তিন দফা দাবিতে নলছিটিতে অবস্থান কর্মসূচী
অসম্পূর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার কাজ সম্পন্নকরন, নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিল রহিতকরন ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কারের তিন দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে সাধারণ নাগরিকরা।
নলছিটি পৌরসভা চত্তরে আজ ১৫ জুন সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত নলছিটি পৌরসভার সামনে অবস্থান কর্মসূচী ও প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা কর্মসূচি পালন করা হয়। সাধারণ নাগরিকদের ব্যানারে তিন দফা দাবিতে প্রায় তিন ঘন্টা শান্তিপূর্ণ এ অবস্থান কর্মসূচী পালন করা হয়।
এতে তাদের দাবি ছিলো ২০২০-২১ সালে শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের প্রায় দশটি সংস্কার কাজ সম্পন্ন না করেই পরে আছে যা জনভোগান্তি তৈরি করেছে সেগুলো সহ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এডিপির কিছু কাজ উদ্বোধন করেও সম্পন্ন হয়নি সেগুলো দ্রুত সম্পন্নকরন।
পৌরসভার আধুনিকায়নের সুযোগ থাকা একটি প্রকল্পের প্রায় তেরো কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব বাতিলের পথে আছে সেই বাতিল রহিত করন। এবং নতুন বাড়তি বরাদ্দ আনয়ন। এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পৌরসভার প্রাপ্ত পুরো বরাদ্দ দিয়ে কোনো কাজ করা হয়নি যা বিধি অনুযায়ী সরকারের তহবিলে ফেরত দিতে হবে, সেই অর্থ ফেরত না দিয়ে বিধিমত এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আটকে থাকা সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসেই নতুন অর্থবছরে প্রকল্প গ্রহণ করে দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্টের নির্মান কাজ শুরু করতে হবে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বৈষম্য বিরোধী নেত্রী সাথী আক্তার, তিনি বলেন দেরশো বছরের এই শহরটি পুরো উপজেলার মানুষের জন্য ঐতিহ্যের প্রতিক ছিলো কিন্তু শহরটিতে কোনো উন্নয়ন নেই। রাস্তাঘাট, পার্ক, টার্মিনাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, বস্তি উন্নয়ন কিছুই নেই। রাস্তাঘাটের বরাদ্দ এলেও সব লুটপাট হয়েছে যারফলে ভুগছি আমরা। তাই আমাদের দাবি লুটপাট হওয়া রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি সহ আমাদের এই তিন দফা দাবি মানতে হবে। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত আমরা এই অবস্থানে অনড় থাকবো।
আরেক আন্দোলনকারী ইমরান হোসেন বলেন, দেশের দ্বিতীয় পৌরসভা হলেও উন্নয়নের দিক থেকে আমরা একেবারেই পিছিয়ে আছি। এতবছরেও উন্নয়নের ছিটেফোটাও বাস্তবায়ন হয়নি। অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এক ইঞ্চিও উন্নয়ন কাজ হয়নি যেকারণে সেই বরাদ্দ এখন ফেরত যাবার পথে কেন আমরা সেই প্রশ্নের জবাব চাই। আমরা এক পয়সাও ফেরত যেতে দেবো না। এবং দ্রুত সব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করতে হবে।
আরেক আন্দোলকারী আসিফ জিয়া মুন্না বলেন, ১৮৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়া নগরীতে রাস্তাঘাট নেই, একটি শিশুপার্ক নেই, সড়কবাতি জ্বলে না, জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা নেই, বারবার বরাদ্দ আসে কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে এর নিরসন চাই।
মো: রাহাত বলেন, এত বড় একটি পৌরসভার অথচ এর সামনের রাস্তাটিই বেহাল দশা, সংকীর্ণ রাস্তা এরমধ্যে ফুটপাত দখলের কারনে আরও বেশি দুর্ভোগ হয়। এছাড়াও কোনো সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেই, তাই আমরা এই নগরীর আধুনিকায়ন চাই।
আহত জুলাই যোদ্ধা মূসা সরদার বলেন, এতো পুরনো পৌরসভার রাস্তাঘাট সবগুলোই মরনফাদ হয়ে আছে আর বরাদ্দ আত্মসাৎ করছে এটা হতে পারে না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই,কারন এই শহরে শুধু পৌরসভার নাগরিকরা থাকে না পুরো উপজেলার মানুষ আসে যায় তাই আমাদের এই তিন দফা দাবি মানতে হবে। এটা শুধু দাবি নয় আমাদের অধিকার।
আন্দোলনের সমন্বয়কারী সমাজকর্মী বালী তাইফুর রহমান তূর্য বলেন, আমরা বছরের পর বছর ধরে পৌরসভা এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার, পয়নিস্কাষন, ড্রেনেজ, অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা, বস্তি এলাকা উন্নয়ন, নতুন গোরস্থান তৈরি, শিশুপার্ক, ইকোপার্ক নির্মান, ফায়ার হাইড্র্যান্ট বসানো, গার্বেজ রিসাইক্লিং প্লান্ট, বিউটিফিকেশনের মতো সুযোগ থাকা সিটিসিআরপি প্রকল্পর এই অংশটির বরাদ্দ বাতিল হতে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য একেবারেই দু:খজনক। আমরা বছরের পর বছর এগুলো নিয়ে আন্দোলন করেছি এই মুহুর্তে ডিপিপি রিভিশনের সময় এই অংশ বাতিল হলে আমরা তা মেনে নেব না। প্রকল্পটির প্রায় দুই বছর সময় অতিবাহিত হলেও অগ্রগতি না থাকায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান কিছুদিন আগে নলছিটি পৌরসভা পরিদর্শনের সময় এই উদ্বেগ আরও বেরে যায়। পৌরসভার খালি জমি না থাকার অযুহাতে প্রকল্পের এই আধুনিকায়নের অংশটি বাতিল হতে পারে বলে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
এছাড়াও ২০২১ সালে শুরু করা রাস্তার কাজও আজ পর্যন্ত সমাপ্ত করা হয়নি, লুটপাটের কারনে মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ হয়ে পরেছে। এসব রাস্তা এখনো আদায় না হলে পরবর্তীতে এই দুর্ভোগ আরও বাড়বে। এই প্রকল্পের শেষ সাক্ষী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মিজানুজ্জামা, তিনি এই বছর নভেম্বরের দিকে অবসরে যাওয়ার কথা তিনি অবসরে চলে গেলে এসব রাস্তা পুনরুদ্ধার একেবারেই অসম্ভব হয়ে পরবে। তাই ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্পের অসম্পন্ন সবগুলো রাস্তার নির্মান কাজ সম্পন্ন করতেই হবে এবং এই দুর্ভোগ সৃষ্টির জন্য দ্বায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং ঠিকাদারদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করতে হবে।
এছাড়াও ১৬ একর সম্পত্তির মালিক থাকা পৌরসভায় জমি সংকট দেখিয়ে আধুনিকায়নের সুযোগ থাকা প্রকল্পের প্রায় চৌদ্দ কোটি টাকার অংশ বাতিল হওয়ার মতো দু:খজনক বিষয় আর নেই। অথচ পৌরসভাটি প্রতি বছর প্রায় সারে তেরো একর জমির ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করে অথচ সব জমি কেউ চেনে না, কাদের দখলে আছে কেউ জানে না,কেউ বলে না। প্রয়োজনে পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে জমি ক্রয় করে হলেও এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতেই হবে। আমরা এই বরাদ্দ বাতিল রহিতকরনের দাবি জানাচ্ছি এবং অসম্পূর্ণ সকল রাস্তাঘাট সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে। এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন কাজ জুলাই আগস্টের মধ্যে শুরু করার দাবি জানাই।আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
প্রায় তিন ঘন্টা অবস্থান কর্মসূচী পালন করে পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) রিজভী আহমেদ সবুজের কাছে লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।
সড়কে ‘শৃঙ্খলা ফেরানোর’ চেষ্টার অংশ হিসেবে ই-রিকশা নিবন্ধন করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনার দিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
ডিএসসিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-রিকশার নিবন্ধনে মঙ্গলবার থেকে প্রতিটি ১০০ টাকা মূল্যের আবেদন ফরম বিতরণ করা হবে। নগর ভবন ও ডিএসসিসির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিক্সা (ই-রিক্সা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ অনুসরণ করে এ নিবন্ধন পরিচালিত হচ্ছে।আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
নিবন্ধনের আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে আবেদনপত্রের সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ, নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট।
ডিএসসিসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবেদন ও কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা ও কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
এ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি আবেদন ফরম সংগ্রহ ও ই-রিক্সার নিবন্ধন গ্রহণ করতে পারবেন। ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না; সব মানদণ্ডে উত্তীর্ণ বাহনকেই সনদ দেওয়া হবে।
ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ)। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (আরসি কাফ) উদ্ধার করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। গত ১ নভেম্বর দিবাগত রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় মাদকদ্রব্যগুলো উদ্ধার করা হয়।
৪২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ বাশালগাঁও বিওপির দায়ীত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেন বিজিবি সদস্যরা।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চোরাচালানিদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারী ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্তে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি নিয়মিত টহল ও নজরদারীর পাশাপাশি অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং তাদের ব্যবহৃত কৌশল শনাক্তে কাজ করছে। সীমান্তের যেকোনো স্থানে সন্দেহজনক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিজিবির লক্ষ্য শুধু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা বন্ধ করাও। এ লক্ষ্যে সীমান্তজুড়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বদা সতর্ক ও সজাগ রয়েছেন।
সভার আয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ১০নং হবিরবাড়ী ইউনিয়নে গণসংযোগ ও মতবিনিময় চালিয়ে যাচ্ছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া। এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তাঁদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও উন্নয়ন ভাবনা জানার পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের সম্ভাব্য প্রার্থিতার বিষয়টি তুলে ধরছেন তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের অন্যতম সদস্য ও হবিরবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার শ্রমজীবী, খেটে খাওয়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন দুর্যোগ ও সংকটের সময় সহযোগিতা করে থাকেন তিনি। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ ও মাদরাসায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও মতবিনিময় করছেন জিয়া। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এলাকার নাগরিকসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সমস্যার বিষয়ে তাঁদের মতামত জানার চেষ্টা করছেন তিনি।
শিল্পকারখানাকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হবিরবাড়ী ইউনিয়নে উন্নয়নের সম্ভাবনার পাশাপাশি নাগরিকসেবা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পাঞ্চলের উপযোগী সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের মতো বিষয়গুলো স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার ক্ষেত্রেও নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, এলাকার সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সহজে যোগাযোগের সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে, সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ সরাসরি জনপ্রতিনিধিকে জানাতে পারেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে তাঁদের মতামত প্রতিফলিত হয় এমন একটি জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারব্যবস্থা প্রত্যাশিত।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জিয়া জানান, দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে চান তিনি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
হাজী জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “হবিরবাড়ী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এখানে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং জনগণ নির্বাচিত করলে সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার লক্ষ্য হবে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা এবং সাধ্যমতো সেগুলোর সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়নকে শুধু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি, যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের প্রত্যাশা ও অগ্রাধিকার সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন জিয়াউর রহমান জিয়া। তাঁর এই গণসংযোগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক তৎপরতারই অংশ। তবে দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন, তিনি যেন দল-মতনির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করেন এবং হবিরবাড়ী ইউনিয়নের নাগরিকসেবা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষা চলাকালে ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিকট শব্দে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ৩ টা ৪৫ ঘটিকায় দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যালয়ে টেস্ট পরীক্ষা চলাকালে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন।এ সময় তানজিন রহমান রিদু নামে এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।পরে ওই শিক্ষার্থী কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমা জাতীয় বস্তু নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তানজিন রহমান রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে ও জামায়াত নেতা খাজা আহামেদের ক্যাডার বলে জানা গেছে।
ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,মোটরসাইকেলটি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদের।
এ বিষয়ে খাজা আহমেদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার হলে নিয়ম ভঙ্গের কারণে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে। এরপর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কাজ করছে।ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।তদন্তে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ঘটনাটি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদান স্মরণ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দূরদর্শী চিন্তা সিলেটে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত খুলেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় এম. সাইফুর রহমানের অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন মনে রাখবে। শিক্ষার প্রসারে তাঁর আগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কৃষির উন্নয়ন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, উর্বর কৃষিজমি রক্ষা করা জরুরি। উন্নয়ন পরিকল্পনায় পতিত বা কম উৎপাদন শীল জমি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে হবে।
কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে রিজভী বলেন, হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
এর আগে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়। বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন করা হয়। কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ ও বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজনও ছিল। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. এ.টি.এম. মাহবুব-ই-ইলাহী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মজুমদারসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মূল ভিত্তি। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনেও গুরুত্ব দিতে হবে। গবেষণার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।