পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি
রাঙামাটির পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা হইতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলাধীন বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একইসঙ্গে বর্তমানে সাজেক পর্যটন এলাকায় অবস্থানরত সকল পর্যটকদের আগামীকাল ১২ অক্টোবর (সোমবার) বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনা করে এ জরুরী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সাজেকভ্যালি পুনরায় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
উল্লেখ, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এর ডাকে রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ পালিত হয়। এতে প্রায় দেড় হাজার পর্যটকগামী গাড়ি উজবাজার এলাকায় আটকে পড়ে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে পর্যটকরা সাজেক ও খাগড়াছড়ি ফিরে যান।
খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙন
খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের একটি অংশ। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। বছরের শুরুতে ভাঙনের ভয়াবহ দেখে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বটবুনিয়া এলাকার অংশটি বিলীন হয়ে যায়।
বাঁধে আরো ধ্বস ও ফাটল দেখা দেয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। প্রায় ৩০ বছর ধরে নদীভাঙনের সাথে লড়াই করছেন মানুষ। বারবার সংস্কারেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এ ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানিতে ভেসে যায় সবকিছু। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের ও আশপাশের বহু মানুষের বাড়িঘর এবং প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।’
দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ফাটল ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
অনেকের অভিযোগ, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারেও বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধান ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। অথচ কর্মকর্তারা দায়সারা ভাবে কাজ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটে নিয়ে যায় তাছাড়া দীর্ঘদিন সরকারি জায়গা বিক্রির অভিযোগ থাকলে কোন সমাধান হয়না এখানে।
এ ব্যাপারে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, ‘পাউবোর সাথে সমন্বয় করে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাবনার ঈশ্বরদীতে কৃষক সমাবেশে ফরহাদ মজহার
কৃষকদের উদ্দেশে কবি, প্রাবন্ধিক ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘প্রাণ, প্রকৃতি ও পরিবেশের ভিত্তিতে চাষাবাদ করতে হবে। আল্লাহ্কে যদি না মানেন, যদি কোম্পানিকে মেনে চাষাবাদ করেন তাহলে ইমান হারাবেন।’ পাবনার ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ায় আজ রোববার দুপুরে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে আগামী দিনের বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। সরকার পরিচালিত হচ্ছে কোম্পানির ইশারায়। রাষ্ট্রক্ষমতা ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা না গেলে কৃষি ব্যবস্থাপনা এগুবে না।’
ফরহাদ মজহার বলেন, ‘কৃষিতে আধুনিকায়নের নামে বীজ কোম্পানির আগ্রাসন কৃষি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। যারা ভোট চায় তারা কৃষির কথা ভাবে না, কোম্পানির হাতে জিম্মি তারা। কোম্পানির দেওয়া সার ও বিষ ব্যবহার করার মানে জীব হত্যা করা। এভাবে চলতে থাকলে একসময় সরকারও ফতুর হয়ে যাবে। বাঁচতে চাইলে রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দেশি জাত রক্ষা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’
সার-কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে: ফরিদা আখতার
ঈশ্বরদী উবিনীগ ও নয়া কৃষি আন্দোলনের উদ্যোগে আটঘরিয়া উপজেলার মাঝপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ হাড়লপাড়া গ্রামে কৃষক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষির নামে গ্রামে সার ও কীটনাশকের যথেচ্ছ ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হার্টব্লকসহ জটিল রোগ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থাপনায় দেশীয় প্রাণিসম্পদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষকে সুস্থ্য থাকতে হলে সার কীটনাশক ব্যবহার বন্ধের সাথে সাথে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে।
উবিনীগ ঈশ্বরদী আঞ্চরিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আজমিরা খাতুনের সভাপতিত্বে কৃষক সমাবেশে বক্তব্য দেন উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস শিমু, উবিনীগ ঈশ্বরদী শাখার গবেষক গোলাম মোস্তফা রনি, আটঘরিয়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাজমুল হোসাইন, চাটমোহর উপজেলার সহকারি শিক্ষা অফিসার আসলাম হোসাইন, কৃষক আকলিমা খাতুন, মুজদার আলী, রেজিয়া খাতুন, আবুল হোসেন, ফরিদা খাতুন, সানোয়ারা খাতুন, হাফিজুর রহমান, মরিয়ম বেগম, জান্নাতুল খাতুন, রীনা খাতুন প্রমুখ।
কৃষক সমাবেশে কয়েকশ’ কৃষক ও নারী কৃষকরা অংশ নেন। রাসায়নিক সার ও কীনাশক ব্যবহার না করে জৈব সার ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ফসল আবাদ করে সফল কৃষক আবুল হোসেন বলেন, বাজারে অন্যান্য কৃষি পণ্যের চেয়ে আমার উৎপাদন করা সার-বিষমুক্ত নির্ভেজাল শাকসবজি স্থানীয় হাট-বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। এতে আমি নিজে যেমন লাভবান হই তেমনি ভোক্তারা সার-বিষমুক্ত শাক সবজি খাওয়ার সুযোগ পান।
কৃষকের মেয়ে জান্নাতুল খাতুন বলেন, ‘আমার বাবা-মা দুজনই কৃষক। তারা প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে জমিতে সার-বিষ প্রয়োগ ছাড়াই ফসল উৎপাদন করেন। একজন কৃষকের সন্তান হিসেবে আমি এতে গর্ব অনুভব করি। পাশাপাশি ভেজালমুক্ত খাবার খেয়ে সুস্থ্য থাকার সুযোগ পাই।’
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক মাইলফলক। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হয়েছে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া। রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের মধ্য দিয়ে দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কর্মসূচি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
আজ রোববার বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। নিউক্লয়িার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এনপিসিবিএলের নেতৃত্বে পরিচালিত কমিশনিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এর ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে।
ড. জায়েদুল হাসান জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরিমাপকগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, বিকেল ৩টায় ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত সব প্যারামিটার চাহিদা অনুযায়ী মাত্রায় আছে। বিকিরণের মাত্রা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন তারা। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ’র গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। এই কেন্দ্রের চুল্লির মডেল তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর ১২০০ মডেলের, যেখানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।
ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পরপরই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয় না। এর আগে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই, নিরাপত্তাব্যবস্থার পরীক্ষা এবং ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমের পর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এ অর্জনের পেছনে এনপিসিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলী, অপারেশন ও কমিশনিং বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। তাঁরা জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর গ্রিড সিনক্রোনাইজেশনসহ পরবর্তী প্রতিটি ধাপ সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান, অনুমোদিত কারিগরি পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আগে কমিশনিংয়ের পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রি, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে চারটি ফার্মেসিকে ১৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই দিন পৃথক অভিযানে অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়েছে।
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সিংগাইর পৌরবাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির।
অভিযানে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বিক্রির দায়ে জয় ফার্মেসির মালিক বিকাশ সাহাকে ২ হাজার টাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে মাধবী ফার্মেসির মালিক আশিষ কুমারকে ২ হাজার টাকা এবং আলমগীর ফার্মেসির মালিক হযরত আলীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকায় রিফাত ফার্মেসির মালিক জাহাঙ্গীরকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানার অর্থ আদায় করেন।
অন্যদিকে, বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের গোলাইডাঙা গ্রামের আত্রাই বিলে অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আনুমানিক ৫০টি রিংজাল ও ১৫টি কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল-আমিন কবির অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪০ ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অপরাধে ফার্মেসিগুলোকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ রিংজাল ও কারেন্ট জালের ব্যবহার রোধে জালগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
৭৫ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তবর্তী দিহানগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭৫ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন দিহানগর বিওপির সদস্যরা এসব সিরাপ উদ্ধার করেন।
বিজিবির সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তবর্তী দিহানগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৭৫ বোতল বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ পাওয়া যায়। উদ্ধার করা সিরাপের জব্দমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা।
উদ্ধার করা সিরাপের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য পরিবহন ও চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারী এবং গোয়েন্দা তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের অভিযান সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধের প্রচেষ্টাকে আরও গতিশীল করতে পারে।
সাদ্দাম হোসেন (বামে) ইউনিয়ন যুবদলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ফেসবুকে
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় যুবদলের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। গতকাল শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ তথ্য ছড়িলে পড়লে তা নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার পোস্টের পর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু ও সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে দরগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির যুবদলের সকল পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতিপত্রে বলা হয়েছে, দলীয় শৃংঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
সাদ্দাম হোসেনের বলেন, ‘আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দরগ্রাম বাজারে সারের ব্যবসা করে আসছে। আমার বাবাও দরগ্রাম বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে বিএনপির রাজনীতি করার অপরাধে সারের ডিলার থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এরপর থেকে অন্য ডিলারের কাছ থেকে লাইন্সেস ভাড়া দিয়ে পরিচালনা করতে হচ্ছে।’
সম্প্রতি সাটুরিয়ার নয়টি ইউনিয়নে একজন করে সারের ডিলার নিয়োগের ঘোষণায় সাদ্দাম হোসেন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। কিন্ত শেষ পর্যন্ত দরগ্রাম ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মো. রহুল আমীনকে।
সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ডিলারের নাম প্রকাশ করার পর হতাশ হয়ে দলীয় পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রাজনৈতিক ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে তার পরিবার নির্যাতন ও একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সময় ৯টি মামলা ছিল। এমনকি বাবা-ছেলে এক হাতকড়ায় একসঙ্গে জেল খেটেছেন। দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার পর প্রত্যাশিত সুযোগ না পেয়ে হতাশা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে ডিলার নিয়োগের বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারের জন্য আবেদন করেন। উপজেলা কমিটি যাচাই বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠান। নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসুম বলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন প্রার্থীর নাম উপজেলা সার ও বীজ কমিটির মাধ্যমে জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। জেলা কমিটি সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরে ৬ অক্টোবর মন্ত্রণালয় নতুন সার ডিলারদের নামের তালিকা প্রকাশ করে।
এছাড়া সাটুরিয়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে বিএনপির ৯ নেতাকর্মী ডিলারশিপ পেয়েছেন। তার মধ্যে চারজন নারী। এ নিয়ে খোদ বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমালোচনা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।