প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে কথা বলেন। ছবি:
ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (২ মে) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
সড়কপথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়। তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারবো। একই সাথে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেয়া করতে পারবেন। '
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট রুটে সড়কের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে প্রায় ১০ ঘন্টা সময় লেগে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি নির্বাচনী প্রচারের সময় এসে বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সিলেট-ঢাকা সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দেবো।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।’
তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।'
সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় চাঁদনী ঘাট এলাকায় এ সমাবেশ শুরু হয়। প্রথমেই কোরআন থেকে তেলওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ্ সার্ভিস (এনএইচএস) - এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত। তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী।
এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন। '
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ১২'শ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সিলেটে শিল্প-কারখানা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’
সিলেটের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, 'জলাবদ্ধতার সমস্যা শুধু সিলেটেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সারা দেশের একটি সাধারণ সমস্যা। জলাবদ্ধতা নিরসনে মানুষকে সচেতন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে আমি অনুরোধ করব অবশ্যই আপনারা বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করবেন মানুষ যাতে সেবা পায়। কিন্তু একই সাথে যদি আপনারা মানুষকে সচেতন করার জন্য কতগুলো উদ্যোগ নেন, যেমন প্লাস্টিক অথবা পলিথিন কাগজসহ যে কোন বর্জদ্রব্য যেখানে সেখানে যাতে আমরা না ফেলি তার উদ্যোগ নিতে হবে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ চালু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে সারা দেশ থেকে প্রতিভাবান খুদে খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। সারাদেশে ৩০ লক্ষ বাচ্চা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এসব বাচ্চাদের ভেতর থেকে প্রতিভাবানরা একদিন আমাদের দেশের জন্য বিদেশ থেকে স্বর্ণপদক জয় করবে, সুনাম বয়ে আনবে। '
তিনি বলেন, আড়াই মাস সয়সী একটি শিশু হাঁটতে পারে না। শিশুটিকে হাঁটতে হলে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হয়। সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাসের মতো। তবে আমরা,এরই মধ্যে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলাম সেগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। এরই মধ্যে আমরা নারীদের সহায়তা করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালু করেছি। আরও যে সকল প্রকল্প আছে সবগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম দিয়ে আমরা উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকেও গড়ে তুলতে পারবো। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। তাইতো এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সকলের কাছে একটাই প্রত্যয়, একটাই স্লোগান ধারণ করতে হবে, তা হলো- 'করব কাজ, গড়ব দেশ Ñ সবার আগে বাংলাদেশ’।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।
এর আগে বেলা ১১ টায় চাঁদনি ঘাটে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।
প্রধানমন্ত্রী সিলেটে এসে প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি সেখান থেকে 'সবার আগে বাংলাদেশ' খ্যাত লাল সবুজ বাসে চড়ে চাঁদনি ঘাটে আসেন।
সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জে) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি।
অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন।
শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আড়চালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের কাছে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতবিনিময় সভা শেষে এমপি আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনার পর ধানগড়া এলাকায় স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ করেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী মো. শেখ রিয়াদ ও শ্রাবণ বলেন, ফয়সাল বিশ্বাসকে আজকের অনুষ্ঠানে কেউ দাওয়াত দেয়নি। তিনি এসে তাদের উসকানিমূলক কথা বলেন।
তারা বলেন, ‘আমরা এমপিকে শ্রদ্ধা করি। আমরা তাঁকে আমাদের দাবি-দাওয়া জানাচ্ছিলাম। কিন্তু ফয়সাল বিশ্বাস আমাদের জঙ্গিসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে গালাগালি করেন। বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী আমাদের আহত করেন। পরে ফয়সাল বিশ্বাস এমপির গাড়িতে চলে গিয়ে লাইভে এমপির গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে বলে জানান।’
শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, এমপির গাড়িতে যাওয়ার সময় তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, এমপির গাড়িতে হামলা হয়েছে। শিবিরের, এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে।
অন্যদিকে এমপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে চান্দাইকোনা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা এমপির গাড়িবহরে হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী, শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
ঘটনার বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক বলেন, ‘আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি হামলা করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, আমি নিজ চোখে দেখেছি। প্রশাসন আজ রাতেই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে।’
তিনি বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীসহ বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. এসএম মুনসুর আলী বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ছাত্রশিবিরের সভাপতির সাথে কথা বলেছি তারা অবগত নয় বলে জানিয়েছে।’ তবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ঘটনার পর থেকে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কয়েকজন সদস্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েক প্রজাতির ৬৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বণ্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬ এর ধারা ৩৬ (২), (৪) ও ৪৭ (২), সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর ২৬ (৩) এবং দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর, ১৯৮৯ ধারা ১০৩, ৫১৬ ক ও ৫২৫ এর বিধানর ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেঃ এ এইচ এন সারতাজ বিন সোহরাব এর বিরুদ্ধে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করা হবে না; সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
জব্দকৃত অবৈধ মাছের মধ্যে ছিলো শাপলাপাতা মাছ ৪৪০ কেজি ও গিটার মাছ ২৫০ কেজি। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।
কোস্টগার্ডের সূত্রানুযায়ী- স্থানীয় বিএফডিসি মৎস্য ঘাটের একটি আড়তে সামুদ্রিক মাছ মজুদ রেখে বিক্রয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি বলে জানান কোস্টগার্ড।
একই সূত্রে আরও জানা গেছে- পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে আদালতকে অবহিত করেন।
সুশিলা রাণী
জীবন সায়াহ্নের শেষ দশকে এসেও একটু শান্তির মুখ দেখতে পারছেন না আশি পেরোনো রুহিয়ার বয়োবৃদ্ধা সুশিলা রাণী। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতে শান্তিতে দিন কাটানো তো দূরের কথা, নিজের সম্পত্তি ভোগদখল করতে না পেরে উল্টো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ভুক্তভোগী এই বৃদ্ধার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং বদলেছে কেবল অত্যাচারীর পেছনের রাজনৈতিক অভিভাবক।
ভুক্তভোগীর দাবি, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রুহিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পার্থ সারথি সেনের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সুশিলা রাণীর দূর সম্পর্কের ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকার জমি জবর দখলের এসব অন্যায় কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। সে সময় একাধিকবার স্থানীয়ভাবে জানানোর পরও কোনো বিচার পাননি অসহায় সুশিলা রাণী।
২৪ এর অভ্যূত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও বদলায়নি সুশিলা রাণীর জীবনের চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিকাশ চন্দ্র সরকারের এই অপকর্মের নতুন আগের রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেইন ধরে রেখে বর্তমানে নতুন স্থানীয় নেতৃত্বকে ব্যবহার করে জমি দখলের পাঁয়তারা ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছেন বিকাশ।
আজ শনিবার (১৫ আগষ্ট) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সুশিলা রাণী তার জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে স্বামীর ভিটের দিকে ফেল ফেল তাকিয়ে রয়েছেন আর নিজ মনে কি যেন বিরবির করে বলছেন।
ভিটেমাটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে উঠেন, যে পতাকাই উড়ুক না কেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন,তার মতো নিঃস্ব মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিতে কেনো সবাই এক হয়ে যায়? রাজনৈতিক রঙ বদলালেও ক্ষমতার আশ্রয়পুষ্ট বিকাশের মতো মানুষদের চাবুকের আঘাত তো একই রকম রয়ে গেল। ভেবেছিলাম আ’লীগ পালাইছে, এখন হয়তো শান্তিতে থাকতে পারবো। কিন্তু আমার সেই আশা আর পুরণ হলো না, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার বিকাশ তাদের দলে ভিরে ওই একই রকম আচরণ করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই, এর শেষ দেখতে চাই।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দল বদলালেও তাদের ওপর নির্যাতনের রূপ বদলায়নি। বিগত সরকারের সময় শুরু হওয়া অসম্পূর্ণ অন্যায়গুলোর দায় যেন এখন নতুন করে কে বা কারা গ্রহণ করেছে।
সুশিলা রাণীর মেয়ে শোভা রাণী সরকার বলেন, আমি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করি। আমার মা আমাদের বোনদেরকে সহ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। আমাদের কোন অভিভাবক না থাকায় আমাদের ভিটে মাটি নিয়ে যখন যে ইচ্ছে তাই করেছে, আমাদের সাথে ক্রমাগতভাবে অন্যায় করে চলেছে। আমার মাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। অনেকবার বিচার সালিশ হয়েছে, কিন্তু ফল পায়নি আমার মা। আমার কাকাতো ভাই বিকাশ বা তার মত যারা আছে তারা তো অন্যায় করেছেই। ভাবতে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে এ শ্রেণির মানুষ গুলোই সব রাজনৈতিক দলেই আশ্রয় পায়।
এ বিষয়ে সুশিলার ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান।
নিজের ভিটেমাটিতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাসটুকু ফেলার আকুতি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অসহায় সুশিলা রাণী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
জামায়াত ও গণধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষ
কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এছাড়া হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির নিজস্ব কার্যালয়ে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।শনিবার সাড়ে ৬টার দিকে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।
এই সমাবেশস্থলের অদূরেই আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমাবেশস্থলে এলে সেখানে থাকা তার কয়েকজন সমর্থক বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
আমির হামজার সমর্থকরা পরে সেখান থেকে মিছিল করে ছয় রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে দাবি করেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা। এ সময় সংবাদকর্মীরা এর ছবি সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর আমির হামজার সমর্থকরা চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ জানান, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় হামজার সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে এ ব্যাপারে আমির হামজার দুই কর্মী তাৎক্ষণিক জানান, গণঅধিকার পরিষদের লোকজন প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
জেলা জামায়াতের আমির আলী মহসিন জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য আমির হামজা সুস্থ আছেন। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের লোকজন আগে হামলা করেনি। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তারা কেবল প্রতিরোধ করে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, তারা উত্তেজনা প্রশমন করার জন্য দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কোন ভিত্তি নাই তাদের অল্প কয়েকজন কর্মী রয়েছে, তারা বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালায়।
তিনি বলেন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে এমপি সাহেবের গাড়িতে হামলা চালায়, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রতিপক্ষের ভেঙ্গে দেয়া ইটের পাকা দেয়াল
নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) পূর্বরাত দেড়টার দিকে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন ঈদগাঁহপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।
উপজেলার রনাইল নিচপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এলাহী বক্সের ছেলে বুলবুল আহমেদ থানায় লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন যে, তার পিতা কুঞ্জবন মৌজায় পাঁচ শতক জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে এক যুগের বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি বাড়ির চারদিকে টিন দিয়ে বেড়া দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা চাঁদা দাবি করে। এরই জের ধরে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে প্রতিপক্ষরা হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, শাবল, এসএস পাইপ, ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়িতে এসে কুপিয়ে টিনের বেড়া কেটে ও টিনের ছাউনি কেটে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনদের জিম্মি করে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করে। তারা বাড়ির স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়, বাড়ির পাকা ওয়াল ভেঙ্গে ফেলে এবং চারদিকের টিনের বেড়া কেটে ও ছাউনির টিন খুলে নিয়ে যায়। প্রতিপক্ষরা তাদের বাড়ি ও আশেপাশের সব বাড়ির দরজা বাহির থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। তারা বাড়ি থেকে নগদ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণলংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এব্যাপারে খাজুর নিচপাড়া গ্রামের ইউসুফ মোল্লার ছেলে ওয়াজেদ আলী, তার ছেলে মো: রাসেল, বিলমোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত হামিদ সরকারের ছেলে বিপ্লব সরকার, জয়পুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে এমদাদুল হক ও মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আফজাল হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
জানতে চাইলে মোবাইলফোনে প্রতিপক্ষ ওয়াজেদ আলী বাড়িতে হামলার কথা অস্বীকার করে জানান, ওই জমি নিয়ে কয়েকবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মিমাংশার কথাবার্তা চলছিল।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক লিখিত এজাহার পাবার কথা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিষ প্রয়োগের ফলে মাছ মরে ভেঁসে ওঠে
নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে এব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি এন্ট্রি করা হয়েছে।
উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের তাছের উদ্দিনের ছেলে সামসুল হক অভিযোগ করেন যে, জয়পুর স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে কামরুল হোসেনের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সামসুলের খনন করা পুকুরের একপাশে কামরুল দখলের পাঁয়তারা করছিল। এ বিষয়ে নওগাঁর মহাদেবপুর সহকারি জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। (মামলা নং ১৮৫/২০২৩)। ওই মামলায় বিবাদীর প্রতি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। কিন্তু কামরুল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামসুলের পুকুরের ক্ষতি সাধন ও দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১১ আগস্ট দুপুরে কামরুল ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। ফলে পরদিন থেকে পুকুরের সব ধরণের মাছ মরে ভেঁসে উঠতে থাকে।
শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই পুকুরে মাঝারি আকারের অসংখ্য মাছ, সাপ, ব্যাঙ প্রভৃতি মরে ভেঁসে আছে। জানতে চাইলে কামরুল বলেন, পুকুরের পাশে তার বাড়ির চারপাশের জঙ্গল পরিস্কার করার জন্য তিনি বিন্যামারা বিষ প্রয়োগ করেছেন।
মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, সাধারণ ডাইরিটি এনজিআর মামলায় রুপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।