সিলেটের কাজিরবাজার পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সিলেট নগরীর কাজিরবাজারের মালিকানা রাষ্ট্রের কাছে এসেছে। সরকারের পক্ষে সিটি কর্পোরেশন এক বছরের জন্য বাজারটি ইজারা দিয়েছে।
ইজারা থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের একটি অংশ খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া ওয়াকফ এস্টেটকে প্রদান করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ নগরবাসীর কল্যাণে ব্যয় করা হবে।সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে কাজিরবাজার পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
কাজিরবাজারের ইতিহাস তুলে ধরে সিসিক প্রশাসক জানান, অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে খান বাহাদুর আবু নছর মোহাম্মদ এহিয়া এই বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘কাজী’ থেকে বাজারটির নামকরণ করা হয়। জনহিতকর কাজে তিনি তাঁর সম্পত্তি ওয়াকফ এস্টেটে দান করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায়—বানিয়াচং, হাকালুকি হাওর, সুনামগঞ্জ হয়ে আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত—খান বাহাদুরের উল্লেখযোগ্য সম্পত্তি ছিল। অতীতে সিলেট জেলার ডিসি এই ওয়াকফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। বর্তমানে সম্পত্তির তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, হাটবাজার নীতিমালা অনুযায়ী কোনো বাজার ব্যক্তিমালিকানাধীন হতে পারে না; এর মালিক সরকার। কাজিরবাজার নিয়ে নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলা শেষে চূড়ান্তভাবে সরকারের পক্ষে রায় আসে।
বিভাগীয় কমিশনার সরাসরি বাজার পরিচালনা করতে না পারায় সিটি কর্পোরেশন এক বছরের জন্য এই হাট ইজারা দিয়েছে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয়ই নগর উন্নয়নের প্রধান উৎস। কাজিরবাজার থেকে অর্জিত রাজস্বের একটি অংশ ওয়াকফ এস্টেটকে প্রদান করা হবে এবং বাকি অর্থ নগরবাসীর কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।
বাজার পরিচালনায় সিটি কর্পোরেশন ও ইজারাদারকে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেবসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ইজারাদার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৮টি জোন ও ৫৭টি ওয়ার্ডে শীঘ্রই উন্নতমানের খেলার মাঠ ও আধুনিক ফুটসাল টার্ফ নির্মাণের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিটি প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে টঙ্গী প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর: অর্জন, প্রত্যাশা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে জমি শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ডিপিপি (উচ্চ) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।’
তিনি আরও বলেন, টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী কলেজগেট অডিটোরিয়াম ও স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণটি সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে উদ্ধার করা হয়েছে। বুয়েটের প্রকৌশলীদের দিয়ে সেখানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক স্টেডিয়াম এবং সিটির আঞ্চলিক কার্যালয়ের স্থানে ১০ তলা ভবনের নকশার কাজ চলছে। জনভোগান্তি নিরসনে বিআরটি প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করে চেরাগ আলী ও কলেজগেট এলাকায় রেইলিং ফেনসিং নির্মাণ, নতুন ফুটওভার ব্রিজ চালুর পাশাপাশি টঙ্গী প্রেসক্লাবের জন্য একটি নিজস্ব ও দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্টানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)'র সাবেক সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ এর যুগ্ম সম্পাদক এম আব্দুল্লাহ।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সবচাইতে বড় অর্জন হলো স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও একটি মুক্ত বাংলাদেশ। বিগত সরকারের শাসনামলে সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতা চরমভাবে হরণ করা হয়েছিল। অপসাংবাদিকতা দূর করতে হলে পেশাদার সাংবাদিকদের সঠিক মূল্যায়ন ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয় প্রেসক্লাব, প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও প্রেস কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সাংবাদিকদের সরকারি কর্মকর্তা স্কেলের বেতন ভাতা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়াও সাংবাদিকদের স্বার্থরক্ষায় অনেক অবদান রেখেছেন।
টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ্ব মো: মেরাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ আজিজুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দীন, মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম খান কালা, জিএমপি (দক্ষিণ)-এর এডিসি মোহাম্মদ জিয়াউল হক, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সাবেক সভাপতি সৈয়দ আতিক প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মাহবুব চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো: জাকারিয়া চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদ আহম্মেদ রবিন, কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সবুর খান, দপ্তর প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান শোভন, সদস্য এম আর নাসিরসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
দেবাশীষের মেয়ের খোঁজখবর নিচ্ছেন এডুকেয়ার স্কুলের শিক্ষকরা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দমবন্ধ হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের সাতজন। তাদের মধ্যে আজকের পত্রিকা-চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪) রয়েছেন।
এ দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সাত বছরের মহিমা দত্ত এখন একা। ভারতে যাওয়ার আগে দেবাশীষ তার মেয়ে মহিমাকে কুষ্টিয়ায় ঠাকুমা ও ঠাকুরদার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। এখন বাবা-মা ও ছোট ভাইকে হারিয়ে সেই ঠাকুমা-ঠাকুরদাই মহিমার একমাত্র আশ্রয়।
মহিমা কুষ্টিয়ার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেজি শ্রেণির ছাত্রী। বাবা-মা ও ভাইকে হারিয়ে তার ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চয়তার মুখে, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। মহিমার এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে মহিমার বাবা-মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে স্কুলের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেলসহ শিক্ষকরা তার বাড়িতে যান। তারা মহিমার ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গে কথা বলেন এবং তার পড়াশোনার জন্য বই, খাতা, কলমসহ শিক্ষা-সংক্রান্ত সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ‘মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, বই-খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বহন করবে। শুরু থেকেই যেন বাবা-মায়ের অভাবে সে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। সকালে আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে গিয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছি।’
মহিমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তার ঠাকুমা-ঠাকুরদাসহ পরিবারের সদস্য এবং দেবাশীষ দত্তের সহকর্মীরা। তারা এ উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। এর আগে বুধবার রাতে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা নিহত দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তারা। মঙ্গলবার আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা শেষে বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যেই কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নিহত অন্য বাংলাদেশিরা হলেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির আহমেদ বাবু (৪০), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার। এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহত অপর একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
জিএমপির নতুন পুলিশ ক্যাম্পের উদ্বোধন
মহানগরীর মাস্টার বাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর অংশ হিসাবে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় 'কাউলতিয়া পুলিশ ক্যাম্প' উদ্বোধন করেছেন জিএমপি কমিশনার মো: ইসরাইল হাওলাদার।
এ উপলক্ষে ক্যাম্প প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জিএমপি কমিশনার বলেন, গাজীপুর সদর থানাধীন কাউলতিয়ায় আরো একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি মাদক নির্মূলে ভূমিকা রাখবে। তিনি অপরাধ নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্হানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এতে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) বেলায়েত হোসেন, বিএনপি এ্যাড. মেহেদী হাসান এলিস, আবু তাহের মুসল্লি, সাইফুল ইসলাম টুটুলসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ধর্মপাড়া ও ভেড়ামারা এলাকার বাসিন্দা অনিতা রানী সরকারকে ঘিরে মাদক ব্যবসার বিস্তার এবং আন্তঃজেলা মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, রাজশাহীর গোদাগাড়ী প্রেমতলী গ্রামের খোকন মাহাজন, করিম মাহাজন, সহ এলাকার কয়েকজন মাদক কারবারির কাছ থেকে নিয়মিত হেরোইন সংগ্রহ করে কুষ্টিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা এবং রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় পাইকারি ও খুচরা সরবরাহের সঙ্গে অনিতা রানী সরকারের সম্পৃক্ত।
অভিযোগে আরও জানাগেছে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ভাগজোত-তালতলা এলাকার রাজু ওরফে জিয়ার মাধ্যমে সীমান্তপথে গাঁজা, ফেনসিডিল এবং অস্ত্র সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকাতে সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে মাদক সম্রাজ্ঞী অনিতা রানী সরকার।
রেলপথ ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগ-অনিতা রানীর নিজের বক্তব্য হিসেবে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে ভেড়ামারা-পাকশী রেলপথ ও রেলওয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে ট্রেনযোগে মাদক পরিবহনের করে। এ ক্ষেত্রে ট্রেনের স্টাফ, টিটিই, খাবার সরবরাহকারী এবং রেলওয়ে পুলিশের কিছু সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই সব করে।
তবে অনিতা রানীর কাছ থেকে কৌশলে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কোনো রেল কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগে অনুসন্ধানী টীম কাজ চলমান রেখেছে। একাধিক মাদক মামলার তথ্য-অনুসন্ধানে অনিতা রানী সরকারের বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত মামলাগুলোর তথ্য পাওয়া গেছে-১৭ আগস্ট ২০২৩, গোদাগাড়ী থানায় হেরোইনসহ গ্রেপ্তারের ঘটনা, মামলা নম্বর জিআর-৪২৩ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯ এপ্রিল ২০২৩: কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা; মামলা নম্বর ৪৩ তথ্য পাওয়া গেছে। ৫ নভেম্বর ২০২৩: ভেড়ামারা থানায় মামলা; মামলা নম্বর ১০ তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব মামলায় গ্রেপ্তারের পর তিনি কিছু সময় কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন। পরবর্তীতে বিভিন্ন জেলায় মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক প্রসার গড়ে তোলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ-আরও অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন অনিতা রানী। এমনকি বর্তমানে ডিবি হেডকোয়ার্টার মিন্ট রোডে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগের। তদন্তের দাবি স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিতা রানী সরকারের মাদক ও অস্ত্রের এই নেটওয়ার্কের কারণে কুষ্টিয়া, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ছে।
উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে উপরোক্ত বিষয়ে অনিতা রানী সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেনি।
বিরলে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিরল কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার চত্বরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যৌথ আয়োজনে কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুল হক হীরা, সাধারণ সম্পাদক নুজ্জামাল হোসেন সোনাহার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের (আহবায়ক) ভারপ্রাপ্ত আসাদুল ইসলাম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মমিনুল ইসলাম, সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিনুর ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শেষে শহিদ মিনার চত্বরে বৃক্ষরোপন করেন।
পাইকগাছা-কয়রার মানুষের চিকিৎসা সহ সকল আধুনিক সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্য। সব সময় মানব সেবার কাজে আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। শুধু আমি একা নই এই কাজে যারা সহযোগিতা করবে তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। নিজের এলাকার গরীব দুঃখী মানুষের পাশে দাড়াতে নিয়মিত ছোট বড় পরিসরে জনসেবা মূলক উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। জনগনের স্বার্থে নিজেকে নিয়োজিত করাই হলো একজন মহানুভব ব্যক্তির কাজ, এটা সর্বদা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।
খুলনার পাইকগাছা উপজেলা খড়িয়া মিলনবীথি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দিনব্যাপী ফ্রী চক্ষু ক্যাম্পের উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ও খুলনা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি এসব কথা বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগষ্ট) সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এসময় ৩ শ' ৫৫ জন রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন।
সাতক্ষীরা গ্রামীন চক্ষু হাসপাতাল সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত ফ্রী চক্ষু ক্যাম্পের সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল। ক্যাম্পে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন সাতক্ষীরা গ্রামীন চক্ষু হাসপাতালে ডাঃ সৌমিত্র বৈরাগী (এমবিবিএস) ও ক্যাম্প পরিচালনা করেন গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালে রিপ্রেজেনটেটিভ মোঃ আরাফাত হোসেন। ক্যাম্পে আগত রোগীর মধ্যে থেকে ৪০ জন ছানি রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। সনাক্ত হওয়া এসব ছানী রোগীদের সাতক্ষীরা গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের মাধ্যমে উন্নত মানের লেন্স বসিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া চক্ষু ক্যাম্পে আগত রোগীদের মধ্যে থেকে ৭০ জন রোগীর চোখ পরীক্ষা করে বিনামূল্যে চশমা ও ৪০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চোখের ঔষধ বিতরণ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্য প্রদানকালে সাংবাদিক রাবিদ মাহমুদ চঞ্চল বলেন, আমি বিগত কয়েক বছর ধরে আমার এই অবহেলিত এলাকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে এ ধরনের সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও এমন কর্মকান্ড চলমান থাকবে।