ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. মহসীন বলেছেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এক অভাবনীয় বিপ্লব ঘটবে ইনশাল্লাহ। বাঞ্ছারামপুরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ার হচ্ছে বিগত ৫৪ বছরের অন্যায়, অনাচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ।’
গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনি মিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন,“নতুন বাংলাদেশে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের কোনো স্থান হবে না। জনগণ বিশ্বাস করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালিত হলে বাংলাদেশ একটি কল্যাণমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সে লক্ষ্যেই দেশের নারী-পুরুষ, কৃষক-শ্রমিক ও ছাত্র-জনতা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করতে উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছে।”
মহসীন বলেন, “জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্র ও ব্যালট পাহারা দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কেন্দ্র দখল হতে দেওয়া যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “যারা ভোট কারচুপির ষড়যন্ত্র করছে, আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই তাদের প্রতিহত করব। বাঞ্ছারামপুরের মাটিতে আমাদের দুর্বল ভাবার সুযোগ নেই। আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ, কিন্তু আমাদের নীরবতাকে কখনো দুর্বলতা মনে করবেন না। আমি ছাত্রজীবন থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছি। কেউ যদি ষড়যন্ত্র করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে চায়, তাহলে আগামী ১২ তারিখ ব্যালটের মাধ্যমেই জনগণ তার দাঁতভাঙা জবাব দেবে- ইনশাআল্লাহ।”
তিনি প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রত্যাশা জানিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন কমিটির পরিচালক মোহাম্মদ আবুল বাশারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মহিউদ্দিন ফারুক, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সহসভাপতি মাওলানা মো. সারোয়ার হাসান আলমগীর, উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক মো. মাইনুদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনি মিছিলে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিলটি উপজেলা মাওলাগঞ্জ বাজার মাঠ থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাতুরবাড়ি মোড় শেষ হয়।
ঢাকার সাভারে ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের ৩০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় আহসান উল্লাহ স্বপন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম ও তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত স্বপন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার এ ঘটনায় স্বপনের পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্বপন সাভার পৌর এলাকার বক্তারপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বংশী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহ-সভাপতি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন বংশী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেড থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। চুক্তি অনুযায়ী, ১২০ দিনের মধ্যে ওই ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি।অভিযোগে বলা হয়, ঋণের টাকা ফেরত চাইলে ফারুক ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে স্বপনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
স্বপনের পরিবারের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে এলাকায় লোডশেডিং চলাকালে স্বপন বাড়ির গেটের সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় ফারুকসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে এসে তাঁর ওপর হামলা চালান।রফিক নামের একজন পেছন থেকে সুইচগিয়ার দিয়ে স্বপনের ঘাড়ে আঘাত করেন। পরে নজরুল ও কুট্টি মোল্লা নামের দুই ব্যক্তি রামদা দিয়ে তাঁর মাথা, বাম গাল ও বাম হাতে আঘাত করেন।
স্বপনের ছেলে মেহেদী হাসান শ্রাবণ জানান, হামলার একপর্যায়ে তাঁর বাবা মাটিতে পড়ে গেলে ফারুক ও তাঁর ছেলে ফয়সাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তাঁদেরও মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান।
মেহেদী হাসান শ্রাবণ আরও জানান, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা বলেন, আহসান উল্লাহ স্বপন নামের এক রোগী তাঁদের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তখন অস্ত্রোপচারকক্ষে তাঁর অস্ত্রোপচার চলছিল। তাই বিস্তারিত জানতে পারিনি। তবে প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে জেনেছি, স্বপনের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ সমিতি থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে আহসান উল্লাহ স্বপনের ওপর হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিলেট নগরের রায়নগরে নিজ বাসায় ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা কমিটি। সোমবার (৩১ আগস্ট) পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতি, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও লিজগ্রহীতাদের সমন্বয়ে গঠিত এ কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্য মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন,সিলেট নগরের রিকাবীবাজারে নির্মাণাধীন ইম্পালস টাওয়ারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে এ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। নিহত আবদুস সাত্তার এ-সংক্রান্ত দুর্নীতি ও ভূমি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আবদুস সাত্তার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী ছিলেন। একই সঙ্গে কোতোয়ালি থানায় করা একটি মামলার বাদীও ছিলেন তিনি। এসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাত্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত বছরের ২৯ জানুয়ারি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রায়নগরে আবদুস সাত্তারের বাসায় যান। সেখানে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ভূমির মালিকানা দাবি করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য সাত্তারকে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করে কমিটি।
এ ঘটনায় নিহত সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই ঘটনার একটি মোবাইল রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১৮ মে আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের হামলায় আবদুস সাত্তার ও মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম আহত হন। ইম্পালস টাওয়ারের জমি নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গ তুলে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫৬৪/৯৬ নম্বর আমমোক্তারনামার মাধ্যমে ১৮৫২২/২০০৬ নম্বর দলিল তৈরি করে পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আদালতের রায়ে ১৮৫২২/২০০৬ ও ১৪০৬২/২০০৫ নম্বর দলিল অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। পরে হাইকোর্ট বিভাগও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
কমিটির নেতারা বলেন, এসব ঘটনা ও পূর্বের বিরোধের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে রায়নগরের তিন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিরপেক্ষভাবে করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং পূর্বের হুমকির সঙ্গে হত্যার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনার দাবি জানান তারা।
এদিকে, গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আবদুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেলে ওই বাসার প্রতিবেশী বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। পরে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সিলেটের বিয়ানী বাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম পল্লবকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়।বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির জানান, দুটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে একজন রোগী দেখতে গিয়েছিলেন। ঢাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর আবুল কাশেম পল্লবকে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। আবুল কাশেম পল্লব বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় চারটি মামলাসহ গোলাপগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন থানায় আরও অন্তত ১৬টি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মিথ্যা, জাল ও ভিত্তিহীন দলিল দিয়ে মামলা করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানাসহ বাদীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ এই রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১০ মার্চ সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের মহিউদ্দিননগর গ্রামের মো. মোশাররফ হোসেন ২০ শতক জমির অংশ (সাহাম) দাবি করে এবং কয়েকটি খতিয়ান তাঁর ওপর বাধ্যকর নয়- এমন ঘোষণার জন্য দর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা করেন। মামলায় সদর উপজেলার মহিউদ্দিন নগর গ্রামের নাজির হোসেনসহ মোট ১৬ জনকে বিবাদী করা হয়।
মামলায় ১৯৩৩ সালের ১০ মে সম্পাদিত ২১০০ নম্বরের একটি সাফকবলা দলিল দাখিল করা হয়। ওই দলিলে ১১২ শতক জমির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। দলিলের গ্রহীতা হিসেবে বাদী মোশারফের বাবা আব্দুল মজিদ এবং দাতা হিসেবে নগরবাসী কৈবর্ত ও বনমালী কৈবর্তের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলার দায়ের পর বিবাদীপক্ষ শুরু থেকেই দলিলটিকে জাল ও ভিত্তিহীন দাবি করে আসছিল। মোশারফের দাবির ভিত্তি হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা দলিলটি প্রায় ৯২/৯৩ বছরের পুরোনো।
বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত দলিলটির সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে দলিলের টিপসই ও লেখার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হয়। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র, বিশেষজ্ঞ মতামত এবং উভয়পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালতের কাছে দলিলটি জাল, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়।
বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্কের পর আজ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ধার্য ছিল। সোমবার দুপুর দুইটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আখতার জাবেদ মামলাটি খারিজ করে দেন। পাশাপাশি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করে বিবাদীদের হয়রানির অভিযোগে মোশাররফকে ৫০ হাজার টাজা জরিমানা করা হয়।
মোশাররফের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২০ দিনের মধ্যে জরিমানার টাকা বিবাদীদের দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় বাদী-বিবাদী এবং উভয় পক্ষের আইনজীবীরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাফিক ইসলাম এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নায়েব নাজির মো. সোলায়মান মিয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
আটককৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) ও চচ্রগ্রাম বন্দর সল্ট ভোলা ক্রসিং এলাকার মৃত শাহজাহানর মো.সাকিব (২২)।
রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী আবদুল আলীম দীর্ঘ ২১ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের জলদস্যু শাহীনের যোগসাজশে গত শনিবার একদল ডাকাত রামপুর ইউনিয়নে এসে অবস্থান নেয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল আলীম ও পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত বসতঘরের কাঠের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে ও মুখ ঢেকে জিম্মি করে।
পরে ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ মোট আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে ডাকাতরা সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রংমালা বাজারের পাহারাদাররা সন্দেহজনকভাবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা সাকিব নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সাকিব, রামপুরের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে এনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।
গত ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী এ সময় অনুলিপি দিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল নেতা পরিচয় মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) সাং- ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকাসহ তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জনসহ নেশাগ্রস্ত কয়েকজন প্রায় প্রতিদিনই সরকার নির্ধারিত রোডভেকোলাইনে আমাদের চেকপোস্টে এসে উৎপাত সৃষ্টি করে। কোম্পানীর লোকজনকে গালিগালাজ ও মারধর করে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেয়। ড্রাইভার-স্টাফদের মারধর করে। তাদের বক্তব্য, এখানে কোম্পানীর কোন গাড়ী বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না। এখানে দাঁড়ালে সব কোম্পানী গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা গাড়ীর সহযোগীতায় প্রতিরোধ করি। কিন্তু ইদানীং তারা নতুন কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।
সম্প্রতি পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেট কার আমাদের কোম্পানীর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯ বাসের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকার কোম্পানীর বেশ কয়েকটি গাড়ী আটক করে জসিম গং। পরে এবং ১৯ আগস্ট আমাদের নিকট থেকে সাভার মডেল থানায় বসে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে।
উল্লেখ্য যে, বিবাদী জসিম পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারে আমলে যুবলীগ পরিচয় দিয়া, এখন শ্রমিক দলের সাভার পৌর সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত। এমতাবস্থায়, উক্ত চেকপোস্ট ও আশপাশ এলাকায় কর্মরত আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করছি না। যেকোন সময় হয়তো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে অভিযুক্ত জসিম বলেন- তারা কেন আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছে আমার জানা নেই। তার চাঁদা দাবির বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন।
সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া কেউ চাঁদা দাবি করলে এটা কঠোরস্ত দমন করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।