে এসব বিষাক্ত পদার্থ বৃষ্টির পানির সঙ্গে নদী-নালা ও খালে মিশে পানির জীববৈচিত্র্য নষ্ট করছে, যা মাছের প্রজনন ও জীবনচক্র ব্যাহত করছে।
স্থানীয় মৎস্য শিকারী ও সচেতন মহল জানান, একসময় এই অঞ্চলের খাল-বিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু এখন আর সেই মাছের দেখা মেলে না। পুঁটি, কৈ, শিং, মাগুর, পাবদা, টাকি, চিংড়ি, বাইম, বেলে ও গজার মাছের মতো দেশীয় প্রজাতির মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির মুখে।
তবে স্থানীয়রা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, কীটনাশক তৈরিতে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার, যেন কীটনাশক দ্বারা মাছে ক্ষতি না হয়। কীটনাশক তৈরী হওয়া উচিৎ পরিবেশ বান্ধব।
কলাপাড়া উপজেলার কৃষি অফিসার আরাফাত হোসেন বলেন, রাসায়নিক ও কীটনাশকগুলো সরাসরি সরকার অনুমোদন দিয়েছে। আমরা কৃষকদের সব সময়ই বলে থাকি জৈব বালাইনাশক কীটনাশক ব্যাবহার করতে তবে কিছু কিছু পোকা আছে যা জৈব বালাইনাশক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সে ক্ষেত্রে কৃষকদের বলি যত কম মাত্রায় কীটনাশক ব্যাবহার করা যায়। জৈব বালাইনাশক ব্যাবহার করলে মাটি ও মাছের ক্ষতি হয় না। কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন দেশীয় মাছ রক্ষা করার জন্য ইতিমধ্যে মৎস্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ও অবগতি করা হয়েছে। যাতে কৃষি কাজে যে কীটনাশক গুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলো যেন আমাদের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে সে গুলো নিয়ন্ত্রণ করে যেটা পরিবেশ বান্ধব কীটনাশক আছে সে গুলো ব্যাবহারের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীতে ছয় মাস আগে যে পোলাওয়ের চাল ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, এখন তার দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জীবনে তাঁরা পোলাওয়ের চালের দাম এত বাড়তে দেখেননি।
এদিকে কৃষকেরা জানান, উৎপাদন মৌসুমে তাঁরা যে দামে ধান বিক্রি করেছিলেন, এখন সেই দাম প্রায় দ্বিগুণ। তবে কোনো কৃষকের ঘরেই আর ধান নেই। কৃষকের হাতছাড়া হওয়ার পরই দামের এই ঊর্ধ্বগতি ঘটেছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের অনেকের মতে, বিদেশে রপ্তানির কারণেই বাজারে পোলাওয়ের চালের দাম বেড়েছে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি মোট ১ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন চাল রপ্তানি করেছে।
প্রধানত ব্রি-৩৪ (চিনিগুঁড়া) ধান থেকে পোলাওয়ের চাল তৈরি হয়। বর্তমানে বাজারে গত আমন মৌসুমের ধানের চাল বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, দেশের বেশির ভাগ ব্রি-৩৪ (চিনিগুঁড়া) ধান উৎপাদিত হয় দিনাজপুরে। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়েও কিছু উৎপাদন হয়ে থাকে। দিনাজপুরে এবার ২ লাখ ৬০ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চিনিগুঁড়া ধানের আবাদ হয়েছে ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে। গত বছর এ ধানের আবাদ হয়েছিল ৯৪ হাজার হেক্টর জমিতে।
দিনাজপুর জেলা ডিএইর উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন জানান, চিনিগুঁড়া ধান থেকে তৈরি সুগন্ধি চাল মোড়কজাত করে স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ইস্পাহানি অ্যাগ্রো ও প্রাণ অ্যাগ্রোসহ কয়েকটি বড় কোম্পানি। তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার জহুরা অটো রাইস মিল স্থানীয়ভাবে সুগন্ধি চাল প্রক্রিয়াজাত ও বিপণন করে। এ ধানকে কেন্দ্র করে জেলায় ছোট-বড় প্রায় ২০০ অটো রাইস মিল গড়ে উঠেছে। তবে বর্তমানে যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, সেই দাম কৃষকেরা পাননি।
রাজশাহীর একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত জাহাঙ্গীর আলম খানের সঙ্গে গত বুধবার রাজশাহী নগরের সাহেববাজার এলাকায় পোলাওয়ের চালের দাম নিয়ে কথা হয়। তিনি জানান, পাঁচ মাস পর পোলাওয়ের চাল কিনতে গিয়ে রীতিমতো হতভম্ব হয়ে গেছেন। আগেরবার তিনি ১৪০ টাকা কেজিতে এই চাল কিনেছিলেন। এবার কিনতে হয়েছে ২৩০ টাকা কেজি। আগের দামের কথা বলতেই দোকানি তাঁকে বলেছেন, ‘সেই দিন আর নাই।’
রপ্তানির প্রসঙ্গ তুলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুপারমার্কেটগুলোতে বাংলাদেশের নানা পণ্য পাওয়া যায়। রপ্তানি তো হবেই। তাই বলে রাতারাতি এভাবে দাম বাড়বে কেন?
রাজশাহী নগরের কুমারপাড়া এলাকার গোলাপ মামার হোটেল নামের একটি রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী মো. গোলাপ সরদার জানান, ছয় মাস আগে তিনি প্রতি কেজি পোলাওয়ের চাল ১৩০ টাকায় কিনেছেন। এখন কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি। কিন্তু সে অনুযায়ী পোলাওয়ের দাম বাড়াতে পারেননি।
রাজশাহীর পাইকারি চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে তাঁরা এই চাল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি।
রাজশাহী নগরের সাহেববাজারের এপি চাউল ভান্ডার-১–এর স্বত্বাধিকারী অশোক প্রসাদ বলেন, কোরবানির ঈদের পর থেকেই দাম বাড়তে শুরু করে। কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। তাঁর মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চাল বাইরে রপ্তানি হচ্ছে বলেই দাম বেড়েছে। রপ্তানি বন্ধ হলে দাম আবার কমে আসবে।
শহরের কাদিরগঞ্জ এলাকার পাইকারি চাল ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন বলেন, ছয় মাস আগে এ চালের দাম ছিল ১০০ টাকা কেজি, এখন ২০০ টাকা। সরকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জসীম উদ্দিন জানান, এখন আর তিনি পোলাওয়ের চাল মজুত করছেন না। দুই সপ্তাহ আগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাঁর দোকানে এসেছেন। দাম নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা তাঁর সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছে। ২০০ টাকা কেজি দরে পোলাওয়ের চাল বিক্রির অভিযোগে তাঁকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ১৫ দিন আগেও চালের দাম এত ছিল না, তাহলে এত অল্প সময়ে দাম কীভাবে বাড়ল।
জসীম উদ্দিন জানান, তিনি ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বুঝিয়েছেন যে কোম্পানির গুদাম থেকেই তাঁরা ২০০ টাকা কেজি দরে চাল কিনছেন। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় যুক্ত হয়েছে। কেনা দামের ওপর ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন পান তাঁরা। ফলে ২০০ টাকার কমে বিক্রি করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বস্তার গায়ে কোম্পানির নম্বরও দেওয়া আছে, চাইলে ফোন করে দাম যাচাই করা যায়। কিন্তু এত ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও কোনো লাভ হয়নি। তাঁর ভাষায়, ‘রপ্তানি আজ বন্ধ হলেই কাল কেজিপ্রতি ৫০ টাকা কমে যাবে।’
বুধবার দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার চকযামিনী কাজীপাড়া গ্রামের কৃষক খালেদুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, গত মৌসুমে ৭৫ কেজির এক বস্তা চিনিগুঁড়া ধান ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে এ ধান চাষ করেছিলেন। ধানের দাম যখন ৫ হাজার ২০০ টাকায় ওঠে তখনই কৃষকের ঘরের ধান শেষ হয়ে যায়। ফলে কৃষকেরা বাড়তি দামের সুফল পাননি।
গত বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ি গ্রামের বড় কৃষক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, গত বছর তিনি ৩৬ বিঘা জমিতে চিনিগুঁড়া ধানের চাষ করেছিলেন। এবার দাম বাড়তে দেখে ৩৮ বিঘা জমিতে এ ধানের আবাদ করেছেন। তিনিও মনে করেন, রপ্তানির কারণেই দাম বেড়েছে।
দিনাজপুরের চালের আড়তদার আতিয়ার রহমান বলেন, ধান ওঠার সময় ৭৫ কেজির এক বস্তা চার হাজার টাকায় বেচাকেনা হয়েছিল। পরে তা ৬ হাজার টাকায় ওঠে। এখন সেই ধানের দাম সাড়ে আট হাজার টাকা। কেন দাম এত বেড়েছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকায় ধানের ঘাটতির কারণেই দাম বেশি। বিদেশে রপ্তানির বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেডা কবার পারব না ভাই। হতেও পারে।’