টাঙ্গাইলের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: উত্তম কুমার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে এলাকাবাসীর মানববন্ধন
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা ডা: উত্তম কুমার সরকারের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও টাকার বিনিময়ে আউট সোসিংএ নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-জয়দেবপুর-জামালপুর মহাসড়কে এ মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ২নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক ইউছুব সরকার, ধনবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব হবিবর রহমান হবি, পৌর যুবদলের আহবায়ক হযরত আলী জীবন, সদস্য সচিব মেহেদী হাসান লিটন, ধনবাড়ী টেম্পু, সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কছর উদ্দিন, স্থানীয় যুবদল নেতা মাসুদ রানা, ব্যবসায়ী আয়নাল হোসেন, হাবিব হোসেন, নুরজাহান বেগম, আবেদ আলী, রমজান আলী, রাবেয়া জিলানী, টফি, আজিরন ও সোমা আক্তার প্রমুখ।
মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বক্তারা জানান, দীর্ঘদিন যাবত এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীরা পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা ও ওষুধ পত্র পাচ্ছে না। সেই সাথে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাড়ীর এম্বুল্যান্সের চালক দিয়ে তার ব্যক্তিগত গাড়ী চালান। এবং কী এ কারণে রবিন নামেরএক ছেলেকে ঘুম বানিজ্যের মাধ্যমে আউট সোসিংয়ের নিয়োগ দিয়ে তাকে দিয়ে এ্যাম্বুল্যান্সের সেবা দিচ্ছে । তবে ধনবাড়ী থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত ভাড়া ১৪শ টাকা সেখানে নিচ্ছে তিন হাজার থেকে ৩৫শ টাকা। এ কারণে অনেক অসহায় রোগীরা বেশী ভাড়া হওয়ায় এ্যাম্বুল্যান্সের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু তাই নয় সে বিগত সময়ে জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালীন সেখানে অনিয়ম করার কারণে স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে শাস্তিমূলক বদলী করেন বরিশালে। সেখানে তাকে যোগদান করতে দেয়নি এলাকাবাসী । পরে ধনবাড়ীতে যোগদানের পর থেকেই অদৃশ্য কোন শক্তির দ্বারা সে সকল কাজে অনিয়ম করে যাচ্ছেন যেন দেখার কেউ নেই। এবং কী তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাচিব নামের আওয়ামী সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। হাসপাতালের সকল টেন্ডারের কাজ সাবেক এমপি তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি ঘনিষ্ট সহচর জুলাই আন্দোলনের হামলার মামলার পলাতক আসামী আ’লীগ নেতা আওয়ামী লীগ আমলে গোপালপুরের লিয়াকত আলী নামের ব্যাক্তিই পেত এখনো তাকেই সকল কাজ দিচ্ছে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ডা: উত্তম কুমার সরকার ও আবাসিক মেডিকেল আফিসার ডা: সেলিনা। এ ছাড়াও হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় রোগীরা ঠিকমত সেবা নিতে পারছে না বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
অন্যদিকে, টাকার বিনিময়ে আউটসোর্সিং পদে তার ইচ্ছেমতো লোক নিয়োগসহ নানা অভিযোগ জানান তারা। তাই মানবন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসীসহ সেবা নিতে আসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেই তার অনিয়ম ও দুর্নীতির দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন বর্তমান সরকারের কাছে। সেই সাথে অবৈধ ভাবে ঘুষের বিনিময়ে আউটসোর্সিং পদে তার ইচ্ছেমতো লোক নিয়োগ বাতিল সহ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ডা: উত্তম কুমার সরকার ও আর এমও ডা: সেলিনা কে দ্রæত বদলী না করা হলে আগামী দিনে লাগাতার কঠোর আন্দোলন কর্মসূচীর ঘোষণা দেন বিক্ষুদ্ধরা।
এ ব্যাপারে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা কর্মকর্তা ডা: উত্তম কুমার সরকারের কাছে জানতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।
সদৃশ ককটেল বস্তুর সন্ধান মিলেছে
গাজীপুরের টঙ্গীর গুটিয়ার আন্ধারুল এলাকায় ডজনখানেক সদৃশ ককটেল বস্তুর সন্ধান মিলেছে। এতে ওই এলাকায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। চলে আসছে বোম ডিসপোজাল ইউনিট।
পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, গুটিয়ার আন্ধারুল এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা হৃদয়ের বাড়ির সামনে সকালে ডজনখানেক সদৃশ ককটেল দেখতে পায় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায়। এরপর থেকেই ওই পুরো এলাকাটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। এটি সনাক্ত করার জন্য খবর দেওয়া হয়েছে বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে এবং ১০ টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।
পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক এস আই মেহেদী হাসান বলেন, আমরা পুরো এলাকাটি ঘিরে রেখেছি। মানুষের মালের নিরাপত্তার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ককটেল বা অন্য কিছু এখনো জানা যাচ্ছে না এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মো: আরিফুর রহমান বলেন, ককটেলের মতো দেখতে দশ-বারটি বস্তু দেখা গেছে। আমরা ধারণা করছি এটি ককটেল হবে। তবে এটি সনাক্ত করার জন্য বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে আসছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ উঠেছে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম খান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট রাতে যুবদলের রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে তালা ভেঙে ‘যুবরাজ এন্টারপ্রাইজ’ নামের ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দখলে নেওয়া হয়। পরে সেখানে যুবদলের ব্যানার টানিয়ে রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
আব্দুল আলিম খানের অভিযোগ, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে না পারার সুযোগ নেয় স্থানীয় যুবদল নেতা আব্দুল খালেক।
তার দাবি, কয়েকজন সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাতের আঁধারে প্রতিষ্ঠানের তালা ভেঙে দখল নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, হেনস্তা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে এর প্রতিকার চেয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আব্দুল আলিম বলেন, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে 'যুবরাজ এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করেই সেখানে যুবদলের ব্যানার টানিয়ে রাজনৈতিক কার্যালয় করা হয়েছে।
এবিষয়ে ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. লেয়াকত মিয়া বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখে আসছেন। সেখানে আগে কোনো রাজনৈতিক কার্যালয় ছিল না বলেও জানান তিনি। তবে বর্তমানে কারা যুবদলের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি দখল করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা আব্দুল খালেকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে দেখা করে বিস্তারিত কথা বলবেন বলে জানান।
টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুর মহানগরের ডেগেরচালা এলাকার ফকির মার্কেটে একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আগুন লেগেছে। শনিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে মেট্টিক্স গার্মেন্টস নামের ওই কারখানায় আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানায়, গাজীপুর মহানগরের গাছা থানাধীন ডেগেরচালা এলাকার মেট্টিক্স গার্মেন্টসের আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে প্রথমে গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের আরও তিনটি এবং রাজেন্দ্রপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজে যোগ দেয়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইদুল আলম চৌধুরী বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি ইউনিট কাজ করছে। আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে জানা যাবে বলে জানান তিনি।
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হ্যাপি আক্তারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এসব তথ্য প্রচারের আগে যাচাই-বাছাই করার আহ্বান জানিয়েছেন হ্যাপি আক্তার।
হ্যাপি আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ-সংশ্লিষ্ট একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর দাবি, অপপ্রচারে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিতে কোনো বিকাশ, নগদ কিংবা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট নেই। ফলে ওই নম্বরকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন বা মোবাইল ব্যাংকিং-সংক্রান্ত যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া একটি মোবাইল নম্বরকে আমার নাম ও পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তাতে আমার ব্যক্তিগত সুনাম ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’
হ্যাপি আক্তারের ভাষ্য, সম্প্রতি ডাকাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এর জের ধরে একটি মহল তাঁকে লক্ষ্য করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হ্যাপি আক্তার আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথভাবে যাচাই করে প্রচার করা উচিত। এ ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করতে এবং এসব বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে তাঁর নাম, পরিচয় বা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর বিভিন্ন থানায় কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযানে ৪৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজনকে আগের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ৪৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) পেয়ার আহমেদ। এর আগে শুক্রবার জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানো, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত এ অভিযান চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানায় ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে আগের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পাঁচজনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১২ জন, বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ছয়জন, চরজব্বর থানায় দুজন, সোনাইমুড়ী থানায় ছয়জন, চাটখিল থানায় ছয়জন এবং কবিরহাট থানায় সাতজনকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আহমেদ পেয়ার আরও বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় বাবা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা ছেলেকে থানায় দেখতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন তার বাবা আব্দুল মান্নান (৫৮)। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় বাবা-ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন। এর আগে শুক্রবার দুপুরে বাবা আব্দুল মান্নান ও ছেলে সাব্বির আহমদকে (২১) নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার সাব্বির উপজেলার চাষিরহাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তার বাবা আব্দুল মান্নান চাষিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সোনাইমুড়ী উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছেলের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তাকে দেখতে থানায় যান বাবা আব্দুল মান্নান। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পরিবারের দাবি, বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে আগে কোনো মামলা ছিল না।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। ওই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।