হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে ব্রিটিশ হাই কমিশনার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬, সময় : ৪:০০ এএম

স্মৃতি মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। স্মৃতি মানুষকে সুখ দেয় এবং দুঃখও দেয়। তেমনি এক স্মৃতি নিয়ে আমি বেঁচে আছি। ২০০৪ সালের ২১ মে শুক্রবার হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজার জিয়ারতে আসেন তৎকালীন বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। এ সময় তিনি সহ আমরা অনেকেই গ্রেনেড হামলার শিকার হই। গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি আজও ভুলতে পারিনি। ঘটনাটি আমাকে বার বার পীড়া দেয়। এ ভয়াবহ ঘটনার দীর্ঘ ২২ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। 


তারপরও মনের ওই ভয়ংকর স্মৃতি আজও মন থেকে চলে যায়নি। ঘটনার দিন হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণে গেলে বৃটিশ হাই কমিশনারের সাথে গ্রেনেড হামলার শিকার হই। দীর্ঘ ১৮ দিন এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরলেও এখনও পায়ে ও হাতে অসংখ্য প্লিন্টার নিয়ে অসহ্য যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে জীবন ধারণ করছি। আজও সেই ২১মে’র দিনটি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, সেই ভয়ংকর ঘটনার কথা। 


সিলেটের ইতিহাসে ২০০৪ সালের ২১ মে নির্মম একটি দিন। এ দিনে আমাদের গৌরব সিলেটি বংশোদ্ভুত বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীসহ সরকারী কর্মকর্তা, আইনজীবী সাংবাদিকসহ সিলেটের অনেক মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণ। এ ঘটনার বিচারও হয়েছে।



২১ মে শুক্রবার ২০০৪ সাল। সকাল ১১টা। গোসল সেরে বের হই হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজার প্রাঙ্গণের উদ্দেশ্যে। তখন সিলেটের প্রাচীনতম পত্রিকা দৈনিক যুগভেরীতে কাজ করতাম। বাসা ছিল নগরীর মীরবক্সটুলায়। বাসা থেকে হেটে হেটে যাত্রা শুরু করি। তখন সম্ভবত বেলা ১২ টা বা তার চাইতে বেশি হবে। হযরত শাহজালাল (রহ:) দরগা প্রাঙ্গণের প্রধান ফটকের কাছে গিয়ে দেখি তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন ও তার গানম্যান জীবন মিয়াকে নিয়ে দাঁড়ানো। এ এলাকায় তেমন পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি। 


তখন আমি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে একজন পুলিশকে জিজ্ঞেস করলাম কোনো ভিআইপির আসবেন না কি? জবাবে বৃটিশ হাই কমিশনারের আগমন সম্পর্কে জানলাম। তবে আগে জানতাম তিনি সিলেট আসছেন। মনে হয় দরগায় আসাটা স্বাভাবিক। কারণ যেকোনো ভিআইপি সিলেট আসলে দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ:) এর মাজারে আসেন। এ বিষয়ে আগের দিন অফিসেও আলোচনা হয়েছে তার সফরসূচি নিয়ে। শহরের অভ্যন্তরে আমাকেও নিউজ কভার এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। 


তবে মাজারে আসবেন এটা আমাকে নিশ্চিত করা হয়নি। যাক দরগার অবস্থানের কিছু সময় যাওয়ার পর তৎকালীন বৃটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী সেখানে আসলে জেলা প্রশাসক আবুল হোসেন তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে শাহজালাল (রহ:) মাজারে নিয়ে যান। তখন ব্রিটিশ হাই কমিশনারের সাথে কুশল বিনিময় করে পরিচয় দিই। তাকে কেমন আছেন বললে, তিনি ভাল আছেন বলে জানান। সিলেটি ভাষায় তিনি একথা বলেন। তারপর তাকে মাজারে জিয়ারতে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজার জিয়ারত শেষে হযরত শাহজালাল (রহ:) মসজিদে ঢুকে প্রথম কাতারে জুমার নামাজ আদায় করেন।

 

তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে জুমার নামাজ শেষে প্রচন্ড ভীড়ের মধ্যে বের হন। এ সময় আমিও মসজিদের প্রধান সিড়ি থেকে নামার সময় তার কাছ থেকে কুশল বিনিময় করে বিদায় নেই। উৎসুক জনতা তাদের প্রিয় হাই কমিশনার বের হওয়ার সাথে সাথে কমমর্দন করতে থাকেন। তিনি যখন মসজিদের সিড়ি থেকে নামেন তখন আমি মহিলা ইবাদতখানার সামনে ছিলাম। তিনি মানুষের ভিড়ের জন্য করমর্দন করতে করতে এগুতে পারছিলেন না। মানুষ আর মানুষ। সবাই চায় প্রিয় হাই কমিশনার এর সাথে করমর্দন করতে। 


আমি প্রধান ফটকের বাম দিকের একটি রাস্তা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করি, সেখানেও মানুষের ভিড়। তারপর আর এদিকে যাওয়া হলো না। কারণ প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে বিপুল মানুষের উপস্থিতি হয় দরগাহ মসজিদে। তাই বাধ্য হয়ে প্রধান ফটক দিয়ে যাওয়ার জন্য সামনে আসলাম। তখন আমি মাজার প্রাঙ্গণে খেজুর গাছের পাশে ছিলাম। ইচ্ছা এখন সামনের দিকে যাওয়ার। 


তারপর হঠাৎ বিকট শব্দ হলো। কালো ধোয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন। বারুদের গন্ধে ও বিকট শব্দ নাক মুখ কান যেন বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। দু’পা তখন মনে হয় অবশ হয়ে গেছে। তখন মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। কিছু বলতে পারছিনা। পায়ে জ্বালা পোড়া শুরু হয়ে গেছে। সে সময় বোঝা গেছে যে আর বাঁচবো না। কাত হয়ে মাজার প্রাঙ্গণে পড়ে থাকলেও কেউ কাছে আসছেন না। তখন জ্ঞান থাকতে আমি ফোন করি যুগভেরীর তৎকালীন ফটো সাংবাদিক শেখ আশরাফুল আলম নাসির এর মোবাইলে। তখন তিনি ফোন কেটে দেন। 


তারপর ফোন করি তৎকালীন যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আজিজ আহমদ সেলিমকে। তিনি ফোন ধরলে আমি বলি মাজারে গ্রেনেড হামলা হয়েছে। আমিও আহত হয়েছি। তারপর আর কিছু বলতে পারি না। কিছু হুশ হলে দেখি এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪র্থ তলায় বারান্দায় পড়ে আছি। পুলিশ ও জনগণ আমাকে হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তখন আমার রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এ সময় দেখি আমাদের এলাকার আকিলপুর গ্রামের সফিক আহমদ নামের এক যুবক হাসপাতালের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করছে। সে আমার অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে বলে কী হয়েছে? 


তখন তাকে আমার পকেটে থাকা মোবাইল বের করতে বলি এবং আমার বাড়ীর মোবাইল নম্বর দেখিয়ে বাড়ীতে জানাতে বলি। তারপর সফিকের সাথে পুলিশসহ অন্যান্য লোকজন আমাকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৪নং ওয়ার্ডে মেঝেতে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। আমাকে মেঝেতে ফেলে রাখলেও কোন ডাক্তার তখন আসেননি। এ সময় আবার প্রচুর রক্তকরণ হচ্ছে। 


মাজার প্রাঙ্গণ থেকে ওসমানী হাসপাতাল পর্যন্ত কিন্তু প্রচুর রক্তকরণ হয়েছে। এতে আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। তারপর ওসমানী হাসপাতালে তখনকার দৈনিক যুগভেরীর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মরহুম আজিজ আহমদ সেলিম, জাবের আহমদ চৌধুরী ও সাংবাদিক মির্জা সোহেল আমাকে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেন। তখন আমাকে প্রচুর স্যালাইন দেওয়া হয়। তারপর রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। আমার মনে কিছুটা শান্তি আসে এবং কখন ঘুমিয়ে পড়ি তা বলতে পারি না। তারপর বাড়ি থেকে আমার আত্মীয় স্বজন আসেন। হাসপাতালে দীর্ঘ ১৮ দিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। এ সময় আমার ডান পায়ের উরুতে মেজর অপারেশন করে গ্রেনেডের অংশ বের করা হয়। এটা ছিল বড় আকারের। তারপরও শরীরের অনেক স্থানে প্রিন্টার রয়েছে। 


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে অনেক গণ্যমান্য লোকজন আমাকে দেখেন ও সান্ত্বনা দেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বষির্য়ান আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক নৌ পরিবহন মন্ত্রী মরহুম মরহুম আকবর হোসেন, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের হুইপ মরহুম ফজলুল হক আসপিয়া, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম আবুল মাল আবদুল মুহিত, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ইনাম আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, নিখোজ বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি এম. ইলিয়াস আলী, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মরহম আ.ন.ম শফিকুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইফতেখার হোসেন শামীম, 




কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও  সিলেট জেলার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, আওয়ামলীগের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহমান, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. আশফাক আহমদ, সিলেট সিটি করর্পোরেশন এর সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি বদরুজ্জামান সেলিম, মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল খালিক, কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাটির সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারী আব্দুর রহমান জামিল, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক খান, সাবেক মহানগর আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম আলহাজ্ব মাহমুদ হোসেন মঞ্জু, এডভোকেট কল্যাণ চৌধুরী, সিলেট ল কলেজের সাবেক জিএস মো. আলমগীর হোসেন, সুরমা বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও যুব সংগঠক আনোয়ার হোসেন, সিলেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্টির নেতৃবৃন্দ, বৃটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাষ্ট্রির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের নেতৃবৃন্দ, সিলেট প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, বিএমএ’র নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ সাংবাদিক সহকর্মীরা। 


এ ছাড়া সুরমা বয়েজ ক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট শিল্পপতি আফজাল রশীদ চৌধুরী বিশেষভাবে খোঁজ খবর নিয়েছেন। তারা আমার খোজ খবর নেন ও আশু সুস্থতা কামনা করেন। সকলের দোয়ায় আমি বেঁচে গেলেও বুক, হাত ও পায়ে অনেক প্লিন্টার নিয়ে জীবন যাপন করছি। এগুলোর জন্য হাতে ও পায়ে মাঝে মধ্যে যন্ত্রণাও হয়। এ গ্রেনেড হামলার ঘটনায় এতো রক্তকরণ হওয়ায় আমার শরীর রক্তে ভেসে গিয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল হয়তো আমি আর বাঁচব না। কিন্তু আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে শরীরে প্লিন্টার নিয়ে এখনও বেঁচে আছি। 


হাসপাতালে থাকাকালীন পুলিশ, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও সাংবাদিকরা দেখা করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। 

সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার ২২ বছর অতিক্রম হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের ফাঁসি কার্যকর ও দু’জনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডের রায় হয়েছে। বিস্ফোরক মামলার বিচার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সিআইডি পুলিশ আমাদের আহতদের বিভিন্নভাবে স্বাক্ষ্য নিয়েছে। ঘটনাস্থলে এনে সাক্ষীদের ডামি ছবি তুলেছেন। এছাড়া আমার কাছ থেকে স্থানীয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এ বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। 


তৎকালীন ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর সাথে গ্রেনেড হামলার  দীর্ঘদিন পর কোতোয়ালী থানার এক এসআই নোটিশ দেন কোতোয়ালী থানায় উপস্থিত হওয়ার জন্য। রাষ্ট্রীয় কাজের স্বার্থে কোতোয়ালী থানায় গেলে সিআইডির তৎকালীন এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, তৎকালীন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আমিসহ কয়েক জন আহত লোকের সাক্ষ্য নেন এবং আহতদের একটি গাড়ীতে করে দরগাহ গেইট প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন। 


তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ডামি ছবি তুলতে হবে। তখন আমরা সেদিনের অবস্থানের ডামি ছবি তুলতে যাই এবং আমাদের বক্তব্যও তিনি রেকর্ড করেন। তখন আমরা এ ঘটনার সুবিচার দাবি করি। তারপর সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল৬ এ হত্যা ও বিস্ফোরন মামলার স্বাক্ষ্য প্রদান করি। 


তবে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩ জনের ফাঁসি ও দু’জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন এবং তা কার্যকরও হয়েছে। এছাড়া সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৫ম আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৬ এ চার্জশীট ভূক্ত আমরা ৫৬ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তে চলে যায়। তারপর আরো ২জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। 


এ মামলাটি প্রথমে সিলেট চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ও মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচার চলে। বর্তমানে মামলাটি স্থানান্তর হয়ে জন নিরাপত্তা বিঘ্নকারি অপরাধ নিরোধ ট্রাইব্যুনালে বিচারধীন রয়েছে। এ রকম জঘন্য ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং প্রাণহানীসহ আমাদের মতো মানুষের যাতে প্রাত্যহিক যন্ত্রণা পেতে না হয় তা চাই। 



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৭ পিএম


সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জে) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হকের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি। 


অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন।


শনিবার বিকেলে রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া আড়চালা এলাকায় টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) উপজেলা পরিষদের কাছে স্থাপনের দাবিতে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা শেষে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মতবিনিময় সভা শেষে এমপি আয়নুল হক গাড়িবহর নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।


এ ঘটনার পর ধানগড়া এলাকায় স্থানীয় জনতা বিক্ষোভ করেন। সেখানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী মো. শেখ রিয়াদ ও শ্রাবণ বলেন, ফয়সাল বিশ্বাসকে আজকের অনুষ্ঠানে কেউ দাওয়াত দেয়নি। তিনি এসে তাদের উসকানিমূলক কথা বলেন।


তারা বলেন, ‘আমরা এমপিকে শ্রদ্ধা করি। আমরা তাঁকে আমাদের দাবি-দাওয়া জানাচ্ছিলাম। কিন্তু ফয়সাল বিশ্বাস আমাদের জঙ্গিসহ বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে গালাগালি করেন। বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী আমাদের আহত করেন। পরে ফয়সাল বিশ্বাস এমপির গাড়িতে চলে গিয়ে লাইভে এমপির গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে বলে জানান।’


শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, এমপির গাড়িতে যাওয়ার সময় তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।


পরিবেশ ও জলবায়ু কর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, এমপির গাড়িতে হামলা হয়েছে। শিবিরের, এনসিপি ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা হামলা করেছে। 


অন্যদিকে এমপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও চান্দাইকোনা ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে চান্দাইকোনা এলাকায় ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে বক্তারা এমপির গাড়িবহরে হামলার জন্য জামায়াতে ইসলামী, শিবির, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বক্তব্য দেন। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।


ঘটনার বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ভিপি মো. আয়নুল হক বলেন, ‘আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কতিপয় ব্যক্তি হামলা করেছে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, আমি নিজ চোখে দেখেছি। প্রশাসন আজ রাতেই এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করবে।’


তিনি বলেন, এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীসহ বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।


রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ডা. এসএম মুনসুর আলী বলেন, ‘আমি সিরাজগঞ্জ শহরে ছিলাম। এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ছাত্রশিবিরের সভাপতির সাথে কথা বলেছি তারা অবগত নয় বলে জানিয়েছে।’ তবে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।


ঘটনার পর রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।


রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এমপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


এদিকে ঘটনার পর থেকে ধানগড়া ও চান্দাইকোনা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। হামলার ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৭ পিএম

বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেছেন বরগুনার পাথরঘাটা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেন।


বাংলাদেশ কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের কয়েকজন সদস্য সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও বিপন্ন মৎস্য সম্পদ রক্ষায় অভিযান পরিচালনা করে কয়েক প্রজাতির ৬৯০ কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করে মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। যা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পরে বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।


গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বণ্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) ২০২৬ এর ধারা ৩৬ (২), (৪) ও ৪৭ (২), সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩ এর ২৬ (৩) এবং দ্যা কোড অফ ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর, ১৯৮৯ ধারা ১০৩, ৫১৬ ক ও ৫২৫ এর বিধানর ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডার লেঃ এ এইচ এন সারতাজ বিন সোহরাব এর বিরুদ্ধে কেনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ প্রদান করা হবে না; সে মর্মে আদেশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে পাথরঘাটা স্টেশনের স্টেশন কমান্ডারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।   


জব্দকৃত অবৈধ মাছের মধ্যে ছিলো শাপলাপাতা মাছ ৪৪০ কেজি ও গিটার মাছ ২৫০ কেজি। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। 


কোস্টগার্ডের সূত্রানুযায়ী- স্থানীয় বিএফডিসি মৎস্য ঘাটের একটি আড়তে সামুদ্রিক মাছ মজুদ রেখে বিক্রয়ের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হননি বলে জানান কোস্টগার্ড। 


একই সূত্রে আরও জানা গেছে- পাথরঘাটা উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জব্দকৃত মাছগুলো মাটি চাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়। কিন্তু পাথরঘাটার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে আদালতকে অবহিত করেন।

সর্বশেষ সব খবর

সুশিলা রাণী

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৩ পিএম

জীবন সায়াহ্নের শেষ দশকে এসেও একটু শান্তির মুখ দেখতে পারছেন না আশি পেরোনো রুহিয়ার বয়োবৃদ্ধা সুশিলা রাণী। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটেমাটিতে শান্তিতে দিন কাটানো তো দূরের কথা, নিজের সম্পত্তি ভোগদখল করতে না পেরে উল্টো পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ভুক্তভোগী এই বৃদ্ধার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি, বরং বদলেছে কেবল অত্যাচারীর পেছনের রাজনৈতিক অভিভাবক।


ভুক্তভোগীর দাবি, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে রুহিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা পার্থ সারথি সেনের প্রত্যক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সুশিলা রাণীর দূর সম্পর্কের ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকার জমি জবর দখলের এসব অন্যায় কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। সে সময় একাধিকবার স্থানীয়ভাবে জানানোর পরও কোনো বিচার পাননি অসহায় সুশিলা রাণী।


২৪ এর অভ্যূত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটলেও বদলায়নি সুশিলা রাণীর জীবনের চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে বিকাশ চন্দ্র সরকারের এই অপকর্মের নতুন আগের রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেইন ধরে রেখে বর্তমানে নতুন স্থানীয় নেতৃত্বকে ব্যবহার করে জমি দখলের পাঁয়তারা ও নির্যাতন অব্যাহত রেখেছেন বিকাশ।


আজ শনিবার (১৫ আগষ্ট) সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, সুশিলা রাণী তার জরাজীর্ণ ঘরের দাওয়ায় বসে স্বামীর ভিটের দিকে ফেল ফেল তাকিয়ে রয়েছেন আর নিজ মনে কি যেন বিরবির করে বলছেন। 


ভিটেমাটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করতেই তিনি বলে উঠেন, যে পতাকাই উড়ুক না কেন, যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন,তার মতো নিঃস্ব মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নিতে কেনো সবাই এক হয়ে যায়? রাজনৈতিক রঙ বদলালেও ক্ষমতার আশ্রয়পুষ্ট বিকাশের মতো মানুষদের চাবুকের আঘাত তো একই রকম রয়ে গেল। ভেবেছিলাম আ’লীগ পালাইছে, এখন হয়তো শান্তিতে থাকতে পারবো। কিন্তু আমার সেই আশা আর পুরণ হলো না, বিএনপি ক্ষমতায় এসে আবার বিকাশ তাদের দলে ভিরে ওই একই রকম আচরণ করছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই, এর শেষ দেখতে চাই।




এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দল বদলালেও তাদের ওপর নির্যাতনের রূপ বদলায়নি। বিগত সরকারের সময় শুরু হওয়া অসম্পূর্ণ অন্যায়গুলোর দায় যেন এখন নতুন করে কে বা কারা  গ্রহণ করেছে।


সুশিলা রাণীর মেয়ে শোভা রাণী সরকার বলেন, আমি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করি। আমার মা আমাদের বোনদেরকে সহ অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেছেন। আমাদের কোন অভিভাবক না থাকায় আমাদের ভিটে মাটি নিয়ে যখন যে ইচ্ছে তাই করেছে, আমাদের সাথে ক্রমাগতভাবে অন্যায় করে চলেছে। আমার মাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। অনেকবার বিচার সালিশ হয়েছে, কিন্তু ফল পায়নি আমার মা। আমার কাকাতো ভাই বিকাশ বা তার মত যারা আছে তারা তো অন্যায় করেছেই। ভাবতে আশ্চর্য লাগে এই ভেবে যে এ শ্রেণির মানুষ গুলোই সব রাজনৈতিক দলেই আশ্রয় পায়।  


এ বিষয়ে সুশিলার ভাসতে বিকাশ চন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে পালিয়ে যান।


নিজের ভিটেমাটিতে শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাসটুকু ফেলার আকুতি জানিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন অসহায় সুশিলা রাণী। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াত ও গণধিকার পরিষদের মধ্যে সংঘর্ষ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মী ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। 


এছাড়া হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা শাখার সভাপতির নিজস্ব কার্যালয়ে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।শনিবার সাড়ে ৬টার দিকে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমির হামজা সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে ‘কটূক্তিমূলক’ বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা শনিবার বিকেলে শহরের ছয় রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। 


ভাঙচুরে আমির হামজার ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি

এই সমাবেশস্থলের অদূরেই আমির হামজার বাসভবন। সমাবেশের শেষের দিকে আমির হামজা পুলিশ প্রটোকল নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় সমাবেশস্থলে এলে সেখানে থাকা তার কয়েকজন সমর্থক বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর প্রথমে তাদের মধ্যে হাতাহাতি, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। 


আমির হামজার সমর্থকরা পরে সেখান থেকে মিছিল করে ছয় রাস্তার মোড়ে হরিপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে দাবি করেছে গণঅধিকার পরিষদের নেতারা।  এ সময় সংবাদকর্মীরা এর ছবি সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর আমির হামজার সমর্থকরা চড়াও হন বলে অভিযোগ উঠেছে। 


গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ জানান, তারা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করে চলে যাচ্ছিলেন। এ সময় হামজার সমর্থকরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তবে এ ব্যাপারে আমির হামজার দুই কর্মী তাৎক্ষণিক জানান, গণঅধিকার পরিষদের লোকজন প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা কেবল প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।



জেলা জামায়াতের আমির আলী মহসিন জানিয়েছেন, সংসদ সদস্য আমির হামজা সুস্থ আছেন। তাদের ওপর হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। আমাদের লোকজন আগে হামলা করেনি। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে তারা কেবল প্রতিরোধ করে। 


কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, তারা উত্তেজনা প্রশমন করার জন্য দুই পক্ষকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। 


জামায়াতের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, গণঅধিকার পরিষদের কোন ভিত্তি নাই তাদের অল্প কয়েকজন কর্মী রয়েছে, তারা বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের হামলা চালায়। 


তিনি বলেন ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের উপস্থিতিতে এমপি সাহেবের গাড়িতে হামলা চালায়, পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসক ডা. ইকবাল হাসান বলেন, সংঘর্ষে আহত তিনজন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।



সর্বশেষ সব খবর

প্রতিপক্ষের ভেঙ্গে দেয়া ইটের পাকা দেয়াল

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:২৮ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করা হয়েছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) পূর্বরাত দেড়টার দিকে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন ঈদগাঁহপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।


উপজেলার রনাইল নিচপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এলাহী বক্সের ছেলে বুলবুল আহমেদ থানায় লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন যে, তার পিতা কুঞ্জবন মৌজায় পাঁচ শতক জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করে এক যুগের বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি বাড়ির চারদিকে টিন দিয়ে বেড়া দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা চাঁদা দাবি করে। এরই জের ধরে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে প্রতিপক্ষরা হাসুয়া, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, শাবল, এসএস পাইপ, ও অন্যান্য আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়িতে এসে কুপিয়ে টিনের বেড়া কেটে ও টিনের ছাউনি কেটে বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে। তারা অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনদের জিম্মি করে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করে। তারা বাড়ির স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়, বাড়ির পাকা ওয়াল ভেঙ্গে ফেলে এবং চারদিকের টিনের বেড়া কেটে ও ছাউনির টিন খুলে নিয়ে যায়। প্রতিপক্ষরা তাদের বাড়ি ও আশেপাশের সব বাড়ির দরজা বাহির থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। তারা বাড়ি থেকে নগদ ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও পাঁচ ভরি ওজনের স্বর্ণলংকার লুট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। 


এব্যাপারে খাজুর নিচপাড়া গ্রামের ইউসুফ মোল্লার ছেলে ওয়াজেদ আলী, তার ছেলে মো: রাসেল, বিলমোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত হামিদ সরকারের ছেলে বিপ্লব সরকার, জয়পুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে এমদাদুল হক ও মৃত আমজাদ হোসেনের ছেলে আফজাল হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।


জানতে চাইলে মোবাইলফোনে প্রতিপক্ষ ওয়াজেদ আলী বাড়িতে হামলার কথা অস্বীকার করে জানান, ওই জমি নিয়ে কয়েকবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মিমাংশার কথাবার্তা চলছিল।


মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক লিখিত এজাহার পাবার কথা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

বিষ প্রয়োগের ফলে মাছ মরে ভেঁসে ওঠে

  • প্রকাশ : শনিবার ১৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৭ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে এব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি এন্ট্রি করা হয়েছে।


উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামের তাছের উদ্দিনের ছেলে সামসুল হক অভিযোগ করেন যে, জয়পুর স্কুলপাড়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে কামরুল হোসেনের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সামসুলের খনন করা পুকুরের একপাশে কামরুল দখলের পাঁয়তারা করছিল। এ বিষয়ে নওগাঁর মহাদেবপুর সহকারি জজ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা চলমান রয়েছে। (মামলা নং ১৮৫/২০২৩)। ওই মামলায় বিবাদীর প্রতি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। কিন্তু কামরুল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামসুলের পুকুরের ক্ষতি সাধন ও দখলের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১১ আগস্ট দুপুরে কামরুল ওই পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে। ফলে পরদিন থেকে পুকুরের সব ধরণের মাছ মরে ভেঁসে উঠতে থাকে।


শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই পুকুরে মাঝারি আকারের অসংখ্য মাছ, সাপ, ব্যাঙ প্রভৃতি মরে ভেঁসে আছে। জানতে চাইলে কামরুল বলেন, পুকুরের পাশে তার বাড়ির চারপাশের জঙ্গল পরিস্কার করার জন্য তিনি বিন্যামারা বিষ প্রয়োগ করেছেন।


মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, সাধারণ ডাইরিটি এনজিআর মামলায় রুপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সব খবর