• প্রকাশ : শুক্রবার ০৫ জুন, ২০২৬, সময় : ৭:০৪ এএম

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের কেশরাব গ্রামের ওপর দিয়ে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের (কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিঃ) হাইভোল্টেজ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। স্বল্প উচ্চতায় থাকা অরক্ষিত ৩৩ কেভি লাইনের ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে এলাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।


সবশেষ গত ২৭ মে ঈদের আগের দিন বিদ্যুতের আগুনে ঝলসে যান আরিফ নামে এক স্থানীয় দোকানদার। বর্তমানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পূর্বাচলে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ার জেনারেশন লিঃ-এর ৫৫ মেগাওয়াট প্রকল্পটির জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্মিত লাইনটি নির্ধারিত রুট ব্যবহার না করে কেশরাব গ্রামের ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। জনগণের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রভাবশালী মহলের ইচ্ছায় জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে লাইনটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।


বিদ্যুৎ লাইনটি চালু হওয়ার পর থেকে প্রায় শতাধিক দুর্ঘটনায় গ্রামের সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে যাওয়া, বসতবাড়িতে আগুন লাগা, হাইভোল্টেজ কারেন্টের শর্ট সার্কিটে খামারের গরু মারা যাওয়া এবং পুকুরের মাছ মারা যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।


অতি সম্প্রতি গ্রামের এক দোকানদার আরিফের ওপর হাইভোল্টেজ কারেন্টের ফ্ল্যাশিংয়ের ফলে তিনি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দগ্ধ হন। তাঁর শরীরের বড় একটি অংশ আগুনে পুড়ে যায়। এলাকাবাসীর মতে, ঘটনাটি উক্ত লাইনের ভয়াবহতারই প্রতিচ্ছবি।


সরেজমিনে কেশরাব গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। বিদ্যুৎকেন্দ্রের উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের সংযোগ পোলের নিচেই পল্লী বিদ্যুতের আরেকটি সরবরাহ লাইন ও ট্রান্সফরমার রয়েছে। এছাড়া ওই লাইনের নিচ দিয়ে পাকা সড়ক ধরে প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে।


এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যুৎ লাইনটি নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মানা হয়নি। পুরো লাইনের কোথাও কোনো পোলেই গ্রাউন্ডিং করা হয়নি। হাইভোল্টেজ শর্ট সার্কিট কারেন্ট গ্রাউন্ডিং হওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। লাইনে কোনো নিউট্রাল তার বা স্কাই ওয়্যারও নেই। ফলে হাইভোল্টেজ শর্ট সার্কিটের আগুন বা ফ্ল্যাশিংয়ের কারণে মানুষ, পশুপাখি এবং বাড়িঘরের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও তারা স্থানীয় প্রশাসনসহ কোম্পানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে লাইনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখতে পান বলে দাবি করেন তারা। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে লাইনটি ঝুঁকিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোম্পানি তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে পরবর্তীতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে।


এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাইলেও তারা কর্ণপাত করে না; বরং বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব দেখিয়ে নিরীহ গ্রামবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।


গত ২৭ মে বিদ্যুতের আগুনে দগ্ধ হওয়া স্থানীয় দোকানদার আরিফ বলেন, “এখানে প্রায়ই স্পার্কিং হয়, আগুন লাগে। টিভি, ফ্রিজ, মিটারসহ অনেক কিছু পুড়ে যায়। এ বিষয়ে বারবার অভিযোগ করা হলেও তারা কোনো সমাধান করেনি। ঈদের আগের দিন সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যুতিক খুঁটির তার থেকে আগুন ছিটকে আমার শরীরের ওপর পড়ে। পাঞ্জাবি খুলে দৌড়ে গেলেও শরীরের অনেক অংশ পুড়ে যায়। কোম্পানির লোকজনকে জানালে তারা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।”


স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন সিদ্দিকী বলেন, “আমার বাড়ির আইপিএস, সাবমার্সিবল মোটর, ফ্রিজ, মিটার—চারটি ঘরের প্রায় সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। নতুন করে টাকা খরচ করে ঠিক করলেও কিছুদিন পরপর আবার নষ্ট হয়ে যায়।”


কেশরাব এলাকার নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “আমি কিস্তিতে এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছিলাম। বিদ্যুতের ফায়ারিংয়ের কারণে গরুটি মারা যায়। কোম্পানির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি প্রিন্সকে জানালে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দেয়। বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা বললেও আর দেয়নি।”


কেশরাব ও দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম বলেন, “একটু বাতাস হলেই তারে তারে ঘষা লেগে আগুন জ্বলে ওঠে। সকালে মক্তব ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে থাকে। একবার দুজন শিক্ষার্থী ভয়ে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। মসজিদের ডিজিটাল ঘড়ি, আইপিএস, ফ্যান ও মাইক নষ্ট হয়ে গেছে।”


রিকশাচালক ও মৎস্যচাষি আলামিন বলেন, “আমি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ভাড়ায় পুকুর নিয়ে মাছ চাষ করি। বিদ্যুতের ফায়ারিংয়ের কারণে বিক্রির উপযোগী মাছ মারা গেছে। একবার নয়, কয়েকবার এমন হয়েছে। এখন আমি ঋণের বোঝায় জর্জরিত।”


এলাকার ৭৫ বছর বয়সী এক নারী বলেন, “জিনিসপত্র ক্ষতি হলে দুই-চার হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আসে। কিন্তু মানুষ মারা গেলে তার দায় কে নেবে? কয়জনকে সাহায্য করবে? মানুষ বাঁচাতে হলে এখান থেকে খুঁটি সরাতে হবে।”


গ্রামের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস ও চলাচল থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন বলে জানান এলাকাবাসী।


এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৬ পিএম

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. জাবিদ হোসেন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেছেন। 


এ সময় স্থানীয় বিচারপ্রার্থী, জনগণ ও আইনজীবীরা নবীনগরে দেওয়ানী আদালতের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম চালুর দাবি জানান। 


বিচারপতিদ্বয় আদালতের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন, বিচারকার্য প্রত্যক্ষ ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় নবীনগর আদালতের আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা, টেবিল, কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিন সরবরাহের দাবিও জানানো হয়। 


স্থানীয়রা জানান, ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বড় উপজেলা নবীনগরে ফৌজদারি আদালত না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের জেলা সদরে যেতে হয়। অতীতে এখানে ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম চালু ছিল। তাই পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি আদালত চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। বিচারপতিদ্বয় আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ ও গতিশীল করে সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির আশ্বাস দেন।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২০ পিএম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সৈয়দপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন এবং সৈয়দপুরের মতির মোড় ফাইলেরিয়া হাসপাতালের পাশের এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন।


পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে প্রথমে সাব্বির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।


পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৯ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় ঐতিহ্যবাহী শাপলা বিদ্যানিকেতনের ৪১ বছর পূর্তি ও নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভালুকা পৌর মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রতিষ্ঠানটির নতুন কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ।


ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাতেম খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসানউল্লাহ খান রোবেল, এম এ খালেক, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু।


এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।


বক্তারা বলেন, ৪১ বছরের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে শাপলা বিদ্যানিকেতনকে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলার সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে ভালুকা পৌর ভবনের তৃতীয় তলায় মনোয়ারা হায়দার পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, ভালুকা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু। প্রধান বক্তা ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ।


বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, ভালুকা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. গোলম ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান সবুজের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমান গণি মলিক মাখন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, খালেক পাঠান এবং মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নাজমুল হকসহ অন্যরা।


মতবিনিময় সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকারা অংশ নেন।


সভায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।


বক্তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোর বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


এ সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের বিভিন্ন দাবি, সমস্যা ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেন। পরে এসব বিষয়ে আলোচনা ও পারস্পরিক মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।

নওরোজে সংবাদ প্রকাশের পর ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ!

সাতক্ষীরায় অসহায় নারী মেহেরুন্নেসার জমি দখলের ফলোআপ


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:২১ পিএম

★পুলিশ দিয়ে হয়রানি

★জীবন নাশের হুমকি

★চলাচলের রাস্তায় বাঁধা 


‎সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার জমি দখল কেন্দ্রীক গত ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার দৈনিক নওরোজ পত্রিকার শেষ পাতায় স্থানীয় ভুক্তভোগী অসহায় নারী মেহেরুন্নেসার জমি দখলের সংবাদ প্রকাশের পর দখলকারীরা বর্তমানে বিভিন্ন মহলে আইন অমান্য করে জেলহাজতে আদালত কর্তৃক প্রেরণ করা হতে পারে এমন আতঙ্কে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলে তার সত্যতা মিলেছে। দখলকারী সন্ত্রাসীরা বিষয়টি যাতে আদালতে উপস্থাপন না হয় এজন্যও তাদের সাঙ্গো পাঙ্গদের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানান ভুক্তভোগী। 


এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে ‎কেননা গত ২৫ সেপ্টেম্বর সংবাদটি ধামাচাপা দিতে সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত স্থানীয় পত্রদূত পত্রিকায় ৩ নম্বর পৃষ্ঠার ৩ ও ৪ নং কলমে মিথ্যা প্রতিবাদ ছাপানো হয়েছে। তাছাড়া ভুক্তভোগী পরিবারের দেয়া বিভিন্ন মহলে লিখিত অভিযোগ রিসিভ না করে ফেরত দেয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে বিষয়টি একপেশে মিমাংসা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টায় মেতেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মাহমুদুর বলে একটি তথ্য বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ তথ্যটি বিশ্বাস যোগ্য করতে অপেক্ষা করি আমরা অতঃপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী পরিবারকে স্থানীয় কাটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বোরহান ০১৭১১-০০৪৯৪৩ নাম্বার থেকে সকাল ১১টায় কল দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে ফাঁড়িতে ডাকেন। ব্যস্ততার কারণে যেতে পারছিনা এমন মন্তব্যে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ডাকেন ফাঁড়িতে বলে জানান ভুক্তভোগী ছেলে মামুন হোসেন। যেখানে আদালতে মামলা চলমান থাকলে অন্য কোন কার্যালয়ে ভূমি সংক্রান্ত কোন বিচারের সুযোগ থাকে না সেক্ষেত্রে সরাসরি বিচার করতে দেখা গেছে ফাঁড়ির ও এসআইকে। 


তবে কেন এবং কার কথায় করছেন তার কোন জবাব মেলেনি। সেখানকার দুই পক্ষের বিচারের অডিও রেকর্ড এসেছে নওরোজের হাতেও। রেকর্ডটিতে শোনা যাচ্ছে দখলকারীদের মধ্যে হাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলছেন ওসি সাহেব জমি দখল করতে সম্মতি দিয়েছেন। 


‎তবে ওসি সাহেব সত্যি কি জমি দখলের সম্মতি দিয়েছেন কিনা তাও জানা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী মেহেরুন্নেছার অভিযোগ আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও কোন পুলিশ প্রশাসন কিভাবে আবার নতুন করে একপেশে একেরপর এক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচার করতে পারেন। আমি তার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাই। 


এ ক্ষেত্রে পথ বন্ধ করে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের মিথ্যা অভিযোগে আমাদের কেন চাপ প্রয়োগ করছেন? সাধারণ পুলিশ ফাঁড়ি এমনকি থানা পুলিশ কি জমির সমস্যা সমাধান করতে পারেন বলে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে তার প্রশ্নের তীর ছুড়ে দেন এবং এসকল বিষয়ে শীঘ্রই লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। 


সর্বশেষ জমির কাগজপত্র সঠিকতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১০ পিএম

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেছেন, ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদীরা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে


গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।


ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং হাজারো নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন। এসব ঘটনায় স্বজনদের চোখের পানি এখনো শুকায়নি।


তিনি আরো বলেন, যারা দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন, বাড়িছাড়া ছিলেন কিংবা স্বজন হারিয়েছেন, তাঁরা এসব কর্মকাণ্ড মেনে নেবেন না।


কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুক, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, ভালুকা পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ খান রুবেল, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান মজু, গোলজার হোসেন, অ্যাডভোকেট উসমানগনি মাখন ও শাখাওয়াত হোসেন পাঠান।


এ ছাড়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি তারেক উল্লাহ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান খান রাসেল, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রিয়াদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আসাদ উল্যাহ চৌধুরী ধ্রুব, সদস্যসচিব তোজাম্মেল হক বকুল, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সৌমিক হাসান সুহাগ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. সুজন, মহিলা দলের সভাপতি শামীমা রমিদ, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারু, সংসদ সদস্যের সহকারী এফ এম শরিফুল আলম সোহেলসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।


পরে ভালুকা সরকারি কলেজ মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন উপজেলা ও পৌর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।