রাশেদ খাঁন

  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:০৩ পিএম

জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। 


তিনি বলেন, জামায়াতের নেতৃত্বে এনসিপিও একই রকম মিথ্যাচার শিখেছে। আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।


ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আজাদ বিএনপি সরকারের ৬ মাসে ৫১২ জন গুম হয়েছে বলে দাবি করেছেন। এই দাবির সময় নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই জঘন্য মিথ্যাচারের বিষয়ে কেউ কোনো টুঁ-শব্দও করেনি। জামায়াতের নেতারা ঠিক এভাবেই আত্মবিশ্বাসের সহিত মিথ্যা তথ্য প্রচার করেন। কিন্তু জামায়াতের মতো একটি ইসলামিক দলের নেতারা যদি টুপি খুলে মিথ্যা বলেন, সেটিও না হয় সহ্য করা যায়। কিন্তু কীভাবে তারা বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা শুরু করেন? 


আর নতুন বন্দোবস্তের দল এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে গিয়ে ঠিক একই রকম মিথ্যাচার শিখেছে। আজকে নাকি তারা সরকারের ১৮০ দিনের ব্যর্থতা সাংবাদিক সম্মেলন করে তুলে ধরবে। এনসিপি নেতাদের বক্তব্যও ঠিক হামিদুর রহমান আজাদের মতোই অপতথ্যে ভরপুর থাকে। 


তিনি বলেন, এজন্যই মানুষজন বলা শুরু করেছে, আত্মবিশ্বাসের সহিত গুজব, মিথ্যা ও প্রপাগাণ্ডা প্রচারে জামায়াত-এনসিপির ইতোমধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হ্যাঁ, এজন্যই বলি, সরকারি দলের ১৮০ দিনের মূল্যায়ন যেমন দরকার; ঠিক বিরোধী দল ৬ মাসে কী কী গুজব, প্রপাগাণ্ডা ও ঘৃণা ছড়িয়েছে তারও মূল্যায়ন দরকার।




জামায়াত আমির

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৫ পিএম

“২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ‘চূড়ান্ত লড়াই’ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটিকে সামনের ‘চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া’ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।” রোববার ঢাকায় এক সেমিনারে এ কথা বলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। 


রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) মিলনায়তনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। 


‘রাষ্ট্র সংস্কারে মহানবী (সা.) এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক এ সেমিনারে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে যারা জেগে উঠেছিল তারা সবাই মারা যায়নি, বা তারা ঘুমিয়েও পড়েনি। তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছে।’


তিনি বলেন, মূল লড়াইয়ের আগে একটি সেনাবাহিনী গঠিত হয়; তাদের প্রশিক্ষণ ও মহড়া নিতে হয়। তাদের ২০২৪ সালকে চূড়ান্ত লড়াই বিবেচনা করা উচিত নয়। এটি ছিল চূড়ান্ত লড়াইয়ের মহড়া।


তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সাথে সম্পর্কিত নয়। ফ্যাসিবাদ একটি ছোঁয়াচে রোগ। এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসে যে কেউ আক্রান্ত হলে সে-ই ফ্যাসিস্টে পরিণত হয়।


বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‌‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করছে।’


তিনি সরকারকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কাউকে এই পথে হাঁটতে দেবে না। 


তিনি বলেন, সরকার যদি ভালো কাজ করে, তবে বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন করা। কিন্তু সরকার যদি কোনো অন্যায় করে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেয় কিংবা ভুল পথে চলে, তবে বিরোধী দলকে অবশ্যই তার প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ করতে হবে।


দেশের ভাবমূর্তি এবং নাগরিকদের মর্যাদা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, বিশ্বের দরবারে একটি দেশের অবস্থান পরিমাপের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো তার ভ্রমণ নথি বা পাসপোর্ট। বাংলাদেশের পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, একটি দেশের ভাবমূর্তি তার জনগণের চরিত্রের সাথেও জড়িত।


তিনি বলেন, দেশে বারবার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। ক্ষমতায় আসা কোনো সরকারই এই চর্চা থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে আসতে পারেনি। 


জামায়াত প্রধান নাগরিকদের ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ পরিদর্শনের অনুরোধ জানিয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট দেশকে খুশি করতে’ অতীতের বহু নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি এই জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৯ পিএম

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রত্যক্ষ ভোটে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হচ্ছেন বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি মির্জা ফখরুল। 


আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।


গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। 


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ছয়জন ভোটার অনুপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বিজয়ী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলামের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি দলের এমপিরা মুহুর্মুহু করতালি ও টেবিল চাপড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান।


ফল ঘোষণার পর মির্জা ফখরুল ইসলামকে একটি গোলাপ ফুল উপহার দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সিনিয়র নেতারা এগিয়ে এলে মির্জা ফখরুল ইসলাম নিজের আসন ছেড়ে সামনে এগিয়ে যান। প্রথমে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে বিরোধী দলের উপনেতাসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতারাও নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা জানান।


দুপুর ২টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের নির্দেশিকা তুলে ধরেন। এর পরপরই ভোট শুরু হয়। প্রথমে ২টা ৮ মিনিটে ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। পরে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে ভোট দেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। এরপরে ভোট দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ভোট দেন ২টা ১৯ মিনিটে। সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদে তাদের নির্ধারিত আসনে বসে ছিলেন এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২০ জন কর্মকর্তা তাদের সহায়তা করেছেন এবং ব্যালট পেপার সরবরাহ করেন। 


সরকারি দলের এমপিরা লাইন দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাক্সে ব্যালট রাখার সময় অনেকে হাসিমুখে ছবি তোলেন। প্রথম দেড় ঘণ্টায় উপস্থিত সবাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নিয়ম রক্ষার জন্য বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরু থেকে সোয়া ঘণ্টার বেশি সময় অধিবেশন কক্ষে নিজের আসনে অবস্থান করেন সংসদ নেতা তারেক রহমান। পাশের আসনে ছিলেন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম। এরপর ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও প্রবীণ এমপি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। 


প্রধানমন্ত্রী যখন নিজের আসনে বসেছিলেন তখন এমপিরা সামনে ভিড় করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংসদ নেতা এমপিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে সংসদ কক্ষ ছেড়ে সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে যান। সঙ্গে নেন দলের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামকে। 


বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করে গণনা শুরু হয়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন সিইসি। রাতেই গেজেট প্রকাশ করে ইসি।


সংসদীয় পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় কেবল সেবারই ভোটাভুটি হয়। এরপর গত সাতটি নির্বাচনে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।


রুহুল কবির রিজভী (ফাইল ফটো)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:৩৮ পিএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি’র গঠনতন্ত্রের ৭ এর (খ) ৬ ধারা অনুযায়ী বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।


এতে আরও বলা হয়, এই মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে।



মো. নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৪৫ পিএম

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতি পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।


নাহিদ বলেছেন, বিএনপি সরকার প্রশাসনের সব জায়গায় দলীয়করণ করছে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একপ্রকার দলীয়করণের মাধ্যমেই দলীয় প্রার্থী দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করছেন, যেখানে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজ বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে দুপুরে সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।


আজ দুপুরে জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দলের সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলের বিরোধীদলীয় ঐক্যের প্রার্থী এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।


সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। আর সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে মির্জা ফখরুলের জয় ভোট গ্রহণের আগেই কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেছে।


এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৭০ অনুচ্ছেদ না থাকলে এবং স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে রাষ্ট্রপতির পদটি আরও বেশি সম্মানিত হতো। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের দিকেও আমরা এগোতে পারতাম। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।’


এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তাঁরা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকার কোনো সংস্কার না করলেও তাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছেন। নির্বাচনটি যাতে প্রতিযোগিতামূলক হয় এবং এ প্রক্রিয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়, সে জন্যই তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।


নাহিদ বলেন, বিরোধী দলের জোট থেকে প্রার্থী দিয়ে তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া সরকারি দল যেন এককভাবে তাদের দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত করতে না পারে, সে জন্যই তাঁরা প্রার্থী দিয়েছেন। জনগণের কাছে রাজনৈতিক বার্তা দিতেই তাঁদের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ।


পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থারই ধারাবাহিকতা


এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে পুরোনো স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন নাহিদ ইসলাম। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের অভিযোগ, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কথা বললেও কাজের ক্ষেত্রে আগের ব্যবস্থাই অনুসরণ করছে। 


এর মাধ্যমে আবারও ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক সাংবিধানিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতাই বজায় থাকছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জনগণের কাছে সেই বার্তাই দিচ্ছে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদের অধিবেশনের পরিবর্তে বৈঠক ডাকা এবং সেখানে স্পিকারের পরিবর্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্ব করার বিষয়টিও উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দল গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক গণতন্ত্র চায়-এ বার্তা দেওয়ার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।


নাহিদ ইসলামের ভাষ্য, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ব্যালটে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। ফলে বিএনপি মুখে এক কথা বলছে, কাজে আরেকটি করছে।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থী


নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার গণভোটের রায়, জনগণ ও গণতন্ত্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গেও তারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার সারা দেশে, প্রশাসনের সব জায়গায় দলীয়করণ করছে। এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও একপ্রকার দলীয়করণের মাধ্যমেই দলীয় প্রার্থী দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেই রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করছেন।


নাহিদ আরও বলেন, এখানে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে সরকার আর গণতন্ত্রের পক্ষে আছে-এমনটা মনে করার সুযোগ নেই।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সারজিস আলম।

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

বিএনপির সদ্য বিদায়ী মহাসচিব ও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যরাতের আবেগঘন বিদায়ী পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।


দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি ‘শেষবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ বলে বিদায় নেওয়ার কথা জানান। এর পরপরই মির্জা ফখরুলের নতুন পথচলার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।


বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্টটি দেন মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় নেতৃবৃন্দ, আজ আপনাদের থেকে সর্বশেষ বিদায় নেয়ার সময় এসেছে। আজকে শেষবারের মতো ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’ বলে বিদায় নিচ্ছি।’ পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘আপনাদের বিশ্বস্ত—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’


মির্জা ফখরুলের এই পোস্টের নিচে মন্তব্য করেন সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেওয়া মন্তব্যে তিনি মির্জা ফখরুলকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সর্বজন শ্রদ্ধেয়’ ও ‘সজ্জন’ রাজনীতিবিদ হিসেবে উল্লেখ করেন।


সারজিস লেখেন, ‘সম্মানিত মহাসচিব, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপনি সর্বজন শ্রদ্ধেয়, সজ্জন একজন রাজনীতিবিদ। দল-মত নির্বিশেষে আপনি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিত্ব।’


ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মির্জা ফখরুলের ভূমিকার প্রশংসা করে সারজিস আলম বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে আপনার সংগ্রাম, ত্যাগ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে, দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’


মির্জা ফখরুলের নতুন পথচলা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে, এমন প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাকে সম্মানিত করেছেন। আপনার এই নতুন পথচলা ভালোর জন্য হোক, ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য হোক, বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য হোক।’


সবশেষে মির্জা ফখরুলের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়ে সারজিস আলম লেখেন, ‘আপনার জন্য অনেক দোয়া ও শুভকামনা।’



ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে যান দীপু মনি

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৩৮ পিএম

কারাগার থেকে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জীবনসঙ্গী সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী ডা. দীপু মনি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তিনি রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় আসেন। এরপর ফ্রিজিং গাড়িতে রাখা স্বামীর মরদেহ দেখে অশ্রুসিক্ত চোখে শেষ বিদায় জানান।


পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বারিধারা ডিওএইচএসের বাসা থেকে মরদেহ গোসল ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষে গুলশান আজাদ মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।


গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, লিভার ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। জীবনের শেষ সময়গুলোতে তাকে হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হতো।


কিছুদিন আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ব্যারিস্টার নেওয়াজকে কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জীবনাবসান ঘটে।  


রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ১৯ আগস্ট রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেফতার হন ডা. দীপু মনি। বর্তমানে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের একাধিক মামলার আসামি হিসেবে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত মে মাসেও অসুস্থ স্বামীর পাশে থাকার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন তিনি।  


ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে আন্তর্জাতিক আইন, বাণিজ্যিক বিরোধ ও মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ছিলেন এবং এর প্রতিষ্ঠালগ্নে ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।


আইন পেশার পাশাপাশি তার ক্লাসিক্যাল সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ছিল এবং তিনি একজন ভালো বংশীবাদক ছিলেন। এছাড়া তিনি বাউল সংগীত ও সংস্কৃতির ওপর লেখালেখিও করেছেন। 

বিষয় : দীপু মনি