অধ্যক্ষের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ মানববন্ধন

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

ভোলা নাজিউর রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্র শিক্ষকসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আজ সোমবার বেলা ১১ টায় নাজিউর রহমান কলেজের সামনে ভোলা- ইলিশা সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করা হয়। এসময় পরাণগঞ্জ কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজ, হালিমা খাতুন গার্লস স্কুল, পরাণগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরাণগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। 


এসময় বক্তারা বলেন, গতকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোলার মনপুরা উপজেলা মসজিদে এশার নামাজ আদায় করতে গেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অধ্যক্ষ মোঃ মহিউদ্দিন এর উপর হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা।


অতিদ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হব বলে জানিয়েছেন বক্তারা। 


এসময় বক্তব্য রাখেন, নাজিউর রহমান কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ হেলাল উদ্দিন, কামাল হোসেন শাহীন, জুন্নু রায়হান, কাচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট মো: ইউছুফ, কাচিয়া ইউনিয়ন বিজেপির সহ সভাপতি আলমগীর মেম্বার, পরাণগঞ্জ কবি মোজাম্মেল হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, হালিমা খাতুন গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক টিপু সুলতান, পরাণগঞ্জ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোঃ বেলায়েত হোসেন, ছাত্রনেতা মাহি, সুমন, মনজু প্রমূখ।




রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১০ পিএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আনা ইউরেনিয়ামের আরও একটি চালান এবার প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও কুষ্টিয়া হয়ে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে করে এসব পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুরে নেওয়া হয়।


শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে চালানটি কেন্দ্রে নেওয়া হয়।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি হিসেবে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি সরবরাহ করা হবে। এসব জ্বালানি মোট নয়টি চালানে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। অবশিষ্ট চালানগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।


এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২৯ ও ৩০ অক্টোবর এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সব প্রক্রিয়া নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বা তার আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।


বর্তমানে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। এ সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হলে উৎপাদিত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো হবে। এর মাধ্যমে জেনারেটর চালু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।


প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পরীক্ষার ফলাফল ও বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানান, কেন্দ্রটির প্রতিটি কার্যক্রম অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পরবর্তী ধাপে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো যন্ত্রাংশে ত্রুটি পাওয়া গেলে কিংবা ভাল্ব পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না এলে সেগুলো পুনরায় পরীক্ষা ও মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


প্রকল্পের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণমুক্ত বিদ্যুতের সরবরাহও সম্প্রসারিত হবে।


রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৫ এএম

গত আট মাসে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকারকে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।সৌরবিদ্যুতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হলে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি কৃষি অর্থনীতির উন্নয়নও অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। এ জন্য তিনি সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে বাড়ির ছাদে প্যানেল স্থাপনে সবাইকে উৎসাহিত করেন।


মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে ব্যক্তিপর্যায় থেকেও উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যক্তিপর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা দরে কিনে নেবে। এ বিষয়ে সব পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো গেলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের ব্যয় ও ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তা ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।




সারা পৃথিবী এখন জ্বালানি সংকটে ভুগছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই যে যুদ্ধ, এই যুদ্ধে সবচেয়ে বড় সমস্যা সৃষ্টি করেছে জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে সরকার। আগামী বছরের গ্রীষ্মের আগে সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য বাড়ির ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎও সরকার কিনবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 


মতবিনিময় সভায় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় মানবপাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা নুরালীপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকসংলগ্ন পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে।


টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি এলাকায় জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য আহত হন। অভিযানে অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হন। অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং মানবপাচারের শিকার ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।


এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই শতাধিক মানুষকে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রেখেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। তাদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলি শুরু হয়।


স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, বিকেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলি হয়। ওই এলাকায় মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে শতাধিক মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।


টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, লেদার পাহাড়ি এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। অভিযানকে কেন্দ্র করে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।


নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসেরর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। । ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৬ পিএম

শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে শিশুদের শুধু পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শেখার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুদের বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে তারাই ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।


তিনি বলেন, পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, স্থপতি কিংবা আইনজীবী হবে। তবে এর পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।


শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার বিকাশের মধ্য দিয়ে একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এই বাংলাদেশ তোমাদের গড়তে হবে, তোমাদের তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে শক্তিশালী হিসেবে দাঁড় করাতে হবে। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর এবং এই দেশের মালিক।’


বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে শিশুদের শুধু পড়ালেখায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও বিদেশি ভাষা শেখার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুদের বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারলে তারাই ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।


তিনি বলেন, পড়ালেখা করে কেউ ডাক্তার, কেউ প্রকৌশলী, স্থপতি কিংবা আইনজীবী হবে। তবে এর পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিতেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে। শুধু শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ব জয় সম্ভব নয়। বিশ্বে এগিয়ে যেতে হলে জ্ঞান, খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই পারদর্শী হতে হবে।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে নেতাকর্মীদের নানা পরামর্শ ও মতামত


জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা বিএনপির প্রস্তুতি সভা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১১ পিএম

 ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালনের লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) দিনাজপুর শহরের জেল রোডস্থ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।




সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে নিজ নিজ মতামত, পরামর্শ ও বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং মহিলা দলের নেত্রীরাও দিবসটির কর্মসূচি সুষ্ঠু, সুন্দর ও সফলভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। সভায় ঐক্যবদ্ধভাবে সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মোকাররম হোসেন, সহসভাপতি আলহাজ্ব মাহবুব আহমেদ, মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল ও মোঃ হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, মোঃ খালুকুজ্জামান বাবু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোঃ নাজমুল হুদা জনি, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান বাদশা এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মণ্ডল বকুল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম গুরু, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক বাবু চৌধুরী, দিনাজপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতি জিনাত আরা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুলতানা ডিউটি।‌ সভায় জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসু খাঁন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং জেলা বিএনপি, যুবদল, মহিলা দল, তাঁতীদলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের পটভূমি ও তাৎপর্য: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি আলোচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ওই বছরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে নানা টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।

ওই সময় তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দী করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৬ নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ৭ নভেম্বরের প্রথম প্রহরে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে বিদ্রোহ ও অভ্যুত্থান শুরু হয়। একপর্যায়ে বন্দীদশা থেকে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন। ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সমর্থনের বিষয়টিও ইতিহাসে আলোচিত হয়েছে। ‘সিপাহি-জনতা ভাই ভাই’ স্লোগানটি সে সময়ের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পৃক্ত।

এই পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের প্রভাব ও অবস্থান আরও দৃঢ় হয়। তবে ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তার হত্যাকাণ্ডসহ নানা বিতর্কিত অধ্যায়ও জড়িয়ে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দিনটির মূল্যায়ন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহলে ভিন্ন ভিন্নভাবে হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। দলটির রাজনৈতিক ব্যাখ্যায়, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি ও জনতার ঐক্য দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

অন্যদিকে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একটি অংশ দিনটিকে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে মূল্যায়ন করে। আওয়ামী লীগসহ ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষগুলো ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন করে থাকে।দিবসটি পালনে রাষ্ট্রীয় ও দলীয় কর্মসূচি:
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সরকারী ঘোষণায় দিবসটি উপলক্ষে সাধারণ ছুটি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, বিশেষ প্রার্থনা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর ঢাকাসহ দেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র‍্যালি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। দিনাজপুর জেলা বিএনপির এই প্রস্তুতি সভাকে আসন্ন জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের সাংগঠনিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


পিরোজপুর জামায়াতের আমির হলেন আব্দুর রব

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৫ পিএম

দীর্ঘ ৩৫ বছরের নেতৃত্বের অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা শাখা। ২০২৭-২০২৮ সাংগঠনিক সেশনের জন্য জেলা আমির নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা আব্দুর রব। এর আগে তিনি ভারপ্রাপ্ত জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সাল থেকে পিরোজপুর জেলা জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পান মাওলানা আব্দুর রব। এবার রুকনদের ভোটে তিনি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হলেন।


গত ৯ অক্টোবর পিরোজপুর শহরের টাউন স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত জেলা রুকন সম্মেলনে নতুন আমির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ৬৭২ জন নারী ও পুরুষ রুকন গোপন ব্যালটে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।


বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক শেষে নতুন আমিরদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য দেশের ৭৭টি জেলা ও মহানগর শাখার নির্বাচিত আমিরদের নাম ঘোষণা করেন।


দলটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাংগঠনিক রুকনদের প্রত্যক্ষ গোপন ভোটের ভিত্তিতেই এসব শাখার আমির নির্বাচিত হয়েছেন।