• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৩ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৩ পিএম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৫৩ পিএম

ইসলাহুল উম্মাহ শব্দ দুটির মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে একটি বৃহৎ স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। ইসলামী আদর্শে সমৃদ্ধ, আধুনিক শিক্ষাচিন্তায় আলোকিত এবং শিশুর সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে নিবেদিত একটি ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে পাবনার ইসলাহুল উম্মাহ একাডেমি। পাবনা জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলহেরা একাডেমির শিক্ষা-দর্শন ও অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা এ প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত শিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে শিশুদের জন্য তৈরি করছে জ্ঞান, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও মানবিকতার সমন্বিত এক শিক্ষাভুবন।


জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইসলামি জ্ঞান ও মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করতে পড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের নির্বাচিত আরবি বই। ফলে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের পাশাপাশি শ্রেণিভিত্তিক কোরআন-হাদিসের পাঠও গ্রহণ করছে শিক্ষার্থীরা। তবে ইসলাহুল উম্মাহর শিক্ষা-পরিকল্পনা শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়।


শিশুর কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, চোখে স্বপ্ন আর মনে সৃজনশীলতার আলো জ্বালাতে সিলেবাসে যুক্ত হয়েছে ড্রয়িং ও ক্যালিগ্রাফি, স্পোকেন ইংলিশ, স্পোকেন অ্যারাবিক, আবৃত্তি, অভিনয় ও বিতর্কের মতো নানা সহশিক্ষা কার্যক্রম। অর্থাৎ এখানে শিক্ষা কেবল পরীক্ষার খাতায় নম্বর পাওয়ার বিষয় নয়; বরং শিক্ষা হয়ে উঠছে নিজেকে আবিষ্কার করার, ভাবতে শেখার এবং প্রকাশ করতে শেখার এক আনন্দময় অভিযাত্রা।


ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার ও দেয়ালিকা নতুন এক মাইলফলক


সম্প্রতি ইসলাহুল উম্মাহ একাডেমির প্রাঙ্গণে যুক্ত হয়েছে আরও একটি ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার ও দেয়ালিকা’।

প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতেই বাম পাশে সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে চোখে পড়ে বিশাল আকৃতির একটি বুকশেলফ। তার পাশেই দেয়ালিকা। ওপরে বড় ও স্পষ্ট অক্ষরে লেখা ‘ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার ও দেয়ালিকা’।


 প্রথম দেখাতেই যে বিষয়টি নজর কাড়ে, তা হলো এটি কোনো বদ্ধ কক্ষের পাঠাগার নয় বরং উন্মুক্ত আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে রাখা একটি মুক্ত জ্ঞানভাণ্ডার।


কেন এমন আয়োজন?


ইসলাহুল উম্মাহ কর্তৃপক্ষের ভাবনাটি বেশ গভীর। তাঁদের মতে, শিশুকে সত্যিকার অর্থে মুক্তমনা ও জ্ঞানপিপাসু করে গড়ে তুলতে হলে তার জ্ঞানের পরিধিকে পাঠ্যবইয়ের সীমারেখার মধ্যে আটকে রাখা যাবে না। একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি শিশুকে জানতে হবে পৃথিবীর নানা গল্প, ইতিহাস ও ঐতিহ্য; পড়তে হবে বিজ্ঞান, বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনি, গল্প, কবিতা ও উপন্যাস। পাঠ্যবই তাকে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করবে, আর বিস্তৃত পাঠ তাকে প্রস্তুত করবে জীবনকে বোঝার জন্য।


সেই দর্শন থেকেই পাঠাগারটি কোনো নির্দিষ্ট কক্ষের চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ না রেখে রাখা হয়েছে উন্মুক্ত পরিসরে। যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পছন্দের বই হাতে তুলে নিতে পারে, ইচ্ছেমতো পড়তে পারে, বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, সুযোগ থাকছে অভিভাবকদেরও এখান থেকে বই নিয়ে পড়ার।


দেয়ালিকায় শিশুদের স্বপ্নের রঙ


মুক্তপাঠাগারের পাশের দেয়ালিকাটিও কম আকর্ষণীয় নয়। সেখানে স্থান পেয়েছে শিক্ষার্থীদের নিজেদের হাতে আঁকা ছবি, ক্যালিগ্রাফি, ছড়া ও কবিতা। ফলে দেয়ালিকাটি নিছক প্রদর্শনীর স্থান নয়; এটি শিশুদের ভাবনা, কল্পনা ও সৃজনশীলতার এক জীবন্ত আয়না।

শিশুরা এখানে শুধু বই পড়বে না, নিজেরাও হয়ে উঠবে সৃষ্টিশীলতার অংশীদার এটাই যেন এই আয়োজনের সবচেয়ে সুন্দর দিক।


উদ্বোধনে পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষক


বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার ও দেয়ালিকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও প্রধান শিক্ষক।


ইসলাহুল উম্মাহ পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বপরিচালক ডা. কোরবান আলী, মারুফ হোসেন চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম রনু, সাকির হোসেন ও সাইদুল ইসলাম, ফিরোজ আহমেদ ও সাদ বিন আব্দুর রউফ বলেন, ইসলাহুল উম্মাহর শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাঁদের স্বপ্নের কোনো শেষ নেই। শিশুদের প্রতিভাকে প্রস্ফুটিত করতে এবং তাদের একটি আলোকিত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতেই একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও ইসলাহুল উম্মাহ থেকে আরও নতুন ও চমকপ্রদ উদ্যোগ আসবে বলে তাঁরা জানান।


প্রধান শিক্ষক সৈয়দা ইসমাত আরা বলেন, শুধু বই পড়ানোই নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠাভ্যাসকে আরও গভীর ও আনন্দময় করে তুলতে নিয়মিতভাবে ‘সেরা পাঠক’ নির্বাচন করা হবে। প্রতি তিন মাস পরপর আয়োজন করা হবে পাঠক সম্মেলন। সেখানে দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও লেখকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সেরা পাঠকদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।


এক হাজার বই নিয়ে যাত্রা


প্রায় এক হাজার বই নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ইসলাহুল উম্মাহ মুক্তপাঠাগার। সংখ্যার বিচারে এটি হয়তো একটি পাঠাগারের সূচনা মাত্র কিন্তু ভাবনার বিচারে এটি যেন একটি বড় স্বপ্নের প্রথম অধ্যায়।


কারণ একটি শিশুর হাতে যখন পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্পের বই ওঠে, তখন তার কল্পনার জানালা খুলে যায়। ইতিহাসের বই তাকে অতীতের সঙ্গে পরিচয় করায়, বিজ্ঞান তাকে প্রশ্ন করতে শেখায়, কবিতা তার অনুভূতিকে স্পর্শ করে, আর উপন্যাস তাকে মানুষের জীবন ও সমাজকে ভিন্ন চোখে দেখতে শেখায়।


ইসলাহুল উম্মাহ সেই জানালাগুলোই একে একে খুলে দিতে চাইছে।


আদর্শ ও আধুনিকতার সমন্বয়, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতার সহাবস্থান, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি মুক্তপাঠ সব মিলিয়ে ইসলাহুল উম্মাহ যেন শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি স্বপ্নের কর্মশালা।


যেখানে শিশুরা শুধু ‘ভালো ছাত্র’ হওয়ার জন্য নয়, বরং ভালো মানুষ, সৃজনশীল মানুষ এবং আলোকিত মানুষ হয়ে ওঠার জন্য শিক্ষা নেবে।


আর সীমানাপ্রাচীরের পাশে উন্মুক্ত সেই বুকশেলফটি যেন প্রতিদিন নীরবে বলে যাবে জ্ঞানকে কখনো চার দেয়ালে বন্দী করা যায় না একটি বই খুললেই খুলে যায় আরও একটি পৃথিবী।




  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৩ এএম

সিলেট নগরের রায়নগরে নিজ বাসায় ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি। সোমবার (৩১ আগস্ট) পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়।


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্য মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন,সিলেট নগরের রিকাবীবাজারে নির্মাণাধীন ইম্পালস টাওয়ারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। নিহত আবদুস সাত্তার এ-সংক্রান্ত দুর্নীতি ও ভূমি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।


কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আবদুস সাত্তার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। একই সঙ্গে কোতোয়ালি থানায় করা একটি মামলার বাদীও ছিলেন তিনি। এসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাত্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।


লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত বছরের ২৯ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রায়নগরে আবদুস সাত্তারের বাসায় যান। সেখানে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ভূমির মালিকানা দাবি করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাত্তারকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করে কমিটি।


এ ঘটনায় নিহত সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই ঘটনার একটি মোবাইল রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।


সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১৮ মে আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের হামলায় আবদুস সাত্তার ও মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আহত হন। ইম্পালস টাওয়ারের জমি নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫৬৪/৯৬ নম্বর আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ১৮৫২২/২০০৬ নম্বর দলিল তৈরি করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আদালতের রায়ে ১৮৫২২/২০০৬ ও ১৪০৬২/২০০৫ নম্বর দলিল অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পরে হাইকোর্ট বিভাগও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।


কমিটির নেতারা বলেন, এসব ঘটনা ও পূর্বের বিরোধের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রায়নগরের তিন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং পূর্বের হুমকির সঙ্গে হত্যার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনার দাবি জানান তারা।


এদিকে, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আবদুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেলে ওই বাসার প্রতিবেশী বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। পরে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ এএম

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সিলেটের বিয়ানী বাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও  আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম পল্লবকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়।বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির জানান, দুটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।


এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে একজন রোগী দেখতে গিয়েছিলেন। ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবুল কাশেম পল্লবকে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 


পরে পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।  আবুল কাশেম পল্লব বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় চারটি মামলাসহ গোলাপগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন থানায় আরও অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিথ্যা, জাল ও ভিত্তিহীন দলিল দিয়ে মামলা করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ বাদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ এই রায় দেন। 




আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ মার্চ সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মহিউদ্দিননগর গ্রামের মো. মোশাররফ হোসেন ২০ শতক জমির অংশ (সাহাম) দাবি করে এবং কয়েকটি খতিয়ান তাঁর ওপর বাধ্যকর নয়- এমন ঘোষণার জন্য দর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা করেন। মামলায়  সদর উপজেলার মহিউদ্দিন নগর গ্রামের নাজির হোসেনসহ মোট ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়। 




মামলায় ১৯৩৩ সালের ১০ মে সম্পাদিত ২১০০ নম্বরের একটি সাফকবলা দলিল দাখিল করা হয়। ওই দলিলে ১১২ শতক জমির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। দলিলের গ্রহীতা হিসেবে বাদী মোশারফের বাবা আব্দুল মজিদ এবং দাতা হিসেবে নগরবাসী কৈবর্ত ও বনমালী কৈবর্তের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার দায়ের পর বিবাদীপক্ষ শুরু থেকেই দলিলটিকে জাল ও ভিত্তিহীন দাবি করে আসছিল। মোশারফের দাবির ভিত্তি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা দলিলটি প্রায় ৯২/৯৩ বছরের পুরোনো। 




বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত দলিলটির সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দলিলের টিপসই ও লেখার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং উভয়পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালতের কাছে দলিলটি জাল, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়। 




বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্কের পর আজ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ধার্য ছিল। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ মামলাটি খারিজ করে দেন। পাশাপাশি  মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করে বিবাদীদের হয়রানির অভিযোগে      মোশাররফকে ৫০ হাজার টাজা জরিমানা করা হয়। 




মোশাররফের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা বিবাদীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় বাদী-বিবাদী এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। 


ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাফিক ইসলাম এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নায়েব নাজির মো. সোলায়মান মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।


আটককৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) ও চচ্রগ্রাম বন্দর সল্ট ভোলা ক্রসিং এলাকার মৃত শাহজাহানর মো.সাকিব (২২)।  


রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী আবদুল আলীম দীর্ঘ ২১ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের জলদস্যু শাহীনের যোগসাজশে গত শনিবার একদল ডাকাত রামপুর ইউনিয়নে এসে অবস্থান নেয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল আলীম ও পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত বসতঘরের কাঠের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে ও মুখ ঢেকে জিম্মি করে।


পরে ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ মোট আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে ডাকাতরা সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।


ঘটনার পরপরই স্থানীয় রংমালা বাজারের পাহারাদাররা সন্দেহজনকভাবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা সাকিব নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সাকিব, রামপুরের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে এনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।


গত ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী এ সময় অনুলিপি দিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা।


ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল নেতা পরিচয় মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) সাং- ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকাসহ তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জনসহ নেশাগ্রস্ত কয়েকজন প্রায় প্রতিদিনই সরকার নির্ধারিত রোডভেকোলাইনে আমাদের চেকপোস্টে  এসে উৎপাত সৃষ্টি করে। কোম্পানীর লোকজনকে গালিগালাজ ও মারধর করে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেয়। ড্রাইভার-স্টাফদের মারধর করে। তাদের বক্তব্য, এখানে কোম্পানীর কোন গাড়ী বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না। এখানে দাঁড়ালে সব কোম্পানী গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা গাড়ীর সহযোগীতায় প্রতিরোধ করি। কিন্তু ইদানীং তারা নতুন কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।




সম্প্রতি পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেট কার আমাদের কোম্পানীর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯ বাসের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকার কোম্পানীর বেশ কয়েকটি গাড়ী আটক করে জসিম গং। পরে এবং ১৯ আগস্ট  আমাদের নিকট থেকে সাভার মডেল থানায় বসে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে।


উল্লেখ্য যে, বিবাদী জসিম পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারে আমলে যুবলীগ পরিচয় দিয়া, এখন শ্রমিক দলের সাভার পৌর সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত। এমতাবস্থায়, উক্ত চেকপোস্ট ও আশপাশ এলাকায় কর্মরত আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করছি না। যেকোন সময় হয়তো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 


এদিকে অভিযুক্ত জসিম বলেন- তারা কেন আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছে আমার জানা নেই। তার চাঁদা দাবির বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। 


সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া কেউ চাঁদা দাবি করলে এটা কঠোরস্ত দমন করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।


প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।


আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 


প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্নমান কাবার পরিবেশন করবে ও কোন অনিয়ম করবে তাদেরকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।  


ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের স্কুলের যেসব পুরোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে স্কুলের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। 


দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।


অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা। 


দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ। 


এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫টি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার কোমল মতি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।