প্রবাসী বন্ধুর বিশ্বাস ভেঙে বেকার যুবক কোটিপতি!

কক্সবাজারে গেস্ট হাউস ঘিরে অনৈতিক বাণিজ্যের অভিযোগ

প্রবাসী বন্ধুর বিশ্বাস ভেঙে বেকার যুবক কোটিপতি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:১৮ পিএম

কক্সবাজার পর্যটন জোনের শরণ আবাসিক প্রকল্পে অবস্থিত ‘সাগর কান্তা গেস্ট হাউস’-এর ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে স্ট্যাম্প ও চুক্তিপত্র তৈরি, বিশ্বাসভঙ্গ, আমানত খেয়ানত এবং গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী বন্ধুর বিশ্বাস ও সহযোগিতাকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন গেস্ট হাউসটি ভোগদখলে রেখে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নজরুল কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।


গেস্ট হাউসের মালিক কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর বাসিন্দা ফরিদুল আলম ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন।


দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম গেস্ট হাউসটি ভাড়া নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ দেহব্যবসা ও প্রকাশ্যে ইয়াবার বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব কর্মকাণ্ড সাংবাদিকদের নজরে আসার পর বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় একাধিক দৈনিকে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


বিষয়টি নজরে আসার পর গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে নজরুলকে গেস্ট হাউস ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তবে ভাড়ার মেয়াদ শেষ না হওয়ার অজুহাতে দখল ছাড়তে আপত্তি জানান ভাড়াটিয়া। ২০২৫ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি গেস্ট হাউসের দখল ছাড়েননি বলে অভিযোগ। বরং লাঠিয়াল ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গেস্ট হাউসটি স্থায়ীভাবে দখলে রাখার চেষ্টা এবং প্রকৃত মালিকের ওপর বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।


এরই মধ্যে পূর্বের ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার অনুরোধে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ছয় মাসের জন্য বিশেষ শর্তে চতুর্থবারের মতো চুক্তি সম্পাদন করা হয়। ওই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়-কোনো অবস্থাতেই বা কোনো অজুহাতে নজরুল ইসলামের সঙ্গে আর নতুন করে চুক্তি করা হবে না। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে পূর্বের বকেয়া প্রায় ৬ লাখ টাকা গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমকে পরিশোধ করার শর্তও দেওয়া হয়।


গেস্ট হাউস মালিক একাধিকবার বকেয়া টাকা পরিশোধ করে গেস্ট হাউসের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে তাগাদা দিলেও নজরুল দখল ছাড়তে নানা তালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভাড়ার মেয়াদ বাড়িয়ে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে নতুন স্ট্যাম্প ও চুক্তিপত্র তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এ সময় কতিপয় সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করে মালিক ফরিদুল আলমকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।


অবশেষে গত ১৩ আগস্ট গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমের উদ্যোগে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নজরুল ইসলামের কাছে থাকা চুক্তিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং সেটি জাল বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। একই বৈঠকে গেস্ট হাউস মালিকের প্রায় ৬ লাখ টাকা পাওনা থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে নজরুল ইসলামকে গেস্ট হাউসের দখল ছেড়ে দিতে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

তবে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে এর আগেই রাতের আঁধারে গেস্ট হাউসের টেলিভিশন, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মালিকপক্ষ।


এরপর গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানায় উল্টো গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও ৪ লাখ টাকার একটি চেকসহ তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গেস্ট হাউস থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে।


শুধু তাই নয়, এসব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবে গেস্ট হাউস মালিক ফরিদুল আলম ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়লেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পেরে একপর্যায়ে কৌশলে সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৬-১৭ বছর ধরে প্রবাসী বন্ধু ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন গেস্ট হাউসটি নামমাত্র ভাড়ায় ভোগদখল করে আসছেন নজরুল ইসলাম। ২০১৭ সালে বছরে ৫ লাখ টাকা ভাড়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়। এরও প্রায় সাত বছর আগে থেকে গেস্ট হাউসের মালিক বিদেশে অবস্থান করায় বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে নজরুলকে গেস্ট হাউসটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে মালিকপক্ষের দাবি।


প্রথম চুক্তিপত্রে প্রথম বছরের ভাড়া ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী প্রতিটি বছর মূল ভাড়ার সঙ্গে আরও ৫০ হাজার টাকা করে যোগ হওয়ার শর্ত ছিল।


মালিকপক্ষের অভিযোগ, ওই চুক্তিপত্রে থাকা ফরিদুল আলমের স্বাক্ষর নকল করে পরবর্তীতে একাধিক চুক্তিপত্র তৈরি করা হয় এবং এভাবে গেস্ট হাউসের ভাড়ার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।


এ ছাড়া ‘সাগর কান্তা গেস্ট হাউস’কে কেন্দ্র করে পর্যটকদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণারও অভিযোগ রয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি, পতিতা ও হিজড়াদের ভাড়া করে সমুদ্রসৈকতে পাঠানো হতো। সেখানে উঠতি বয়সী পর্যটক ও যুবকদের বিভিন্নভাবে প্রলোভিত করে গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা হতো। পরে তাদের রুমে নিয়ে গিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


আবার কোনো কোনো পর্যটককে ইয়াবা দিয়ে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গেস্ট হাউসটিকে একটি অপরাধের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করে বিপুল অর্থ উপার্জনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ মালিকপক্ষের।


তবে নজরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য এবং অন্যান্য নথিপত্রে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।


সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি গেস্ট হাউস পরিচালনার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ভাড়াটিয়া-মালিকের মধ্যে বিরোধ, চুক্তিপত্র জালিয়াতি, দখল নিয়ে টানাপোড়েন এবং অনৈতিক ব্যবসার অভিযোগে গড়িয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি, বেকার যুবক নজরুল ইসলাম ওই গেস্ট হাউসকে ব্যবহার করে অনৈতিক ব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।


ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



সর্বশেষ সব খবর

বাঁ থেকে নিহত পর্যটক রোহান, জিসান ও আকাশ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ পিএম

কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী এসএম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে কলাতলী ভাঙার মোড় এলাকার সৈকত পয়েন্টে সাগরের জোয়ারের পানিতে মরদেহটি ভেসে আসে। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সৈকতের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তা উদ্ধার করেন।


নিহত নাফিসুর রহমান নিবিড় রাজধানীর আজিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা থেকে আসা একদল পর্যটক হিমছড়ির পেঁচারদ্বীপ জাদুঘর সংলগ্ন সৈকত পয়েন্টে সাগরে গোসল করতে নামেন। এ সময় সাগরের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোতের তোড়ে তারা ভেসে যান। ঘটনার দিনই তাৎক্ষণিকভাবে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা। তবে সে সময় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ ছিলেন। পরবর্তীতে নিখোঁজদের মধ্যে হারুন নামের এক তরুণের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র নিবিড়ের মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হয়।


কক্সবাজারের কলাতলী ও হিমছড়ি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের জন্য তা উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে। 

সর্বশেষ সব খবর

বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৩ পিএম

কক্সবাজারের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়কের পাশে উখিয়ার ইনানী সৈকতের প্রায় ৮০০ মিটার অংশ দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর বিরুদ্ধে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে চিহ্নিত সৈকতের এই অংশকে নিজেদের ‘প্রাইভেট বিচ’ বা ব্যক্তিগত সৈকত হিসেবে প্রচার করছে প্রতিষ্ঠানটি। 


বুধবার (২২ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, রিসোর্টটির সামনের বালিয়াড়ি থেকে সৈকতে যাওয়ার জন্য অতিথিদের সুবিধার্থে দুটি পথ তৈরি করেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার সাজিয়ে জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘সাম্পান বিচ’।


প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজে ‘আওয়ার প্রাইভেট বিচ, আওয়ার স্কেপ’ শিরোনামে ওই স্থানের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘জাস্ট মালিহা থিং’ নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তার একটি প্রচারমূলক ভিডিওতে জায়গাটিকে বেলাভূমির ‘প্রাইভেট বিচ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভিডিওটি রিসোর্টটির ফেসবুক পেজেও শেয়ার করা হয়েছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, শুরুতে ওই স্থানে ‘স্যালমন রেস্টুরেন্ট’ নামে একটি খাবারের দোকান চালু করা হয়। পরে এর পেছনে গড়ে তোলা হয় রিসোর্ট। গত দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে। অভিযোগ রয়েছে, ‘প্রাইভেট বিচ’ পরিচয় দিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিচ ক্যাম্পিংয়ের নামে বালিয়াড়িতে তাবু স্থাপন করে ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, সৈকতের পরিবেশ নষ্ট করে সংকটাপন্ন এলাকাকে নিজেদের বলে চালিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।


জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ হাসান আল মারুফ বলেন, সৈকত কারও প্রাইভেট বিচ বা ব্যক্তিগত বলে প্রচার করার অর্থ হলো ভোক্তাসাধারণের সঙ্গে সুকৌশলে প্রতারণা করা। এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মেরিনড্রাইভে যেসব অনুমোদনহীন অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেগুলো ডিজিটাল জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সতর্কীকরণ নোটিশ পাঠানোসহ এ-সংক্রান্ত অন্যান্য কার্যক্রম চলমান আছে।


সংস্থাটির কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইন না মানায় গত এক বছরে কক্সবাজারের ৫৫টি হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁকে মোট ১ কোটি ২৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৫৮ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জমির উদ্দিন বলেন, নিয়ম না মেনে ইসিএভুক্ত এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণ এবং সৈকত দখলে নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করার তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা এসব ক্ষেত্রে জরিমানা ও মামলা করে থাকি। বিধিলঙ্ঘন দেখলেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।


হলিডে ট্যুরিজম লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ‘বেলাভূমি ভিলা অ্যান্ড রিসোর্ট’। প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আরিফুল ইসলাম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি মাত্র কিছুদিন হলো এখানে যোগ দিয়েছি। আমাদের অতিথিদের কেউ কেউ সামনের সৈকতকে ভিডিওতে ‘প্রাইভেট বিচ’ বলেন। সেটি তাদের ব্যাপার।


রিসোর্টটির মালিকানা ও অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে এটি গড়ে তুলেছেন। অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১২ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুপক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। 


সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপির কার্যালয়ে তাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।


আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কামদেব শেখপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় ব্র্যান্ডের বিড়ির স্বত্বাধিকারী মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির স্বত্বাধিকারী রমজান আলী জিকুর বিড়ির বাজার নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। বিরোধের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলাকালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে মীর কাসেম মিঠু, ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু আহত হন।


মীর কাসেম মিঠুর দাবি, মর্ণেয়া ইউনিয়নে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করে দেওয়ায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।


রমজান আলী জিকু বলেন, বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, দলীয় কার্যালয়ে তার ছেলেরাই হামলা চালিয়েছে। এর আগেও বিড়ির বাজার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।


এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে বুধবার ১১টার দিকে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও মীর কাসেম মিঠুর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানান উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার।


রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুস সবুর বলেন, এ ঘটনায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩১ পিএম

 রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই এবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই অবরোধের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। বিবৃতিতে আগামী শনিবার রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় আধাবেলা সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ওই দিন সকাল ৫টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে সড়ক ও নৌপথ অবরোধ চলবে বলে জানানো হয়।

সংগঠনটি ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির সাজেকে জেএসএস সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ডাকা শান্তিপূর্ণ সড়ক অবরোধে হামলা, লাঠিচার্জ ও ঘরবাড়ি-দোকান, ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবং সাজেকবাসীর ন্যায্য দাবির সমর্থনে ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধাবেলা শান্তিপূর্ণ সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ও কাউখালী উপজেলার ফটিকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান উষাতন চাকমা রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় অবরোধ ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অবরোধের সময় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী ও লাশবাহী যান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন ও সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগে বৃহস্পতিবার ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের’ ডাকা অবরোধের কারণে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে আটকে পড়েন প্রায় তিন হাজার পর্যটক।

পুলিশ জানায়, এসব পর্যটককে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ি সদরে ফিরিয়ে নিয়ে আসার পথে সাজেক উজো বাজার এলাকায় আসলে অবরোধকারীরা আটকে দেয়। এতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাপী আটকা পড়েন সাজেকে ঘুরতে আসা পর্যটকরা। এসময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে তাদের উপর অবরোধকারীরা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পর্যটকদের সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে এক পর্যায়ে পর্যটক ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করে ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা। পরে পর্যটক ও সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল  রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়তে বাধ্য হয়। এসময় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে গোলাগুলিতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। গোলাগুলির ঘটনার পরে ওই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব।

তিনি আরও জানান, গোলাগুলির ঘটনার আগে অবরোধকারীদের এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপের আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ৬ সদস্য আহত হন। 


সর্বশেষ সব খবর

রংপুর মেডিকেলে আগুন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩০ পিএম

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিচ তলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগলে ভয়াবহ ধোয়া আর আগুনের কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ ভয়ে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় অন্তত ৪০ জন রোগী আহত হয়েছেন। এ সময় পুরো হাসপাতাল জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সোয়া ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 


খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এদিকে হাসপাতালে বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার ঘটনায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। 


দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর কয়েকটি ওয়ার্ডে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলেও নেফ্রোলজি, হৃদরোগ, গাইনি, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড অন্ধকারে। ফলে জরুরি অপারেশন ও সব ধরনের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে।


জানা গেছে, সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাসপাতালের নিচ তলায় বিদ্যুতের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুরো হাসপাতালে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা থেকে দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত হাসপাতালের বাইরে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় পড়ে গিয়ে অন্তত ৪০ জন আহত হন। 


বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়, হৃদরোগ বিভাগ, প্যাথলজি ওয়ার্ড, চর্ম ও যৌন ওয়ার্ড, কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ড, নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে রোগীরা প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।


হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয় তলায় নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী সফিউল আলমকে কোলে করে দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামানোর সময় তার দুই ভাতিজা পড়ে গিয়ে আহত হন। ওই সময় কিডনী রোগী সফিউলও আহত হন। ওই ওয়ার্ডের অন্তত ১৫ জন রোগী তাড়াহুড়া করে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে আহত হন। অপরদিকে গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ও সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুদের নিয়ে তিনতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে।


গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী মমতাজ বেগম জানান ৫ দিন আগে তার শিশু কন্যার জন্ম হয়েছে। আগুন লাগার খবর শুনে তিনি তার শিশু সন্তানকে নিয়ে নিচে তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হন।


এ ছাড়াও লোহার জরুরি বহির্গমন সিঁড়ি দিয়ে অনেকেই নিচে নামেন। এ সময় পদদলিত হয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন।


হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম জানান, বিদ্যুতের শট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪০ পিএম

সিলেটের তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে জৈন্তাপুর উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল আহমেদকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে জৈন্তাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে কামাল আহমেদ ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে উপস্থিত হন। এ সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর গোয়াইনঘাট থানার অধীন তামাবিল পুলিশ ফাঁড়ির চার সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। পরে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে জৈন্তাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দিদারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তাকে জৈন্তাপুর থানায় নিয়ে যায়। 


পুলিশ জানায়, কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে জৈন্তাপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, কামাল আহমেদ থানা হেফাজতে আনা হয়। যাচাই-বাছাই করে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে সহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে প্রেরন করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর