• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:৪০ এএম

“তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে!”


চার দলীয় জোট সরকার যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা তখন কেন পদত্যাগ করেনি- সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।


তার ভাষ্যে, “আপনারা নিশ্চয়ই পত্রপত্রিকায় দেখেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল যেই স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, সেই স্বৈরাচারের মুখের ভাষা ব্যবহার করছে বিএনপিরই বিরুদ্ধে। ঠিক সেই স্বৈরাচার যেভাবে বলতো, তাদেরই ভাষা ব্যবহার করছে; বিএনপি তাদের বক্তব্য যে দুর্নীতিতে বলে চ্যাম্পিয়ন ছিল।


“তো আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাদেরও তো দুইজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল, ছিল না? ছিল। তো বিএনপি যদি অতই খারাপ হয়, তাহলে ওই দুই ব্যক্তি কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি?”


আজ মঙ্গলবার বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন তারেক রহমান।


জামায়াত নেতাদের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কেন পদত্যাগ করে চলে আসেনি? এই জন্য পদত্যাগ করে তারা আসেনি, তারা সরকারে ছিল এবং তারা ভালো করেই জানত যে খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছে।


“এবং যেই দলটি এখন এই কথা বলছে, তাদের যে দুই সদস্য বিএনপি সরকারের অংশ ছিল; তারা ভালো করেই জানতেন যে, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয় না।”


২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামের তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী এবং সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ। নিজামীকে প্রথম কৃষিমন্ত্রী করা হয়েছিল, পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মুজাহিদ ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।


বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিজামী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।


বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, "সব ধরনের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতিতে নিম্নগতিতে ছিল। এবং খালেদা জিয়া যখন ২০০১ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশ দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বের হতে শুরু করল।"


“এবং যেই দল এই কথা বিএনপিকে এভাবে দোষারোপ করে, তাদের দুই সদস্যের প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত সরকারে থাকাই প্রমাণ করে যে, নিজেরাই নিজেদের মানুষ সম্পর্কে কত বড় মিথ্যে কথা তারা বলছে!”


সারাদেশে নির্বাচনি প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে তারেক রহমান সড়কপথে ময়মনসিংহ পৌঁছান বেলা সাড়ে ৩টায়। মঞ্চে তরেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। এ জনসভায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।


‘একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকুন’


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করতে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।


তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে যুদ্ধ হয়েছিল। তরুণ-যুবক যারা, তারা আপনারা বইয়ের পাতায় পড়েছেন; মুরুব্বি যারা আছে, আমাদের বয়েসী যারা আছে, তারা দেখেছেন- জানেন সেই যুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, সেই যুদ্ধে বহু মানুষ শহীদ হয়েছিল। পরবর্তীতে ২৪ সালের ৫ অগাস্ট সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে এই দেশের ছাত্র-জনতাসহ সকল শ্রেণির পেশার মানুষ।


“সেই একাত্তর সালের যুদ্ধই হোক, চব্বিশের আন্দোলনই হোক, কে পাহাকি মানুষ, কে সমতলের মানুষ, কে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মানুষ—এটি কিন্তু কেউ দেখেনি। রাজপথে সবাই পাশাপাশি আন্দোলন করেছে, একাত্তর সালে যুদ্ধে সবাই একসাথে যুদ্ধ করেছে।


“কে মুসলমান, কে খ্রিষ্টান, কে অন্য ধর্মের মানুষ- কেউ দেখে নাই। এবারও ১২ তারিখে নির্বাচনে আমাদের সকলকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ একসাথে থাকতে হবে।”


একতার সুফল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি এক সাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, আমরা যদি এক সাথে থাকি, আমরা যেভাবে স্বৈরাচার বিদায় করেছি, আমরা যদি ইনশাল্লাহ সামনের দিনে একসাথে থাকি; তাহলে অবশ্যই এই বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে আমাদের সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশের দিকে নিয়ে যেতে পারব।


“সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তাহলে স্লোগান হবে একটাই। সেটা হল- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’। সবার মনে রাখতে হবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।”


তিনি বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


“আসুন, আমাদের আজকে শপথ হোক, আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করব। আমরা বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব। শেষ কথার এক কথা—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”


তিনি বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে, আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।


“আসুন, আমাদের আজকে শপথ হোক, আমরা এই বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে পরিণত করব। আমরা বাংলাদেশকে জনগণের বাংলাদেশে রূপান্তরিত করব। শেষ কথার এক কথা—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”


সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “পারবেন তো পাহারা দিয়ে সর্তক থাকতে।”


সমস্বরে সবাই ‘হ্যাঁ’ বললে তারেক রহমান বলেন, “ইনশাল্লাহ”।


‘সবাইকে কোদাল নিয়ে আসতে হবে’


বিএনপি চেয়ার‌্যমান তারেক রহমান বলেন, “এই ময়মনসিংহ জেলা একটি অন্যতম কৃষি প্রধান এলাকা। অন্যতম কৃষি প্রধান এলাকা।


“আমাদের এখানে একসময় অনেক খাল-বিল ছিল; ছিল না আগে? এই খাল-বিলগুলো সব ভরাট হয়ে গিয়েছে। এই খালগুলোকে আমরা পুনর্খনন করতে চাই।”


তিনি বলেন, “এখন এই খাল পুনর্খনন করার জন্য কে কে কোদাল হাতে নেবেন? সারা জেলায় খাল পুনর্খনন করতে কে কে কোদাল হাতে নেবেন?”


সবাই সমস্বরে সম্মতি জানালে তারেক রহমান বলেন, “আমি কিন্তু থাকব সেদিন আপনাদের সাথে। ঠিক তো? ইনশাআল্লাহ। তাহলে আমরা খাল খনন করব।”


বক্তব্যের শেষে তিনি ফের বলেন, “আপনাদের সাথে ১২ তারিখের পরে আবার দেখা হবে। কোথায় দেখা হবে?


“খাল খনন কর্মসূচিতে দেখা হবে, খাল খনন কর্মসূচি। সবাইকে কোদাল নিয়ে আসতে হবে পারবেন?”


সবাই সম্মতি দিলে তারেক বলে ওঠেন, “ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ হাফেজ।”


‘কর্মসংস্থান হলে মাদক সমস্যা থাকবে না’


বিএনপি নেতা তারেক রহমান বলেন, “আমরা চাই— নেত্রকোণাসহ, শেরপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক সমস্যা রয়েছে। আমরা এই মাদক সমস্যার সমাধান করতে চাই। কিন্তু মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে কীভাবে করবেন আপনি?


“মাদক সমস্যার সমাধান করতে হলে আমাদেরকে সেই তরুণদের, সেই যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষের যখন কাজ থাকবে, কর্ম থাকবে, চাকরিবাকরি থাকবে, ব্যবসা-বাণিজ্য কমবেশি থাকবে; তখন মানুষ এগুলোর মধ্যে যাবে না। আমরা সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই।”


তিনি বলেন, “দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউশন বেশি করে আমরা তৈরি করব। যাতে করে আমরা আমাদের তরুণ সদস্যদেরকে, যুব সমাজের সদস্যদেরকে আমরা বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেব— যেই ট্রেনিংয়ের বিনিময়ে তারা বিদেশে যেমন যেতে পারবে, একইভাবে তারা দেশে তাদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে।


“যারা আইটিতে কাজ করে, তাদের জন্য বিভিন্ন রকম আইটি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি—যাতে যারা আইটিতে কাজ করে, তারা ঘরে বসে তাদের আয়-রুজি-কামাই রোজগার বাড়াতে পারে।”


হতাহতদের পরিবারের সঙ্গে কুশল বিনিময়


মঞ্চে ওঠার আগে আন্দোলনে শহীদদের পরিবার এবং আহতদের কাছে গিয়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমান কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজ-খবর নেন। তারা মঞ্চের নিচে ছিলেন।


চাইলেন ভোট


নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, সবার জন্য স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধানসহ সরকার গঠন করলে কী কী করতে চান তার একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষের প্রার্থীদের জন্য ভোট চান তিনি।


ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের ২৪ জন বিএনপি প্রার্থীকে ধানের শীষ হাতে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, “আমি আপনাদের দায়িত্ব দিলাম, তাদেরকে বিজয়ী করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।”


তারা হলেন—ময়মনসিংহ-১ আসনের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, ময়মনসিংহ-২ আসনের মোতাহার হোসেন তালুকদার, ময়মনসিংহ-৩ আসনের এম ইকবাল হোসেইন, ময়মনসিংহ-৪ আসনের আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৬ আসনের আখতারুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মাহাবুবুর রহমান, ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, ময়মনসিংহ-৯ আসনের ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ আসনের মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১১ আসনের ফখর উদ্দিন আহমেদ।


জামালপুরের প্রার্থীরা হলেন—জামালপুর-১ আসনের এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জামালপুর-২ আসনের এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু, জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবীর তালুকদার এবং জামালপুর-৫ আসনের শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।


নেত্রকোণার প্রার্থীরা হলেন—নেত্রকোণা-১ আসনের কায়সার কামাল, নেত্রকোণা-২ আসনের আনোয়ারুল হক, নেত্রকোণা-৩ আসনের রফিকুল ইসলাম হিলালী, নেত্রকোণা-৪ আসনের লুৎফুজ্জামান বাবর এবং নেত্রকোণা-৫ আসনের আবু তাহের তালুকদার।


শেরপুরের প্রার্থীরা হলেন—শেরপুর-১ আসনের সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, শেরপুর-২ আসনের মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী এবং শেরপুর-৩ আসনে মাহমুদুল হক রুবেল।


ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করছেন বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদ আবু ওয়াহাব আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।


ময়মনসিংহের অনুষ্ঠান শেষে পরবর্তী নির্বাচনি সমাবেশের জন্য গাজীপুরের রাজবাড়ি কলেজ মাঠের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তারেক রহমান।


সিলেটে হযরত শাহ জালাল (র.) ও হযরত শাহ পরাণ (র.) মাজার জিয়ারতের পর গত ২২ জানুয়ারি সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। সেদিন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়নগঞ্জে ৭টি সমাবেশ করেন তিনি।


এরপর গত রোববার চট্টগ্রাম থেকে দ্বিতীয় পর্বের প্রচারাভিযান চালান বিএনপি চেয়ারম্যান। সেদিন চট্টগ্রামসহ ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে পাঁচটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান।



বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে এমপি মিলনের শোক

‘দেশ ও সমাজের কল্যাণে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে’


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ এএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, বালীগাঁও বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলামের (৭৫) মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন।


রবিবার সন্ধ্যায় উত্তরার একটি আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এমপি ফজলুল হক মিলন বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবী ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তি।”


তিনি আরও বলেন, “সিরাজুল ইসলামের মতো একজন গুণী ও প্রবীণ মানুষের মৃত্যুতে কালীগঞ্জবাসী একজন অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিকে হারাল। তাঁর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ যেন তাঁদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন।”


সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর বালীগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলামকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সালাম প্রদান করা হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পরে বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বালীগাঁও সামাজিক গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


তাঁর মৃত্যুতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান আলম, মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. লুৎফর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ারুল হক বাচ্চু, জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. হারুন অর রশিদ দেওয়ান, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ এএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৮ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা পড়েছে আজ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ এএম

হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রকৃতি জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। বইছে হালকা হিমেল বাতাস। ঘনকুয়াশায় ঢেকে গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। সেপ্টেম্বর মাসের শেষভাগেই এমন দৃশ্যের দেখা মিললো তেঁতুলিয়ায়। 


আজ মঙ্গলবার ভোর থেকে ঘনকুয়াশায় ছেয়ে যায় প্রকৃতি। কুয়াশার কারণে সড়কে দূরের কোনো কিছু দেখা যায়নি স্পষ্ট। সকালের দিকে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। 

তেঁতুলিয়ায় কুয়াশার সঙ্গে বইছে হালকা হিমেল বাতাস

​তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার ভোরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও ভোরের ঘনকুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় এলাকায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে শীতের আগমনী বার্তা। সম্প্রতি পঞ্চগড় অঞ্চলে মৌসুমী আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে ভোরে এমন ঘনকুয়াশা দেখা যাচ্ছে।


​স্থানীয় বাসিন্দা খন্দকার ইমরান হোসেন জানান, ঘনকুয়াশার কারণে ভোরে কয়েক গজ দূরের পথও দেখা যায়নি। হিমেল বাতাসের কারণে অনেককেই হালকা গরম কাপড় গায়ে জড়িয়ে ঘর থেকে বের হতে দেখা গেছে। 


স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভোরের কুয়াশা ও আবছা আলোর কারণে মাঠে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে আজ। ​তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো ফুটলে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। 


উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এ জনপদে সেপ্টেম্বরের শেষে এমন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া আসন্ন শীত মৌসুমের স্পষ্ট বার্তা জানান দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা সোমবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ সোমবার বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিরূপা ভৌমিক, সাংবাদিক নিয়াজ মোঃ খান বিটু, গভঃ মডেল গালর্স হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল লতিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সালাহউদ্দিন, এনজিও নেতা এস.এম শাহীন, জেলা বিএনপির নেতা মোঃ নূরুল হুদা, নারী নেত্রী ফারজানা খানম জারমিন, ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক, ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান শফিক, জেলা বিএনপির নেতা আতিকুল ইসলাম জালাল প্রমুখ।


সভায় বক্তারা বলেন, সদর উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে মাদকের বিস্তার ঘটেছে, কিন্তু এ ব্যাপারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেই। 


সভায় বক্তারা বলেন, সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নের বটতলী বাজারের বিভিন্ন দোকানের ছাদে ও তিতাস নদীর পূর্বপাড়ে মাইমল হাটিতে প্রতিদিন বিকেল থেকেই প্রকাশ্যে জুয়া খেলা শুরু হয়, চলে মধ্য রাত পর্যন্ত। জুয়া খেলে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরে। এ ব্যাপারে প্রতিকার হওয়া দরকার। 


এছাড়াও অনলাইন জুয়া ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে মানুষ দিশেহারা। বক্তারা অনলাইন জুয়া বন্ধে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ও মাদক কারবারিদের পুলিশের অভিযান জোরদার করার দাবি জানান।


সভায় বক্তারা বলেন, শহরে  অবৈধ মোটর সাইকেলের চলাচল বেড়েছে। এর মধ্যে বেশীর ভাগই টানা গাড়ি। এসব মোটর সাইকেলের চালকরা হেলমেট ছাড়াই বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালায়। এতে একদিকে দুর্ঘটনা বাড়ছে। অপরদিকে অপরাধ প্রবনতাও বেড়েছে। 


বক্তারা বলেন, শহরে ছিচকে চুরির প্রবনতা বেড়েছে, এসব চোরেরা বিভিন্ন বাড়ির টিউবওয়েল, বাসা-বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস লাইন, এসির কুলিং পাইপ, নির্মাণাধীন বাড়ির দরজা-জানলা, রড খুলে নিয়ে ভাঙ্গারীর দোকানগুলো বিক্রি করছে। 


বক্তারা এসব ভাঙ্গারীর দোকানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান। 


সভায় বক্তারা দুর্ঘটনারোধে শহরের বিরাসার মোড় গ্যাস ফিল্ডের সামনে, পৌর এলাকার গোর্কণঘাট ব্রীজের গোড়ায় ও সূর্যমুখী কিন্ডারগার্টেনের সামনে নিয়মিত একজন করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি জানান। শহরের যানজট নিরসনকল্পে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং শহরের মসজিদ রোড ও পুরাতন কোর্টরোডকে ওয়ানওয়ে করার দাবি জানান।


সভায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, মাদকের ব্যাপারে কোন আপোষ নেই। মাদকরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। 


তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, সাধ ও সাধ্যেও মধ্যে সমন্বয় কওে সদর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটবো।


সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, সদর উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক। সকলের সহযোগীতায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নতি করা হবে। এজন্য যার যার অবস্থান থেকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। 


তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোন আপোষ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ভ্রাম্যমান আদালতে সাজাও দেয়া হচ্ছে। 


তিনি বলেন, পৌরসভার রাস্তা-ঘাটে চলাচল করতে গিয়ে জনগন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এসব ভাঙ্গা-চুরা রাস্তাঘাট সংস্কার করতে পৌর কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।


তিনি বলেন, যানজট আমাদের বড় সমস্যা। অতিরিক্ত যানজটের কারনে শহরে চলাফেরা করতে কষ্ট হয়। যানজট লাঘবে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। 


তিনি বলেন, অবৈধভাবে চলাচলকরা সিএনজিচালিত অটোরিকসার বিরুদ্ধে কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 


তিনি বলেন, আসন্ন দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে কেউ যাতে কোন ধরনের নাশকতা করতে না পারে সেজন্য সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।


সভায় সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যানগন, সদর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন ও আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ এএম


  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৭ পিএম

আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ঝালকাঠির নলছিটিত মোটরসাইকেল মহড়া ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে উপজেলা ও পৌর যুবদল। মিছিলটি শহর ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।


পরে সেখানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপততিত্ব করনে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন শাহীন। বক্তব্য রাখেন সদস্য সচিব পলাশ সজ্জন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লাভলু সিকদার, যুগ্ম আহ্বায় রেজওয়ানুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান শিমুল, শহর যুবদলের আহ্বায়ক রুস্তম শরীফ, সদস্য সচিব সালাউদ্দিন রাজন, যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাগ মুন্সি, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাজিব এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।


সভায় বক্তারা বলেন, সারাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য করার ষড়যন্ত্র করছে। এই সন্ত্রাসীদের কোন জায়গা নলছিটিতে হবে না। এদের প্রতিহত করতে নলছিটি উপজেলা ও পৌর যুবদলের প্রতিটি নেতাকর্মীকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। 


  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩২ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অবৈধভাবে টায়ার পুড়িয়ে বায়ু ও পরিবেশ দূষণের দায়ে ‘গ্রীন এনার্জি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।


আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধল্লা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ধল্লা এলাকায় গ্রীন এনার্জি নামের প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে টায়ার পুড়িয়ে বায়ু ও পরিবেশ দূষণ করে আসছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে মঙ্গলবার সকালে সেখানে অভিযান চালানো হয়।


এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার ৮(১) বিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সব স্থাপনা দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির বলেন, ‘জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’


  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ পিএম

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দিয়ে পাশের দোকানে ঢুকে যায়। এ ঘটনায় চারজন নিহত হন। আহত হয়েছেন সাতজন। নিহত সবাই অটোরিকশার আরোহী।


আজ সোমবার সকাল আটার দিকে লালমনিরহাট-পাটগ্রাম-বুড়িমারী মহাসড়কের ঘুন্টি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহত ব্যক্তিরা হলেন পাটগ্রামের বুড়িমারী ইউনিয়নের গুড়িয়াটারী উফারমারা গ্রামের বাসিন্দা মো. ফাতুল মিয়া (৩৫), মো. মোস্তাকিম (৩৮) ও আনোয়ার হোসেন (২০) এবং একই ইউনিয়নের ইসলামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. নুর আমিন (৩০)।


আহত ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বুড়িমারী ইউনিয়নের ঘুন্টি বাজার এলাকার মো. বাদশা (৫৫) ও জাফর উদ্দিন (৬০), গুড়িয়াটারী উফারমারা গ্রামের মো. দিপু মিয়া (৩০), মো. মিশন মিয়া (২০) ও সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং ইসলামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আইনুল হক (৩৫)। তাঁরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।


পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে পাটগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অটোরিকশাটি ঘুন্টি বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারোনো ট্রাকটি সড়কের পাশের দোকানে ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান দুজন।


পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা লিখিত কোনো অভিযোগ করেননি। ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে চাইলে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।