সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১১৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে সিলেট বিভাগে মোট ১৫৭ জনের মৃত্যু হলো।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেটের এবং অন্যজন বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। দুজনেরই চিকিৎসা চলছিল সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। একদিনে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১৯ জনের মধ্যে ৪৮ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং ৩৭ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৮ জন এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চারজন ভর্তি হয়েছেন। বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও সন্দেহজনক হাম রোগী ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগী ভর্তির পাশাপাশি বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৯৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬০ জন ভর্তি রয়েছেন। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৪২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৯ জন এবং সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সিলেটের দুটি সরকারি হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেশি।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন। ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, সন্দেহজনক হাম রোগে এখন পর্যন্ত সিলেটে ৬০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে চারজন, হবিগঞ্জে চারজন, মৌলভীবাজারে একজন এবং সুনামগঞ্জে একজন মারা গেছেন। সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম এই দুই হিসাব মিলিয়ে বিভাগের মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে।
নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মো.মোসলিম (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোসলিম লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরবসু গ্রামের মাহফুজুর রহমানের ছেলে। অভিযুক্ত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন নোয়াখালী সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোট হাজী বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে এবং দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কমলনগরের চরবসু গ্রামে বাড়ির পাশে খেলাধুলার সময় হঠাৎ লাঠির একটি অংশ মোসলিমের বাম চোখে লাগে। পরে তার বাবা-মা তাকে সিএনজিযোগে নোয়াখালীর মাইজদী শহরের দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যান।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে কর্তব্যরত প্যারামেডিকস আবুল হোসেন শিশুটির চোখে অ্যানেসথেসিয়া দেন। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর মোসলিম বমি করতে শুরু করলে তাকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মোসলিমকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্যারামেডিকস ও দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, চোখের ওপরের ও নিচের পাতায় লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ড্রপ দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকের মতে, এ ধরনের অ্যানেসথেসিয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো আশঙ্কা নেই।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, মৃত অবস্থায় শিশুটিকে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ মর্গে রাখা আছে। বিষয়টি সুধারম থানার পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নিহতের স্বজনেরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। মরদেহ নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর এলাকায় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার পরপরই আমি দত্তেরহাট ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতাল পরিদর্শন করি। প্রাথমিক ভাবে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নিহতের স্বজনদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জানা যাবে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো. সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ঈদ্রিস মিয়া বাজার ওরফে নবীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নুর নবী চৌধুরীর ছেলে। তিনি একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তারের জন্য ঈদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত সোহাগ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩২৩ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে দায়ের করা চরজব্বর থানার আরও একটি মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬, ৩৭৯, ৪২৭ ও ৩২৫ ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশকে মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে শুনেছি। মরদেহ নিহতের স্বজনেরা নিয়ে যায়।
ক্রমশই প্রতিনিয়ত বাড়ছে চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী ও মাদকের মতো সামাজিক বেহায়াপনা অপরাধ। পাশাপাশি বেড়েছে পকেটমারদের উপদ্রপ। চায়ের দোকান, মসজিদ কিংবা হাসপাতাল, চিকিৎসকের চেম্বারগুলোও রেহাই পাচ্ছে না এদের হাত থেকে। যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কেবল তাই নয়, ধরা পড়লে দিচ্ছে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে গণমাধ্যমকর্মী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশকেও দেখে নেওয়ার হুমকি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টম্বর) দুপুরে বরগুনা আল্লাহ মালিক হসপিটাল লিঃ -এ চিকিৎসা নিতে আসা তিন রোগীর পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল চুরি হয়ে যায়, যা এক পর্যায়ে নেশাগ্রস্থ ওই ব্যক্তি ধরা পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে বিষয়টি বরগুনা থানা পুলিশকে অবহিত করলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বিষয়টি নিশ্চিৎ হয়ে আটককৃত বরগুনা পৌরসভার চরকলোনী এলাকার বাসিন্দা মোঃ ফিরোজ এর ছেলে মোঃ ফয়সাল (২২) কে আটক করে তারা (পুলিশ)।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য সেবন করে অসংলগ্ন আচরণ করায় পিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক করা হয় বরগুনা পৌরসভার খাড়াকান্দা এলকার বাসিন্দা মোঃ নাসির হাওলাদারের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমানকে।
পরে আটকৃতদের আদালতে হাজির করলে মিজানকে ০১ (এক) মাসের সশ্রম কারাদন্ড ও ০৫ (পাঁচ) হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ০৫ (পাঁচ) দিনের কারাদন্ড প্রদান করে আদালত।
অপরদিকে, টাকা ও মোবাইল চুরি করার অপরাধে ফয়সালকে ০৬ (ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ০৩ (তিন) হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ০৫ (পাঁচ) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে আদালত।
আসামীদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী এবং আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ রানা শেখ সামারী ট্রায়াল পরিচালনা করে তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।
বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ কর্তৃক নিয়মিত এ সামারী ট্রায়ালের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ করে অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনছেন। একই সাথে সামারী ট্রায়াল পরিচালনা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিচারিক কার্যক্রমকে গতিশীল করছেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণ। এতে করে বরগুনায় অপরাধ প্রবণতা কমে আসতে পারে বলে সচেতন মহলের ভাবনা
ঝালকাঠির নলছিটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে (৫ সেপ্টেম্বর) রোজ শনিবার বিকাল ৪ ঘটিকায় নলছিটির মোল্লারহাট গার্লস স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি নলছিটি- ২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিচুর রহমান খাম হেলাল, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা জনাব গোলাম মস্তফা সালু, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সহ- সভাপতি জনাব আলহাজ্ব শহিদুল হক শহিদ।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মোল্লারহাট ইউনিয়ন বিএনপির সহ- সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন বাচ্চু। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা বক্তব্যে বলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন।
পরে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায় সমর্থকরা অংশ নেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান
দেশের মানুষ বর্তমান সরকারের কাছ থেকে মুক্তি চায় মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া কথা রক্ষা করেনি।
আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার পদুয়া বাজার এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শফিকুর রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি কুমিল্লা বিভাগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৯৪ সালে সিলেট বিভাগ হওয়ার সময় একই সঙ্গে কুমিল্লা বিভাগ করার দাবি উঠেছিল। কিন্তু তখন কুমিল্লা বিভাগ হয়নি। কুমিল্লাবাসীর অপরাধ কী—প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে আর ‘ধানাই-পানাই’ না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, পাশের বৃহত্তর নোয়াখালীও বিভাগ দাবি করছে। তারাও বিভাগ পাওয়ার দাবিদার। তবে আগে কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে।
কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই ভালো! চাঁদাবাজ নাই! আছে?’ এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজকের কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে লংমার্চ যাবে। এরপর ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে। দাবি আদায়ের জন্য ওই কর্মসূচিতেও কুমিল্লার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লংমার্চে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারের মন্ত্রীদের সন্তান, পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের অনেকে দুর্নীতি ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছেন। এতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।
এই সরকারের উপরে বিরক্ত মানুষ মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ছয় মাসে সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর কোনোটি সরকার রাখতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, জনগণের বক্তব্য শুনতে হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ বলছে, তারা বর্তমান সরকারকে আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেখানে যাওয়া যায়, সেখানেই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জায়গা দখল, নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও মাদকের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দেশকে ‘জাহান্নামে’ পরিণত করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন এলডিপির সভাপতি। তিনি বলেন, মানুষের মুখে মুখে আছে যে ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের পতন হবে। তাঁর দাবি, সরকার কিছু করুক বা না করুক, ‘নিজের ভারে নিজেই পড়ে যাবে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, জনগণের রায় কার্যকর করে জনদুর্ভোগ কমানোর পদক্ষেপ নিতে সরকার ব্যর্থ হলে জনতার মিছিল আরও দীর্ঘ হবে। এই মিছিল বাড়তে বাড়তে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত গণজোয়ার তৈরি হবে এবং সেই গণস্রোতে সরকার ভেসে যেতে বাধ্য হবে।
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে তাঁরা তা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে সরকারের পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের মতো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম প্রমুখ।
কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে পথসভা পরিচালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবুর রহমান। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, কুমিল্লার মানুষ কখনো ফ্যাসিবাদ মেনে নেয়নি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবসময়ই তারা প্রতিবাদ করেছে। এ কারণে চব্বিশের জুলাইয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না এবং তাদের বঞ্চিত করেছেন। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, যাকে আমরা ২০২৪ সালে বিতাড়িত করেছি, তিনিও কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না। কারণ কুমিল্লার মানুষ কোনো ফ্যাসিবাদকে কখনো মেনে নেয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই বাকশাল ও ফ্যাসিবাদের জন্য কুমিল্লা এক মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লার মানুষ প্রতিবাদ করতে কখনো ভয় পায়নি। জুলাইয়ে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে কুমিল্লায়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে রেখেছিল।
শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কুমিল্লার মানুষের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, সেই কারণে তিনি কুমিল্লার মানুষকে দেখতে পারতেন না। কুমিল্লার মানুষকে বঞ্চিত করতেন। কিন্তু কুমিল্লার মানুষের প্রতিবাদই তাকে এই দেশের বাইরে ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছে।
মহাসড়কে ধীর গতি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
পদুয়ার বাজারের পথসভাটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পাশে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। তাঁদের অনেকে মহাসড়কে অবস্থান নেওয়ায় ঢাকামুখী লেনে যান চলাচলে ধীর গতি সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চলাচলকারীরা।
অন্যদিকে চট্টগ্রামমুখী লেনে লংমার্চের বিশাল গাড়িবহর চলাচল করায় থেমে থেমে যানজট ও ধীর গতি দেখা দেয়। এতে যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
এর আগে আজ শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু হয়। লংমার্চটি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এবং সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও পথসভার আয়োজন করা হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে—অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।