• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ এএম

১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন আর তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসন। এর তিনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র), আর বাকি তিনটিতে জামায়াত এগিয়ে আছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। 


২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী বিএনপির নেতাকর্মীদের অপকর্ম, আধিপত্য বিস্তার, আচার আচরণে দলটির ইমেজ অনেকাংশে কমেছে। তেমনি জামায়াতের প্রতি সাধারণ ভোটারদের বেড়েছে আগ্রহ।


এক সময়ের বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনগুলো উদ্ধারে মরিয়া হয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজ দল আর উপদলীয় কোন্দলে একদমই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি। বোদ্ধারা বলছেন শেষ মূহুর্তে দলীয় কোন্দল ঠেকাতে না পারলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে। 


জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নওগাঁর ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন, যা ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন পুরুষ ভোটারের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২১ জন। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বিএনএফ ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


এই ছয়টি আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক শক্তি মূলত: নারী ভোটাররা। ছয়টি আসনেই পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।


জামায়াত এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে সুক্ষ্মভাবে। তাদের নারী কর্মীরা দল বেঁধে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৪ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধরাও নিয়ামক শক্তির একাংশ হতে পারে বলে বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন। তাদের মতে দল, মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সন্তানেরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুবাদে জুলাই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে।


জুলাই চেতনা যাতে ধ্বংস না হয় সেজন্য এরা দশ দলকেই ভোট দেবে। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিএনপির একাংশের ভোট ছাড়াও নিয়ামক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে টানলেও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্রদের উপরই ভরসা রাখছেন এমনটাই বলছেন তারা।


নওগাঁ-১

 

জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৬ নওগাঁ-১ আসন। এখানে ভোটের মাঠে লড়ছেন পাঁচজন। তবে লড়াই হবে মূলত: ত্রিমুখী, বিএনপি-স্বতন্ত্র আর জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। 


গত নির্বাচনেও তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। দলীয় মনোনয়ন পাবার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন চুড়ান্ত হবার আগে থেকেই তিনিও মাঠে আছেন। এই হেভিওয়েট প্রার্থী ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর পর তিন বার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 


স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল) প্রার্থী হওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির একটি পক্ষ এখনও তার পক্ষে কাজ করছেন-এই অভিযোগে তিন উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির ভোট ব্যাংকে তিনি একটা বড় ফ্যাক্টর। 


তবে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সে কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে বর্তমানে কোনো বিভক্তি নেই। ডা: ছালেক চৌধুরী অনেক আগে থেকেই দল থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি প্রার্থী থাকায় ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।’ আর ডা: ছালেক চৌধুরী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি লড়াই করে যাবো। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই আমার অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে চাই।’ 


এই আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম এগোচ্ছেন ভিন্ন কৌশলে। নারী কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। 


স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী কালু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। তবে তা জেতার মত পরিস্থিতি তৈরি করতে যথেষ্ঠ নয় বলে অভিমত অভিজ্ঞদের।


নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৫ জন। এর মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ জন, পোরশা উপজেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার জন ও সাপাহার উপজেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৩ জন। ২০০৮ থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।


নওগাঁ-২


পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ৪৭ নওগাঁ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সামসু্েজ্জাহা খান, জামায়াতের এনামুল হক ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম। এখানে মূলত: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সামসুজ্জোহা খান পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। 


তিনি ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এই আসন আওয়ামী লীগের দখলে যায়। এই হেভিওয়েট প্রার্থী এবার এই আসন পুনরুদ্ধারে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপিতে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাঙ্খিত প্রচারণায় না থাকায় বিজয় ছিনিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। 


এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি নওগাঁ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর। দলীয় কৌশলী শৃঙ্খলে ডোর টু ডোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে এবার তারাই বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন। 


তবে সামছুজ্জোহা খান দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এবি পার্টির মতিবুল ইসলামও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।


এই আসনে মোট ভোটার তিন লক্ষ ৭২ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৭৭ জন, নারী এক লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৫৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গ দুই জন।


নওগাঁ-৩


মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন আর বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৮ নওগাঁ-৩ আসন। সর্বোচ্চ আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনে। এরা হলেন, ফজলে হুদা বাবুল (বিএনপি), মাহফুজুর রহমান (জামায়াত), নাছির বিন আছগর (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মাসুদ রানা (জাপা), কালিপদ সরকার (বাসদ), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (বিএনএফ), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি (স্বতন্ত্র) ও সাদ্দাম হোসেন (স্বতন্ত্র)। 


এখানে মূলত: লড়াই হবে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি আর জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের মধে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী অন্যদের চেয়ে অনেক গুন এগিয়ে থাকলেও দলীয় দ্বন্দ্বে আশানুরুপ ফল পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


বিএনপির প্রার্থী বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ট্যক সো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল অনেক আগে থেকেই মাঠে রয়েছেন। বদলগাছীতে উপজেলা বিএনপি আর মহাদেবপুরে উপজেলা কৃষক দলের ব্যানারে তিনি প্রচার চালান। এই আসনে আরো দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বয়কট, বয়কট, ফজলে হুদা বয়কট আন্দোলন করেন। 


এখন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ধানের শীষের প্রচারে নামলেও তা অনেকটাই লোক দেখানো এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তিনি যাতে বিজয়ী হতে না পারেন সেজন্য তারা গোপনে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কথা বলছেন এমনটাও ভাবছেন অনেকে। নিজ দলেই যেন কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তবে প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বলছেন, এবার বিএনপির জোয়ার এসেছে। জনতা বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন। 


মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ১নং সদস্য পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার পিতা জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু ১৯৯১ থেকে এই আসনে পরপর চার বার এমপি নির্বাচিত হন। 


এসময় তিনি এলাকায় প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন। গত নির্বাচনেও পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনিকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পাতানো নির্বাচনে সেবার তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। একারণে মানুষ তাকে জনতার এমপিই মনে করেন। এবারও তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। 


এছাড়া এখনও বিএনপির একটা অংশ তার জন্য কাজ করছেন। বহিস্কার হবার ভয়ে প্রকাশ্যে কাজ না করলেও আড়ালে তার ভোট করছেন। আঞ্চলিকতার টানেও মহাদেবপুর উপজেলার মানুষ তাকেই বেছে নিতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের একটা বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এদিক থেকে তার ভোটের পাল্লা অনেকটাই ভারি।


বিএনপি আর বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুবাদে শুরু থেকেই জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন সুবিধাজনক স্থানে। ডানপন্থীদের নানা কার্যক্রমে তারা যুক্ত থেকে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। এখন তাদের বৃহৎ নারী দলকে মাঠে নামিয়েছেন। মূলত: এই নারীকর্মীরা ভোটারদের মনের কোণে ঢুকতে সক্ষম হয়েছেন। এরাই হবেন জামায়াত প্রার্থীর জয়ের নিয়ামক শক্তি।


নওগাঁ-৪


মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৪৯ নওগাঁ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় জন। এরা হলেন, বিএনপির ডা. ইকরামুল বারি টিপু, জামায়াতের খন্দকার আব্দুর রাকিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন, সিপিবির ডা. ফজলুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফান বেগম ফেন্সি  (কলস)। 


এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে। তবে নানা কারণে বিএনপিতে বিভক্তির সুযোগ নিয়ে জামায়াত এগিয়ে যেতে পারে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। এখানে বিএনপিতে বিভক্তি থাকায় তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। ডা. ইকরামুল বারি টিপুকে মনোনয়ন দেয়ায় দীর্ঘদিন অন্যরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এতে দলের ভোট ব্যাংকে মারাত্মক চির ধরেছে। তবে ডা. ইকরামুল বারি টিপু বলেন, মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। 


এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রাকিব। ২০০৯ সালে এই দুই প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে। সেবার ডা. ইকরামুল বারি টিপু বিজয়ী হন। তবে ১৯৯১ এর নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদি এমপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বিএনপির বিভক্তিতে জামায়াতের অবস্থান হয়েছে শক্ত।


এরশাদ আমলে এই আসনে জাতীয় পার্টির কফিল উদ্দিন সোনার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার জাপা, সিপিবি, ও অন্যান্য দলের সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ফেন্সি একাই কলস প্রতীকের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 


উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৩ জন ও নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। 


নওগাঁ-৫


নওগাঁ সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৫০ নওগাঁ-৫ আসন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন। এরা হলেন, বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু, জামায়াতের এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলুকে গতবারও ধানের শীষ দেয়া হয়েছিল। তিনি ছাড়াও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। 


মনোনয়ন ঘোষণার পর তারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এখানে বিএনপির অন্তরদ্বন্দ্বে প্রাণহীন প্রচারণা চলছে বলেই মনে করছেন বোদ্ধারা। এর সুযোগ নিচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম। জামায়াতে কোন গ্রুপিং না থাকায় দিন দিন তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।


ইতোমধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান নওগাঁ সফর করে ভোটারদের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দু'দলই জিততে মরিয়া। দু'দলের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এই দু'দলই এখন আলোচনায়।


এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮০ হাজার ৩১ জন ও নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৪ জন। ভোটকেন্দ্র ১১৮টি। 


নওগাঁ-৬


বাংলা ভাই খ্যাত উত্তরের রক্তাক্ত জনপদ আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৫১ নওগাঁ-৬ আসন। এই আসনে এবার পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতের খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি বিআরপি এর আতিকুর রহমান রতন মোল্লা ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবির।


এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক চারদলীয় জোটের গৃহায়ন ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। পঞ্চম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত: আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর। গতবারও তিনিই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। 


রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু আলমগীর কবিরের ছোট ভাই হওয়ায় বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে যাবে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। অপরদিকে অতীতের নানা কারণে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকও গড়াতে পারে স্বতন্ত্রের দিকেই। আলমগীর কবির বলেন, ‘আমার লড়াই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই।’ বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় জামায়াতও এগুচ্ছে কৌশলী খেলায়। তারাও জয়ের জন্য আশাবাদী।


এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ জন ও মহিলা ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫ টি। 



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম


সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জে) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। 


অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন।


শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আড়চালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের কাছে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতবিনিময় সভা শেষে এমপি আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।


এ ঘটনার পর ধানগড়া এলাকায় স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ করেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী মো. শেখ রিয়াদ ও শ্রাবণ বলেন, ফয়সাল বিশ্বাসকে আজকের অনুষ্ঠানে কেউ দাওয়াত দেয়নি। তিনি এসে তাদের উসকানিমূলক কথা বলেন।


তারা বলেন, ‘আমরা এমপিকে শ্রদ্ধা করি। আমরা তাঁকে আমাদের দাবি-দাওয়া জানাচ্ছিলাম। কিন্তু ফয়সাল বিশ্বাস আমাদের জঙ্গিসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে গালাগালি করেন। বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী আমাদের আহত করেন। পরে ফয়সাল বিশ্বাস এমপির গাড়িতে চলে গিয়ে লাইভে এমপির গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে বলে জানান।’


শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, এমপির গাড়িতে যাওয়ার সময় তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।


পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, এমপির গাড়িতে হামলা হয়েছে। শিবিরের, এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। 


অন্যদিকে এমপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে চান্দাইকোনা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে বক্তারা এমপির গাড়িবহরে হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী, শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।


ঘটনার বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক বলেন, ‘আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি হামলা করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, আমি নিজ চোখে দেখেছি। প্রশাসন আজ রাতেই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে।’


তিনি বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীসহ বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।


রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. এসএম মুনসুর আলী বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ছাত্রশিবিরের সভাপতির সাথে কথা বলেছি তারা অবগত নয় বলে জানিয়েছে।’ তবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


এদিকে ঘটনার পর থেকে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন।


বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কয়েকজন সদস্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েক প্রজাতির ৬৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।


গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বণ্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬ এর ধারা ৩৬ (২), (৪) ও ৪৭ (২), সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর ২৬ (৩) এবং দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর, ১৯৮৯ ধারা ১০৩, ৫১৬ ক ও ৫২৫ এর বিধানর ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেঃ এ এইচ এন সারতাজ বিন সোহরাব এর বিরুদ্ধে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করা হবে না; সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।   


জব্দকৃত অবৈধ মাছের মধ্যে ছিলো শাপলাপাতা মাছ ৪৪০ কেজি ও গিটার মাছ ২৫০ কেজি। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। 


কোস্টগার্ডের সূত্রানুযায়ী- স্থানীয় বিএফডিসি মৎস্য ঘাটের একটি আড়তে সামুদ্রিক মাছ মজুদ রেখে বিক্রয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি বলে জানান কোস্টগার্ড। 


একই সূত্রে আরও জানা গেছে- পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে আদালতকে অবহিত করেন।

সর্বশেষ সব খবর

সুশিলা রাণী

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

জীবন সায়াহ্নের শেষ দশকে এসেও একটু শান্তির মুখ দেখতে পারছেন না আশি পেরোনো রুহিয়ার বয়োবৃদ্ধা সুশিলা রাণী। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতে শান্তিতে দিন কাটানো তো দূরের কথা, নিজের সম্পত্তি ভোগদখল করতে না পেরে উল্টো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ভুক্তভোগী এই বৃদ্ধার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং বদলেছে কেবল অত্যাচারীর পেছনের রাজনৈতিক অভিভাবক।


ভুক্তভোগীর দাবি, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রুহিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পার্থ সারথি সেনের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সুশিলা রাণীর দূর সম্পর্কের ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকার জমি জবর দখলের এসব অন্যায় কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। সে সময় একাধিকবার স্থানীয়ভাবে জানানোর পরও কোনো বিচার পাননি অসহায় সুশিলা রাণী।


২৪ এর অভ্যূত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও বদলায়নি সুশিলা রাণীর জীবনের চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিকাশ চন্দ্র সরকারের এই অপকর্মের নতুন আগের রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেইন ধরে রেখে বর্তমানে নতুন স্থানীয় নেতৃত্বকে ব্যবহার করে জমি দখলের পাঁয়তারা ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছেন বিকাশ।


আজ শনিবার (১৫ আগষ্ট) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সুশিলা রাণী তার জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে স্বামীর ভিটের দিকে ফেল ফেল তাকিয়ে রয়েছেন আর নিজ মনে কি যেন বিরবির করে বলছেন। 


ভিটেমাটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে উঠেন, যে পতাকাই উড়ুক না কেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন,তার মতো নিঃস্ব মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিতে কেনো সবাই এক হয়ে যায়? রাজনৈতিক রঙ বদলালেও ক্ষমতার আশ্রয়পুষ্ট বিকাশের মতো মানুষদের চাবুকের আঘাত তো একই রকম রয়ে গেল। ভেবেছিলাম আ’লীগ পালাইছে, এখন হয়তো শান্তিতে থাকতে পারবো। কিন্তু আমার সেই আশা আর পুরণ হলো না, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার বিকাশ তাদের দলে ভিরে ওই একই রকম আচরণ করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই, এর শেষ দেখতে চাই।




এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দল বদলালেও তাদের ওপর নির্যাতনের রূপ বদলায়নি। বিগত সরকারের সময় শুরু হওয়া অসম্পূর্ণ অন্যায়গুলোর দায় যেন এখন নতুন করে কে বা কারা  গ্রহণ করেছে।


সুশিলা রাণীর মেয়ে শোভা রাণী সরকার বলেন, আমি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করি। আমার মা আমাদের বোনদেরকে সহ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। আমাদের কোন অভিভাবক না থাকায় আমাদের ভিটে মাটি নিয়ে যখন যে ইচ্ছে তাই করেছে, আমাদের সাথে ক্রমাগতভাবে অন্যায় করে চলেছে। আমার মাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। অনেকবার বিচার সালিশ হয়েছে, কিন্তু ফল পায়নি আমার মা। আমার কাকাতো ভাই বিকাশ বা তার মত যারা আছে তারা তো অন্যায় করেছেই। ভাবতে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে এ শ্রেণির মানুষ গুলোই সব রাজনৈতিক দলেই আশ্রয় পায়।  


এ বিষয়ে সুশিলার ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান।


নিজের ভিটেমাটিতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাসটুকু ফেলার আকুতি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অসহায় সুশিলা রাণী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াত ও গণধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। 


এছাড়া হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির নিজস্ব কার্যালয়ে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।শনিবার সাড়ে ৬টার দিকে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। 


ভাঙচুরে আমির হামজার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি

এই সমাবেশস্থলের অদূরেই আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমাবেশস্থলে এলে সেখানে থাকা তার কয়েকজন সমর্থক বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 


আমির হামজার সমর্থকরা পরে সেখান থেকে মিছিল করে ছয় রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে দাবি করেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা।  এ সময় সংবাদকর্মীরা এর ছবি সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর আমির হামজার সমর্থকরা চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। 


গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ জানান, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় হামজার সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে এ ব্যাপারে আমির হামজার দুই কর্মী তাৎক্ষণিক জানান, গণঅধিকার পরিষদের লোকজন প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।



জেলা জামায়াতের আমির আলী মহসিন জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য আমির হামজা সুস্থ আছেন। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের লোকজন আগে হামলা করেনি। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তারা কেবল প্রতিরোধ করে। 


কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, তারা উত্তেজনা প্রশমন করার জন্য দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। 


জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কোন ভিত্তি নাই তাদের অল্প কয়েকজন কর্মী রয়েছে, তারা বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালায়। 


তিনি বলেন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে এমপি সাহেবের গাড়িতে হামলা চালায়, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।



সর্বশেষ সব খবর

প্রতিপক্ষের ভেঙ্গে দেয়া ইটের পাকা দেয়াল

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) পূর্বরাত দেড়টার দিকে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন ঈদগাঁহপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।


উপজেলার রনাইল নিচপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এলাহী বক্সের ছেলে বুলবুল আহমেদ থানায় লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন যে, তার পিতা কুঞ্জবন মৌজায় পাঁচ শতক জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে এক যুগের বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি বাড়ির চারদিকে টিন দিয়ে বেড়া দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা চাঁদা দাবি করে। এরই জের ধরে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে প্রতিপক্ষরা হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, শাবল, এসএস পাইপ, ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়িতে এসে কুপিয়ে টিনের বেড়া কেটে ও টিনের ছাউনি কেটে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনদের জিম্মি করে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করে। তারা বাড়ির স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়, বাড়ির পাকা ওয়াল ভেঙ্গে ফেলে এবং চারদিকের টিনের বেড়া কেটে ও ছাউনির টিন খুলে নিয়ে যায়। প্রতিপক্ষরা তাদের বাড়ি ও আশেপাশের সব বাড়ির দরজা বাহির থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। তারা বাড়ি থেকে নগদ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণলংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। 


এব্যাপারে খাজুর নিচপাড়া গ্রামের ইউসুফ মোল্লার ছেলে ওয়াজেদ আলী, তার ছেলে মো: রাসেল, বিলমোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত হামিদ সরকারের ছেলে বিপ্লব সরকার, জয়পুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে এমদাদুল হক ও মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আফজাল হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।


জানতে চাইলে মোবাইলফোনে প্রতিপক্ষ ওয়াজেদ আলী বাড়িতে হামলার কথা অস্বীকার করে জানান, ওই জমি নিয়ে কয়েকবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মিমাংশার কথাবার্তা চলছিল।


মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক লিখিত এজাহার পাবার কথা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

বিষ প্রয়োগের ফলে মাছ মরে ভেঁসে ওঠে

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৭ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে এব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি এন্ট্রি করা হয়েছে।


উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের তাছের উদ্দিনের ছেলে সামসুল হক অভিযোগ করেন যে, জয়পুর স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে কামরুল হোসেনের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সামসুলের খনন করা পুকুরের একপাশে কামরুল দখলের পাঁয়তারা করছিল। এ বিষয়ে নওগাঁর মহাদেবপুর সহকারি জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। (মামলা নং ১৮৫/২০২৩)। ওই মামলায় বিবাদীর প্রতি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। কিন্তু কামরুল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামসুলের পুকুরের ক্ষতি সাধন ও দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১১ আগস্ট দুপুরে কামরুল ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। ফলে পরদিন থেকে পুকুরের সব ধরণের মাছ মরে ভেঁসে উঠতে থাকে।


শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই পুকুরে মাঝারি আকারের অসংখ্য মাছ, সাপ, ব্যাঙ প্রভৃতি মরে ভেঁসে আছে। জানতে চাইলে কামরুল বলেন, পুকুরের পাশে তার বাড়ির চারপাশের জঙ্গল পরিস্কার করার জন্য তিনি বিন্যামারা বিষ প্রয়োগ করেছেন।


মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, সাধারণ ডাইরিটি এনজিআর মামলায় রুপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সব খবর