• প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৭:৪৬ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে সোমবার সারাদিন মনোনয়ন পত্র জমা পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রঙ্গনে এসে জড়ো হন। পরে তারা আলাদা আলাদাভাবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। সিলেট বিভাগে ১৯ আসনে ১শ ৫৪ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছন। এরমধ্যে সিলেটে ৫৬, সুনামগঞ্জ ৩৮, মৌলভীবাজার ৩১ এবং হবিগঞ্জে ২৯ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

সিলেটঃসিলেটের ৬টি আসনে ৪৭ প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, সিলেট - ১ আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন ১০ জন প্রার্থী এবং তারা সবাই মনোনয়ন দাখিল করেছেন। মনোনয়ন দাখিল কারীরা হলেন- বিএনপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, জামায়াতের মাওলানা হাবীবুর রহমান, এনসিপির এহতেশাম হক, সিপিবির আনোয়ার হোসেন সুমন, বাস (মার্কসবাদী) সঞ্জয় দাস, ইনসিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাহমুদুল হাসান ও খেলাফত মজলিসের তাজুল ইসলাম হাসান।

সিলেট-২ আসনে ১০ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দাখিল করেছেন ৯ জন। তারা হলেন- জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল হান্নান, বিএনপির প্রার্থী তাহসীনা রুশদীর লুনা, তার ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসীর আলী, গণফোরামের প্রার্থী মুজিবুল হক, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের জামান আহমদ সিদ্দিকী, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আমীর উদ্দিন ও স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আব্দুস শহিদ।

সিলেট-৩ আসনে ১১ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দাখিল করেছেন ৯ জন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির এমএ মালিক, জামায়াতের মাওলানা লোকমান আহমদ, এনসিপির নুরুল হুদা জুনেদ, জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান আতিক, খেলাফত মজলিসের দেলওয়ার হোসাইন, ইসলামী আন্দোলনের রেদুয়ানুল হক চৌধুরী, স্বতন্ত্র মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোসলেহ উদ্দিন রাজু ও স্বতন্ত্র মইনুল বাকের।

সিলেট-৪ আসনে ৮ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতের জয়নাল আবেদিন, এনসিপির রাশেদ উল আলম, গণ অধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম, খেলাফতের আলী হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা সাঈদ আহমদ ও জাতীয় পার্টি মুজিবুর রহমান।

সিলেট-৫ আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও দাখিল করেছেন ৬ জন। তারা হলেন বিএনপি সমর্থিত জমিয়ত ইসলামের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, জামায়াত ইসলামের হাফিজ মো. আনওহার হোসাইন খান, স্বতন্ত্র মামুনুর রশীদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. বিলাল উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের মো. আবুল হাসান ও জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন খালেদ।

সিলেট -৬ আসনে ৯ জন মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরী, জাময়োতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান, স্বতন্ত্র ফখরুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির মো. আব্দুন নুর।

সুনামগঞ্জঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ৩৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এরা হলেন সুনামগঞ্জ ১ আসনের বিএনপি মনোনীত আনিসুল হক, ও কামরুজ্জামান কামরুল, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থী ডা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী,খেলাফত মজলিস প্রার্থী মাওলানা মখলিসুর রহমান।

সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরী,বিএনপি মনোনীত অপর প্রার্থী তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ড. শোয়াইব আহমদ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস খোকন,স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব।

সুনামগঞ্জ-৩ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কয়ছর এম আহমদ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন, খেলাফত মজলিস প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ, জামায়াতে ইসলাম মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী এডভোকেট শাহিনুর পাশা চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন আহমদ মিশেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার, এনসিপির দুই প্রার্থী মাসুদুর রহমান ও ইসহাক আমিনী, গনঅধিকার প্রার্থী পারভেজ আহমদ।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরুল, বিদ্রোহী (বিএনপি) প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট শামসউদ্দিন, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুফতি আজিজুল হক, খেলাফত মজলিস প্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন মোহন।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন,বিএনপি (বিদ্রোহী) প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজান ,জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালাম আল মাদানি, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাফেজ আব্দুল কাদির, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফারুকী,ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী আজিজুল হক,জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।

হবিগঞ্জঃ হবিগঞ্জের ৪টি সংসদীয় ৪টি আসনে মোট ২৯ জন এমপি প্রার্থী তাদের মনোনয়ন দাখিল করেন। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী মোঃ শাহ জাহান আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ বদরুর রেজা, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল বাসদ এর প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ।

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) মোট ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডাঃ আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ, স্বতস্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক আফছার আহমেদ, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল বাসদ এর প্রার্থী লুকমান আহমদে তালুকদার, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী নোমান আহমদ সাদিক।

হবিগঞ্জ-৩ (সদর, শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই) আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ, জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমেদ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী চৌধুরী আশরাফুল বারি নোমান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল মুমিন চৌধুরী, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী শাহিনুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী এসএম সরওয়ার।

হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফয়সল, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী মোঃ গিয়াস উদ্দিন, এবি পার্টির প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী শাহ মোঃ আল আমিন, জাতীয় সমাজ তান্ত্রিকদল বাসদ এর প্রার্থী মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম খোকন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী রেজাউল মোস্তাফা।

মৌলভীবাজারঃ মৌলভীবাজার জেলার ৪ টি নির্বাচনী আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে ছিলেন। তারমধ্যে ৩১ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) সংসদীয় আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস ও ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মৌলভী লুকমান আহমদ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ রিয়াজ উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল আহমদ ও মো. শরিফুল ইসলাম।

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ৮জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু, জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী, ১০ দলীয় জোটের ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল কুদ্দুছ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল মালিক, স্বতন্ত্র নওয়াব আলী আব্বাছ খাঁন, এম জিমিউর রহমান চৌধুরী, মো. ফজলুল হক খান।

মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম নাসের রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজিনা নাসের,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান কামালী, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি জহর লাল দত্ত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহমদ বিলাল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস।

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জেলা বিএনপি আহবায়ক কমিটির সদস্য, সাবেক মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে শেখ নূরে আলম হামিদী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী প্রীতম দাশ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল হাসান এবং বিএনপি নেতা লন্ডন প্রবাসী জালাল আহমেদ জিপু, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ছেলে মুঈদ আশিক চিশতী।

মৌলভীবাজার জেলায় মোট ভোটার ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ২৪ হাজার ৪৫৪ জন। নারী ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার ৪৭৪ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ৮ জন ভোটার।

বিষয় : সিলেট



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

  • ‘এটা আমাদের কাজ নয়, সিটি করপোরেশনের কাজ’-পুলিশ কর্মকর্তা
  • ‘পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে’-সিটি প্রশাসক


ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন ফুটপাত ও সড়কের পাশে বসানো দোকান ও অস্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, ফুটপাতকেন্দ্রিক এই চাঁদাবাজির পরিমাণ মাসে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। তবে এই অর্থের হিসাব, কারা চাঁদা আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত-এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।


ফুটপাত দখল ও সেখান থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটা আমাদের কাজ না, এটা সিটি করপোরেশনের কাজ।” 


তাঁর এমন বক্তব্যের পর ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং চাঁদাবাজি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


অন্যদিকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন দাবি করেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা আদায় করে-এ বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। ফলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ এলাকায় পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়ের সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান রোকন। এ ঘটনায় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।


নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও যানজট নিরসনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও এর আগে জানিয়েছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অস্থায়ী দোকান বসানো এবং সেখান থেকে অর্থ আদায়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।


নগরবাসীর প্রশ্ন-যদি ফুটপাত থেকে প্রতি মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সত্য হয়ে থাকে, তাহলে কারা এই অর্থ সংগ্রহ করছে? টাকা যাচ্ছে কার কাছে? আর এর পেছনে রয়েছে কারা?


এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নিরপেক্ষ তদন্ত, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।


তবে মাসে ২৪ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণ প্রকাশের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

ইটের দেয়াল তুলে ও গাছ লাগিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৬ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে ইট দিয়ে ঘিরে ও গাছ লাগিয়ে জমি জবর দখলের পাঁয়তারা করার অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলা সদরের মেইন বাজারে এঘটনা ঘটে।


উপজেলা সদরের কাচারীপাড়ার মৃত নির্মাল্যভূষণ দাসের ছেলে শ্রী জয়ন্ত কুমার দাস অভিযোগ করেন যে, মহাদেবপুর বাজারের আরএস ৪০৫ ও ৪০৬ নং খতিয়ানের ৫৯০ দাগে তার পিতার ত্যক্ত মোট ১০ শতক সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী তারা তিন ভাই জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস। এই সম্পত্তির সামনের অংশে তাদের দোকান ঘর রয়েছে। কিন্তু দোকানের পিছনের দিকে তাদের অংশের বেশিরভাগ জমি তার ভাই বিশ্বনাথ দাস ও ভাতিজা দেবাশীষ দাস দীর্ঘদিন ধরে জবর দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। 


গত ৭ আগস্ট সকালে তারা সেখানে ইট দিয়ে ঘিরে দখল নেয়ার চেষ্টা চালায়। বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা তাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এনিয়ে মহাদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা রাতের আধারে কাজ করতে থাকে। 


জয়ন্ত দাস এব্যাপারে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয় পর্যবেক্ষণ করার জন্য মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) আদেশ দেন। মহাদেবপুর থানার এসআই আছির উদ্দিন গত ১২ আগস্ট এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে নোটিশ দেন। নোটিশ পাবার পরও গত শনিবার প্রতিপক্ষরা বিরোধীয় জমিতে গাছ লাগিয়ে দখল প্রমাণের পাঁয়তারা করে।


জানতে চাইলে দেবাশীষ দাস বলেন, মৃত নির্মাল্য ভূষণ দাসের জয়ন্ত কুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস ও বিপ্লব কুমার দাস ছাড়াও প্রশান্ত কুমার দাস নামে আরো এক ছেলে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রশান্ত তার অংশের সমুদয় জমি দেবাশীষের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। সেই দলিলমূলেই তিনি অতিরিক্ত জমি দাবি করছেন। কিন্তু জয়ন্তরা তা দিতে নারাজ। 


জয়ন্ত জানান, প্রশান্ত ১৯৭৪ সালে ভারতে গিয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সুতরাং তার অংশের জমি তারা অন্য তিন ভাই পাবেন। প্রশান্ত এখন ভারতের আধারকার্ডধারী নাগরিক। ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। 


১৯৯৬ সালে তার স্বাক্ষরে একটি ভূয়া আমমুক্তারনামা সৃজন করে দেবাশীষ প্রশান্তের অংশের জমি দাবি করছে। ওই কথিত ভূয়া আমমুক্তারনামায় জমির কোন তপশীল উল্লেখ না করে সমুদয় সম্পত্তি লেখা হয়েছে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ পিএম

“রূপালী মৎস্য স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর উদ্বোধন করা হয়েছে। 




এ উপলক্ষে রোববার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে অফিসার্স ক্লাবে এসে শেষ হয়। পরে বরগুনা অফিসার্স ক্লাবের পুকুরে রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পের পোনা অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসকসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


বরগুনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং সংগ্রাম স্মার্ট প্রজেক্ট এর সহযোগিতায় আয়োজিত জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি।


সভায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন। 




সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল এর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- পুলিশ সুপার মোঃ কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা, সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ, সংগ্রাম’র উপনির্বাহী পরিচালক চৌধূরী মোহাম্মদ মঈন, প্রেসক্লাব সভাপতি হাফিজুর রহমান প্রমূখ।


আলোচনায় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৩০ পিএম

ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনেক ঘরই এখন তালাবদ্ধ। কোথাও দীর্ঘদিন কেউ না থাকায় ঘরের চারপাশে গজিয়েছে আগাছা ও জঙ্গল। 


জনবসতি কমে যাওয়ায় এসব খালি ঘরকে ঘিরে মাদকসেবীদের আনাগোনা, চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগও উঠেছে। ফলে একদিকে প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অন্যদিকে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন ও যাচাই-বাছাই নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম থেকে চতুর্থ ধাপে মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জলঢাকা উপজেলায় ক-শ্রেণিভুক্ত গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ৯৪৯টি আশ্রয়ণের ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করাই ছিল এসব প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। তবে সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা গেছে, বরাদ্দ পাওয়া ঘরের একটি অংশে উপকারভোগীরা বসবাস করছেন না। দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ পড়ে রয়েছে অনেক ঘর। কোনো কোনো ঘরের চারপাশ আগাছা ও জঙ্গলে ঢেকে গেছে। এতে সরকারি অর্থে নির্মিত ঘরগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।




সম্প্রতি কৈমারী ইউনিয়নের বালাপাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১০০টি ঘরের মধ্যে মাত্র ৩২টি পরিবার বসবাস করছে। বাকি ঘরগুলোর অধিকাংশই তালাবদ্ধ। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে মীরগঞ্জ ইউনিয়নের পাতাইবাড়িডাঙ্গা ও পৌরসভার ডাকুরডাঙ্গাসহ উপজেলার আরও কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে।


বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্প এলাকায় জনবসতি কমে যাওয়ায় সন্ধ্যার পর বহিরাগত ও মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। এতে নারী, শিশু ও একাকী বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা বিভিন্ন সময়ে ঘর থেকে মূল্যবান মালামাল চুরির অভিযোগও করেছেন।


মিরগঞ্জ পাতাইবাড়ি ডাঙ্গা আশ্রয়ণের বাসিন্দা কোহিনূর বেগম বলেন, “আশ্রয়ণে মাদকসেবীদের উৎপাত বেড়েছে। তাদের কিছু বলাও যায় না। সন্ধ্যার পর এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।”


কৈমারী বালাপাড়া আশ্রয়ণের ৭৬ নম্বর ঘরের বাসিন্দা প্রিয়বালা বলেন, “আশপাশের অনেক ঘর খালি পড়ে আছে। একা থাকতে ভয় লাগে। পানির টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হয়েছে।”


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবন্ধী বাসিন্দা জানান, দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি আশ্রয়ণে বসবাস করছেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় বখাটেদের উৎপাতের কারণে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়।


এদিকে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন উপকারভোগীর দাবি, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় কোনো কোনো ঘরের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। আবার কিছু ঘর থেকে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম খুলে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।


তবে প্রকল্পে বসবাস না করার পেছনে শুধু নিরাপত্তা নয়, কর্মসংস্থান ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবকেও দায়ী করছেন কয়েকজন উপকারভোগী। তাদের দাবি, ঘর পেলেও জীবিকার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকের পক্ষে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।


স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকা ঘরগুলোর উপকারভোগীরা প্রকৃতপক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন কি না, অন্যত্র তাদের জমি বা বসতবাড়ি রয়েছে কি না-তা পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে পানি, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা, বসবাসের পরিবেশ ও নাগরিক সুবিধার বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখা দরকার।


এ বিষয়ে মিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা মানিক বলেন, “এসব সমস্যা আমাদের নজরে আসেনা। বিষয়গুলো খোঁজখবর নিয়ে দেখব।”


প্রকল্প সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, “বিষয়গুলো আমাদের লিখিতভাবে জানালে ভালো হয়।” 


তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:১১ পিএম

টাঙ্গাইলে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


আজ রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক।


অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে সদর উপজেলা পরিষদের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন জেলা প্রশাসক শরিফা হক। পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।




এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন মিয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।


আলোচনা সভায় বক্তারা মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ, জলাশয়ের সঠিক ব্যবহার এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে  কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।


পরে মৎস্য খাতে অবদান রাখা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : রবিবার ১৬ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৫ পিএম

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের পটুয়া ফকদনপুর গ্রামে সৌদি আরবের অর্থায়নে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে প্রায় ১৩০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. রেজাউল ইসলাম রন্টুর বিরুদ্ধে।

অভিযোগের প্রতিকার ও টাকা ফেরতের দাবিতে (১৬ আগষ্ট) আজ রোববার দুপুরে ভুক্তভোগীরা ঠাকুরগাঁও শহরের চৌরাস্তায় মানববন্ধন করেন। পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে রেজাউল ইসলাম রন্টু গ্রামের লোকজনকে জানান, সৌদি আরব থেকে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। ছাদযুক্ত পাকা ঘরের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং টিনশেড পাকা ঘরের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। বাকি অর্থ ফাউন্ডেশন বহন করবে বলে তাদের জানানো হয়। তার কথায় বিশ্বাস করে প্রায় ১৩০ জন টাকা প্রদান করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘর নির্মাণ শুরু হয়নি। পরবর্তীতে ঘরের কাজ শুরু অথবা টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় তাদের মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত মো. রেজাউল ইসলাম রন্টু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের পর প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সর্বশেষ সব খবর