ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০৫ পিএম

কুমিল্লায় বাসা থেকে আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া স্কুলছাত্রের লাশ লালমাই পাহাড় থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর একটার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম।


বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে।


এর আগে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাসায় ফিরে আসেনি।


সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, অপ্রতিমের কাছে থাকা তার মায়ের আইফোনটিও পাওয়া যায়নি। তাই আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন তারা। তবে হত্যার কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।



সর্বশেষ সব খবর

শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৪ পিএম

রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় হত্যাচেষ্টা মামলার ১ নম্বর আসামি কয়েকদিন হাজত খেটে জামিনে বেরিয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর এলাকায় ফিরে মামলা তুলে নিতে কাউন্টার মামলার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছে জনপ্রতি ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও পুনরায় হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাজত খাটা ১ নম্বর আসামি শাহিনুর বেগম ওরফে ‘শাহিনুর সুন্দরী’র বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিচারপ্রার্থীরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।


ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, প্রবাসী নওশের আলম সুমনের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে শাহিনুর বেগমের দায়ের করা একটি মামলায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার ও নির্যাতনের পর পূর্বশত্রুতার জেরে গত ৩০ আগস্ট বিকেলে শাহিনুর বেগম ও তার লোকজন তার নিজের সৎ ভাই-বোন এবং বোনজামাইয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনায় শাহিনুর বেগমের বোন, বোনজামাইসহ কয়েকজন আহত হন। পরে তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


চিকিৎসা শেষে শাহিনুর বেগমের বোন সাবনাজ বেগম বাদী হয়ে শাহিনুর বেগম, তার স্বামী সাহেব আলী খেকড়ুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানায় মামলা করেন। মামলাটি ০২/২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়।


এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে রংপুর কোতোয়ালি সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে শাহিনুর বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ওই দিন দুপুরে তাকে রংপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এ হাজির করা হয়। পরে বিচারক মো. আশিক-উজ-জামান ৬ সেপ্টেম্বর রোববার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে শাহিনুর বেগমের জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। জামিনে মুক্তির পর এলাকায় ফিরে পুনরায় মামলার বাদী ও সাক্ষীসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


এদিকে একই মামলার ২ নম্বর আসামি শাহিনুর বেগমের স্বামী সাহেব আলী খেকড়ু ঘটনার পরের কয়েকদিন পলাতক থাকার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। 


সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে আসা এবং স্বামীর জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর শাহিনুর বেগম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন শাহিনুর বেগম।


জানা যায়, ঘটনাটির শুরু থেকেই বিষয়টি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সে সময় শাহিনুর বেগম এবং মামলার অপর আসামি, মেয়ে দাবি করা আন্নিকা আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দেওয়া তাৎক্ষণিক বক্তব্যে ঘটনার সময় অপর পক্ষের চারজন উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন। অন্যদিকে শাহিনুর বেগম তার বক্তব্যে এলাকার সাতজনসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করার কথা উল্লেখ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর মহাদেবপুর এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে শাহিনুর বেগম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, জমি দখল, মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, মামলা দিয়ে হয়রানি এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। মূলত এলাকাবাসীর মধ্যে যারা ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখে সাক্ষী দিয়েছেন, তাদের মুখ বন্ধ এবং মামলা-বাণিজ্য করার জন্যই তাদের আসামি করে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


এর আগে, গত ২৪ জুন শাহিনুর বেগমের পালিত ছেলে (বোনের ছেলে) মো. আনোয়ার ওরফে আজিজুলকে সিলেটের মাধবপুর এলাকায় ৫৯ কেজি মাদকসহ আটক করা হয় বলে জানা গেছে। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শাহিনুর বেগমসহ মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


স্থানীয়দের ভাষ্য, এর আগেও এলাকাবাসীসহ স্থানীয় প্রবাসী বাসিন্দার বিরুদ্ধে একটি ওয়াক্তিয়া মসজিদ নির্মাণে বাধাগ্রস্ত করতে জমি জবরদখল করে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকদফা হামলা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে চাঁদা দাবি ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে এই সিন্ডিকেট।


অন্যদিকে দুবাই প্রবাসী নওশের আলম সুমনকে দেশে ফিরলে কচু কাটা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ একই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। ফলে ওই প্রবাসী ভয়ে দেশে ফিরতে পারছেন না। একই সাথে দেশে থাকা প্রবাসীর পরিবারের লোকজনের গুরুতর ক্ষতি করার হুমকিতে আতঙ্ক আর উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিননিপাত করছেন প্রবাসীর পরিবার বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। 


এসব ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শাহিনুর বেগমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকার সর্বসাধারণ। একইসঙ্গে মামলার বাদী ও সাক্ষী সহ এলাকার সাধারণ নিরপরাধ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।


এবিষ‌য়ে জান‌তে চাইলে কোতয়ালী সদর থানার ও‌সি আতাউর রহমান ব‌লেন, আমি গত দু‌ তিনদিন হ‌লো এই থানায় যোগদান ক‌রে‌ছি। এবিষ‌য়ে এখ‌নো অবগত নই ত‌বে বিষয়‌টি আমি যথাযথভা‌বে খ‌তিয়ে দে‌খে ব‌্যবস্থা গ্রহন কর‌বো।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার অদূরে সতীশ বাবু লেইনে এক রিকশাআরোহীকে ছুরি দেখিয়ে তার জিনিসপত্র কেড়ে নিয়েছে দুই ছিনতাইকারী।


ওই ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটি কবে ঘটেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি কমিশনার (কোতোয়ালী) খায়রুল বাশার জানিয়েছেন, জড়িতদের ধরতে চেষ্টা চলছে।


ভিডিওতে যা আছে


ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, ছিনতাইকারীদের বহনকারী একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা অদূরে দাঁড়িয়ে আছে। দুই ছিনতাইকারী অন্য একটি প্যাডেলচালিত রিকশার এক আরোহীকে আটকে তার পকেটে থাকা জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।


তখন ওই রিকশাযাত্রী বলতে থাকেন, ‘দিই দিই। আরে ভাই দিতাছি তো’।


সে সময় শাদা টি শার্ট ও নীল রঙের শার্ট পরা দুই ছিনতাইকারীকেই রিকশাযাত্রীর পকেট থেকে জিনিসপত্র কেড়ে নিতে দেখা যায়। তখন দুই ছিনতাইকারীর হাতেই ছুরি দেখা গেছে।


প্যান্টের পকেটে থাকা জিনিসপত্র বের করে দিতে দেরি হওয়ায় নীল রঙের শার্ট পরা ছিনতাইকারী রিকশাযাত্রীর প্যান্টের পকেট থেকে কিছু একটা জোর করে বের করার চেষ্টা করছিল।


সে ব্যর্থ হলে, শাদা টি শার্ট পরা ছিনতাইকারী হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রিকশাযাত্রীর প্যান্টের পকেট কাটতে শুরু করেন। জিন্সের প্যান্টের পকেটে থাকা কিছু একটা ছিনিয়ে নিতেও দেখা যায় ভিডিওতে।


এরপর নীল শার্ট পরা ছিনতাইকারী সামনেই দাঁড় করিয়ে রাখা একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় গিয়ে উঠে। তখন আশেপাশের ভবন থেকে লোকজনের ‘মার মার’ বলে চিৎকার ভেসে ওঠে।


এক পর্যায়ে দুই ছিনতাইকারীই ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে পালিয়ে যায়। তখন স্থানীয়রা ‘চোর চোর’, ‘ধর ধর’ বলে চিৎকার করে ওই রিকশাটিকে ধাওয়া দেয়। সেসময় ছিনতাইয়ের কবলে পড়া ব্যক্তিকে রাস্তা থেকে কিছু কুড়িয়ে নিতে দেখা যায়।


সব তথ্য একসঙ্গে জানাবে পুলিশ


ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি কমিশনার (কোতোয়ালী) খায়রুল বাশার বলেন, “যে ঘটনার কথা বলছেন সেই বিষয়টি আমাদেরও নজরে এসেছি। ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত। আমাদের টিম জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে। আশা করছি পজেটিভ ফিডব্যাক দিতে পারব। সে পর্যন্ত আর বিস্তারিত কিছু বলছি না। সব তথ্য একসাথে আপনাদের জানাব।”


সতীশ বাবু লেইনের অদূরে কোতোয়ালী থানার অবস্থান। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার সতীশ বাবু লেইনে ভোরের দিকে ইদানিং ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।


এছাড়া কোতোয়ালী মোড় ও নিউমার্কেট মোড় এলাকায় সম্প্রতি সন্ধ্যায় ও রাতে একাধিক মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও ভাষ্য স্থানীয়দের।

সর্বশেষ সব খবর

অভিযানে ট্যাপেন্টাডল ও যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৯ পিএম

দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, যৌন উত্তেজক সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব মাদকদ্রব্যের সর্বমোট সিজার মূল্য ১ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।


বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধীন ভান্ডারা বিওপির সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্ত মেইন পিলার ৩২৭ থেকে আনুমানিক দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উত্তর ভান্ডারা এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ১৪ পিস ভারতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।


অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালায় ৪২ বিজিবির অধীন দিহানগর বিওপির সদস্যরা। সীমান্ত পিলার ৩৪৪/৪-এস থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজশাহী পাড়া এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় ৭২ বোতল যৌন উত্তেজক সিরাপ উদ্ধার করা হয়।


বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক, চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

বাঞ্ছারামপুরে ঐতিহাসিক সড়কের উদ্বোধন

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কের উদ্বোধন করা হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সড়কটির উদ্বোধন করেন।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার ফেরিঘাট এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক। এছাড়া ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নিয়ামতুল্লাহ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব কবির উদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব বাবুল মিয়া, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এবং পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. ওয়ালিউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদি হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসা এবং গণসংহতি আন্দোলনের বাঞ্ছারামপুর সমন্বয়ক শামীম শিবলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


‘ভূলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২০৩, কড়ইকান্দি হতে বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর পর্যন্ত) ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২২০, সরাইল হতে বলভদ্র সেতু পর্যন্ত) সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় সড়কটির উন্নয়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, সড়ক বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।


প্রকল্পটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলাকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ও উন্নত সড়ক যোগাযোগের আওতায় আনা। পাশাপাশি নিরাপদ, দ্রুত ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।


প্রকল্পের আওতায় ২৬ দশমিক ৭০৮ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট এবং ৪ দশমিক ৫৪৮ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণের পাশাপাশি ৬টি সেতু, ৪৬টি কালভার্ট, ২১ দশমিক ৪৫৮ কিলোমিটার রক্ষাপ্রদ কাজ, ১৪ দশমিক ৭৭৪ কিলোমিটার ড্রেন এবং ৮টি বাস-বে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।


এ প্রকল্পে ৭৮ দশমিক ৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়েছে। প্রকল্পের বিবরণী অনুযায়ী, ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ৪৯ হাজার ৫৪২ দশমিক ৪৩ লাখ টাকা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৯৬১ দশমিক ০৩ লাখ টাকা এবং নির্মাণ ও পূর্তকাজে ৫৩ হাজার ৯৬৫ দশমিক ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।


সড়কটি চালু হওয়ায় বাঞ্ছারামপুর, নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সহজ হওয়ায় যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নতুন এ সড়ক চালুর ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় মানুষের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

সিলেটের ওসমানীনগরে মশাল মিছিলের প্রস্তুতি কালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩ নেতাকে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। 


গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সিলেটের ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের কাশিকাপন তেরমাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উপর ছাত্রলীগের মশাল মিছিলের প্রস্তুতিকালে ওসমানীনগর থানা পুলিশের তাদের আটক করে। 


আটককৃতরা হলেন- টুকের বাজারের সাব্বির আহমেদ বিপ্লব (২৬), শেখাটের নাহিদ হাসান (২১) ও পৈতপাড়া (শিববাড়ী) এলাকার হৃদয় পাল (২০)।


সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেককে সনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমন উপলক্ষে ২০ বছর পর সচল হয়েছিল সিলেট নগরের সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারা। তবে চালুর প্রায় ২০ ঘন্টা পরই আবার তা বন্ধ হয়ে গেছে। 


এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুরমা পাড়ে ঘুরতে যাওয়া নগরের বাসিন্দারা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ফোয়ারটি আগের মতো অচল অবস্থায় পড়ে আছে।


জানা যায়, রাষ্ট্রপতি যাওয়ার পরদিনই ফোয়ারায় লাগানো জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়। এরপর এটি বন্ধ হয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার সিলেট সফরে আসেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রতির আগমনে সিলেটজুড়ে কয়েকদিন ধরেই চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। সেই কাজের অংশ হিসেবে সিলেট সার্কিট হাউস সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ে একদম ঝকঝকে করা হয়। এরই সঙ্গে প্রায় ২০ বছর পর সুরমা নদীর পাড়ের ফোয়ারায় পানি আসে। সিলেট সিটিকেরপোরেশন ফোয়ারাটি সচল করে। শুক্রবার বিকেলে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে আছে। ফোয়ারার পাশে আড্ডা দিচ্ছেন কয়েকজন তরুণ।


এছাড়া রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে সুরমা নদীর পাড়ের ওয়াক ওয়ে থেকে অপসারণ করা ভ্রাম্যমান টং দোকানগুলো আবার ওই এলাকা দখল করে বসেছে। পুরো ওয়াকওয়ে চটপটি ও ফুচকার দোকান এবং তাদের বসানো চেয়ারের দখলে।


একইসঙ্গে চাঁদনীঘাট ও কিনব্রিজ দখল করে যত্রতত্র গাড়িও পার্কিং করে রাখা। শুক্রবার চাঁদনীঘাট এলাকায় ঘুরতে আসা সরকারি চাকরিজীবী রোকশানা বেগম খাদিজা জানান, রাষ্ট্রপতি আসায় এই ফোয়ারাটি চালু করা হয়েছিল। আমি এর আগে কোনদিন এই ফোয়ারাটি চালু অবস্থায় দেখিনি। ফোয়ারা চালু হওয়ায় দেখতে ভালো লাগছিলো। কিন্তু পরদিন থেকেই ফোয়ারাটি অচল হয়ে যায়। 


ঘুরতে আসা আরেক তরুণ  কাওছর আহমদ জানান, টং দোকান আর গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে এই এলকায় হাঁটাচলার কোন সুযোগ নেই। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এই জায়গাটি নির্বিঘ্নে হাঁটাাাহাটি ও পর্যটকদের জন্য একটি আর্ষনীয় স্থান হতে পারতো। এখন এটি ঘিঞ্জি বাজারে পরিণত হয়েছে।


সংশ্নিষ্ট সুত্রে জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সুরমা নদীর উত্তর পাড়ে (চাঁদনীঘাট এলাকায়) সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে, স্টিলের রেলিং ও নান্দনিক পানির ফোয়ারা নির্মাণ করা হয়। ২০০৩ সালে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমান এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে প্রকল্পের কাজ শেষে ২০০৫ সালে তিনি সুরমা নদীর পাড় এলাকার উদ্বোধন করেন। 


মূলত সিলেটের সুরমা নদীর পাড়কে নাগরিক বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রথম বড় উদ্যোগ ছিল এটি। এম সাইফুর রহমানের নির্দেশনায় কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িসংলগ্ন চাঁদনীঘাট এলাকায় আধুনিক নকশার পাকা ওয়াকওয়ে এবং নদী ঘেঁষে সুরক্ষামূলক দৃষ্টিনন্দন স্টিলের রেলিং স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে স্থানীয়দের কাছে সুরমার তীরের এই উন্মুক্ত স্থানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 


বর্তমানে এটি সিলেটের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্যটনকেন্দ্র। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরা সুরমা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী কিন ব্রিজ ও আলী আমজদের ঘড়িঘর দেখে যান। তবে উদ্বোধনের প্রায় ছয় মাস পরই ফোয়ারাটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর সেটি চালু হতে দেখা যায়নি। রাষ্ট্রপতি আসায় গত মঙ্গলবার এটি কয়েকন্টার জন্য সচল করেছিল সিটি করপোরেশন।


সিসিকের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি আসায় জেনারেটর দিয়ে এটি অস্থায়ী ভাবে চালু করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি চলে যাওয়ার পরদিন জেনারেটর খুলে নেওয়া হয়।

সর্বশেষ সব খবর